ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছেন নারীরা, কারণ জানালেন অর্থনীতিবিদ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি।
অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়।
উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে।
বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে।
অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে।
উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreগ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের সাবেক শীতল যুদ্ধকালীন একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আবার চালু এবং পূর্ব উপকূলের আরেকটি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়ার কথা। পরিকল্পনার আওতায় থাকা দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। নারসারসুয়াকে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়ান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এলাকাটির জনসংখ্যা কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে। এই ইউনিটটি ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যকর রাখার কাজে নিয়োজিত। প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ текст এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর চূড়ান্ত নথি নির্ধারিত হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কার্যকর হবে। ডেনমার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যাটো জোটের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একই সঙ্গে বলেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরোনো। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দুটি স্থানে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়বে। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য এ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম, সমুদ্রপথের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সহযোগী বাহিনী গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে ‘Arctic Edge 2026’ নামে সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। মহড়াটি ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। তবে নতুন চুক্তির পেছনে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন কূটনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তার বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুকের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়ায় দুটি স্থাপনায় ঠিক কতজন মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন হবেন, কী ধরনের সরঞ্জাম থাকবে এবং স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সামরিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে বর্তমান একটি ঘাঁটির পাশাপাশি আরও দুটি স্থানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।
মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে ট্রাফিক মৃত্যু
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা
বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা: আইসিই গুলিতে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী
২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর ভারমন্টের বার্লিংটনে ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিতে হিশাম আওয়ারতানি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে কোমর থেকে নিচের অংশের চলাচলের ক্ষমতা হারান। তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদালহামিদও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। মামলার বিচার চলে এক সপ্তাহ ধরে। এতে তিন ভুক্তভোগী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাক্ষ্য দেন। সোমবার কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং স্বজন ও সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। ইটন গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তার আইনজীবীরা মূলত দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে তার কাজের অপরাধমূলক চরিত্র বোঝার সক্ষমতা ছিল না। প্রতিরক্ষা পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফাবিয়ান সালেহর মতে, ইটন ভ্রান্ত ধারণাজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার বিশ্বাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকে এফএম রেডিও ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি নির্দেশনা পাচ্ছেন। ইটনের আইনজীবীরা আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন তাকে একটি ইহুদি পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঈশ্বরও তাকে কাজটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, এই মানসিক অবস্থার কারণে ইটন নিজের কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি ও অপরাধমূলক চরিত্র যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি। তবে প্রসিকিউশন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের বিশেষজ্ঞ ডা. জিলাম বিসওয়াস আদালতে বলেন, ইটনের গুরুতর মানসিক রোগের পূর্বনির্ণয়ের রেকর্ড ছিল না এবং ঘটনার সময় তিনি আইনগতভাবে উন্মাদ ছিলেন না। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, তার কর্মকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পরিস্থিতিগত কারণ থাকলেও সেগুলো আইনগতভাবে উন্মাদনার প্রতিরক্ষার মানদণ্ড পূরণ করে না। ঘটনার দিন তিন শিক্ষার্থী থ্যাংকসগিভিং ছুটিতে বার্লিংটনে ছিলেন। তারা হিশাম আওয়ারতানির দাদি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর তারা ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে হাঁটছিলেন এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন। তাদের দুজনের গলায় ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ ছিল। আদালতে তারা জানান, ইটন কোনো কথা না বলে তাদের দিকে এগিয়ে এসে পিস্তল বের করে গুলি চালান। পুলিশ পরে ইটনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি রুগার পিস্তলসহ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের মিল পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনের তথ্যও তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকার সঙ্গে যুক্ত করে বলে প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরে। হামলার পর ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। তবে ইটনের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্গে হামলার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ইটনের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরাও দীর্ঘদিন ধরে হামলাটিকে ফিলিস্তিনি পরিচয়ের কারণে সংঘটিত বলে মনে করে আসছেন। তবে আদালতে যে অভিযোগে বিচার হয়েছে, তা ছিল হত্যাচেষ্টা। এই হামলার সময় গাজা যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে আরব, মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। তিন শিক্ষার্থীই রামাল্লায় বড় হয়েছেন এবং পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। হামলার পর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রায়ের পর ইটনকে সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতিটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগে ন্যূনতম ২০ বছর করে কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, ভারমন্ট পাবলিক, আল জাজিরা
ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা
“গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছি না” আইসিইর গুলিতে আহত ডেলিভারি কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বিমানের গতিপথকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’র অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন এক মার্কিন পাইলট। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আরকানসাস ও ওকলাহোমার আকাশে ছোট একটি বিমান নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা উড়ে এই অভিনব ‘আকাশচিত্র’ তৈরি করেন বেঞ্জামিন ম্যাকড্যানিয়েল। মোনালিসার ছবিটি অবশ্য সরাসরি আকাশে আঁকা হয়নি। বিমানের নির্দিষ্ট গতিপথ ও জিপিএস তথ্য একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং মানচিত্রে যুক্ত হওয়ার পর সেটির রেখাগুলো মিলিয়ে ছবিটির অবয়ব তৈরি হয়। এয়ারনাভ রাডারের ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশনে দেখা যায়, বিমানটি একের পর এক নির্দিষ্ট বাঁক নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোনালিসার মুখ, চুল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশের আকৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকড্যানিয়েল আরকানসাসের বেন্টনভিল থেকে তার সেসনা আর১৮২ স্কাইলেন আরজি বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন। বিমানটির নিবন্ধন নম্বর এন১৮১০আর। প্রায় তিন ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের ওই যাত্রায় তিনি আরকানসাস ও ওকলাহোমার বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে পরিকল্পিত পথে উড়েছেন। এয়ারনাভ রাডারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো যাত্রাপথ আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিমানের প্রতিটি বাঁক ও দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মোনালিসার পরিচিত অবয়ব ফুটে ওঠে। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের ত্রিমাত্রিক মানচিত্রে ছবিটি স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বেঞ্জামিন ম্যাকড্যানিয়েল নিজেকে পাইলটের পাশাপাশি শিল্পী হিসেবেও পরিচয় দেন। ‘দ্য পাইলট পিকাসো’ নামে তিনি এর আগে বিমানের গতিপথ ব্যবহার করে আরও বিভিন্ন নকশা ও শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজগুলোতেও এ ধরনের আকাশচিত্রের উদাহরণ রয়েছে। এই ধরনের শিল্পকে সাধারণত ‘ফ্লাইট পাথ আর্ট’ বা ‘রাডার আর্ট’ বলা হয়। এতে প্রথমে মানচিত্রে একটি নকশা তৈরি করা হয়। এরপর সেই নকশাকে বাস্তব বিমান চলাচলের উপযোগী একটি পথের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়। পাইলট নির্ধারিত পথ অনুসরণ করলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং মানচিত্রে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ছবি বা নকশাটি ফুটে ওঠে। মোনালিসা তৈরির এই উড্ডয়ন কতটা বড় পরিসরে হয়েছিল, তা এর বিস্তৃতিতেও বোঝা যায়। বিভিন্ন ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছবিটির সবচেয়ে দূরের কিছু অংশের মধ্যে দূরত্ব কয়েক দশক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ঘটনাটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও শিল্প, দুই ক্ষেত্রের মানুষেরই আগ্রহ তৈরি করেছে। এয়ারনাভ রাডারের মানচিত্রে বিমানটির গতিপথ অনুসরণ করে অনেকে ছবিটি তৈরি হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রযুক্তি, বিমান চালনা ও সৃজনশীলতার এই সমন্বয়ই ম্যাকড্যানিয়েলের কাজটিকে আলাদা করে তুলেছে। সূত্র: এয়ারনাভ রাডার, স্টোরিফুল, ইয়াহু নিউজ
চুল প্রতিস্থাপনের পর অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডিমের মতো ফুলে গেল যুবকের মাথা
হোয়াইট হাউসে চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’, তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধের পর নতুন উদ্যোগ