ফ্লোরিডায় দুই নারীর অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব, যেভাবে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে এক কঠিন কর্মদিবসের মাঝখানে একটু শান্তিতে বসে দুপুরের খাবার খেতে চেয়েছিলেন দারা। তাই এমন এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন, যার মালিকের সঙ্গে তার আগে কখনো পরিচয় ছিল না। সেই ছোট্ট অনুরোধ আর অপরিচিত এক নারীর ‘হ্যাঁ’ থেকেই শুরু হয় এমন এক বন্ধুত্ব, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের নজর কাড়ে।
দারা স্থানীয় একটি ওয়েন্ডিজে কাজ করেন। সেদিন কর্মস্থলে তার দিনটি ভালো যাচ্ছিল না। কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে দূরে গিয়ে একা বসে স্বস্তি নিতে চাচ্ছিলেন তিনি। বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে ইচ্ছা না হওয়ায় একটি অপরিচিত বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকার পর দরজায় বেল চাপেন দারা।
রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি পাশের ওয়েন্ডিজে কাজ করেন এবং বিরতিতে আছেন। বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে না চাওয়ায় তিনি শুধু ওই বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে নিজের দুপুরের খাবার খেতে পারবেন কি না, জানতে চান।
বাড়িতে তখন কাজ করছিলেন অ্যাবিগেইল মওয়াঙ্গুলু। দরজা খুলে অপরিচিত এক নারীকে দেখে তার প্রথম ধারণা হয়েছিল, হয়তো ওয়েন্ডিজ থেকে খাবার পৌঁছে দিতে কেউ এসেছেন।
বিষয়টি বুঝতে পারার পরও দারাকে ফিরিয়ে দেননি অ্যাবিগেইল। বরং নিজের জায়গায় দারাকে কল্পনা করে তিনি ভাবেন, তার নিজেরও যদি কোনো কঠিন দিন যায়, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই চাইবেন কেউ তার সঙ্গে একটু মানবিক আচরণ করুক।
তাই তিনি দারাকে বারান্দায় বসার অনুমতি দেন।
দারার কাছে অ্যাবিগেইলের সেই ছোট্ট ‘হ্যাঁ’ ছিল অনেক বড় বিষয়। তিনি জানান, খাবার খাওয়ার সময় আনন্দে তার কান্না চলে আসছিল। একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ তাকে একটু বসার জায়গা দিয়েছেন, বিষয়টি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।
এরপর অ্যাবিগেইল ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ১০ লাখের বেশি ভিউ পায়। মানুষের কৌতূহল তৈরি হয়, এরপর ওই দুই নারীর মধ্যে কী ঘটেছে তা জানার জন্য।
অ্যাবিগেইলের নিজেরও একই কৌতূহল ছিল। তিনি দারার সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করতে চেয়েছিলেন। পরদিন তিনি দারা যে ওয়েন্ডিজে কাজ করেন সেখানে চলে যান।
তবে হঠাৎ করে অপরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা করতে আসায় দারা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। প্রথম কয়েক মিনিট অ্যাবিগেইলকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখার কথা বলেন।
শেষ পর্যন্ত দুজনের দেখা হয়। সেই সাক্ষাৎও বেশিক্ষণ অস্বস্তিকর থাকেনি। অচেনা দুই নারীর মধ্যে দ্রুতই তৈরি হয় স্বাভাবিক বোঝাপড়া।
এরপর থেকে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হতে থাকে। তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে গেছেন, ওয়েস্ট পাম বিচে ঘুরেছেন, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিওও তৈরি শুরু করেছেন।
দুজনেরই ভাষ্য, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বটি খুব স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে। সামান্য বিষয়েও একসঙ্গে হাসাহাসি করা থেকে শুরু করে নিয়মিত দেখা করা, সবকিছুই যেন খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অ্যাবিগেইল বলেন, দারার একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার সাহস তাকে নিজের সামাজিক ধারণাগুলো নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। অনেক সময় মানুষ সামাজিক অস্বস্তি বা অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলার দ্বিধার কারণে একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু দারার সেই ছোট্ট পদক্ষেপ তাদের দুজনের জীবনেই একটি নতুন বন্ধুত্ব নিয়ে এসেছে।
যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল একজন অপরিচিত মানুষের দরজায় কড়া নাড়া এবং বারান্দায় কয়েক মিনিট বসার অনুমতি চাওয়ার মধ্য দিয়ে, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে দুই নারীর সুন্দর বন্ধুত্বের গল্প। আর সেই গল্পের প্রথম ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের অপ্রত্যাশিত পরিচয় এখন পরিণত হয়েছে ভাইরাল এক মানবিক ঘটনায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিরল ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই এমন অভ্যর্থনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের জন্য তুলনামূলকভাবে বিরল। শির এই সফর এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও শির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ানের নিরাপত্তা, বিরল খনিজসহ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। শিকে স্বাগত জানাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিদেশি নেতাদের বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। এবার ট্রাম্প সরাসরি শির বিমানের কাছে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শির সম্মানে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা আয়োজন করা হবে। এরপর দুই নেতা বৈঠক করবেন এবং রাতে থাকবে রাষ্ট্রীয় ভোজ। সফরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মেলানিয়া শি ও পেং লিয়ুয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত চা বৈঠক করবেন এবং জাতীয় আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। পাশাপাশি বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও মতপার্থক্য রয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই আসন্ন বৈঠকে এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তাইওয়ানও আলোচনার সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ফলে দুই নেতার বৈঠকে এ ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। শি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন যুগে সম্পর্ক পরিচালনার সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। শির সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা দুই দেশের সম্পর্কের কূটনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনলেও, আগামী দিনের বাস্তব সম্পর্ক নির্ভর করবে বৈঠকে বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা হয় তার ওপর।
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে? জেনে নিন
আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী
টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। এবিসি নিউজের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদন, আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি ডোরড্যাশের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ নিশ্চিত করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গারসেস পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে আবার ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি গুলি রয়েছে, যা মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আটকে আছে। ২৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, গুলিটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। গারসেস পেরেজের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি ঘিরে তার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। অস্টিনের ঘটনার পর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তা ঘটনার সময় শরীরে পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। অস্টিন পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে ওই ভিডিওতে গুলি চালানোর আগের পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট হয়নি। অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, তার বিভাগ এবং টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা আইসিইর মূল অভিযানে অংশ নেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। অস্টিনের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিছু কংগ্রেস সদস্য আইসিইর কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। শতাধিক কংগ্রেস সদস্য গারসেস পেরেজকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগটি বলেছে, কংগ্রেসের পাস করা আইন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব এবং অস্টিনে আইসিইর অভিযান থামবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনও আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে, অস্টিনের ঘটনার আগে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাগুলো নিয়েও কংগ্রেসে শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস এবং প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম যৌথ শুনানির আয়োজন করে। সেখানে আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। শুনানিতে রেনে গুডের মা ডোনা গ্রেঞ্জারও বক্তব্য দেন। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে জানুয়ারিতে মিনেসোটায় এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। গুড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাইয়ে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদোর পরিবার। তার ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র আইনপ্রণেতাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পরিবার তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মানিব্যাগ ও ফোন, ফেরত পায়নি এবং ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত উত্তর পায়নি। অস্টিনে গারসেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রেসিডেন্ট রোমান পালোমারেস হিউস্টনের প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অস্টিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। এবিসি নিউজের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আটটি ছিল প্রাণঘাতী এবং নিহতদের তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ আহত হননি। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
প্রথমবার বাড়ি কিনছেন? মর্টগেজের বাইরেও বাসার কিস্তিতে যেসব খরচ যোগ হতে পারে
‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যারা আমেরিকাকে বদলাতে চান তাদের অন্য দেশে যাওয়ার পরামর্শ বিচারক জুডির
কিছু শহর তাদের সেরা গল্পগুলো লুকিয়ে রাখে সাধারণ বিপণিবিতানের আড়ালে। আমি হয়তো এটি পুরোপুরি এড়িয়েই যেতাম। গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা সেখানেই কাটিয়ে দিলাম। জর্জিয়ার আর দশটা সাধারণ পার্কিং লটের মতোই দেখতে একটি জায়গা থেকে ভেসে আসছিল গ্রিল করা মাংসের সুবাস। সাইনবোর্ডগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো। বেকারিগুলোতে ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি বিক্রি হচ্ছিল। পাশের টেবিলে নানা ভাষায় চলছিল আড্ডা। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল, যেন এটি অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই। জর্জিয়ার একটি শান্ত রাস্তার পাশে এমন কিছু খুঁজে পাব, তা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দুপুরের খাবার অর্ডার করে শেষ পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর এক ব্যাগ পেস্ট্রি এবং মনে একগাদা নতুন প্রশ্ন নিয়ে সেখান থেকে ফিরলাম। বাইরে থেকে জায়গাটি যেমনই লাগুক না কেন, এর ভেতরের ব্যাপ্তি ও খাবারের স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। এই শহরের পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ। এখানকার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের আরব হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে পুরো অঙ্গরাজ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়। এর অর্থ হলো, জর্জিয়ার গড়ের চেয়ে এখানে আরবদের ঘনত্ব প্রায় সাত গুণ বেশি। ৩০০০৯ জিপ কোডের দিকে তাকালে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সেখানকার প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষ আরব ঐতিহ্যের অনুসারী বলে জানিয়েছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু সংখ্যা দিয়ে কোনো জায়গার আসল অনুভূতি বোঝানো যায় না, তবে মুদির দোকানে কেন তিন ধরনের তাহিনি পাওয়া যায়, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৬৬ হাজার ৮৫৫ জন মানুষের বসবাস। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। বৈচিত্র্যের দিক দিয়েও শহরটি পিছিয়ে নেই। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এশিয়ান, ১১ দশমিক ২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্পানিক। সব মিলিয়ে এই শহরতলি পুরোনো কোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উত্তর ফুলটন কাউন্টিতে অবস্থিত, যা মেট্রো আটলান্টার অংশ এবং শহরটির নাম আলফারেটা। জর্জিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার আরব আমেরিকানের বসবাস। পীচ ও চিনাবাদামের জন্য পরিচিত একটি অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বেশ বড় একটি সংখ্যা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আরব আটলান্টা এবং এর আশপাশের শহরতলিতে বসবাস করেন। বিশেষ করে উত্তরের শহরতলিগুলোতে এদের বড় একটি অংশ থাকেন। মেট্রো এলাকার অংশ হওয়ার কারণে এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আরব আমেরিকান জনসংখ্যার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদাররা এখানে আসছেন। এর ফলে এখানে কেবল জনসংখ্যাই বাড়েনি, বরং বেকারির দোকান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এবং সপ্তাহান্তের আড্ডার জায়গাও গড়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের কথা উঠলে প্রথমেই আসে লেবানন ও মিসরের নাম। ঐতিহাসিকভাবে জর্জিয়ার আরব আমেরিকান কমিউনিটির বড় অংশই এসেছেন এই দুই দেশ থেকে। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে লেবানিজ মেজে এবং মিসরীয় ঘরোয়া খাবারের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে জর্জিয়ার এই কমিউনিটিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব রান্নার ধরন এবং উৎসবগুলো এখানে নিয়ে এসেছেন। ভাষার ক্ষেত্রেও একই বৈচিত্র্য দেখা যায়। কায়রো, বৈরুত এবং রামাল্লার উপভাষাগুলো একই দোকানে শোনা যায়। নতুন প্রজন্ম এই সবগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। শিশুরা স্কুলে ইংরেজিতে এবং বাড়িতে আরবিতে কথা বলে। হামজাহ ইসলামিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এখানে আরবি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা ধরে রাখতে পারে। গ্রিন অ্যাপল একাডেমি এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটনের সঙ্গে যুক্ত। একাডেমিটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু যত্ন এবং শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার একটি চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। শিশুরা স্কুলের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাও গ্রহণ করে। প্রার্থনার জায়গাগুলো কেবল উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাউথইস্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার পার্শ্ববর্তী মিল্টন এলাকায় অবস্থিত হলেও এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সেবা করে। দৈনন্দিন প্রার্থনার পাশাপাশি বিয়ে, ছুটির দিন এবং সামাজিক আহারের মতো বড় আয়োজনগুলোও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নতুন বাসিন্দারা সাধারণত এখানেই তাদের প্রাথমিক সংযোগ গড়ে তোলেন। খাবারের কথায় এলে প্রথমেই আসে ডেলবার মিডল ইস্টার্নের নাম। ৪১২০ ওল্ড মিল্টন পার্কওয়েতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি ইরানি রান্নার স্বাদ দিয়ে থাকে। পারস্যের রান্না অত্যন্ত নিখুঁত হয়, যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। বিশেষ করে তাদের ভাত রান্নার কৌশল একটি ভালো রান্নাঘরকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে। জেরুজালেম বেকারি অ্যান্ড গ্রিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাজা মধ্যপ্রাচ্যের রুটি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া বাকলাভার মতো নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় এখানে। বিজোরিয়া হাউস অব হামাস নামের আরেকটি রেস্তোরাঁ আলফারেটার মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের চাহিদা মেটায়। এটি সাধারণ দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয়। হামাস, ফালাফেল এবং বিভিন্ন র্যাপ বা বাটি খাবার দুপুরের জন্য দারুণ মানানসই। দামও বেশ হাতের নাগালে থাকে। খাবার সবসময় সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও বেশি কাজ করে। আলফারেটার এই আরব কমিউনিটি কেবল তাদের খাবারই নয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে জর্জিয়ার বুকে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ৮ নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, তোপের মুখে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়েও চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা থেকে বাদ ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক