আমেরিকা

বিশ্বের কোটি নবজাতকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশি-মার্কিন গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাকী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৭:৩৯
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক

বিশ্বজুড়ে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদান রেখে বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত বাংলাদেশি জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। তার দীর্ঘ গবেষণা-জীবন, বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি গবেষণা উদ্যোগের বৈশ্বিক প্রভাবকে নতুন করে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ। গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের সিলেটে শুরু হওয়া ‘প্রজাহ্নমো’ উদ্যোগ বিশ্বের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

 

জনস হপকিন্সের ওই বিশেষ প্রকাশনায় অধ্যাপক বাকীর কাজকে শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা একটি গবেষণা উদ্যোগ কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, তার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির মতে, প্রজাহ্নমোর যাত্রা প্রমাণ করে যে উন্নয়নশীল দেশ থেকেও বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব।

 

অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী বর্তমানে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ম্যাটার্নাল অ্যান্ড নিউবর্ন হেলথের পরিচালক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস হপকিন্স থেকেই এমপিএইচ এবং ডক্টর অব পাবলিক হেলথ (ডিআরপিএইচ) ডিগ্রি অর্জন করেন। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মাতৃ, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এ ক্ষেত্রের বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

 

তার গবেষণা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০০১ সালে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইসিডিডিআর,বি এবং দেশি-বিদেশি গবেষকদের সহযোগিতায় সিলেটে যাত্রা শুরু করে ‘প্রজাহ্নমো’ গবেষণা উদ্যোগ। ছোট একটি গবেষণা প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন জেলায় গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

প্রজাহ্নমোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়, প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নবজাতকের পরিচর্যা নিশ্চিত করলে জন্মের প্রথম মাসে মৃত্যুহার প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গবেষণাটি ২০০৮ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ প্রণয়নে এই গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

অধ্যাপক বাকী ও তার সহকর্মীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা যায়, নবজাতকের নাভিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হলে গুরুতর অসুস্থ নবজাতকের জন্য সহজীকৃত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও কার্যকর হতে পারে বলে তার গবেষণায় উঠে আসে। এসব গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্দেশিকা হালনাগাদ করে।

 

গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে দক্ষ জনস্বাস্থ্য গবেষক তৈরি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক বাকী। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন বর্তমানে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এখনও প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

 

অধ্যাপক বাকীর প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০০। তার গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে আমেরিকান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কার্ল ই. টেলর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি আরও বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

 

গত ২৩ জুন প্রকাশিত জনস হপকিন্সের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি ছোট গবেষণা উদ্যোগ আজ এমন এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার গবেষণা বিশ্বের কোটি কোটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে, উন্নয়নশীল দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরাও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

 

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাসে অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর অবদান শুধু একজন সফল গবেষকের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা পাওয়ারও এক অনন্য অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লেখিকা ই. জিন ক্যারল এবং  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ই. জিন ক্যারলকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিল চেয়ে ট্রাম্পের আবেদন

লেখিকা ই. জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন হেনস্থা ও মানহানির মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন খারিজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার লক্ষ্য ক্যারলের পক্ষে দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি মানহানির রায় বাতিল করা। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের দুটি পৃথক দেওয়ানি মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।   প্রথম মামলায় জুরিরা রায় দিয়েছিলেন যে, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ক্যারলকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন ট্রাম্প এবং ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর ট্রাম্প তাকে মানহানি করেছেন। এই মামলায় ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সুদসহ ৫.৬ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় মামলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করে মানহানিকর মন্তব্য করার কারণে ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত। সেসময় ট্রাম্প ক্যারলকে "অস্বাভাবিক" (whack job) বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ক্যারলের সঙ্গে তার কখনোই দেখা হয়নি।   মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, আপিল আদালত এই মন্তব্যগুলো করার সময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটি (প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনি সুরক্ষা) ছিল কি না, তা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, "আমাদের দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে একজন প্রেসিডেন্টকে তার পদে থাকাকালীন কাজের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হচ্ছে।" বর্তমান বিচার বিভাগও (যার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক অ্যাটর্নি টড ব্ল্যাঞ্চ) সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের এই আপিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ওই বক্তব্যগুলো ফেডারেল কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্বের আওতাভুক্ত ছিল।   উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প এই রায়গুলো বাতিলের চেষ্টা করলেও নিম্ন আদালত তার আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলারের ওপর এখন পর্যন্ত ঠিক কত পরিমাণ সুদ জমা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৮:৪৩
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক

বিশ্বের কোটি নবজাতকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশি-মার্কিন গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাকী

কাশ প্যাটেল

‘রাশিয়ার এজেন্ট’ বলায় ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন কাশ প্যাটেল, খারিজ করল আদালত

নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট

নতুন মার্কিন পাসপোর্টে সই করতে ভুলবেন না, নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট

হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
হলিউডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটার পর পুরো এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, ওই এলাকার কারও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য (ওয়েলফেয়ার চেক) পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাহুয়েঙ্গা বুলেভার্ডের কাছে উইলকক্স অ্যাভিনিউয়ের ওই অ্যাপার্টমেন্টে যায়। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করার পরই তারা তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।   ঘটনাস্থল থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত নিহতদের বয়স বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   একসাথে তিনজনের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকাটিতে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তার পেছনের পরিস্থিতি উদ্ঘাটন করতে রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নিবিড় তদন্ত চালিয়েছেন গোয়েন্দারা।   ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:১৬
মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কংগ্রেসে প্রবীণ রাজনীতিকদের আধিপত্যে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, তরুণ নেতৃত্ব চান ৫৮% মার্কিনি

ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধিতে মার্কিন মুসলিমদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা ও হয়রানি বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ: কায়ার

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল বাস চালকের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থী পরিবহন ব্যবস্থা। ছবি: গেটি ইমেজেস
চালক সংকট ও খরচে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বাস ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করা নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তারা এক মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির পরিচিত হলুদ স্কুল বাসগুলো শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হলেও বর্তমানে জেলাগুলোর পক্ষে সেগুলো ঠিকমতো পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বাস চালকের ঘাটতি, বাজেট স্বল্পতা এবং স্কুল চয়েজ মুভমেন্টের বিস্তারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর অ্যারিজোনা, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, ইডাহো, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, ওহাইও, ওরেগন এবং ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের স্কুল কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সেবা কমিয়ে দিয়েছেন অথবা কমানোর প্রস্তাব করেছেন।   এই পরিবহন সমস্যাগুলো কেবল অভিভাবকদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে না, বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফলাফলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মিশিগান-ফ্লিন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক জেরেমি সিঙ্গার জানিয়েছেন, যাদের যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলগুলো বাস সেবা কমালে অভিভাবকদের গাড়ি ব্যবহার বাড়াতে হয়, যার ফলে জ্বালানি খরচ, ট্রাফিক ও পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টারের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ মার্কিন জেলা বাস চালক সংকটের কারণে এবং ৭৩ শতাংশ জেলা বাজেট সংকটের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার সূত্রপাত হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারীকেই প্রধানত দায়ী করছেন। মহামারীর সময় দূরশিক্ষণ চালুর ফলে চালকের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় অনেকে অন্য পেশায় চলে যান এবং স্কুল খোলার পর আর ফিরে আসেননি।   অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের আগস্টে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি স্কুল বাস চালক ছিল, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৯.৫ শতাংশ কমে ২ লাখ ২ হাজারে দাঁড়ায়। টেম্পল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক সারাহ কর্ডেস উল্লেখ করেছেন যে উবার বা লিফটের মতো রাইড শেয়ারিংয়ের চেয়ে স্কুল বাস চালক হওয়া অনেক বেশি কঠিন, কারণ এর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং শিশুদের পরিপূর্ণ একটি যানবাহন সামলানো সহজ কাজ নয়।   এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও পাবলিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। স্কুল সুপারিনটেনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অর্ধেকের বেশি স্কুল জেলা প্রধান জানিয়েছেন যে তাদের ডিজেল জ্বালানির খরচ বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। জন্মহার হ্রাস এবং পিতামাতারা সন্তানদের প্রাইভেট স্কুল, চার্টার স্কুল বা হোমস্কুলিংয়ে পাঠানোর কারণে শিক্ষার্থীদের তালিকাভুক্তি কমেছে, যার ফলে জেলাগুলো করের মাধ্যমে কম অর্থ পাচ্ছে।   এই সংকট উত্তরণে জেলাগুলো ছোট যানবাহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ রাইডশেয়ার সেবা চালুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে ১৯৭৪ সালের ফেডারেল স্কুল বাস সেফটি অ্যামেন্ডমেন্টস আইনের কঠোর নিয়মের কারণে নতুন ধরনের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখা এবং খরচ সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাস চালকের তীব্র শূন্যতা রয়েছে এবং মাথাপিছু পরিবহন খরচ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্পত্তি মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তহবিল প্রাপ্তির ওপর নতুন আইন পাস করায় আগামী তিন বছরে স্কুলগুলোর রাজস্ব অন্তত ১.৭ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে। ফলে স্কুলগুলো এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা পরিবহন ব্যবস্থার এই বাড়তি খরচ ও সার্বিক সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১২:৪২
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের গ্রেফতার অভিযান হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান বৃদ্ধি: গভীর উদ্বেগে কমিউনিটি নেতারা ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা

মিশিগানে পাঁচ সপ্তাহে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

মিশিগানে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

কলোরাডোর লংমন্ট শহরে ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে জরিমানা গুনছেন চালকরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে হাজারো চালকের লাখ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ

0 Comments