শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রো খান্নার ভাষায়, বিষয়টি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। রো খান্নার এই মন্তব্যের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সরাসরি আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এদিকে রো খান্না নিজেও সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে কিছু সময়ের জন্য আটক হওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরেই নতুন করে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এরই মধ্যে স্পষ্ট। ফলে মামদানি ও রো খান্নার আহ্বান মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সফরে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই বলে স্বীকার করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি জানান, তাঁর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে আইনি পর্যালোচনা করেছে। সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভিডিও বার্তায় মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয়ে পরোয়ানা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন। সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে এলে বিষয়টি নিয়ে তাঁর প্রশাসন আইনি পথ খুঁজছে। তবে সর্বশেষ আইনি পর্যালোচনার পর তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সেই ক্ষমতা নেই। মামদানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সেবা করাই মেয়রের দায়িত্ব, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষে প্রচারণা চালানো নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো অবস্থাতেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকৃতি দেয় না। ফলে আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে দেশটির ওপর কোনো চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা নেই। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সময়ে হামাসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল সরকার ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নর্ক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। গত ১১ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে ১,০২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদির ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মার্কিন ইহুদিদের ৪৪ শতাংশ মামদানির প্রতি অত্যন্ত বা মোটামুটি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অন্যদিকে, মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা নেতানিয়াহুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মামদানিকে এবং ৫৯ শতাংশ নেতানিয়াহুকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন। নেতৃত্বের পছন্দের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতি নিয়েও ইহুদি সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং মাত্র ২৯ শতাংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। জাতীয় গড়ের তুলনায় এই চিত্রটি বেশ ভিন্ন, যেখানে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক মনোভাব যথাক্রমে ৩৮ ও ৫৯ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়েও বেশিরভাগ ইহুদি অসন্তুষ্ট। অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ, অভিবাসন নীতিতে ৬৯ শতাংশ এবং ইরান ইস্যুতে ৭৩ শতাংশ ইহুদি ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গেও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশের কাছে ইসরায়েল ব্যক্তিগতভাবে "অত্যন্ত বা খুব গুরুত্বপূর্ণ" এবং ২৮ শতাংশের কাছে "কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ"। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে "অতিরিক্ত সমর্থন" দিচ্ছে বলে মনে করেন ৩৮ শতাংশ ইহুদি। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন সমর্থন অপর্যাপ্ত এবং ৩২ শতাংশ মনে করেন সমর্থন ঠিক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩ শতাংশ মার্কিন ইহুদি, যেখানে ৩৬ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন। জরিপে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৭ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ন্যায়সঙ্গত ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোকে যৌক্তিক মনে করেন ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা ৭৯ শতাংশ ৭ অক্টোবরের হামলাকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন ৭৩ শতাংশ ইহুদি। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা "হ্যাঁ" বলেছেন এবং ৪৯ শতাংশ এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; বাকি ২১ শতাংশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ইহুদি ধর্মীয়ভাবে খুব একটা সক্রিয় নন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৩৪ শতাংশ জানান তারা কখনোই যান না, ১৮ শতাংশ বছরে একবারের কম যান এবং ১৬ শতাংশ বছরে এক বা দুবার যান। ধর্মতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ছিলেন গোঁড়া বা অর্থোডক্স ইহুদি। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ নিজেদের রিফর্ম এবং ২৩ শতাংশ কনজারভেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তাদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই।
নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ১০ লাখের বেশি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া আগামী বছর বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে নতুন মেয়র জোহরান ম্যামদানির আবাসন নীতির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন আবাসন সংকট তৈরি করতে পারে। চলতি বছরের মে মাসে নয় সদস্যের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড ভাড়া শূন্য শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় আনে। নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যামদানি ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসার ভাড়া না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এই ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ম্যামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের পর তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে ভাড়া স্থির রাখার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেটিকে তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হবে। তবে আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা প্রয়োজন। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, ভাড়া স্থির রাখার ধারণা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব আবাসন খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে। তার ভাষ্য, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, জ্বালানি, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু ভাড়া না বাড়লে ভবনের মালিকদের আয়ও স্থির থাকবে। এতে ভবন মেরামত, সংস্কার এবং পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট বসবাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। নিউইয়র্কের ক্ষুদ্র সম্পত্তি মালিকদের সংগঠনের সভাপতি অ্যান করচাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের নিজস্ব পরিচালন ব্যয় সূচক অনুযায়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ভবনের ব্যয় গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। শুধু বীমা খরচই এক বছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বাস্তব ব্যয় বাড়লেও ভাড়া অপরিবর্তিত রাখলে ছোট ভবনের মালিকরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। ম্যামদানি অবশ্য ভবনের মালিকদের বীমা ব্যয় কমাতে নগর প্রশাসনের সহায়তায় একটি নতুন বীমা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া কোন ভবন বা মালিক এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আয় কমে গেলে অনেক মালিক ভবন সংস্কার বিলম্বিত করবেন অথবা খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে ফাঁকা রাখতেই আগ্রহী হবেন। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত আবাসনের সংখ্যা কার্যত কমে যেতে পারে। বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রায় ৫০ হাজার 'ঘোস্ট অ্যাপার্টমেন্ট' রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো এমন ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসা, যা দীর্ঘদিন খালি থাকলেও পুনরায় ভাড়ার বাজারে আনা হয়নি। সমালোচকদের মতে, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। জেক ক্রিমেলের মতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কঠোর নীতি অনেক সময় নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। তিনি ২০১৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে পরিচালিত একটি গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ আবাসনের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। অনেক মালিক ভবন বিক্রি করে দেন অথবা উচ্চমূল্যের কন্ডোমিনিয়ামে রূপান্তর করেন। যদিও নিউইয়র্কের আবাসন বাজার সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় ভিন্ন, তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভবনের মালিকরা পর্যাপ্ত আয় না পান, তাহলে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে ভবনের মানের অবনতি, খালি অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন ভাড়ার বাসার সংকট আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে ম্যামদানির সমর্থকদের যুক্তি, নিউইয়র্কের অর্ধেকেরও বেশি ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাড়া স্থির রাখা লাখো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনের মালিকদের জন্যও কার্যকর আর্থিক সহায়তা, সংস্কার তহবিল এবং কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভাড়া স্থির রাখার নীতি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়া ও সম্পত্তি মালিক, উভয় পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউইয়র্ক শহরের প্রতিটি বরোতে একটি করে সরকারি সুপারমার্কেট চালুর যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী বছর ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্টে শহরের প্রথম সরকারি মুদি দোকানটি চালু হতে যাচ্ছে বলে সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই দোকানটি তৈরি হবে 'দ্য পেনিনসুলা' নামের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে। জায়গাটি একসময় স্পফোর্ড জুভেনাইল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি বা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে আয়োজিত এক সমাবেশে মেয়র মামদানি বলেন, এই দোকান এবং সামগ্রিকভাবে দ্য পেনিনসুলা প্রকল্প মানুষের সামনে এই প্রমাণ তুলে ধরবে যে, সরকার চাইলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সরকার যে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এটি তারই বাস্তব প্রমাণ। নতুন এই সরকারি দোকানে ডিম ও সতেজ শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাধারণ বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তবে এর বাইরের অন্যান্য পণ্যগুলো বাজারের সাধারণ দামেই কেনা যাবে। ব্রঙ্কসের এই এলাকাটিকে বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। মেয়রের তথ্যমতে, এলাকাটির মাত্র সিকি মাইলের মধ্যে কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারমার্কেট রয়েছে। অথচ এর খুব কাছেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র হান্টস পয়েন্ট কোঅপারেটিভ মার্কেট। সমাবেশে পয়েন্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট মারিয়া তোরেস বলেন, আমরা জানি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলো আমাদের এলাকার পরিবারগুলোকে খাদ্যের উচ্চমূল্য থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প তৈরি করবে, যা এই এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই এমন সরকারি দোকান নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। এর আগে তিনি ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় এমন একটি দোকান নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ব্রঙ্কসের দোকানটির মতো সেটি আগে থেকে থাকা কোনো ভবনে হচ্ছে না, বরং একদম শূন্য থেকে সেটি নির্মাণ করা হবে। ম্যানহাটনের ওই স্টোরটি ২০২৯ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে এই মুদি দোকানগুলোর জন্য ৭ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন মেয়র মামদানি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে মেয়র কার্যালয়ের আলোচনা চলছে। তবে মেয়রের এই পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় মুদি দোকান ও বোদেগা বা ছোট দোকানগুলোর মালিকরা কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকারি এই উদ্যোগ তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। এর জবাবে মামদানি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এসব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, সরকারি দোকানগুলো চালুর পরও এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পুরো ব্যবসায়ী সমাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এদিকে ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্টেটেন আইল্যান্ডে এমন দোকান নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গার সন্ধান করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকায় স্টোর নির্মাণের জন্য জমির মালিকদের কাছে প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অপরাধী তালিকা বাতিল, আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশি জবাবদিহিতা বেসামরিক তদারকির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই পিছিয়ে আছে অথবা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উপমেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে শরীরে ধারণকৃত ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নোটিশ দেওয়ার আগের নীতিও বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম ১০০ দিনে খুনের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গুলির ঘটনাও কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ধর্ষণের ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কেবল শুরু। এদিকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বলেছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া একটি সংগঠনের অংশ পুলিশ কমিশনারকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছেন মেয়র। অপরাধী তালিকা নিয়ে মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন। দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিনে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর পুরো বাস্তবায়ন না হলেও কিছু উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রশাসন আগামীতে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।