সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল-সমর্থিত সুপার পিএসিগুলো: জোহরান মামদানি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৬:২৭
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ইসরায়েলপন্থী সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি), বিশেষ করে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর সমালোচনা করে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, এসব রাজনৈতিক অর্থায়নকারী গোষ্ঠী “নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে” এবং বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করছে।

 

সোমবার সিটি হল রোটুন্ডায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি তার আগের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে তিনি এক নির্বাচনী সমাবেশে AIPAC-কে ইঙ্গিত করে “মনস্টার” শব্দ ব্যবহার করেন, যা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

 

মামদানি বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো একক সংগঠন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সেইসব সুপার পিএসিকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন যারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালায়। তার ভাষায়, এসব গোষ্ঠী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

 

এর আগে তিনি ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, এসব শক্তি বিভিন্ন রূপে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে।

 

পরবর্তীতে ব্রুকলিনের কিংস থিয়েটারে দেওয়া এক বক্তব্যে মামদানি AIPAC এবং ইসরায়েল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে জনমত প্রভাবিত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

 

তার এই মন্তব্যের পর নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের কেহিলাথ জেরুশালেম সিনাগগের সিনিয়র রাব্বি চাইম স্টেইনমেটজ বলেন, এ ধরনের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সহিংসতা উসকে দিতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, মামদানি AIPAC-কে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করছে।

 

মামদানি তার বক্তব্যে ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক চিন্তক আন্তোনিও গ্রামশির একটি ধারণার উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয় পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন বাস্তবতার জন্ম হয়। তবে এই উদ্ধৃতির সঠিক ব্যাখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।

 

এদিকে, এই মন্তব্যকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ও মতবিরোধ আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।   গত বছর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাসের মাথায় তিনি একই ধরনের বার্তা দিতে পারেন। সোমবার ট্রাম্পও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং দেশটি ভালো অবস্থায় নেই।   ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এখনো পরিবহন হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কম থাকায় জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘে সমুদ্রপথের স্বাধীনতা ও নিরাপদ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখনো তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধটি সমাধান করা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাবে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।   এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সমাজ ও মানবজীবনে এর প্রভাব নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, জ্বালানি, বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান জাতিসংঘের মঞ্চে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১২
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সালে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্টে প্রায় ৯০০ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প

১ বছরেই ট্রাম্পের মুখে বাইডেনের নাম প্রায় ৯০০ বার, নেপথ্যে কারণ

ইয়েমেনে অগ্রযাত্রা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের হা মলা আর হলো না, ইয়েমেনে বড় অ ভিযানে হুতিদের অগ্রযাত্রা

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন
হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তবে ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলকে দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে সৌদি আরবও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্ব থেকেও ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল।   এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদাব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।   ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকেও কঠিন করে তুলছে।   এখন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে হুতিদের পরবর্তী সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাবে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপে ইয়েমেনকে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে।   সোর্স: রয়টার্স; ইন্ডিয়া টুডে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:২৬
হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে  ট্রাফিক মৃত্যু

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে ট্রাফিক মৃত্যু

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।    প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার ইন্টারনাল মেডিসিনের রেসিডেন্সি সম্পন্ন হয় কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক প্রোফাইলেও তার মেডিকেল শিক্ষা ও রেসিডেন্সির তথ্য উল্লেখ রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রোফাইলে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ডিরেক্টরিতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনের তথ্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের প্রোফাইলে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হক মেডিকেল অফিসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। চিকিৎসাকেন্দ্রটির ওয়েবসাইটে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ইমার্জেন্সি রুমে অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে অভিজ্ঞতার সময়কাল ৩০ বছরের বেশি এবং ইমার্জেন্সি রুমে ২১ বছরের বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো ও বর্তমান প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকায় এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক রেজিস্ট্রি তথ্যে ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও দেখা যায়। তাই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।    ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় তাকে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং টেলিহেলথ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ একটি বাস্তব সুবিধা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাইমারি কেয়ার এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক প্রোফাইলগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ০:৫৩
বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা

বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা: আইসিই গুলিতে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় হামলাকারী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নাগরিক

অনলাইনে হুমকির ঘটনায় তদন্ত চালায় এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার

0 Comments