আমেরিকা

ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যে ভিন্নমত ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৭:২৭
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

 

ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংকটের সময় অনেক মিত্র দেশের ভূমিকা তাকে “খুবই হতাশ” করেছে এবং এই পরিস্থিতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের প্রকৃত সমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ।
এর আগে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ “একেবারেই প্রয়োজনীয়” ছিল।

 

তার মতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ওয়াশিংটনের কঠোর প্রতিক্রিয়া যৌক্তিক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রয়োজন ছিল।

 

তবে ট্রাম্পের দাবি, ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত মাত্রায় সমর্থন দেয়নি। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায় আর কোন দেশ নীরব থাকে, সেটিই তিনি দেখতে চেয়েছিলেন।

 

সম্মেলনে ট্রাম্প স্পেনসহ কয়েকটি মিত্র দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি বহন করতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় ব্যয় বাড়াতে হবে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ন্যাটো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ন্যাটো মহাসচিব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি মিত্র দেশগুলোর বাস্তব সহযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। এর ফলে ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ অবস্থান ও সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরদোয়ান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
এরদোয়ানের ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র বাণিজ্যের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।   এরদোয়ান বলেন, জোটের নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা শিল্পে বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বোঝা সব সদস্য দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্যভাবে ভাগাভাগি করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, তুরস্ক ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।   তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিক কারণে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ আঙ্কারার ওপর অস্ত্র রপ্তানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। আঙ্কারার দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে।   এবারের ন্যাটো সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামরিক ব্যয় বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রধান আলোচ্য ছিল। সম্মেলনের ফাঁকে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিও ঘোষণা করা হয়েছে।   একই সময়ে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি ‘ট্রান্স-আটলান্টিক বিপ্লব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   এরদোয়ানের বক্তব্য ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে যৌথ উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জোটের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও কার্যকর করার চলমান প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সম্মেলনে উঠে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৮:৪১
প্রতিষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণার ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যের খোঁজে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যে ভিন্নমত ট্রাম্পের

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি শেষ, নতুন হামলার পর ট্রাম্পের ঘোষণা

মার্কিন নেতাদের হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান -দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন নেতাদের হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান -দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।   একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের, এমনকি তাকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি।   ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।   এছাড়া ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “ওরা অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যও সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৫:৯
নিউইয়র্কে অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নিউইয়র্কে অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা,২৬ বছর বয়সী ছেলে গ্রেপ্তার

নতুন রেকর্ড গড়েছে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়ি ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত

সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসন সংকট তীব্র, এক রুমের বাসার ভাড়া প্রথমবার ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল। ছবি: সংগৃহীত

৪২০ বার রিজেকশন! তবুও হার মানেননি, নিউইয়র্কে চাকরি পেয়ে নেটদুনিয়ায় আলোচনায় এক শিক্ষার্থী

অ্যান্ড্রু এসকোবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছিল পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানকে খুঁজতে চাকরি ছেড়েছিলেন বাবা, ৩ বছর পর জীবিত উদ্ধার নিখোঁজ শিশু

তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ১১ বছর বয়সে নিখোঁজ হওয়া অ্যান্ড্রু এসকোবারকে সম্প্রতি টেক্সাসের এল পাসো সীমান্ত এলাকায় তার মায়ের সঙ্গে আটক করা হয়। দীর্ঘ তিন বছরের অনিশ্চয়তার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার বাবা, যদিও ছেলের মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন তিনি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর রিও রাঞ্চো এলাকা থেকে অ্যান্ড্রু এসকোবার নিখোঁজ হয়। পুলিশ অভিযোগ করে, আদালতের হেফাজত-সংক্রান্ত আদেশ লঙ্ঘন করে তার মা মিরিয়াম ফেলিক্স ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই অ্যান্ড্রুকে খুঁজতে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অ্যান্ড্রুর বাবা হুয়ান এসকোবার এবং তার সৎমা মনিক এসকোবার ছেলেকে খুঁজে বের করতে বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালান। এমনকি ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য দুজনই নিজেদের চাকরি ছেড়ে পূর্ণ সময় অনুসন্ধানে নেমেছিলেন বলে জানান।   অবশেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় মিরিয়াম ফেলিক্সের পরিচয় যাচাইয়ের সময় একটি সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়। এরপর কর্মকর্তারা অ্যান্ড্রুর পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখতে পান, তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে মা ও ছেলেকে আটক করা হয়। হুয়ান এসকোবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম KAOT7-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার ভাষায়, "আমি একেবারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এতদিন পর আমার ছেলে জীবিত আছে, এই খবর বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল।"   আলবুকার্ক পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের হেফাজত-সংক্রান্ত চুক্তি ভঙ্গ করায় মিরিয়াম ফেলিক্সের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পরোয়ানা আগে থেকেই জারি ছিল। হুয়ান জানান, ছেলে নিখোঁজ থাকলেও তিনি প্রতি বছর তার জন্মদিন পালন করতেন। ছেলের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সে ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমরা সব সময় একসঙ্গে থাকতাম, ভিডিও বানাতাম, হাসি-ঠাট্টা করতাম।"   ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও তিনি বলেন, গত তিন বছরে অ্যান্ড্রুকে অনেক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার দাবি, পালিয়ে থাকার সময় মিরিয়াম ফেলিক্স ছেলেকে নিয়ে আলবেনিয়া ও তুরস্কসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। হুয়ানের ভাষায়, "শারীরিকভাবে সে সুস্থ আছে। কিন্তু গত তিন বছরের অভিজ্ঞতা তার মানসিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, সেটিই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।"   পরিবারের পক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করা আইনজীবী ডারলিন গোমেজ জানান, মিরিয়াম ফেলিক্স বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং তাকে মেক্সিকোতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবার নতুন করে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্ড্রুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ২৩:৩৮
টেসলা খাদে পড়ার ঘটনায় আলোচিত চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেল ও তার পরিবারের একটি পুরোনো ছবি (সংগৃহীত)

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৫০ ফুট খাদে টেসলা ফেলে স্ত্রী-সন্তান হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক

ঘটনাকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে অভিবাসন অভিযানের সময় আইসিই (ICE) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ১

বিয়ের আগে সৌন্দর্যচর্চায় বিভিন্ন চিকিৎসা ও প্রসাধনী সেবা নিচ্ছেন জেড ভয়েট। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের দিনের প্রস্তুতিতে সৌন্দর্যচর্চায় ৬২ হাজার ডলার খরচ করছেন এক তরুণী

0 Comments