মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক সংকট নিরসন ও বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক কারিগরি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সংলাপ। কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারক ও প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। অত্যন্ত গোপনীয় ও বিলাসবহুল পরিবেশে শুরু হওয়া এই সংলাপের ওপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে। এই বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত ও ভয়াবহ সামরিক হামলার কারণে নতুন করে চরম চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক চুক্তির প্রথম শর্তই ছিল লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। কিন্তু ইসরায়েল এখনো লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরের লুসার্ন হ্রদের পাড়ে অবস্থিত একটি অভিজাত হোটেলে এই সংলাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই সংলাপে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, দেশটির প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।
সুইজারল্যান্ডে কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। তবে এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে এবং গত ২০ জুন পর্যন্ত সেখান দিয়ে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক বিশেষ ঘোষণায় জানিয়েছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির ৬০ দিন এবং এর পরবর্তী সময়েও হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরণের অতিরিক্ত টোল আদায় করা হবে না।
টানা ৬০ দিন ধরে চলতে যাওয়া এই কারিগরি সংলাপে ইরান মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্তি এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার রোববার এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ব্যবসা ও লাভ-ক্ষতির ভাষা বোঝে। তাই তারা যদি এই চুক্তি শুধু কাগজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মূল ভূখণ্ডে হু হু করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়ের কারণেই মূলত ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ইরানের সাথে এই শান্তি সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি সংলাপের জেরে আকাশসীমায় জরুরি ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আকস্মিক নির্দেশনার কারণে দেশটির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘স্কাইগাইড’-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ও সামগ্রিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইসইনফোর বরাতে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইগাইড আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্কাইগাইড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার রাতে অত্যন্ত আকস্মিক ও শেষ মুহূর্তে বার্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সংলাপ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের পরই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বা নো-ফ্লাই জোন হিসেবে সক্রিয় করা হয়। এই আকস্মিক সক্রিয়করণের ফলে সুইজারল্যান্ডের ডুবেনডর্ফ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং জুরিখ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের মূল রাডার সিস্টেমে একটি বড় ধরণের কারিগরি জটিলতা ও গোলযোগের সৃষ্টি হয়, যা পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্কাইগাইড বাধ্য হয়ে রাজধানী বার্নের পূর্বাঞ্চলের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। জুরিখ বিমানবন্দরের একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই জটিলতার কারণে রোববার সকালের একটি বড় অংশ জুড়ে বিমানবন্দরটি থেকে কোনো বিমানের উড্ডয়ন বা টেক-অফ করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল পৌনে সাতটা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত কিছু বিমানের অবতরণ বা ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া সচল ছিল। অবশ্য যে সমস্ত বিমান ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছিল, সেগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রেখে নিরাপদে নামার অনুমতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে স্কাইগাইড আরও উল্লেখ করেছে যে, জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে গেলেও এবং রাডার সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলেও আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিল। পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার পর সকাল পৌনে আটটা থেকে আকাশপথে বিমান চলাচল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বর্তমানে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ পূর্বের নিয়মে ফিরে এসেছে। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আগামী সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ওই আকাশসীমার ওপর দিয়ে অন্য দেশের বিমান চলাচলের ক্ষমতা সামান্য হ্রাস করে রাখা হবে, যার প্রভাব খুবই সামান্য হবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিগত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গত বুধবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার আলোকেই এই চূড়ান্ত কারিগরি সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় বার্গেনস্টকের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লমেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'দ্য অবজারভার'। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদত্যাগের পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিজের বিদায়ের একটি চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের অর্থদাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মহলে স্টারমারের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানকে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। তার এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে বার্নহ্যামের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে। যদিও এর আগে শুক্রবার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দলের ভেতরে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তবে তিনি তাতে লড়বেন এবং কোনোভাবেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না। 'দ্য অবজারভার'-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে স্টারমার বর্তমানে তার চেকার্স কান্ট্রি বাসভবনে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন। তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব দ্রুত, সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করবেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পুলিশি অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জমা থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। তহবিলের বিশাল অঙ্কের এই অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা দলটির তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ডেবিট ফ্রিজ’-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আপাতত কোনো অর্থ তোলা বা বাইরের কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে অ্যাকাউন্টগুলোতে নতুন করে টাকা জমা হওয়ার বা ক্রেডিট হওয়ার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকবে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে দলের সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের রেশ ধরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন এবং অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগকারী বিধায়কেরা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। দায়ের করা অভিযোগের একটি কপিতে দেখা যায়, এই তহবিলগুলো বৈধ কোনো উৎস থেকে এসেছে, নাকি কাট-মানি সংগ্রহ, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন স্ক্যাম বা কেলেঙ্কারির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের লভ্যাংশ থেকে এসেছে—তা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদুপায় এবং সন্দেহজনক অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত তহবিল এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে বলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক সিনিয়র বিধায়ক জানিয়েছেন, পুলিশের এই পদক্ষেপের কথা তাঁরা লোকমুখে শুনলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাননি। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই সিনিয়র তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আমানত যেন কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। কিন্তু অরূপ বিশ্বাস যেখানে কেবল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য এই স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, সেখানে বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিষয়টিকে সরাসরি অপরাধমূলক তদন্তের আওতায় নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মন্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে আর দলের কোষাধ্যক্ষ পদে নেই, তাই আর্থিক বিষয়ে দলের হয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তাঁর নেই। কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশীষ চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তখন থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে, তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূলের ভেতরের এই আর্থিক বিরোধ এখন আর কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুলিশি অভিযোগ এবং তহবিলের বৈধতা নিয়ে এক বিশাল প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।