আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৫:৩১
ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প
ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহুমূল্যের ক্যাসিনো জয়ের স্বপ্ন মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড়সড় হোঁচট খেয়েছে। 'স্কটস ভ্যালি ব্যান্ড অব পোমো ইন্ডিয়ানস' নামের ওই আদিবাসী গোষ্ঠী তাদের নবনির্মিত একটি প্রিভিউ ক্যাসিনোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

 

মার্কিন ফেডারেল সরকার হঠাৎ করেই ভ্যালেজোতে অবস্থিত তাদের ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্যাসিনো রিসোর্ট প্রকল্পের অনুমোদন বাতিল করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ২৫ জুলাই কলম্বাস পার্কওয়ের কাছে অস্থায়ী মডিউলার ভবনে আমন্ত্রণভিত্তিক এই ক্যাসিনোটির দরজা খোলা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ইন্টেরিয়র) আচমকা তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে গত ১ আগস্ট এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ হলো ভূমির ওপর ঐতিহাসিক অধিকারের প্রমাণ। ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ. কার্কল্যান্ড থ্রি এক সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন যে, ভ্যালেজোর ওই জমিটি আদিবাসীদের ঐতিহাসিক ভূমির আওতায় ক্যাসিনো নির্মাণের আইনি শর্ত পূরণ করে না।

 

ফলে, 'রিস্টোরড ল্যান্ডস' বা পুনরুদ্ধারকৃত ভূমি আইনের আওতায় ওই গোষ্ঠী সেখানে কোনো গেমিং বা জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এই রায়ের ফলে আন্তঃরাজ্য ৮০ এবং কলম্বাস পার্কওয়ের কাছে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে একটি আটতলা ক্যাসিনো, রেস্তোরাঁ, বার, বলরুম, দুটি আবাসিক এলাকা এবং ৪৫ একরের জৈবিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের যেই বিশাল পরিকল্পনা ছিল, তা বর্তমানে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।

 

এই রায়টি মূলত ক্যাসিনোবিরোধীদের জন্য একটি বড় জয়। 'ইয়োচা দেহে উইন্টুন নেশন'-এর মতো বিরোধী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে, ভ্যালেজোর ওই জায়গাটি মূলত প্যাটোইনদের পৈতৃক ভূখণ্ডের অংশ এবং স্কটস ভ্যালি গোষ্ঠীর এই জমির ওপর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবে স্কটস ভ্যালি ব্যান্ড এখনো হাল ছাড়তে রাজি নয়।

 

গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান শন ডেভিস জানিয়েছেন, তারা ফেডারেল আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন। তার দাবি, প্রশাসনিক নথিপত্র প্রমাণ করে যে তারা ক্যাসিনো নির্মাণের সম্পূর্ণ যোগ্য এবং তারা দ্রুত এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছেন।

 

বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্যাসিনো শিল্প যখন ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই জমি, সার্বভৌমত্ব এবং কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব নিয়ে এই ধরনের আইনি লড়াই রাজ্যজুড়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম 'ফোর্ট মোহাভি ইন্ডিয়ান ট্রাইব'-এর সাথে ২৫ বছরের একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা নিয়ে সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

ওই চুক্তির আওতায় সম্প্রদায়টি রাজ্য সরকারকে কোনো লভ্যাংশ না দিয়েই বড় পরিসরে ক্যাসিনো চালানোর সুযোগ পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া গেমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাইল কার্কল্যান্ড মনে করেন, এ ধরনের চুক্তির ফলে রাজ্য প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই স্কটস ভ্যালি ব্যান্ডের ৭০০ মিলিয়ন ডলারের মেগা রিসোর্টের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আদালতের রায়ের ওপর ঝুলে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জর্জিয়া টেকের সমাবর্তনে ইরফান আল-হুসাইনী ও তার স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা
সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়া ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফানের মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন তার একদল বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।   বন্ধুদের দাবি অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড এলাকার নিজ বাসায় ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রায় নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হলেও, ঘটনার সময়রেখা, ৯১১-এ ফোন করার সময় এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে ইরফান কর্মস্থলের একটি প্রেজেন্টেশন শেষ করেন। এরপর সহকর্মীদের গ্রুপ চ্যাটে তিনি জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় দিনের বাকি সময় তিনি ছুটি নিচ্ছেন। বন্ধুদের দাবি, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং ৯১১-এ ফোন করার সময় নিয়ে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।   ইরফান আল-হুসাইনী বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।    জর্জিয়া টেকের প্রকাশিত একটি ফিচার অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা দুজনই বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন, তবে তাদের পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া টেকে পিএইচডি করার সময়। তারা ২০২২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইরফান ২০২৩ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করলেও স্ত্রীর সঙ্গে একসঙ্গে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের অনুষ্ঠান পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। সেই গল্প নিয়েই ২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক তাদের দুজনকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পিএইচডির পর ইরফান এনভিডিয়ায় এবং অ্যাথেনা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন।    বন্ধুদের যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ইরফান দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সেখানে তার বৈবাহিক জীবন নিয়ে মানসিক নির্যাতন, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে কী পরিস্থিতি একজন পেশাগতভাবে সফল মানুষকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিল, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। আর যদি ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থেকে থাকে, তাহলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আরও জরুরি।   এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি প্রযুক্তি ও প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানালেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে সেই অনুযায়ী ঘটনাটির পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে আমেরিকা বাংলা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৬:৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক

আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক, গুজব নাকি সত্য?

মার্কিন সেনাদের পরিবারেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান
মার্কিন সেনাদের পরিবারেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান, আটক ৫০ জনের বেশি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী ও নির্বাসন (ডিপোর্টেশন) নীতির অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সামরিক সদস্যদের অন্তত ৫০ জন পিতা-মাতা এবং স্বামী বা স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে এরই মধ্যে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে এই ধরপাকড়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও, এপির মতে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।   কয়েক দশক ধরে মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি দ্বিদলীয় ঐকমত্য ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সামরিক বাহিনীর সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে যখন এসব পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আইনি বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই তাদের মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও মনোবলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে অনেক সেনাসদস্য মানসিক সহায়তাহীন হয়ে পড়েছেন, সন্তানদের দেখাশোনার কেউ নেই, এমনকি অনেকের বদলি বা মোতায়েনও (ডিপ্লয়মেন্ট) পিছিয়ে যাচ্ছে।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসে কর্মরত আর্মি সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস জুয়ারেজের স্ত্রীকে গত জুলাই মাসে তাদের ছয় বছরের মেয়ের সামনেই আটক করা হয়। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স টেকনিক্যাল সার্জেন্ট ওয়েন্ডি গ্বেভের বাবাকে আইনি বৈধতা সংক্রান্ত একটি সাধারণ সাক্ষাৎকারের সময় আটক করে মেক্সিকোতে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। একই রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলো। তার ব্রাজিলিয়ান স্ত্রীকে একটি সাধারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে আটক করার পর, তিনি এখন ছুটিতে থেকে একাই তার পাঁচ বছর বয়সী সৎ ছেলেকে দেখাশোনা করছেন।   ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাস্তবায়িত নতুন অভিবাসন নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবল সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলেই অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজের মূল্যায়ন তারা করলেও, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে আইনি মর্যাদা দেয় না। অথচ, আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের মতো বাহিনীগুলো এখনো নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে প্রচার করছে।   এই কঠোর নীতির কারণে খোদ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই অপরাধবোধ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। ইউএস আর্মি স্পেশালিস্ট রোমেরো রালিওস, যিনি এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার নিজের বাবাকেই সম্প্রতি আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় চরম অনুতপ্ত রালিওস জানান, এটি হয়তো তার কর্মফল। যে বর্ডার প্যাট্রলে কাজ করে তিনি অন্য পরিবারগুলোকে ভেঙেছেন, আজ নিজের পরিবার ভাঙার পর সেই যন্ত্রণাই তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদন করতে পারবেন? যা বললেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

ক্যালিফোর্নিয়ায় তরুণকে জোর করে নির্বাসন কাগজে সই করানোর অভিযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় তরুণকে জোর করে নির্বাসন কাগজে সই করানোর অভিযোগ, আইসকে ভর্ৎসনা করলেন বিচারক

ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার

ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার

বৈধ অভিবাসীর পক্ষে রায় দিল মার্কিন আদালত
ডিপোর্টেশনের কাগজে জোর করে সই করিয়েছে আইসিই, বৈধ অভিবাসীর পক্ষে রায় দিল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করা এক অভিবাসীকে জোরপূর্বক ডিপোর্টেশনের কাগজে সই করানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। একই সঙ্গে ওই তরুণকে মুক্তির নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, আইসিই কর্মকর্তাদের আচরণে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।    আদালতের নথি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং টোঙ্গান বংশোদ্ভূত ২০ বছর বয়সী কর্নেলিয়াস কাইহাউ হোলানি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করে সান ফ্রান্সিসকোর একটি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে এমন একটি নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা পরে সরকার তার ডিপোর্টেশনের অধিকার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ত্যাগ হিসেবে উপস্থাপন করে।    নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতের বিচারক নোয়েল ওয়াইজ তার তিন পৃষ্ঠার আদেশে বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হচ্ছে আইসিই কর্মকর্তারা জোরপূর্বক ওই স্বাক্ষর নিয়েছেন। ফলে হোলানির যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।  বিচারক আরও নির্দেশ দেন, মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলাকালে হোলানিকে মুক্তি দিতে হবে। আদালত উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা পূর্বে অভিবাসন আইন ভঙ্গের ইতিহাস পাওয়া যায়নি।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে এটি নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত আইনি পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়।    তবে এই মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে কী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনো শেষ হয়নি। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১২:৩৯
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়

কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়, ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ

আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার

আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার, কলেজে ভর্তির ঝামেলা কমাতে নতুন উদ্যোগ

৭ জুলাইয়ের পর বিদেশি অভিযানে আহত ২৩৮ মার্কিন সেনা

পেন্টাগনের নতুন হিসাব, ৭ জুলাইয়ের পর বিদেশি অভিযানে আহত ২৩৮ মার্কিন সেনা

0 Comments