- প্রচ্ছদ
- Topic
জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক শহরের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিখ্যাত ব্রডওয়ের জাদুকরী দুনিয়া উপভোগ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি শিক্ষার্থীদের মাঝে দুই হাজার একশটি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট বিতরণের জন্য একটি বিশেষ লটারির ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত চলা সাতটি জনপ্রিয় ব্রডওয়ে শো এই টিকিটগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে। এই লটারিতে অংশগ্রহণকারী ব্রডওয়ে শোগুলোর মধ্যে রয়েছে বুয়েনা ভিস্তা সোশ্যাল ক্লাব, নিউইয়র্ক সিটি সেন্টারের ইন দ্য হাইটস, স্কুল গার্লস; অর, দ্য আফ্রিকান মিন গার্লস প্লে, স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো, দ্য লস্ট বয়েজ, দ্য গ্রেট গ্যাটসবি এবং টু স্ট্রেঞ্জারস (ক্যারি আ কেক অ্যাক্রস নিউইয়র্ক)। লটারিতে বিজয়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের শোর জন্য সর্বোচ্চ দুটি করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। অলাভজনক থিয়েটার গ্রুপ 'টিডিএফ' (TDF) এই লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যারা মূলত শহরের জনপ্রিয় টিকিটিএস (TKTS) বুথগুলোও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, শুধু বিজয়ীরাই নয়, লটারিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্রডওয়ে এবং অফ-ব্রডওয়ে শোর পাশাপাশি মিউজিক, জাদুঘর ও নাচের অনুষ্ঠানে ছাড় পেতে টিডিএফ-এর দুই মাসের বিনামূল্যের মেম্বারশিপ লাভ করবে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র মামদানি বলেন, অসাধারণ শিল্প ও সংস্কৃতিতে ভরপুর এই শহরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রতিটি তরুণের এসব মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, তারা চান প্রতিটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী এই শহরকে নতুন করে জানুক, দুর্দান্ত শিল্পের স্বাদ নিক এবং এমন কিছু আবিষ্কার করুক যা শো শেষ হওয়ার অনেক পরও তাদের মনে গেঁথে থাকবে। লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যেই সকাল ১০টায় চালু হয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এরপর আগামী ১ সেপ্টেম্বর টিকিটের চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম। ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়। একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে। তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি। রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়। নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে নিউইয়র্ক পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে কি না, তা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি হল ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে রামা দুওয়াজির সফরে তার সঙ্গে পুলিশের একটি নিরাপত্তা দল থাকবে। তবে পুলিশ বিভাগ পরে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানায়, ব্যক্তিগত সফরে তাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যদের সিরিয়া বা লেবাননে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ২৯ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সিরিয়া ও লেবানন সফরের পরিকল্পনা করছেন। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরটি ব্যক্তিগত এবং নিউইয়র্ক সিটির কোনো সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক এর আগে জানিয়েছিলেন, রামার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সফরের সময় তার সঙ্গে থাকবেন। তবে পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করে বলেন, রামার সফর কোনো তদন্ত বা সরকারি দায়িত্বের অংশ নয়। তাই তাকে সঙ্গ দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। জানা গেছে, রামা এর আগে একটি বিদেশ সফরে পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই গিয়েছিলেন। পরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এবারের সফর ব্যক্তিগত হওয়ায় বিদেশে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তার স্ত্রী রামাকে ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রামার পরিকল্পিত সফরের সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনও চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে ওই সময়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওপর বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে। রামা দুওয়াজির সফরে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিটি হল ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মেয়রের স্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা সিরিয়া ও লেবাননে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র দাবি করেছে, মেয়র জোহরান মামদানির নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতিকে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতা হলে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে গত জুলাইয়ে আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি এরপর বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের কাজে নিউইয়র্কে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামদানির আগের অবস্থান বাস্তবায়নে গুরুতর আইনি বাধা রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা হুমকি মূল্যায়ন ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বারুদের স্তূপ’ বা মামদানির বক্তব্যের কারণে সরাসরি বিপদ তৈরি হয়েছে—এটি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের মূল্যায়ন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নির্ধারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার হটলাইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মাসব্যাপী একটি প্রচারণা শুরু করেছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কার্যালয় (Mayor's Office of Immigrant Affairs)। পিআইএক্স১১ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রচারণার মাধ্যমে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় অভিবাসন-সংক্রান্ত বিনামূল্যের আইনি সহায়তার তথ্য প্রচার করা হবে। প্রিন্ট, ডিজিটাল এবং রেডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের জানানো হবে কীভাবে তারা নিরাপদ, গোপনীয় এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বরাদ্দ দেওয়া তিন লাখ ডলারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এই ক্যাম্পেইন। কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি, স্প্যানিশ, চীনা, রুশ, আরবি, উর্দু, পাঞ্জাবি, ফরাসি, নেপালি, তিব্বতি, তাগালোগ, হাইতিয়ান ক্রেওলসহ মোট ১৭টি ভাষায় তথ্য প্রচার করা হবে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী অভিবাসীরা সহজেই এই সেবার বিষয়ে জানতে পারেন। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রিন্ট ও রেডিও বিজ্ঞাপন বিভিন্ন কমিউনিটি ও জাতিগত গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী যেকোনো ব্যক্তি, তার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান যাই হোক না কেন, বিনামূল্যে ও গোপনীয় এই আইনি সহায়তা হটলাইনে ফোন করতে পারবেন। এজন্য ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে কল করা যাবে। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে "Immigration Legal" বললেও সংশ্লিষ্ট সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া যাবে। হটলাইনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে সপ্তাহের কর্মদিবসে। সোমবার ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, "এই মাসে আমরা ১৭টি ভাষায়, মানুষের পড়া সংবাদপত্র, শোনা রেডিও স্টেশন এবং তাদের নিজ নিজ কমিউনিটির মাধ্যমে সরাসরি আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, "যদি আমরা বলি নিউইয়র্ক অভিবাসীদের স্বাগত জানায়, তাহলে প্রত্যেক বাসিন্দা যেন প্রয়োজনে কোথায় সাহায্য পাবেন তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। এই প্রচারণার মাধ্যমে আমরা ঠিক সেটিই করছি।" সিটি কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই উদ্যোগের ফলে অভিবাসীরা তাদের আইনি অধিকার, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্পর্কে আরও সহজে তথ্য পাবেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সঠিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবৈধ ও বিপজ্জনক ই-বাইক এবং স্কুটার বিক্রি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বুধবার সিটি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার প্রশাসন অবৈধভাবে উচ্চ গতির ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রির অভিযোগে ৪২টি অনলাইন খুচরা বিক্রেতাকে 'সিজ-অ্যান্ড-ডেসিস্ট' (cease-and-desist) বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ না মানলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য বিক্রেতাদের দুই হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। মেয়র স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের রাস্তায় এ ধরনের বিপজ্জনক যান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো— ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের বা ২০ মাইল বেগের বেশি চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধন নম্বরবিহীন মোপেডগুলোর ভবিষ্যৎ বিক্রি বন্ধ করা। তবে মেয়রের এই পদক্ষেপকে 'অকার্যকর ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল ভবিষ্যতে বিক্রি হতে যাওয়া যানগুলো ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক ই-বাইকগুলো অপসারণের বিষয়ে মেয়র কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি এসব যানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার যে আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সমর্থন করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেয়রের দাবি, ই-বাইক ও স্কুটারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে রাস্তার নিরাপত্তা খুব একটা বাড়বে না এবং তিনি এই পথে হাঁটতে চান না। মেয়রের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে 'এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স'। সংগঠনের একজন মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের রাস্তা থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবৈধ যানগুলো সরাতে মেয়র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে শহরে এই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকট চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। পরিসংখ্যানও এই ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটনার জন্যই অবৈধ যানগুলো দায়ী। এছাড়া, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সাইকেল ও স্কুটার দুর্ঘটনাজনিত ট্রমার হার ১০ শতাংশেরও কম থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির মোট ট্রমা রোগীর প্রায় ৭ শতাংশই মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনার শিকার। সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ই-বাইকের কারণে বেশ কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোয়ার ম্যানহাটনে অবৈধ ই-বাইক চালাতে গিয়ে পার্ক করা এসইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগিংকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোমায় ছিলেন। এসব কারণে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বর্তমান আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাস্তায় থাকা অবৈধ বাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কিছুক্ষণ পরই মেয়র নিজেই যখন প্রশ্ন তোলেন— "যে আইন প্রয়োগই হয় না, তার আসলে কী মূল্য আছে?", তখন তার এই স্ববিরোধী অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তোলে।
নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীনদের জরুরি আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাঁচটি বরোর বিভিন্ন হোটেল ব্যবহারের জন্য ১৮৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি নবায়ন করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। নতুন এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। চুক্তিটি করা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে, যারা প্রায় ৩০০টি হোটেলের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলেই কেবল এসব হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুরো ১৮৬ কোটি ডলারের অর্থ ব্যয় নাও হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীন সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সংকটের সময় তাদের বাণিজ্যিক হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্থায়ী ও উন্নতমানের আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশেষ করে শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য হোটেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যায়। শহরের ‘রাইট টু শেল্টার’ আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেককে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় শয্যা ধরে রাখতে এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮২ হাজার ৯২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু অবস্থান করছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে হোটেল ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে অভিবাসন সংকটের সময়ও হাজারো আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য শহরের প্রায় ১৫০টি হোটেল, মোটেল ও সরাইখানাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়। এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় হোটেলে অবস্থানরত গৃহহীন ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সেবার জন্য দুটি সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাকেও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দুটি আলাদা চুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় পর্যটন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে এবং কক্ষের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। তবে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, পর্যাপ্ত স্থায়ী আবাসন গড়ে না ওঠা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা একটি প্রয়োজনীয় বিকল্প।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক ও দলঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। সিএনএনের নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার হিসাবে তিনি দলের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি পুরো ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছেন। সিএনএনের জরিপে মামদানির নেট জনপ্রিয়তা পাওয়া গেছে ৫৪ শতাংশ। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি), যার নেট জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ। জরিপে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট জনপ্রিয়তা ২২ শতাংশে রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশে। ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের নেতাদের প্রতি বেশি আস্থা দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে মামদানি অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সমর্থকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। মাত্র সাত মাস আগে নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া মামদানি দ্রুত দলের অভ্যন্তরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে। তার জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তৃণমূল সমর্থকরা কোন ধরনের নেতৃত্বকে বেশি পছন্দ করছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে দলকে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্য সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও অনুষ্ঠানজুড়ে তার নাম আর ঘোষণা করা হয়নি। শুক্রবার নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কের ক্যালভারি অ্যাসেম্বলি অব গড গির্জায় র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডসসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। তবে উপস্থিত থাকলেও মামদানিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, মামদানি নিজের প্রস্তুত করা বক্তব্য একটি ট্যাবলেটে দেখছিলেন এবং বক্তব্য দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। একে একে অন্যদের নাম ঘোষণা হলেও তার নাম আর ডাকা হয়নি। পরে তিনি ট্যাবলেট গুটিয়ে রেখে দেন। শেষকৃত্যের আয়োজনে যুক্ত একটি সূত্রের দাবি, র্যাম্পারসাডের পরিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হওয়ায় তারা মামদানিকে বক্তব্য দিতে চাননি। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাড গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন। নিউইয়র্কের ওজোন পার্কে বেড়ে ওঠা র্যাম্পারসাড জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেলেও শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত করা নিজের বক্তব্য পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে মামদানির কার্যালয়। সেখানে তিনি র্যাম্পারসাডের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং দেশের প্রতি তার এই আত্মত্যাগ কখনো ভোলা যাবে না। শেষকৃত্যে শত শত স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের সদস্যরা র্যাম্পারসাডের কফিন শববাহী গাড়িতে তোলেন। পরে দীর্ঘ শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে সমাহিত করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিচারিক বাছাই কমিটিতে কোনো ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেননি। উল্টো ১৮ সদস্যের এই কমিটিতে তিনি এমন ব্যক্তিদের জায়গা দিয়েছেন, যারা দেশীয় সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। এমনকি এই তালিকায় একজন সাবেক যৌনকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহীর সন্দেহভাজন খুনির প্রশংসাকারীও রয়েছেন। ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সমাজতান্ত্রিক এই মেয়র বিতর্কিত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের আইনি দলে কাজ করার অজুহাতে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি বিচারক জন লেভেনথালকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ অন্যান্য সদস্যদের চরম বিতর্কিত মক্কেল থাকা সত্ত্বেও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামদানির এই 'অ্যাডভাইজরি কমিটি অন দ্য জুডিশিয়ারি'-তে জায়গা পেয়েছেন কারাগার সংস্কারকর্মী সুফিয়াহ এলাইজা। তিনি 'ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড' সন্ত্রাসী মেরিলিন বাক এবং কুখ্যাত পুলিশ খুনি মুমিয়া আবু-জামালের মতো চরমপন্থী ও স্বঘোষিত রাজনৈতিক বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। কমিটিতে থাকা আরেক সদস্য এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সাবেক আইনজীবী জ্যারেড ট্রুজিলো নিজে একসময় যৌনকর্মী ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে লবিং করার পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষমতা ও পরিধি কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে কিউনি (CUNY) ল স্কুলের এই অধ্যাপক নিউইয়র্কের বিতর্কিত 'ক্যাশলেস বেইল' বা জামিনহীন আইন বাতিলের সরকারি উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কমিটির আরেক সদস্য মিনা মালিক সম্প্রতি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া লুইগি ম্যাঙ্গিওনের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কোচরান ল ফার্মের এই সিইও ম্যাঙ্গিওনকে 'স্মার্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, কমিটিতে জননিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ইউনিয়নগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়র জননিরাপত্তার চেয়ে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশ খুনিদের রক্ষক এবং পুলিশ-বিরোধী কর্মীদের দিয়ে গঠিত প্যানেল কখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিটেকটিভস এনডাউমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্কট মুনরোও এই প্যানেলে সাবেক পুলিশ বা প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইহুদি আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো কমিটিতে কোনো ইহুদি সদস্য না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রত্যাখ্যাত বিচারক লেভেনথাল এই পরিস্থিতিকে 'ভণ্ডামি' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য সদস্যদের বিতর্কিত মক্কেল থাকার পরও শুধু ম্যাক্সওয়েল মামলার অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে তার ইহুদি পরিচয় একটি বড় কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই বিচারিক উপদেষ্টা কমিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মামদানির প্রধান আইনি উপদেষ্টা রামজি কাসেম নিজেও একসময় গুয়ান্তানামো বে-তে আল-কায়েদা বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে যাবতীয় বিতর্কের পরও মেয়রের কার্যালয় দাবি করেছে, এই প্যানেলে থাকা সদস্যরা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আইনি অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে নিহত নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলাতেও অংশ নেন তারা। দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালন করার সময় গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যু নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে। স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দিদারুল ইসলামের পেশাগত নিষ্ঠা, মানুষের সেবায় তার অবদান এবং আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেন, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো কর্মকর্তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যায় না। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তাদের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। তারা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কমিউনিটির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দিদারুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীর এই আয়োজন তার পরিবারের প্রতি সমর্থন জানানো এবং একজন নিহত পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়।
নিউইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ, দিদারুল ইসলামের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দিদারুল ইসলাম নিজের জীবনের বিনিময়ে অন্যদের রক্ষা করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, দিদারুল ইসলাম যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁর সাহস, মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে এক বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলাম নিহত হন। সে সময় তিনি ভবনটিতে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় তিনি ছাড়াও আরও তিনজন নিহত হন। পরে হামলাকারী ভবনের ভেতরেই আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনার পর এনওয়াইপিডি দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেয় এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি ‘মেডেল অব অনার’ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়ে ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন বিনয়ী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি মাসে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় তাঁর বসবাসের এলাকার একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’। এছাড়া তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘দিদারুল ইসলাম পুলিশ রিক্রুটমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ জননিরাপত্তা খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের এনওয়াইপিডিতে যোগদানে উৎসাহিত করা এবং তাঁদের পূর্ববর্তী সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনা। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠান শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জননিরাপত্তায় নিবেদন এবং একজন অভিবাসীর সাহসিকতাকে নতুন করে সম্মান জানানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ ঠেকাতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এ বিরোধিতার মধ্যেও মামদানি জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনটির উদ্যোগ নেন জিওভান্নি গ্যালান্তে, যার স্ত্রী গ্রেস ক্যাথরিন গ্যালান্তে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহত হন। আবেদনকারীদের দাবি, স্মরণানুষ্ঠানটি নিহতদের স্মরণ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়া উচিত এবং মামদানির কিছু অতীত অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতা তাদের কাছে উদ্বেগের কারণ। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তিনি গর্বের সঙ্গে এবারের ৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তার ভাষায়, ওই দিনের ভয়াবহ হামলায় নিহতদের পরিবার, বেঁচে ফেরা মানুষ এবং উদ্ধারকর্মীদের সম্মান জানানোই তার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “আমরা কখনও সেই দিনকে ভুলব না।” আবেদনে বলা হয়েছে, মামদানি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগানকে স্পষ্টভাবে নিন্দা না করা এবং তার কিছু রাজনৈতিক ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতার কারণে স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত নন বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। এসব অভিযোগ আবেদনকারীদের বক্তব্যের অংশ; এ বিষয়ে মামদানি তার অবস্থান অস্বীকার করেননি, তবে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। ৯/১১ হামলায় আহত প্রথম সাড়া-দাতাদের একজন জন ফিলও আবেদনকারীদের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, ২৫তম বার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে নিহতদের স্বজনদের যেন শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সমন্বিত হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং একটি যাত্রীবাহী বিমানসহ চারটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। এ বছর সেই হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি বছরের মতোই নিহতদের পরিবারের সদস্য, উদ্ধারকর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার (৯/১১) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির উপস্থিতির বিরোধিতা করে তাকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন নিহতদের পরিবারের একাংশ। এ দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনও চালু হয়েছে, যেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে আয়োজকদের দাবি। পিটিশনের উদ্যোক্তাদের একজন জিওভান্নি গ্যালান্তে, যিনি ২০০১ সালের হামলায় তার স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, মামদানির অতীতের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য ৯/১১ হামলার স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তার উপস্থিতি নিহতদের পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। তবে এ দাবি কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। এখন পর্যন্ত জাতীয় ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ মেয়রকে অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করার কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্মরণানুষ্ঠানকে অরাজনৈতিক ও মর্যাদাপূর্ণ রাখার নীতির কথা বলে আসছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি ইতোমধ্যেই ৯/১১ স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। গত মে মাসে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক অনুষ্ঠানে তিনি ৯/১১ হামলাকে শহরের ইতিহাসের "সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা" হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণানুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়ে উঠছে। তবে স্মরণানুষ্ঠানে কে উপস্থিত থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মামদানিকে ‘গুণ্ডা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে সামরিক কারাগারে পাঠানো উচিত। এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের এক অনুষ্ঠানে টিউবারভিল দাবি করেন, জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন। তবে তিনি তার এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এর আগেও টিউবারভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংস হওয়া যমজ ভবনের ছবি এবং জোহরান মামদানির একটি ইফতার অনুষ্ঠানের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করেছিলেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “শত্রু এখন আমাদের ভেতরেই রয়েছে।” এই মন্তব্যকে ঘিরেও ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং অনেকেই এটিকে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জোহরান মামদানি টিউবারভিলের বক্তব্যের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দারিদ্র্য দূর করার পরিবর্তে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার টিউবারভিলের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও অপমানজনক। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো কখনোই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করার জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ফিফা বিশ্বকাপ, এনবিএ ফাইনাল এবং স্বাধীনতা দিবসসহ গ্রীষ্মজুড়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সময় পার করা নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) মেয়রের এই উসকানিমূলক আহ্বানে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় মেয়র মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে পা রাখলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। তবে সম্প্রতি নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার মতো কোনো আইনি এখতিয়ার বা ক্ষমতা তাঁর নেই। গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তিনি নগরবাসীকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদের ডাক দেন। মেয়রের এই ঘোষণায় পুলিশ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, গ্রীষ্মজুড়ে ফিফা বিশ্বকাপ, নিউ ইয়র্ক নিক্সের এনবিএ ফাইনাল জয় এবং স্বাধীনতা দিবস ও 'আমেরিকা ২৫০' উদযাপনের মতো বিশাল সব ইভেন্ট সামলাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের চরম ধকল গেছে। টানা ১২ ঘণ্টার ডিউটি ও অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানো পুলিশ বাহিনীকে এখন মেয়রের এই রাজনৈতিক উসকানিমূলক অবস্থানের কারণে নতুন করে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনড্রি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়রের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা পুলিশের ওপর মারাত্মক কাজের চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, মেয়রের এমন উত্তপ্ত বক্তব্য সহিংস ও উগ্র আন্দোলনকারীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় চরম বিশৃঙ্খলার দিকে মোড় নিতে পারে। এছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য আহত হলে তার সম্পূর্ণ দায় মেয়রের ওপরই বর্তাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, মেয়রের এমন হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ম্যানহাটনের এক পুলিশ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়র হয়তো ভুলে গেছেন যে তিনি এখন আর কোনো সাধারণ অ্যাক্টিভিস্ট নন, তিনি একটি শহরের মেয়র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব তাঁর, অথচ তিনি নিজেই উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এত সমালোচনা ও বাড়তি কাজের চাপের পরও পুলিশ ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী শরৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন চলাকালীন যেকোনো পরিস্থিতি কঠোর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা ও ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে ফ্লোরিডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজির অবস্থান ও বক্তব্যে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) উৎসাহিত হচ্ছে, আর সেটিই শহর ছাড়ার প্রধান কারণ। এই অভিযোগ মামদানি প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চার্লস কুশনার বলেন, তিনি আজীবন নিউইয়র্কবাসী হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরে বসবাস চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, নিউইয়র্কে তার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে এবং সেখানকার প্রযোজ্য করও পরিশোধ করবেন, তবে তার প্রধান আবাসস্থল হবে ফ্লোরিডা। চার্লস কুশনারের অভিযোগ, মেয়র মামদানি ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ না নেওয়া এবং ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে ভুল বার্তা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শহরের ধনী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যও নিউইয়র্কের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তবে এসব মন্তব্য তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি বরাবরই বলে আসছেন যে, তিনি ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচক হলেও নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি ইসরায়েল ডে প্যারেডে অংশ নেননি, তবে শহর প্রশাসন ওই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলায় সিটি প্রশাসনের উদ্যোগ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে অর্থায়ন বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। মামদানির ইসরায়েল ডে প্যারেডে অনুপস্থিতি নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকদের একাংশ এটিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি নেতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখলেও, মামদানি বলেছেন, কোনো অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নয়, বরং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার। চার্লস কুশনার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে তিনি কর ফাঁকি ও সাক্ষীর ওপর প্রভাব বিস্তারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এরপরই তিনি কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োগ পান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছড়িয়ে পড়া ‘লিজিয়নার্স’ রোগের প্রকোপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। এই রোগে এখন পর্যন্ত মোট ৮২ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি দাবি করেছেন, রোগের প্রকোপ এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন একটি কলামে স্বাস্থ্য বিভাগের (ডিওএইচ) পদক্ষেপ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এর জবাবে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির চেয়ে জনস্বাস্থ্যের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। লিজিয়নার্স রোগটি মূলত লিজিওনেলা নামক ব্যাকটেরিয়াযুক্ত জলকণা বা কুয়াশা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়, যা বয়স্ক, ধূমপায়ী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। আপার ম্যানহাটনে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন অভিযোগ করেন, ওই এলাকার ‘কুলিং টাওয়ার’গুলো আগে থেকেই জীবাণুমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সিটি হলের কাছে ‘সঠিক জবাব’ দাবি করেন। এদিকে, নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. অ্যালিস্টার মার্টিন জানিয়েছেন, আপার ইস্ট সাইড এলাকার কুলিং টাওয়ারগুলোতে জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণের মূল উৎসটি তারা সম্ভবত ‘নির্মূল’ করতে পেরেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এখনো হাতে না আসায় প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট উৎসের নাম ঘোষণা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ২১ জন এই রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন এবং ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডা. মার্টিন আশ্বস্ত করে বলেন, গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নতুন করে কারও মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কেউ নতুন করে শনাক্তও হননি। আগাম জীবাণুনাশক ব্যবহারের সমালোচনার জবাবে মেয়র মামদানি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শহরের সমস্ত কুলিং টাওয়ারে আগে থেকে ঢালাওভাবে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হলে তা উল্টো দীর্ঘমেয়াদে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কুলিং সিস্টেমের যন্ত্রপাতিতে জং ধরা বা বিকল হওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সব টাওয়ারে একযোগে ব্যবস্থা নিতে গেলে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টাওয়ারগুলো থেকে মনোযোগ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সরে যেতে পারে বা তীব্র গরমের দিনে কুলিং সিস্টেম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে স্পিকার জুলি মেনিনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোগের প্রকোপ শুরুর পর থেকে শত শত উদ্বিগ্ন নাগরিক তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে যোগাযোগ করেছেন। দ্রুততম জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রাদুর্ভাব রোধে একটি তদারকি শুনানিরও আহ্বান জানিয়েছেন মেনিন। উল্লেখ্য, গত বছর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের শাসনামলেও হারলেমে লিজিয়নার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে ৭ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেসময়ও স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মেনিন; তাই তার বর্তমান বক্তব্যকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মানতে নারাজ তার মুখপাত্র।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার চাইলে আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে "যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযুক্ত ব্যক্তি" হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আইসিসি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর বিচার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। মামদানি জানান, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রশাসন কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে সিটির আইন বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। তবে সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেব না। আইন যা অনুমতি দেয়, আমরা শুধু সেটুকুই করব।" একই সঙ্গে মামদানি বলেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আমরা স্বাগত জানাই না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা হয়তো একা এই যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু অন্যায়ের মুখে নীরব থাকব কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।" মামদানির এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিধান জড়িত থাকায়, কোনো মার্কিন শহরের মেয়রের পক্ষে এককভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা অত্যন্ত জটিল আইনি বিষয়। এ কারণে বিষয়টি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। এদিকে মামদানির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের উপস্থিতি ও প্রভাব গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। একসময় স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকা মুসলিম প্রার্থীরা এখন সিটি কাউন্সিল, অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কংগ্রেস এবং বড় শহরের নির্বাহী নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থীর বিজয় এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়ার পর বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে। মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং এর রাজনৈতিক শাখা সিএআইআর অ্যাকশন এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নির্বাচনে অন্তত ৭৬ জন মুসলিম-আমেরিকান বিভিন্ন পদে প্রার্থী হন। এর মধ্যে অন্তত ৩৮ জন নির্বাচিত হন, যা সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নির্বাচনের ফল যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শুধু একটি শহরের নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতীক। একই নির্বাচনী চক্রে ভার্জিনিয়ায় গাজালা হাশমি রাজ্যব্যাপী নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এছাড়া মিশিগান, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মুসলিম প্রার্থীরা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন। মার্কিন কংগ্রেসেও ধীরে ধীরে বাড়ছে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব। ২০০৬ সালে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। এরপর আন্দ্রে কারসন, ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব এবং সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লেটিফাহ সাইমন কংগ্রেসে যোগ দেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে চারজন মুসলিম সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। স্থানীয় পর্যায়ে মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএআইআর ও জেটপ্যাক-এর যৌথভাবে প্রকাশিত জাতীয় ডিরেক্টরি অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা ও বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মেয়র, সিটি কাউন্সিল সদস্য, স্কুল বোর্ড সদস্য, কাউন্টি কমিশনার, অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা এবং বিচারক। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গত দুই দশকে মুসলিম অভিবাসী পরিবারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, ব্যবসা এবং জনসেবামূলক পেশায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ভোটার নিবন্ধন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পাশাপাশি বড় রাজনৈতিক পদেও মুসলিম প্রার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও মিশিগান, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তাদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই গবেষণায় দেখা যায়, মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানও আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। যদিও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি, তবে রিপাবলিকান পার্টির প্রতিও সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি, অর্থনীতি, নাগরিক অধিকার এবং বৈদেশিক নীতির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম ভোটারদের অবস্থান সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই এখন মুসলিম ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থানকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএন নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কিছু রক্ষণশীল বিশ্লেষক মুসলিম রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতামত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমতও রয়েছে। অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহরান মামদানির নির্বাচনী বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে বলে মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো দাবি করেছে। তাদের মতে, মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষমূলক প্রচারণাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থান কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়। এটি দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং মূলধারার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশেরও প্রতিফলন। আগামী কংগ্রেস নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে এই প্রবণতা আরও কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।