ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার
ডোমিনিকান রিপাবলিকে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের সার্জারির পর জটিলতায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এক অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী রেবেকা ডি পাউলা তিন সন্তানের মা ছিলেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৬তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এনওয়াইপিডি ও সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এবিসি সেভেন নিউইয়র্ক জানিয়েছে, ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের সার্জির পর তৈরি হওয়া জটিলতায় ডি পাউলার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর তিনি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।
ডি পাউলা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। মাত্র ১৮ মাসের চাকরিজীবনে তিনি সহকর্মী ও কমিউনিটির কাছে নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। চলতি বছরের মার্চে ব্রঙ্কসের ৪৬তম প্রিসিঙ্কটের ‘অফিসার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হন তিনি।
পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনড্রি এক বিবৃতিতে ডি পাউলার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কবাসীকে তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ডি পাউলা স্ত্রী ও মা হওয়ার পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে ধর্মীয় কাজেও যুক্ত ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে। সাবেক প্রশিক্ষক ও সহকর্মীরা তাকে সহানুভূতিশীল, প্রাণবন্ত এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।
পরিবার এখন সার্জারি ও পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ডোমিনিকান কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের সার্জারিতে ইনফেকশন, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের জটিলতাসহ গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আগে ক্লিনিক, সার্জন, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং পরবর্তী ফলোআপ সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ, ইরানি কর্মকর্তার কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা
নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে রাস্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে নদীতে টিউবিং করার সময় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ক্লার্কস ফর্ক নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নদীর পানির নিচ থেকে কিশোরটির মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত কিশোরের নাম এফ্রাইম ডেলি। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মন্টানার ফ্রমবার্গের কাছে ক্লার্কস ফর্ক নদীতে বোনের সঙ্গে টিউবিং করার সময় তারা সমস্যায় পড়েছিল। একপর্যায়ে এফ্রাইম তার বোনকে নিরাপদে তীরে উঠতে সহায়তা করলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান। কার্বন কাউন্টির শেরিফ জশ ম্যাককুইলামের বরাত দিয়ে এমটিএন নিউজ জানিয়েছে, এফ্রাইম ও তার বোন নদীতে টিউবের ওপর ভেসে যাচ্ছিল। কোনো একপর্যায়ে তার বোন টিউব থেকে পড়ে যান অথবা টিউব থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন তিনি পানিতে সমস্যায় পড়লে এফ্রাইম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। শেরিফ ম্যাককুইলাম বলেন, এফ্রাইম শেষ পর্যন্ত তার বোনকে টিউবে উঠতে সহায়তা করতে সক্ষম হন। তবে বোনটি এফ্রাইমকে একইভাবে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে মেয়েটি তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লার্কস ফর্ক নদীর যে অংশে এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ থেকে ১০ ফুট। উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা নদীর ওই অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালান। অভিযানে ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করে। একটি জরুরি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নদীর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে বিশেষ পানির নিচের অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এফ্রাইমের সন্ধান পাওয়া যায়। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পানির নিচ থেকে এফ্রাইমকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এফ্রাইম ছিলেন নয় ভাইবোনের একজন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সহায়তার জন্য খোলা একটি তহবিলের পাতায় এক ব্যক্তি এফ্রাইমকে ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সেখানে তার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং হাসির গল্প বলে অন্যদের আনন্দ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নদীতে টিউবিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পানির স্রোত, গভীরতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্লার্কস ফর্ক নদীর দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান চলছে। সূত্র: কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, MTN News
'সেলফ ড্রাইভিং' মোডে গাড়ি ছেড়ে চলন্ত টেসলায় ঘুমাচ্ছিলেন চালক, জরিমানা করল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশে দুই গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষ, নিহত এক পাইলট
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি
নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ ডলার করলেন মেয়র মামদানি