আমেরিকা

আমেরিকায় একেকজন ছাত্রের পেছনে খরচ বছরে ৩৬ হাজার ডলার, তবুও অর্ধেকের বেশি ফেল

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৩:১৩
বার্ষিক রেকর্ড ব্যয়ের পরও নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী মৌলিক পরীক্ষায় ফেল করছে। ছবি: সংগৃহীত
বার্ষিক রেকর্ড ব্যয়ের পরও নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী মৌলিক পরীক্ষায় ফেল করছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ হাজার ডলার খরচ করা হয়, যা দেশটির জাতীয় গড় ব্যয়ের (১৭,৬১৯ ডলার) দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ বিপুল এই খরচের পরও শহরের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গণিত ও ইংরেজি রিডিংয়ের মতো মৌলিক যোগ্যতা যাচাইয়ের স্ট্যান্ডার্ডাইজড বা মানদণ্ড পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না। 'সাকসেস একাডেমি' চার্টার স্কুল নেটওয়ার্কের প্রকাশিত একটি নতুন ও বিধ্বংসী প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

 

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শিক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন এবং এই একাডেমির প্রধান নির্বাহী ইভা মস্কোভিটস এই প্রতিবেদনটিকে "নিউইয়র্ক সিটির স্কুল ব্যবস্থার ব্যর্থতার সবচেয়ে সম্পূর্ণ খতিয়ান" বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ জন পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী—যা পুরো শহরের মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ—বর্তমানে পুরোপুরি ব্যর্থ বা মানহীন স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করছে।

 

প্রতিবেদনের একটি পরিশিষ্টে ৫০৩টি "ডাবল ফেইল" বা দ্বিগুণ ব্যর্থ স্কুলের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিত এবং ইংরেজি উভয় বিষয়েই পাস করতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্কুলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে আব্রাহাম লিংকন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন কিংবা ওয়াল্ট হুইটম্যানের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে। কোনো কোনো স্কুলের নাম আবার 'লিডারস অব টুমরো' বা 'ব্রুকলিন ডেমোক্রেসি একাডেমি'র মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী আদর্শে ভরা।

 

প্রতিবেদনে এই ব্যর্থতার তুলনা টেনে বলা হয়েছে, "এমন একটি হাসপাতালের কথা ভাবুন যেখানে অর্ধেকের বেশি রোগী সাধারণ চিকিৎসায় মারা যায়, কিংবা এমন ফায়ার সার্ভিস যা অর্ধেকের বেশি কলে সাড়া দেয় না। অন্য কোনো সরকারি সংস্থাকে এভাবে চলতে দেওয়া হতো না।"

 

যদিও এই ব্যর্থতা কয়েক দশক ধরে চলছে, তবে প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের অতিসাম্প্রতিক বক্তব্যের ওপর এক বড় চপেটাঘাত। গত জুনেই এক ভিডিও বার্তায় তাঁরা নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুল শিক্ষাকে সফল দাবি করে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, যার সাথে এই বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
বার্ষিক রেকর্ড ব্যয়ের পরও নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী মৌলিক পরীক্ষায় ফেল করছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় একেকজন ছাত্রের পেছনে খরচ বছরে ৩৬ হাজার ডলার, তবুও অর্ধেকের বেশি ফেল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ হাজার ডলার খরচ করা হয়, যা দেশটির জাতীয় গড় ব্যয়ের (১৭,৬১৯ ডলার) দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ বিপুল এই খরচের পরও শহরের প্রায় অর্ধেক পাবলিক স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গণিত ও ইংরেজি রিডিংয়ের মতো মৌলিক যোগ্যতা যাচাইয়ের স্ট্যান্ডার্ডাইজড বা মানদণ্ড পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না। 'সাকসেস একাডেমি' চার্টার স্কুল নেটওয়ার্কের প্রকাশিত একটি নতুন ও বিধ্বংসী প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শিক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন এবং এই একাডেমির প্রধান নির্বাহী ইভা মস্কোভিটস এই প্রতিবেদনটিকে "নিউইয়র্ক সিটির স্কুল ব্যবস্থার ব্যর্থতার সবচেয়ে সম্পূর্ণ খতিয়ান" বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ জন পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী—যা পুরো শহরের মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ—বর্তমানে পুরোপুরি ব্যর্থ বা মানহীন স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করছে।   প্রতিবেদনের একটি পরিশিষ্টে ৫০৩টি "ডাবল ফেইল" বা দ্বিগুণ ব্যর্থ স্কুলের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিত এবং ইংরেজি উভয় বিষয়েই পাস করতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্কুলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে আব্রাহাম লিংকন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন কিংবা ওয়াল্ট হুইটম্যানের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে। কোনো কোনো স্কুলের নাম আবার 'লিডারস অব টুমরো' বা 'ব্রুকলিন ডেমোক্রেসি একাডেমি'র মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী আদর্শে ভরা।   প্রতিবেদনে এই ব্যর্থতার তুলনা টেনে বলা হয়েছে, "এমন একটি হাসপাতালের কথা ভাবুন যেখানে অর্ধেকের বেশি রোগী সাধারণ চিকিৎসায় মারা যায়, কিংবা এমন ফায়ার সার্ভিস যা অর্ধেকের বেশি কলে সাড়া দেয় না। অন্য কোনো সরকারি সংস্থাকে এভাবে চলতে দেওয়া হতো না।"   যদিও এই ব্যর্থতা কয়েক দশক ধরে চলছে, তবে প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের অতিসাম্প্রতিক বক্তব্যের ওপর এক বড় চপেটাঘাত। গত জুনেই এক ভিডিও বার্তায় তাঁরা নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুল শিক্ষাকে সফল দাবি করে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, যার সাথে এই বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৩:১৩
আটলান্টার একটি অনুষ্ঠানে আলিসিয়া ব্রাউন ও বিগ টিগার। ছবি: প্রিন্স উইলিয়ামস/ওয়্যারইমেজ

আমেরিকায় সন্তান অপহরণ মামলায় রেডিও তারকা বিগ টিগারের স্ত্রী গ্রেফতার

আটলান্টা বিমানবন্দরে ডেল্টা ওয়ান লাউঞ্জ নির্মাণে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের চুক্তি পাস। ছবি: গেটি ইমেজেস

আটলান্টা বিমানবন্দরে তৈরি হচ্ছে বিশাল প্রিমিয়াম লাউঞ্জ, ৬ কোটি ডলারের চুক্তি পাস

ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক শেখ খোরশান। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ছিনতাইকারীর হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি সাংবাদিক শেখ খোরশান

অস্বাভাবিক ওভারটাইম দেখিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তের মুখে নিউইয়র্কের রেকর্ডধারী প্লাম্বার জ্যাকুব মার্কোভস্কি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ওভারটাইম জালিয়াতি করে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার আয়, তদন্তের মুখে সরকারি পাইপমিস্ত্রি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক হাউজিংয়ের একজন প্লাম্বার বা পাইপমিস্ত্রি গত বছর প্রায় সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে বেশি আয় করে রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই বিপুল আয়ের পেছনে বিশাল অঙ্কের ওভারটাইম দেখানোর পাশাপাশি গোপনে দুটি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিযোগে এখন তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম জ্যাকুব মার্কোভস্কি। তিনি নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির একজন প্লাম্বার সুপারভাইজার। ২০২৫ অর্থ বছরে তিনি প্রায় ২ হাজার ৫৬০ ঘণ্টা ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজ দেখিয়েছেন। মূল বেতন ও ওভারটাইম মিলিয়ে বছর শেষে তাঁর মোট উপার্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলারেরও বেশি।   তদন্তে জানা গেছে, জ্যাকুব মার্কোভস্কি যখন সরকারি ফায়ার সেফটি বিভাগে ফুল-টাইম কাজ করছিলেন, ঠিক একই সময়ে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইড এবং ব্রুকলিন হাইটসের মতো অভিজাত এলাকায় ৭০টিরও বেশি ব্যক্তিগত প্লাম্বিং কাজের পারমিটের সাথে তাঁর নাম যুক্ত ছিল। তিনি ‘সুপার প্লাম্বার্স কর্পোরেশন এনওয়াইসি’ এবং ‘ডায়নামিক ব্লু ওয়াটার মেকানিক্যাল’ নামে দুটি ব্যক্তিগত কোম্পানি পরিচালনা করছিলেন।   নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী কোনো প্লাম্বার সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত কাজ করতে চাইলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। জ্যাকুব ২০১৯ সালে একটি অনুমতি পেয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে সুপারভাইজার হওয়ার পর তিনি নতুন করে কোনো অনুমতি নেননি। ফলে তাঁর এই সমান্তরাল ব্যবসা অবৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিটির ভবন নির্মাণ বিভাগ এবং তদন্ত বিভাগ।   পাবলিক হাউজিংয়ের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিউইয়র্কে প্লাম্বারদের ওভারটাইম করা সাধারণ বিষয় হলেও জ্যাকুবের এই অস্বাভাবিক কাজের সময় সবার নজর কেড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং ওভারটাইম জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১২:২৯
ফার রকাওয়েতে মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে গ্রেফতার তরুণ আরমেল ক্রফোর্ড। ছবি: কাইল মাজ্জা/শাটারস্টক

নিউইয়র্কে অবসরপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ছেলে গ্রেফতার

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

আইসিই অভিযানে গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত

৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরও ওয়ার্ক পারমিট মিলল না, শেষ পর্যন্ত আইসিই অভিযানে নিহত এই অভিবাসী

আমেরিকায় বিক্রির তালিকায় থাকা প্রতি ৭টি বাড়ির ১টিই ফ্লোরিডায় | ছবি: নিউজনেশন
যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা প্রতি ৭টি বাড়ির ১টিই এখন ফ্লোরিডায় অবস্থিত

করোনা মহামারি কালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আবাসন খাতের যে ব্যাপক উত্থান হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেখানকার বহু বাড়ির মালিক আগের কেনা দামের চেয়েও কম মূল্যে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।   হাউজিং ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম পার্সেল ল্যাবের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফ্লোরিডায় ২ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই সংখ্যাটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির প্রায় ১৪ শতাংশ বা প্রতি ৭টি বাড়ির মধ্যে ১টি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ১০ শতাংশেরই দাম আগের কেনা মূল্যের চেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে। কম দামে বাড়ি বিক্রির এই হারের দিক থেকে আমেরিকার সমস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ফ্লোরিডার অবস্থান এখন দ্বিতীয়, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় চার শতাংশ বেশি। কয়েক বছর আগের তুলনায় এটি একটি বড় ধাক্কা, যখন স্বল্প সুদে ঋণ এবং অতিরিক্ত জনস্রোতের কারণে এখানে বাড়ি কেনার ধুম লেগেছিল।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদহার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাড়ির বীমা খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফ্লোরিডায় নতুন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিও বেশ মন্থর হয়ে এসেছে। এর বিপরীতে বিগত বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ নতুন বাড়ি নির্মাণ হওয়ায় বাজারে এখন বাড়ির যোগান প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি।   ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চলীয় মেট্রো এলাকা যেমন টাম্পা এবং পুন্তা গোর্দার বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন। পুন্তা গোর্ডায় গত এক বছরে বাড়ির দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে এবং কেপ কোরালে কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বাজারে টিকে থাকতে এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ির দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন বিক্রেতারা। তবে মন্দার এই বাজারে ফ্লোরিডায় এখনও ক্যালিফোর্নিয়া বা উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১১:৩৫
মাদক চোরাচালান ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের ২৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন ফেডারেল পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

এফবিআইয়ের মেগা অপারেশন, ভারতের জেল থেকে চালানো অপরাধ চক্রের ২৪ গ্যাংস্টার গ্রেফতার

ভুয়া এফবিআই এজেন্টদের ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়ে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় (২.৫ লাখ ডলার) হারালেন মার্কিন স্থপতি অ্যালান জিম্বলার। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া এফবিআই তদন্তের ফাঁদে পড়ে আড়াই লাখ ডলার হারালেন ফ্লোরিডার এক বৃদ্ধ!

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ইরানি দম্পতি | ছবি: প্রতীকী ছবি

ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments