নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ১০ লাখের বেশি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া আগামী বছর বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে নতুন মেয়র জোহরান ম্যামদানির আবাসন নীতির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন আবাসন সংকট তৈরি করতে পারে।
চলতি বছরের মে মাসে নয় সদস্যের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড ভাড়া শূন্য শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় আনে। নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যামদানি ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসার ভাড়া না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এই ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ম্যামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের পর তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে ভাড়া স্থির রাখার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেটিকে তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হবে।
তবে আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা প্রয়োজন। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, ভাড়া স্থির রাখার ধারণা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব আবাসন খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তার ভাষ্য, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, জ্বালানি, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু ভাড়া না বাড়লে ভবনের মালিকদের আয়ও স্থির থাকবে। এতে ভবন মেরামত, সংস্কার এবং পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট বসবাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
নিউইয়র্কের ক্ষুদ্র সম্পত্তি মালিকদের সংগঠনের সভাপতি অ্যান করচাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের নিজস্ব পরিচালন ব্যয় সূচক অনুযায়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ভবনের ব্যয় গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। শুধু বীমা খরচই এক বছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বাস্তব ব্যয় বাড়লেও ভাড়া অপরিবর্তিত রাখলে ছোট ভবনের মালিকরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন।
ম্যামদানি অবশ্য ভবনের মালিকদের বীমা ব্যয় কমাতে নগর প্রশাসনের সহায়তায় একটি নতুন বীমা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া কোন ভবন বা মালিক এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আয় কমে গেলে অনেক মালিক ভবন সংস্কার বিলম্বিত করবেন অথবা খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে ফাঁকা রাখতেই আগ্রহী হবেন। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত আবাসনের সংখ্যা কার্যত কমে যেতে পারে।
বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রায় ৫০ হাজার 'ঘোস্ট অ্যাপার্টমেন্ট' রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো এমন ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসা, যা দীর্ঘদিন খালি থাকলেও পুনরায় ভাড়ার বাজারে আনা হয়নি। সমালোচকদের মতে, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
জেক ক্রিমেলের মতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কঠোর নীতি অনেক সময় নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। তিনি ২০১৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে পরিচালিত একটি গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ আবাসনের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। অনেক মালিক ভবন বিক্রি করে দেন অথবা উচ্চমূল্যের কন্ডোমিনিয়ামে রূপান্তর করেন।
যদিও নিউইয়র্কের আবাসন বাজার সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় ভিন্ন, তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভবনের মালিকরা পর্যাপ্ত আয় না পান, তাহলে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে ভবনের মানের অবনতি, খালি অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন ভাড়ার বাসার সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
অন্যদিকে ম্যামদানির সমর্থকদের যুক্তি, নিউইয়র্কের অর্ধেকেরও বেশি ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাড়া স্থির রাখা লাখো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনের মালিকদের জন্যও কার্যকর আর্থিক সহায়তা, সংস্কার তহবিল এবং কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভাড়া স্থির রাখার নীতি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়া ও সম্পত্তি মালিক, উভয় পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা পিপল ফর বাইকস প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে হবোকেন। শুধু অঙ্গরাজ্যেই নয়, মাঝারি আকারের শহরের তালিকায়ও দেশজুড়ে অন্যতম সেরা অবস্থান অর্জন করেছে শহরটি। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই স্বীকৃতি শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী ও গাড়িচালকদের জন্যও নিরাপদ ও পরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল। প্রতিবছরের মতো এবারও পিপল ফর বাইকস যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ১৯টি শহর ও জনপদের সাইকেল অবকাঠামো মূল্যায়ন করে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ বা তার বেশি স্কোর পাওয়া ৫৫৫টি শহরকে উন্নত সাইকেলবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝারি আকারের শহরের বিভাগে হবোকেন পেয়েছে ৮৩ নম্বর। এই স্কোর নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ৭০ নম্বরকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় পর্যায়ে হবোকেনের অবস্থান ৫৪তম এবং মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে নবম। নিউ জার্সির তালিকায় হবোকেনের পর রয়েছে রোজেল ও রোজেল পার্ক, যারা পেয়েছে ৮২ নম্বর। এরপর রয়েছে লরেন্সভিল (৭৬), হাইল্যান্ড পার্ক (৭৩), হাই ব্রিজ (৭২), মার্গেট (৭০) এবং অ্যাজবুরি পার্ক (৬৫)। অন্যদিকে নিউ ব্রান্সউইক, এলিজাবেথ, ট্রেন্টন ও জার্সি সিটিও সাইকেল অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিপল ফর বাইকসের অবকাঠামোবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যে শহরগুলোতে উন্নত সাইকেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেগুলো সাধারণত সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর জন্যই বেশি নিরাপদ। তার মতে, নিরাপদ সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং মোটরযান চালকদের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়। হবোকেন ছয়টি মূল্যায়ন সূচকেই ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক এলাকা, সরকারি সেবা, ব্যবসাকেন্দ্র, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনে সাইকেলে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ। প্রতিবেদনে হবোকেনের ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিসীমা এবং ভিশন জিরো কর্মসূচির বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে হবোকেনের সড়কে কোনো প্রাণঘাতী ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেনি। হবোকেনের মেয়র এমিলি বি. জ্যাবুর বলেন, এই স্বীকৃতি শহরের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ফল। তার ভাষায়, শহরের পরিবহনব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে মানুষ হাঁটতে, সাইকেল চালাতে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে কিংবা গাড়ি চালাতে সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শহর কর্তৃপক্ষ ভিশন জিরো কর্মসূচির হালনাগাদ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের সময় কমপ্লিট স্ট্রিটস নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এই নীতির আওতায় রাস্তা এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। হবোকেনে গত কয়েক বছরে সাইকেল লেনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গতিসীমা কমানো এবং জার্সি সিটির সঙ্গে যৌথভাবে আঞ্চলিক বাইক-শেয়ার ব্যবস্থা চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ শহরটিকে আরও সাইকেলবান্ধব করে তুলেছে। মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ এমন শহরে বসবাস করতে চান, যেখানে চলাচলের জন্য একাধিক নিরাপদ বিকল্প রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেকেই নিয়মিত সাইকেল চালাতে আগ্রহী হলেও তা করতে পারেন না। মেয়র জ্যাবুরের মতে, অনেকেই মনে করেন সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য। বাস্তবে এটি সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ কমায়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পুরো সড়কব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সাইকেল নেটওয়ার্ক তখনই সফল হয়, যখন তা আবাসিক এলাকা, স্কুল, কর্মস্থল, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। তাই পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের পাশাপাশি শহরগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২২ হাজার ডলারেরও বেশি ছাড় পাওয়ার একটি ঘটনা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়ামের যুগে প্রচলিত স্বাস্থ্যবিমা আদৌ সবার জন্য লাভজনক কি না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখে স্বাস্থ্যবিমা ছেড়ে দেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্লার্কসন লসন চলতি বছর স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে জরুরি অসুস্থতায় তাকে দুই রাত হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। চিকিৎসা শেষে তার নামে ২৪ হাজার ডলারের বেশি বিল তৈরি হয়। তবে হাসপাতালটি 'সেলফ-পে' বা নিজে অর্থ পরিশোধকারী রোগী হিসেবে বিবেচনা করে বিল থেকে ২২ হাজার ডলারেরও বেশি ছাড় দেয়। শেষ পর্যন্ত তাকে পরিশোধ করতে হয় মাত্র ২ হাজার ৪৭৮ ডলার। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে লসন বিল দেখিয়ে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ মওকুফ করেছে। তার শেয়ার করা খাতভিত্তিক বিলে দেখা যায়, শুধু সিটি স্ক্যানের খরচ ছিল ৮ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৯৮ ডলার এবং জরুরি বিভাগের ফি ছিল ৩ হাজার ৭৩৮ দশমিক ৮২ ডলার। লসনের ভাষ্য, স্বাস্থ্যবিমা করলে তাকে প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার প্রিমিয়াম দিতে হতো। এর পাশাপাশি ছিল ৫ হাজার ডলারের ডিডাক্টিবল। এসব হিসাব বিবেচনা করেই তিনি স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, অন্তত এই ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ দিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই তার জন্য কম ব্যয়বহুল হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা ব্যতিক্রম হলেও একেবারে বিরল নয়। অনেক হাসপাতাল বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এড়াতে সরাসরি অর্থ পরিশোধকারী রোগীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে। এতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যয় কমে এবং সেই সুবিধার একটি অংশ রোগীকে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের ছাড় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যদিও সব হাসপাতালের নীতি এক নয়। তবে এই সুবিধার সঙ্গে বড় ঝুঁকিও রয়েছে। সরাসরি অর্থ পরিশোধ করলে সেই ব্যয় স্বাস্থ্যবিমার ডিডাক্টিবল বা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ব্যয়ের সীমার মধ্যে গণনা হয় না। এছাড়া বিমা কোম্পানির দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত কম দামের সুবিধাও পাওয়া যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা জটিল অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় কয়েক হাজার নয়, কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের 'নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট' অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিমাবিহীন রোগীদের সম্ভাব্য খরচের একটি লিখিত ধারণা দিতে হয়। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। যেহেতু লসনের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল জরুরি বিভাগে, তাই তিনি আগাম খরচ জানার সুযোগ পাননি এবং বিল নিয়ে আইনি আপত্তি জানানোর সুযোগও ছিল সীমিত। নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলেন কালেকটিভ হেলথের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কৌশিক ভৌমিক। তিনি বলেন, অনেকের হতাশার মূল কারণ শুধু ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহার করাও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। কাগজে-কলমে কভারেজ থাকলেও বাস্তবে বিল, অনুমোদন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়া রোগীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ক্রাউডহেলথের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডি স্কুনওভারও মনে করেন, অনেক হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে বিল নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী থাকে। তার পরামর্শ, হাসপাতালের প্রথম দেওয়া বিলই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দরকষাকষির সুযোগ থাকে। অন্যদিকে টেক কমান্ডের প্রধান নির্বাহী জ্যাক হুপার বলেন, নগদ অর্থে চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে পারে। কিন্তু জরুরি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে একটি পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের (কেএফএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তা-ভিত্তিক পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমার গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রায় ২৬ হাজার ৯৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার গড় প্রিমিয়াম ৯ হাজার ৩২৫ ডলার। এছাড়া বিমাধারীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষের ডিডাক্টিবল ২ হাজার ডলারের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বাড়তে থাকায় সুস্থ ও কম ঝুঁকির মানুষ যদি বিমা করা ছেড়ে দেন, তাহলে বিমা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ তখন বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে মূলত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীরাই থেকে যাবেন, ফলে ভবিষ্যতে প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একটি ভাইরাল ঘটনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। নগদ অর্থে চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হলেও জরুরি বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ (ইডি) জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে কঠোর পরিচয়-যাচাইকরণ বা আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশনের নতুন নিয়ম চালু করার পর থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রতারকদের হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। দেশব্যাপী জালিয়াতি প্রতিরোধের এই উদ্যোগে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা সরকারি শিক্ষার্থী সহায়তার জন্য আবেদনের সময় সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এবং ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড চিফ অপারেটিং অফিসার জেমস বার্জারন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, নিয়মটি চালু করার পর থেকে তারা প্রতারকদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ যাওয়া ঠেকাতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নতুন জালিয়াতি শনাক্তকরণ টুলটি 'ফাফসা' (FAFSA - ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড) ফর্মের শুরুতেই কাজ করে। এটি অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই জালিয়াতি আটকে দেয়, যা টাস্কফোর্সের একটি বড় অগ্রাধিকার। চলতি বসন্তে শিক্ষা বিভাগ সরাসরি অনলাইন ফাফসা অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে রিয়েল-টাইম এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এর আগে বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়, জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এখন সরাসরি ফাফসার ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে রিয়েল-টাইমে ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি দেখা যাবে, তাদের পেল গ্রান্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের মতো সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এই টুলটি বর্তমান ফাফসা চক্রের সময় করদাতাদের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করবে। বিভাগের মতে, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ের একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন। সেসময় পূর্ববর্তী বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন যাচাইকরণের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো শিথিল করেছিল। বিভাগের দাবি, পূর্ববর্তী ওই নীতিমালার কারণে জালিয়াতি প্রতিরোধের বদলে অন্যান্য দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ফাফসা জমা দেওয়ার পরে মাত্র ১ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই করা হতো। নতুন এই উন্নত জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক ও জটিল সব প্রতারণা রুখতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বট এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অসাধু চক্রের তৈরি করা ভুয়া পরিচয় বা 'ঘোস্ট স্টুডেন্টদের' অবরুদ্ধ করে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকম্যাহন সমস্ত শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যাপক পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করেন। শুধুমাত্র এই ডেটা-শেয়ারিং উদ্যোগটির মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থ ছাড় রোধ করে এবং পরিচয় চুরি ধরে করদাতাদের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। বার্জারন বিষয়টি সম্পর্কে আরও বলেন, আমেরিকান নাগরিকদের গাড়ি চালানো বা বিমানে ওঠার জন্য আইডি দেখাতে হয়। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য করদাতাদের দেওয়া হাজার হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার আগে মানুষের পরিচয় যাচাই করাটাই যৌক্তিক। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে শিক্ষা বিভাগ মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথেও অংশীদারিত্ব করেছে, যাতে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তহবিল কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীদের হাতে না পৌঁছায়। সংস্থার তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে এবং শুধু সেখান থেকেই আটকে দেওয়া তহবিলের পরিমাণ ছিল ১৭১ মিলিয়ন ডলার। ঐতিহাসিকভাবে ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ সিস্টেমের অভ্যন্তরে ঘোস্ট স্টুডেন্টদের কারণে ফেডারেল এবং স্টেট এইডের লাখ লাখ ডলার বেহাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সেখানে আশঙ্কাজনক হারে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা দেখা গেছে। প্রাথমিক আবেদন যাচাইকরণের পাশাপাশি, শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন বাহ্যিক ডিজিটাল প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলোর দিকেও কড়া নজর রাখছে। বিভাগটি সম্প্রতি আপডেট করা অনলাইন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে 'ভুয়া কলেজ ওয়েবসাইটগুলো' সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এই সাইটগুলো মূলত এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ব্যবহার করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।