আমেরিকা

ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১০:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ইরানি দম্পতি | ছবি: প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ইরানি দম্পতি | ছবি: প্রতীকী ছবি

ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য ইরান সরকারের কাছে সরবরাহ করে তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য তেহরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে, যা তাদের দেশে ফিরে গেলে নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

মামলায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যে, ইরানে ফিরে গেলে তারা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্যান্য কারণে রাষ্ট্রের নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। তাদের পরিচয় ও আশ্রয়-সংক্রান্ত তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে গেলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মার্কিন আইন অনুযায়ী পরিচালনা করে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসরণ করে।

 

মার্কিন আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়, যাতে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, এ ধরনের তথ্য নিজ দেশের সরকারের হাতে পৌঁছালে আশ্রয়প্রার্থীরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

 

এ মামলায় এখনো আদালতের কোনো রায় হয়নি। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মাদক চোরাচালান ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের ২৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন ফেডারেল পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
এফবিআইয়ের মেগা অপারেশন, ভারতের জেল থেকে চালানো অপরাধ চক্রের ২৪ গ্যাংস্টার গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে চালানো এক বিশাল যৌথ অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রের ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 'অপারেশন হার্ড বল' নামের কয়েক বছরব্যাপী চলা মার্কিন ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই অপরাধী চক্রগুলো ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো মারাত্মক সহিংসতার সাথে জড়িত। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কমিউনিটিতে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং মেথামফেটামিনের মতো মারাত্মক মাদক চোরাচালান করে আসছিল।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ২৪ জনের মধ্যে ১১ জনকেই ধরা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইল্যান্ড পার্কের বেশ কয়েকটি বাড়িতে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এজেন্টরা একযোগে হানা দিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তিনটি ভিন্ন অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং গ্যাংস্টার সংস্কৃতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান দুই হোতা বর্তমানে ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিলেন।   এই চক্রের মূল টার্গেট ছিল আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীরা। তারা প্রবাসীদের এবং ভারতে থাকা তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ ডলার দাবি করত। এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম কোকেন, এক কিলোগ্রাম হেরোইন, চলিশ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস এবং স্যাক্রামেন্টো এলাকায় মোট ৩৪টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১১:১০
ভুয়া এফবিআই এজেন্টদের ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়ে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় (২.৫ লাখ ডলার) হারালেন মার্কিন স্থপতি অ্যালান জিম্বলার। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া এফবিআই তদন্তের ফাঁদে পড়ে আড়াই লাখ ডলার হারালেন ফ্লোরিডার এক বৃদ্ধ!

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ইরানি দম্পতি | ছবি: প্রতীকী ছবি

ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যারাকভিলে মেয়রের সাথে বিরোধের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত; একযোগে চাকরি হারালেন পুরো শহরের পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত

এভিডেন্স রুমে চুরির অভিযোগে বরখাস্ত পুরো শহরের সব পুলিশ, আমেরিকায় তোলপাড়!

সুবিধাবঞ্চিতদের বিষমুক্ত তাজা খাবার জোগাতে জর্জিয়ার কলেজ পার্কে ব্যতিক্রমী খামার উদ্যোগ | ছবি: সংগৃহীত
বাজারের খরচ বাঁচাতে এবার নিজেদের খাবার নিজেরাই ফলাচ্ছেন আমেরিকার সাধারণ মানুষ!

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি পাঁচ একরের খামার বাজারের বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষকে নিজেদের খাবার নিজে উৎপাদন করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। 'মেট্রো আটলান্টা আরবান ফার্ম' নামের এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯ বছর ধরে কৃষিকাজকে হাতিয়ার করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যুদ্ধাহত সামরিক প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। খামারের প্রতিষ্ঠাতা ববি উইলসন জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য কেবল বীজ রোপণ করা নয়, বরং কৃষির মাধ্যমে সমাজে একটি সুস্থ পরিবেশ ও শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করা।   কলেজ পার্কের মেইন স্ট্রিটে অবস্থিত এই খামারটিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বীজ ব্যবহার করে ফসল ফলানোর কৌশল শেখানো হয়। খামারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পরিবারগুলো একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সহজেই বিষমুক্ত তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করতে পারছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই মূলত এই বিশেষ কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   সম্প্রতি এই খামারটি যুদ্ধাহত মার্কিন সেনাদের সহায়তায় নিয়োজিত 'উইন্ডেড ওয়ারিয়র প্রজেক্ট'-এর সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এর আওতায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর প্রবীণ সদস্যরা খামারে এসে ফসল রোপণ, ফসল সংগ্রহ এবং বাড়িতে বাগান করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল শিখছেন। অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনাসদস্য জানান, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে এই শিক্ষা তাদের দারুণভাবে সাহায্য করছে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।   ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে খামারটি তরুণদের ইন্টার্নশিপ বা হাতেকলমে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে। মিসিসিপির অ্যালকর্ন স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবসা বিভাগের এক শিক্ষার্থী এই খামারে এসে ট্র্যাক্টর চালানো, বীজতলা তৈরি এবং মাটির সঠিক ব্যবহার শিখছেন। এছাড়া খামারটি বিভিন্ন স্কুল, চার্চ, কোকা-কোলা কোম্পানি এবং টাস্কিজি ইউনিভার্সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে বছরজুড়ে কৃষি শিক্ষা প্রদান করছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৯:৫২
জেসন হর্ন ও তার মেয়ে এমিলি—টেক্সাসে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিশুর প্রাণ বাঁচানো বাবা-মেয়ের সাহসী জুটি | ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে নৌকা উল্টে পানির নিচে আটকে পড়া তিন শিশুকে বাঁচালেন অফ-ডিউটি দমকলকর্মী, পাশে ছিল ১২ বছরের মেয়ে

আমেরিকার অ্যাপার্টমেন্টের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ব্রুকলিনে মাত্র ৭,৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, আবেদন শুরু স্বল্প আয়ের যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য

শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের সদস্যরা ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

পুলিশে চাকরির আগ্রহ বাড়াতে ১০% বেতন বৃদ্ধি, সঙ্গে ৭,৫০০ ডলারের সাইনিং বোনাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরদোয়ান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
এরদোয়ানের ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র বাণিজ্যের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।   এরদোয়ান বলেন, জোটের নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা শিল্পে বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বোঝা সব সদস্য দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্যভাবে ভাগাভাগি করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, তুরস্ক ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।   তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিক কারণে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ আঙ্কারার ওপর অস্ত্র রপ্তানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। আঙ্কারার দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে।   এবারের ন্যাটো সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামরিক ব্যয় বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রধান আলোচ্য ছিল। সম্মেলনের ফাঁকে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিও ঘোষণা করা হয়েছে।   একই সময়ে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি ‘ট্রান্স-আটলান্টিক বিপ্লব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   এরদোয়ানের বক্তব্য ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে যৌথ উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জোটের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও কার্যকর করার চলমান প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সম্মেলনে উঠে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ৮:৪১
প্রতিষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণার ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যের খোঁজে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যে ভিন্নমত ট্রাম্পের

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি শেষ, নতুন হামলার পর ট্রাম্পের ঘোষণা

0 Comments