নিউইয়র্কে ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের ভুল মেডিকেইড পেমেন্ট শনাক্ত
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধ করা হয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ কতবার সেই পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই সীমা উপেক্ষা করে হাজার হাজার দাবির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক জেনেটিক পরীক্ষাও রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানুষের জীবনে একাধিকবার করার কোনো প্রয়োজন হয় না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন ৯১ হাজার ৭১৮টি দাবি শনাক্ত করা হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারই পরিশোধ করেছে মেডিকেইড পরিচালনাকারী ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। অডিটরদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি এবং তাদের দাবি যাচাই করার নিজস্ব ব্যবস্থায়ও মারাত্মক দুর্বলতা ছিল।
এছাড়াও, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য ল্যাব ও অ্যাম্বুলেটরি সেবার আরও ১১ হাজার ৪৯টি দাবির বিপরীতে প্রায় ১৮ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব সেবার খরচ সাধারণত নির্ধারিত ইনপেশেন্ট প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে আলাদা করে এসব বিল পরিশোধ করায় একই সেবার জন্য অনর্থক অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ২৭৫ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে আজীবন সীমা নির্ধারণ করলেও প্রকাশ্য নির্দেশিকায় মাত্র সাতটির তথ্য উল্লেখ করেছে। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলোর সীমা সম্পর্কে ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য ছিল না।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে অডিট প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত পেমেন্টগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, সীমা নির্ধারিত থাকা সব ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল পেমেন্ট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়। এই সুবিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ৮০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, অপচয় ও অপব্যবহার ঠেকাতে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার সীমা কার্যকর করার জন্য সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফেডারেল সরকার যখন নিউইয়র্কের মেডিকেইড ব্যয় ও ব্যবহারের ওপর তাদের নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক তখনই নতুন এই অডিট প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন কর্মী তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিভিন্ন কমিউনিটি কলেজ। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রোচিপ উৎপাদন শিল্পে চাকরির জন্য কর্মী প্রস্তুত করা হচ্ছে। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কলেজ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। এর একটি উদাহরণ অ্যারিজোনার টেম্পে অবস্থিত রিও সালাদো কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি চলতি শরতে সাধারণ মানুষের জন্য বিনা টিউশন ফিতে ১২ সপ্তাহের একটি সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। এখানে শিক্ষার্থীদের চিপ উৎপাদন কারখানায় কাজের প্রাথমিক দক্ষতা শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণের শুরুতে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এরপর অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশেষায়িত গবেষণাগারে প্রায় ২০ ঘণ্টার হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা ও পোশাক পরে চিপ তৈরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই কর্মসূচিতে শুধু তরুণ শিক্ষার্থীরাই অংশ নিচ্ছেন না। রয়েছেন মধ্যবয়সী চাকরিচ্যুত কর্মী, শিক্ষক, সফটওয়্যার পেশাজীবী এবং প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বাইরে নতুন ক্যারিয়ার খুঁজছেন এমন ব্যক্তিরাও। এপি জানায়, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কর্মী তৈরির উদ্যোগ শুধু অ্যারিজোনায় সীমাবদ্ধ নয়। টেক্সাসের অস্টিন কমিউনিটি কলেজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট ভ্যালি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন সেমির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ২০০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এই খাতের কর্মী তৈরির প্রস্তুতিতে যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদন বাড়াতে ২০২২ সালের চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্টের পর বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন কারখানায় বিপুল বিনিয়োগ করছে। এ কারণে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ওহাইও, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারিজোনায় টিএসএমসির বড় বিনিয়োগ প্রকল্প থেকে আগামী প্রায় এক দশকে ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরামর্শক জানিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পদ স্থানীয়ভাবে নিয়োগ করা প্রযুক্তিবিদদের জন্য হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি তরুণ, নতুন অভিবাসী এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা বড় অঙ্কের শিক্ষাঋণ ছাড়াই প্রযুক্তি খাতে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যকর পথ হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিনা টিউশনির এই ১২ সপ্তাহের কর্মসূচিটি রিও সালাদো কলেজের নির্দিষ্ট উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের সব কলেজে একই ধরনের বিনা খরচের কোর্স রয়েছে—এমন নয়। প্রশিক্ষণে ভর্তি, যোগ্যতা, আসনসংখ্যা এবং চাকরির নিশ্চয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কলেজের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নিতে হবে। প্রযুক্তি শিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটি কলেজের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার
‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক মায়ের ভালোবাসা ও শোকের গল্প নতুন করে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়েছেন বেকি জারোসিয়েভিচ। কিন্তু মেয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং তার ভালোবাসা অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নবজাতকদের জন্য বই উপহার দিচ্ছে তাঁর পরিবার। হেইলি জারোসিয়েভিচ ছিলেন মিডল্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা, সুন্দর ব্যবহার এবং ছোট শিশুদের প্রতি বিশেষ স্নেহের জন্য পরিচিত ছিলেন হেইলি। মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাঁর মা বেকি জারোসিয়েভিচ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে এমন একটি উদ্যোগ শুরু করেন, যার মাধ্যমে হেইলির প্রিয় কাজগুলো বেঁচে থাকবে অন্য মানুষের জীবনে। এ বছর টানা দ্বিতীয়বারের মতো হেইলির স্মরণে মিশিগানের মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টার মিডল্যান্ডের মাতৃসেবা কেন্দ্রে ১০০টি বই উপহার দিয়েছে তাঁর পরিবার। নভেম্বর মাসে যেসব পরিবার সেখানে নতুন সন্তানের জন্ম দেবে, তাদের হাতে একটি করে বই তুলে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগে হেইলির মায়ের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন তাঁর ধর্মীয় অভিভাবক ক্রিস্টি বার্নস এবং খালা এরিন রে। পরিবারের সদস্যরা চান, প্রতিটি নবজাতকের পরিবার বইগুলো পড়ে শিশুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাক এবং ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুক। হেইলির মা বেকি জানিয়েছেন, বই পড়া তাঁর মেয়ের কাছে ছিল আনন্দের একটি বিশেষ বিষয়। ছোট শিশুদের প্রতিও হেইলির গভীর মমতা ছিল। এখন অন্য পরিবারগুলো যখন তাদের নবজাতক সন্তানকে বই পড়ে শোনাবে, তখন তাঁর মেয়ের ভালোবাসার একটি অংশ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এই উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালটিরও রয়েছে বিশেষ আবেগের সম্পর্ক। কারণ হেইলির জন্ম হয়েছিল এই মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টারেই। যে হাসপাতালে একদিন তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেই হাসপাতালের নবজাতকদের জন্যই এখন তাঁর স্মরণে বই উপহার দেওয়া হচ্ছে। মাইমিশিগান হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডেনিস ও'কিফ পরিবারটির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, গভীর শোকের মধ্যেও হেইলির পরিবার এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যা অন্য পরিবারের জীবনে আনন্দ ও সুন্দর স্মৃতি তৈরি করবে। একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে হেইলির জীবন। তাঁর পরিবার আর কখনো তাঁকে ফিরে পাবে না। কিন্তু তাঁর ভালোবাসা, পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং শিশুদের প্রতি মমতা অন্য পরিবারের জীবনে নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে। একটি বই হয়তো হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। কিন্তু সেই বইয়ের পাতায় নতুন কোনো শিশুর জীবনে আনন্দের শুরু হতে পারে। হেইলির পরিবার ঠিক সেই কাজটিই করছে—মেয়ের স্মৃতিকে শুধু ছবিতে আটকে না রেখে অন্যের জীবনে ভালোবাসার উপহার হিসেবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি গ্রেপ্তার, সতর্ক প্রবাসী পরিবার
স্কুলের সামনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা
মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মাকে হারিয়ে বদলে গেল তরুণীর জীবন
সন্তানের মৃত্যু কোনো মায়ের জন্যই সহজ নয়। আর সেই সন্তান যদি হাজার হাজার মাইল দূরে অন্য দেশে প্রাণ হারায়, তাহলে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় শেষবারের মতো তার মুখ দেখার অসহায় আকুতি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী ঘানার কিশোর জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মায়ের জীবনে নেমে এসেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ছেলের শেষকৃত্যে অংশ নিতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি পেয়েছেন তাঁর মা ডরিস আদু গিয়ামফি। ৪ নভেম্বর ঘানার রাজধানী আক্রা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেলের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ১৫ বছর বয়সী জাভিটস নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত হয়। অল্প বয়সেই তার জীবনের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থেমে যায়। সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর মা ঘানায় অবস্থান করছিলেন। ছেলের শেষ বিদায়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা হয়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঘানার অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় আসা কিশোরের এমন মৃত্যু নতুন করে তরুণদের নিরাপত্তা ও বন্দুক সহিংসতার বিষয়টি সামনে এনেছে। একজন মা এখন ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই সন্তানকেই শেষবারের মতো বিদায় জানাতে হবে তাঁকে। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বেদনার গল্প নয়, বরং অভিবাসী পরিবারগুলোর বিচ্ছিন্নতা, নিরাপত্তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর মানবিক বাস্তবতার কথাও মনে করিয়ে দেয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
মায়ের অপেক্ষায় সাত মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু, পুনর্মিলনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির
আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী