যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী ইরানি নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য ইরান সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী এবং ইরানে থাকা তাদের পরিবারকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে—এমন গুরুতর দাবি তুলে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসি-র একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরানিয়ান আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড’ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া এসব ইরানিদের মধ্যে সিংহভাগই মূলত দেশটির গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা ইরানে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আইএএলডিএফ এর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অলাভজনক ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘পাবলিক সিটিজেন’ জানিয়েছে, তেহরানের কাছে তথ্য হস্তান্তর করায় আইনি প্রক্রিয়া বা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যাদের ইরানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে (চেইন রিফাউলমেন্ট), দেশে পৌঁছানোর পর তাদের চরম নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী, লজিস্টিকস বা যাতায়াত সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করার নিয়ম থাকলেও, কোনোভাবেই এমন কোনো তথ্য শেয়ার করা যাবে না যা থেকে স্পষ্ট হয় যে ওই ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের কর্মকর্তারা আইসিই হেফাজতে থাকা ইরানিদের ফাইল, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ এবং আশ্রয়ের আবেদনপত্র শেয়ার করতে নিয়মিত মাসিক বৈঠকে বসতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই সশরীরে বৈঠক বন্ধ হলেও, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এখনো ইরানের ‘ইন্টারেস্ট সেকশন’-এ ডাকযোগে বা সরাসরি এসব নথিপত্র পাঠাচ্ছে বলে মামলায় দাবি করা হয়। এছাড়া বন্দীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আইসিই কর্মকর্তারা তাদের ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র এবিসি নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের তথ্য ইরান সরকারের সাথে শেয়ার করার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে এবং তাদের আইনি অধিকার রক্ষায় কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে আইসিই অন্যান্য দেশের মতো ইরানের সাথেও প্রচলিত প্রোটোকল মেনে কাজ করছে মাত্র। অন্যদিকে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন কাউন্টিতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রকে নগ্ন ছবি পাঠানো এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার দায়ে ক্যাসিডি কার্টার (২১) নামের এক সাবেক সাবস্টিটিউট শিক্ষিকাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার পর বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশনে সাবস্টিটিউট শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ওই মিডল স্কুলের ছাত্রের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত হন কার্টার। নভেম্বর মাসের শুরুর দিক থেকে তাদের মধ্যে এই অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কার্টার প্রায়ই গোসলের পর গভীর রাতে নিজের নগ্ন ছবি ওই ছাত্রকে পাঠাতেন। এমনকি মেসেজে তিনি ছাত্রটিকে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলেও জানাতেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্র নিজেই বিষয়টি স্কুল রিসোর্স অফিসারকে জানালে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয় এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা কার্টারের ফোন থেকে সেই আপত্তিজনক ছবি ও মেসেজগুলো উদ্ধার করেন। ডিয়ারবর্ন কাউন্টির প্রসিকিউটর লিন ডেডেন্স জানান, প্রাথমিকভাবে কার্টারের বিরুদ্ধে শিশু সলিসিটেশনের (প্রলোভন) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করায় অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করে এই সাজা দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের পেশাদারিত্বের সীমা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির একটি মামলায় অভিযুক্ত খালিদ আহমেদ সাতারিকে তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স’ তালিকায় যুক্ত করেছে। তার গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআই জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সাতারি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একাধিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না—এমন ব্যয়বহুল জেনেটিক পরীক্ষার জন্য মেডিকেয়ারে প্রতারণামূলক বিল জমা দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, রোগী সংগ্রহকারী, টেলিমার্কেটিং কল সেন্টার এবং টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধ কমিশন ও ঘুষের বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হতো। পরে সেই পরীক্ষার বিপরীতে মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়। মামলায় প্রতারণামূলক বিলের মোট পরিমাণ ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করেছে এফবিআই। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, ওয়্যার ফ্রড, অবৈধ কিকব্যাক ও ঘুষ প্রদান এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে আদালতের শর্ত ভঙ্গ করে পলাতক হন। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এফবিআইর তথ্য অনুযায়ী, খালিদ আহমেদ সাতারির যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, জর্ডান এবং ইসরায়েল/ফিলিস্তিন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার জাতীয়তা বা জন্মসূত্র সম্পর্কে এফবিআই কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এফবিআই আরও জানিয়েছে, সাতারি ‘খালিদ সাতারি’, ‘খালিদ এ. সাতারি’, ‘রকি সাতারি’ এবং ‘ডিজে রক সাতারি’ নামেও পরিচিত। তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা দমনে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পাঁচজন সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আইন প্রয়োগের কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ‘ফ্লক সেফটি’ লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমের ডেটায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন তারা। এর জেরে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স প্লেট ডেটার অপব্যবহার এবং শপথ ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— টিয়ানা ডেভিস (২৭), জেড জ্যাকসন (৩২), নিকোলাস রিচার্ডসন (৩০), ব্রিটনি স্মিথ (২৩) এবং আইজ্যাক হোয়াইটাস (২৪)। আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট গত ২৫ জুন জিবিআইকে ওই কর্মকর্তাদের ‘ফ্লক সিস্টেম’ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানায়। এরপর পুলিশের এক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আইনগত কারণ ছাড়াই একাধিকবার লাইসেন্স প্লেটের সংরক্ষিত ডেটায় প্রবেশ করেছিলেন। গত ৬ জুলাই ওই পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ডগহার্টি কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়। জিবিআই নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারকৃতরা আর আলবেনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত নেই। তদন্তটি এখনো চলমান রয়েছে এবং জিবিআই সাধারণ মানুষের কাছে এই বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা সিলভেস্টারে অবস্থিত তাদের আঞ্চলিক তদন্ত কার্যালয়ে জানানোর আহ্বান করেছে। তদন্ত পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য মামলাটি ডগহার্টি জুডিশিয়াল সার্কিটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সম্প্রতি উত্তর জর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টিতেও তিন ডেপুটি কর্মকর্তাকে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার ডেটাবেসের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘দ্য মার্শাল প্রজেক্ট’-এর এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমের এ ধরনের অপব্যবহার সাধারণত কোনো আইনি তদন্তের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণেই বেশি হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমান বা প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের তথ্য খোঁজার অভিযোগ উঠেছে, যার সঙ্গে অপরাধ তদন্তের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। প্রকাশনাটি আরও উল্লেখ করেছে, লাইসেন্স প্লেট রিডার সিস্টেমগুলো ক্রমশ অত্যাধুনিক হচ্ছে এবং একাধিক অঞ্চলের তথ্য খোঁজার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। ফ্লক সেফটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, অপব্যবহারের ঘটনা তাদের মোট সার্চের খুব সামান্য একটি অংশ মাত্র এবং অডিট লগের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়। তবে গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের মতে, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিটি কেবল আইনি কাজেই সীমাবদ্ধ রাখতে পুলিশি ব্যবস্থাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।