সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

৩৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরও ওয়ার্ক পারমিট মিলল না, শেষ পর্যন্ত আইসিই অভিযানে নিহত এই অভিবাসী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১১:৪৪
আইসিই অভিযানে গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত
আইসিই অভিযানে গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের দাবি, বৈধভাবে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্যও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন নিষ্পত্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ৩৯ বছর বয়সী এই মেক্সিকান অভিবাসী।

 

ঘটনাটি ঘটে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে। বার্তা সংস্থা এপি নিউজ জানায়, মঙ্গলবার সকালে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিবাসন অভিযানের সময় সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে যায় আইসিই। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, তিনি গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন, আইসিইর একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং নিজের গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

তবে নিহতের পরিবার সরকারি এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাঁর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের কোনো অভিযোগ ছিল না। পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দিন তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অন্য শ্রমিকদের নিয়ে আসতে বের হয়েছিলেন।

 

পরিবার আরও জানিয়েছে, সালগাদো আরাউহো বৈধভাবে কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তাঁর সেই আবেদন তখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই ঘটনাকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁর স্বজনরা।

 

এপি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ হিস্পানিক নাগরিক অধিকার সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)। সংগঠনটির মতে, প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের ঘটনায় সব তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।

 

এপি নিউজ আরও জানায়, ঘটনাটি সম্ভাব্য ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এফবিআই তদন্ত করছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসও আইসিই কর্মকর্তার গুলি চালানোর বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

 

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সময় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নীতি, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’-এ। ২০০৯ সাল থেকে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরিতে কোনো পরিবর্তন না আসার পর এই বিলকে বড় ধরনের মজুরি সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিলটি প্রথমে ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে এবং পরে ২৫ জুন সিনেটে উত্থাপন করা হয়। সিনেটে বিলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। প্রতিনিধি পরিষদে এর প্রধান উদ্যোক্তা কংগ্রেসওম্যান ডেলিয়া রামিরেজ। বর্তমানে উভয় কক্ষেই বিলটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। প্রতিনিধি পরিষদের সংস্করণে বড় ও বেশি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ২০৩১ সালের মধ্যে এই মজুরি কাঠামোয় যেতে বলা হয়েছে। ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের মজুরি সমন্বয়ের জন্য আরও সময় দিয়ে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।   সিনেটের সংস্করণে বড় কোম্পানির জন্য সময়সীমা ২০৩২ এবং অন্যান্য ব্যবসার জন্য ২০৩৯ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিলের দুই কক্ষের সংস্করণে সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা এক ধাপে নয়, কয়েক বছরের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। বিলটিতে ভবিষ্যতে জাতীয় মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া টিপসনির্ভর কর্মী, তরুণ কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান কিছু সাবমিনিমাম ওয়েজ বা কম মজুরির ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে বিলটির পথ সহজ নয়। বর্তমানে কংগ্রেসে এটি কমিটির পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।   বিলের সমর্থকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মহলে ফেডারেল পর্যায়ে এত বড় মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২:৩২
ছবি: বাংলা টিভি

চাঁদপুরের জুম্মান তপদার যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে

নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড

নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড, দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল মাসে ৮ হাজার ডলার

ছবি: আওয়াজ বিডি

টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন।   ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে।   ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।   তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না।   অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ০:১১
সন্তানদের বাবাকে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন মিন্ডি ওস্টিন। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানদের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মা

নিখোঁজের পর ক্যালিফোর্নিয়ার নদী থেকে উদ্ধার হলো দুই ভাইয়ের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে নিখোঁজের পর দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

বিপদে পড়া এক শিশুকে সাহায্য করতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ছবি: সংগৃহীত

স্রোতে আটকে পড়া শিশুকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ, ঘাড় থেকে নিচের অংশ অবশ ৫ সন্তানের বাবার

অ্যারিজোনার ১২০ ডিগ্রি তাপে মরুভূমিতে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গ্র্যান্ট সাইলার। ছবি: সংগৃহীত
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে।   অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি।   সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।   সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।   চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না।   ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে।   ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে।   পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।   বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে।   সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২২:৯
দুই মাস বয়সী শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে ইন্ডিয়ানায় লুথেরান চার্চের ভিকার জোসায়াহ জাঙ্কিন আটক হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

দুই মাসের শিশুর ডায়াপার বদলানোর সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা নেতা গ্রেপ্তার

৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

২৫ বছর বয়সী ডেজমন জনসন  I ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মল থেকে ২২ হাজার ডলারের গয়না চুরি, বিক্রি করতে গিয়ে ধরা চোর

0 Comments