নিউইয়র্কে শিক্ষার্থীপ্রতি ৩৬ হাজার ডলার ব্যয়, তবু অর্ধেক স্কুলে পাস করছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ হাজার ডলার খরচ করা হয়, যা দেশটির জাতীয় গড় ব্যয়ের (১৭,৬১৯ ডলার) দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ বিপুল এই খরচের পরও শহরের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গণিত ও ইংরেজি রিডিংয়ের মতো মৌলিক যোগ্যতা যাচাইয়ের স্ট্যান্ডার্ডাইজড বা মানদণ্ড পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না। 'সাকসেস একাডেমি' চার্টার স্কুল নেটওয়ার্কের প্রকাশিত একটি নতুন ও বিধ্বংসী প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শিক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন এবং এই একাডেমির প্রধান নির্বাহী ইভা মস্কোভিটস এই প্রতিবেদনটিকে "নিউইয়র্ক সিটির স্কুল ব্যবস্থার ব্যর্থতার সবচেয়ে সম্পূর্ণ খতিয়ান" বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ জন পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী—যা পুরো শহরের মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ—বর্তমানে পুরোপুরি ব্যর্থ বা মানহীন স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করছে।
প্রতিবেদনের একটি পরিশিষ্টে ৫০৩টি "ডাবল ফেইল" বা দ্বিগুণ ব্যর্থ স্কুলের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিত এবং ইংরেজি উভয় বিষয়েই পাস করতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্কুলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে আব্রাহাম লিংকন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন কিংবা ওয়াল্ট হুইটম্যানের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে। কোনো কোনো স্কুলের নাম আবার 'লিডারস অব টুমরো' বা 'ব্রুকলিন ডেমোক্রেসি একাডেমি'র মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী আদর্শে ভরা।
প্রতিবেদনে এই ব্যর্থতার তুলনা টেনে বলা হয়েছে, "এমন একটি হাসপাতালের কথা ভাবুন যেখানে অর্ধেকের বেশি রোগী সাধারণ চিকিৎসায় মারা যায়, কিংবা এমন ফায়ার সার্ভিস যা অর্ধেকের বেশি কলে সাড়া দেয় না। অন্য কোনো সরকারি সংস্থাকে এভাবে চলতে দেওয়া হতো না।"
যদিও এই ব্যর্থতা কয়েক দশক ধরে চলছে, তবে প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের অতিসাম্প্রতিক বক্তব্যের ওপর এক বড় চপেটাঘাত। গত জুনেই এক ভিডিও বার্তায় তাঁরা নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুল শিক্ষাকে সফল দাবি করে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, যার সাথে এই বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক যাত্রীর ল্যাপটপে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২২ আগস্ট) ঘটা এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন। পাইলটের দেওয়া তথ্যমতে, বিমানটি আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ একটি ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে শুরু করে। আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়লেও বিমানের ক্রু ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে ডালাস বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। নিরাপদে অবতরণের পর আহত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি চারজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে গুরুতর না হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফ্লাইটটিতে পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন। মাঝ আকাশে এমন ভীতিকর অগ্নিকাণ্ডের পরও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ল্যাপটপে থাকা লিথিয়াম ব্যাটারি বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত গরম হয়ে এমন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় ল্যাপটপ বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার অন্তত ৫৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত
মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে। ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে। তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে। মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।
নিউইয়র্কে গুলিতে নি হত গুরদীপ, যুক্তরাষ্ট্রে আসার ঋণ শোধের আগেই থেমে গেল জীবন
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাঁচতে বছরে দরকার ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের একটি দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইস্ট ব্রুকলিনের রকওয়ে পার্কওয়ে এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজা দোকানে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তখন সেখানে দুই বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন। তাদের একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক বাংলাদেশি কর্মী রাজু। তার বুকে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া এলাকায় বলে স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য এবং বন্দুকধারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট
ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখবর, ৮ নভেম্বর দীপাবলি দিবস ও সরকারি ছুটি