আমেরিকা

নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হবোকেন, নিরাপদ সড়কের সুফল পাচ্ছেন সবাই

Unknown প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২২:১৮
নিরাপদ সড়কের সুবিধা পাচ্ছেন পথচারী ও গাড়িচালকেরাও। ছবি: সংগৃহীত
নিরাপদ সড়কের সুবিধা পাচ্ছেন পথচারী ও গাড়িচালকেরাও। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা পিপল ফর বাইকস প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে হবোকেন। শুধু অঙ্গরাজ্যেই নয়, মাঝারি আকারের শহরের তালিকায়ও দেশজুড়ে অন্যতম সেরা অবস্থান অর্জন করেছে শহরটি। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই স্বীকৃতি শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী ও গাড়িচালকদের জন্যও নিরাপদ ও পরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল।

 

প্রতিবছরের মতো এবারও পিপল ফর বাইকস যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ১৯টি শহর ও জনপদের সাইকেল অবকাঠামো মূল্যায়ন করে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ বা তার বেশি স্কোর পাওয়া ৫৫৫টি শহরকে উন্নত সাইকেলবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝারি আকারের শহরের বিভাগে হবোকেন পেয়েছে ৮৩ নম্বর। এই স্কোর নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ৭০ নম্বরকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় পর্যায়ে হবোকেনের অবস্থান ৫৪তম এবং মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে নবম।

 

নিউ জার্সির তালিকায় হবোকেনের পর রয়েছে রোজেল ও রোজেল পার্ক, যারা পেয়েছে ৮২ নম্বর। এরপর রয়েছে লরেন্সভিল (৭৬), হাইল্যান্ড পার্ক (৭৩), হাই ব্রিজ (৭২), মার্গেট (৭০) এবং অ্যাজবুরি পার্ক (৬৫)। অন্যদিকে নিউ ব্রান্সউইক, এলিজাবেথ, ট্রেন্টন ও জার্সি সিটিও সাইকেল অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিপল ফর বাইকসের অবকাঠামোবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যে শহরগুলোতে উন্নত সাইকেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেগুলো সাধারণত সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর জন্যই বেশি নিরাপদ। তার মতে, নিরাপদ সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং মোটরযান চালকদের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।

 

হবোকেন ছয়টি মূল্যায়ন সূচকেই ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক এলাকা, সরকারি সেবা, ব্যবসাকেন্দ্র, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনে সাইকেলে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ।

প্রতিবেদনে হবোকেনের ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিসীমা এবং ভিশন জিরো কর্মসূচির বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে হবোকেনের সড়কে কোনো প্রাণঘাতী ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেনি।

 

হবোকেনের মেয়র এমিলি বি. জ্যাবুর বলেন, এই স্বীকৃতি শহরের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ফল। তার ভাষায়, শহরের পরিবহনব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে মানুষ হাঁটতে, সাইকেল চালাতে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে কিংবা গাড়ি চালাতে সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শহর কর্তৃপক্ষ ভিশন জিরো কর্মসূচির হালনাগাদ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের সময় কমপ্লিট স্ট্রিটস নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এই নীতির আওতায় রাস্তা এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

 

হবোকেনে গত কয়েক বছরে সাইকেল লেনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গতিসীমা কমানো এবং জার্সি সিটির সঙ্গে যৌথভাবে আঞ্চলিক বাইক-শেয়ার ব্যবস্থা চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ শহরটিকে আরও সাইকেলবান্ধব করে তুলেছে।

মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ এমন শহরে বসবাস করতে চান, যেখানে চলাচলের জন্য একাধিক নিরাপদ বিকল্প রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেকেই নিয়মিত সাইকেল চালাতে আগ্রহী হলেও তা করতে পারেন না।

 

মেয়র জ্যাবুরের মতে, অনেকেই মনে করেন সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য। বাস্তবে এটি সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ কমায়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পুরো সড়কব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সাইকেল নেটওয়ার্ক তখনই সফল হয়, যখন তা আবাসিক এলাকা, স্কুল, কর্মস্থল, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। তাই পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের পাশাপাশি শহরগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গত বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সস্তা বিমানবন্দরের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া প্রায় ৪২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। ফলে দেশের ভেতরে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য বিমানভাড়া এখন বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বছরের শুরুর সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ার গড় ছিল প্রায় ৪২৮ ডলার। তবে সব বিমানবন্দর বা রুটে ভাড়া সমান নয়। কোনো কোনো শহর থেকে ফ্লাইট তুলনামূলক সস্তা হলেও বড় হাব বিমানবন্দর কিংবা নির্দিষ্ট কিছু রুটে যাত্রীদের অনেক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ার হিসাব প্রতি তিন মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটের গড় ভাড়া তুলে ধরা হয়। এই হিসাবের মধ্যে টিকিটের মূল ভাড়া, কর এবং বিমানবন্দর ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে লাগেজ, আসন পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সেবার চার্জ এতে ধরা হয় না।    পরিবহন বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় ৭ হাজার অভ্যন্তরীণ শহরভিত্তিক রুটের ভাড়ার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোন কোন রুটে ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বা কমেছে, তারও আলাদা তথ্য রাখা হয়েছে।    বিমানভাড়া বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ সরবরাহে বিলম্ব, বিমানবন্দরভিত্তিক ফ্লাইট সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মী সংকটও ফ্লাইট সংখ্যা ও আসন সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।   চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া এক বছর আগের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি ফ্লাইটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী থাকাও ভাড়া বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করা পরিবারগুলোকে এখন একই রুটের জন্য আগের তুলনায় বেশি বাজেট রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে থ্যাঙ্কসগিভিং, ক্রিসমাস ও অন্যান্য ছুটির মৌসুমে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।   তবে একই রুটের টিকিটের দাম সময়, বিমানবন্দর, এয়ারলাইন এবং ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে কাছাকাছি একাধিক বিমানবন্দর এবং ভিন্ন দিনের ভাড়া তুলনা করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগও সতর্ক করেছে যে তাদের প্রকাশিত গড় ভাড়া বর্তমান সময়ের নির্দিষ্ট টিকিটের দামের সঙ্গে সরাসরি মিলবে না, কারণ বিমানভাড়া নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১০:৫০
ওহাইওতে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির চারজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরপ্রীত সিং নতুন বিচার চেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে হত্যার পরও হাল ছাড়েননি খুনি ভারতীয় আসামি, যুক্তরাষ্ট্রে চাইলেন নতুন বিচার

খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা উল্টে ৫ মাসের শিশুসহ নারী নিহত, উদ্ধার ১২ জন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মায়ামি ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকে ফ্রিতে পড়ার সুযোগ! আবেদন করুন দ্রুত

মার্কিন গার্লফ্রেন্ড জুলিসা রুবি সালাজারকে (বামে) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক ভারুন ব্যাচিগারি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন গার্লফ্রেন্ডকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে ১৯ বছর বয়সী কলেজছাত্রী জুলিসা রুবি সালাজারকে হত্যার অভিযোগে ভারুন ব্যাচিগারিকে জার্মানির একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে গত ৫ আগস্ট সালাজারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে তার খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সালাজারের গলায় চাপ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটিকে প্রথম ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালাজারের মৃত্যুর পর ব্যাচিগারি তার ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে তার ফোন ব্যবহার করে একাধিক বার্তা পাঠান। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও বাড়ে।   এরপর ব্যাচিগারি টাকসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যান। সেখান থেকে হিউস্টরের একটি ফ্লাইটে ওঠেন এবং পরে জার্মানির বার্লিনগামী ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।   অ্যারিজোনার পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতায় জার্মানিতে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।   তদন্তে ব্যাচিগারির আগের সহিংস আচরণের বিষয়ও সামনে এসেছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্টের একটি মামলা চলমান ছিল। এছাড়া আরেক নারী তদন্তকারীদের কাছে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারী তখন অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে করেননি।   সালাজারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমস্যা চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, সালাজার সম্পর্কটি শেষ করার কথা ভাবছিলেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কয়েক মিনিট ধরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন বলে তার রুমমেটরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পরে তারা সালাজারকে মেসেজ করে জানতে চাইলে তিনি ঠিক আছেন এবং এটি শুধু একটি ঝগড়া ছিল বলে জানিয়েছিলেন।   ব্যাচিগারি আগে ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় ব্যবসা বিশ্লেষণ বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি চাকরিও হারিয়েছিলেন এবং ভাড়া পরিশোধে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   এদিকে সালাজারের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। কলেজজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই তরুণীকে পরিবারের কাছে প্রিয় মেয়ে ও বোন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।   তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং ব্যাচিগারির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের অধীনে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:৪৯
ফ্লোরিডার দুই নারী দারা ও অ্যাবিগেইল মওয়াঙ্গুলু | ছবি: ডব্লিউপিবিএফ ২৫ নিউজ

ফ্লোরিডায় দুই নারীর অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব, যেভাবে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো

মেডিসিনের দোকান।ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকায় ৩০০ ডলারের মেডিসিন কিনুন ২০ ডলারে! বাংলাদেশিদের জন্য এই ৩ উপায়

মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা'র পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় জীবনের অধিকাংশ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো অন্তঃসত্ত্বা নারী নির্বাসনের আতঙ্কে

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি:সংগৃহীত
ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নৌকায় ঘুরে দেখলেন কৃষকদের ব্যস্ততা

ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে নৌকায় করে হাট পরিদর্শনের সময় স্থানীয় কৃষকদের ব্যস্ততা, পেয়ারা বেচাকেনা ও পরিবহন কার্যক্রম দেখার পাশাপাশি ভীমরুলীর বিখ্যাত পেয়ারা চেখেও দেখেন তিনি।   সকাল ৯টার দিকে ভীমরুলীর ভাসমান হাটে পৌঁছালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওছার হোসেন ফুল দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা জানান। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছোট নৌকায় চড়ে হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।   পরিদর্শনের সময় স্থানীয় পেয়ারা চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নৌকায় বসে তিনি খাল-বিল, পেয়ারা বাগান এবং সবুজে ঘেরা এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করেন।   ভীমরুলীর ভাসমান হাট মূলত খালকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমী কৃষিপণ্য বাজার। পেয়ারা মৌসুমে আশপাশের বাগান থেকে চাষিরা নৌকায় করে পেয়ারা নিয়ে আসেন। নৌকাতেই চলে কেনাবেচা ও পরিবহনের প্রস্তুতি। ফলে মৌসুমে এ এলাকায় কৃষক, পাইকার ও ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য সমাগম ঘটে।   হাট পরিদর্শন শেষে ট্রলারে করে পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানার উদ্দেশে রওনা হন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তার সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট ভ্রমণ তিনি বেশ উপভোগ করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় মানুষের কর্মব্যস্ততা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত।   মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে ঘিরে স্থানীয় পেয়ারা চাষি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৮:২৩
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি:সংগৃহীত

আগস্টের মধ্যেই সব ফিল্ড অফিসারকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনছে আইসিই

বিখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা মার্ক রাফালো।ছবি: সংগৃহীত

কোনো লক্ষণই ছিল না, তবু স্বপ্নে দেখেছিলেন ব্রেন টিউমার! পরদিনই পরীক্ষায় ধরা পড়ল সত্যি টিউমার

দাবানল।ছবি:সংগৃহীত

দাবানলে আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই পাইলট

0 Comments