সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

নিজেকে ‘সবচেয়ে বড় ইহুদিবাদী রাষ্ট্রপ্রধান’ ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৩:১৪
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই I ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান বলে দাবি করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। গত সোমবার ওই অনুষ্ঠানে তিনি ইসরাইল ও ইহুদি জনগণের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

কট্টর উদারতাবাদী চিন্তাবিদ হান্স-হারম্যান হোপেসহ তার ইসরাইলপন্থি পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারীদের কড়া জবাব দেন মিলেই। তিনি জানান, ইসরাইলের প্রতি তার এই শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সমালোচকরা বিরক্ত হলেও, তিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তার এই মন্তব্যের পর উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাকে সমর্থন জানান।

 

রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নিজের দার্শনিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট করেছেন নিজেকে ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নেতা। মিলেই দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি—জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার মূলত তাওরাত (তোরাহ) এবং বাইবেলের ‘দশটি আদেশ’ থেকেই উৎসারিত।

 

বাইবেলে বর্ণিত মিসর থেকে ইসরাইলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের (এক্সোডাস) ঘটনাকে স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুরি ও হত্যা করা যে ভুল, তা ঐতিহাসিক আইনের ফলকেই লেখা রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় আখ্যা দিয়ে তিনি ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ বা সবকিছুই আপেক্ষিক—এমন আধুনিক ধারণাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন। দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি ধর্মের প্রতি আগ্রহী মিলেই নিয়মিত ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের (র‍্যাবাই) পরামর্শ নিয়ে থাকেন বলেও জানান।

 

২০২৩ সালের শেষদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। দেশটিকে চীন ও রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে এনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলগত নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরেই ইসরাইলে যান তিনি।

 

সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ওয়েস্টার্ন ওয়ালে (পশ্চিম দেয়াল) প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন। ফিলিস্তিনিদের দাবি এবং জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের মাঝেই তার এই ইসরাইল-ঘেঁষা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার I ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি

দীর্ঘ ৩০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বিনা বিচারে (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন) আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার। তবে তাঁর এই মুক্তি কোনো স্বস্তি বা আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।   জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হওয়া জারার তাঁর জীবনের মোট ১৬টি বছরই কাটিয়েছেন ইসরায়েলি বন্দিশালায়। মুক্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁর শারীরিক ওজন ছিল ১৪০ কেজি।   কিন্তু দীর্ঘ এই বন্দিজীবনে চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছেন যে, তাঁকে এখন চেনাই দায়। তবে শারীরিক এই কষ্টের চেয়েও তাঁকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে স্ত্রীর মৃত্যুশোক।   জারার যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ওয়াফা জারারকেও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। পরবর্তীতে আটক অবস্থায় একটি বিস্ফোরণে ওয়াফা নিহত হন। কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার কারণে প্রিয় স্ত্রীকে শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারেননি এই হতভাগ্য ফিলিস্তিনি।   তাঁর এই করুন পরিণতি ও চোখের জল ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা নির্মম অমানবিকতার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৯:২৬
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

একই আইন, ভিন্ন বিচার: যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হত্যা

ভারতে কোটি টাকায় অণ্ডকোষ বিক্রির লোভে ১৭ বছরের কিশোরকে হ ত্যা

গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পকে ‘ডলারের বদলা ডলারে’ জবাব কার্নির
কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পকে ‘ডলারের বদলা ডলারে’ জবাব কার্নির

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবার রীতিমতো যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডিয়ান পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে সরাসরি কানাডার ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, কেউ যখন আক্রান্ত হয়, তখন সে মূলত যুদ্ধের মধ্যেই থাকে।   কার্নির মতে, এটি আর কেবল কোনো বাণিজ্য চুক্তির বিষয় নয়, বরং কানাডার সার্বভৌমত্ব এবং পরিচয়ের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডার যথেষ্ট রিজার্ভ, সহনশীলতা এবং সঠিক পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।   শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন বিয়ার, পনির এবং ইলেকট্রনিক্সসহ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে, যা আগে থেকেই অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ, যানবাহন ও স্টিলের ওপর আরোপিত শুল্কের অতিরিক্ত। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ নম্বর ধারা ব্যবহার করা হয়েছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এর পক্ষে সাফাই গেয়ে অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও রাজ্যের মতো সুবিধা ভোগ করতে চায়। তিনি আরও দাবি করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর বিশাল শুল্ক চাপিয়ে এসেছে, যা আর মেনে নেওয়া হবে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিজন গ্রিয়ারও জানিয়েছেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাজারে সবচেয়ে অনুকূল সুবিধা পেয়ে আসছে, অথচ তারা এখন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে ওয়াশিংটনও ছেড়ে কথা বলবে না।   অন্যদিকে, মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে একটি বাজে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শেষ মুহূর্তের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য তিনি ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দাবিগুলোকে দায়ী করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে কুইবেকের ফরাসি ভাষা, সংস্কৃতি এবং কানাডিয়ান পরিচয় পরিবর্তনের মতো অবাস্তব দাবি তুলেছে।   এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা, যা ‘ডলারের বিপরীতে ডলার’ নীতিতে কার্যকর হবে বলে কার্নি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ও মেইনের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলোর অর্থনীতি এবং আসন্ন সিনেট নির্বাচনেও ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৩:৪৭
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রতিবাদে ও অধিকার আদায়ে স্লোগান দিচ্ছেন এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব ছাড়াই রাস্তায় ইরানের তরুণীরা, কট্টরপন্থীদের চাপে সরকার

সাংহাইয়ের নিঃসন্তান দম্পতি ডু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িং নিজেদের সম্পূর্ণ সঞ্চয় শিশুদের চিকিৎসায় দান করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

দুজনে খাবার ভাগ করে খেয়ে ৪৫৫ শিশুর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে দান ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

বালির পবিত্র উৎসব 'নিয়েপি'র নিয়ম ভেঙে সৈকতে যাওয়ায় এক সুইস পর্যটককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বালিতে এসে ঘুরতে বাইরে বের হওয়ায় পর্যটকের এক বছরের কারাদণ্ড

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ স্বীকার পেজেশকিয়ানের

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের চাপের মধ্যে ইরানের অর্থনীতি ও সমাজে ‘অনেক সমস্যা’ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি।”    তিনি জানান, ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা—তিন দিক থেকেই বড় ধরনের যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতির সংকট নিয়ে সরকার ‘লজ্জিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে জানান, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে যাচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলা নয়; মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানি সরকারের ওপর এমন চাপ তৈরি করা হবে, যাতে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।    তবে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান এই চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তার দাবি, শত্রুপক্ষ ইরানের পতন চেয়েছিল, কিন্তু তা ঘটেনি। বরং দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।    এদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এপি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং মুদ্রার দরপতনের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।    এর আগে পেজেশকিয়ান যুদ্ধ শেষ করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শক্তি ও মর্যাদা ধরে রেখেই এখন যুদ্ধের অবসান ঘটানো ইরানের জন্য ভালো হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।    অর্থাৎ, একদিকে ইরান সরকার আত্মসমর্পণ না করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিজেই দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কথা স্বীকার করছেন—যা নিষেধাজ্ঞার চাপ কতটা গভীর হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:১৩
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার I ছবি: সংগৃহীত

ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধ ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার

ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা  হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার

ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

0 Comments