ক্যালিফোর্নিয়ায় পাহাড়ে আরোহণ করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের, রেখে গেলেন ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিগ বিয়ারে পাহাড়ে আরোহণ (ক্লাইম্বিং) করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এক যুবক। নিহত ওই যুবকের নাম অ্যান্ডি ফেরারোন, যার বাড়ি সান দিয়েগোতে।
এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, বিশেষ করে তার আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নিনা এখন দিশেহারা। স্বামীর এই অকাল প্রস্থানে অনাগত সন্তানকে এখন তাকে একাই পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বিগ বিয়ারে ক্লাইম্বিংয়ের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন অ্যান্ডি। দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ১৫ জুলাই মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।
এই দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত স্ত্রী নিনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অ্যান্ডির বন্ধুরা। চিকিৎসা ব্যয়, বাসা ভাড়া এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য তারা 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি পেজ খুলেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে অস্বাভাবিক নিচু উচ্চতায় উড়ে গেল প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হ্যালোইন উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ উড্ডয়নের আয়োজন করা হয়। তবে আকস্মিকভাবে বিমানটিকে এত নিচ দিয়ে উড়তে দেখে শহরের অনেক বাসিন্দা ও দর্শনার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেননি এটি প্রেসিডেন্টের বিমান। তাঁদের মনে হয়েছিল, কোনো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হয়তো বিপদের মুখে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে আয়োজিত হ্যালোইন অনুষ্ঠানের সময়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সেখানে শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানাচ্ছিলেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। বিমানটি যখন ভবনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ট্রাম্পকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতে দেখা যায়। মেলানিয়াও তাঁর পাশে ছিলেন। প্রশাসনের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি ওয়াশিংটন মনুমেন্টের পাশ দিয়ে এগিয়ে হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের আকাশের দিকে তাকিয়ে বিমানটি দেখতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জায়ও ছিল হ্যালোইনের ছোঁয়া। ভবনের সামনে লতা-পাতার অলংকরণ এবং ‘হ্যালোইন ২০২৬’ লেখা একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। বিমানটি একবার নয়, দুবার হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজটির উচ্চতা ছিল আনুমানিক ৪০০ থেকে ১ হাজার ফুটের মধ্যে। এত নিচু দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল রাজধানীটির বাসিন্দাদের কাছে বেশ অস্বাভাবিক। কারণ, নিরাপত্তার কারণে ওয়াশিংটনের আকাশসীমায় কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে বিমানটির আকস্মিক উপস্থিতি অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। একজন লেখেন, ওয়াশিংটনে উড়োজাহাজের এ ধরনের প্রদর্শনী দেখতে তিনি অভ্যস্ত। কিন্তু এবার বিমানটি এত নিচ দিয়ে উড়তে দেখে ভয় পেয়েছেন। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, আকাশে কোনো যাত্রীবাহী বিমান দেখা যাচ্ছে, যা রাজধানীর মতো জায়গায় বড় কোনো বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। পরে বুঝতে পারেন, সেটি এয়ার ফোর্স ওয়ান। আরেকজন জানান, বিমানটি তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে খুব নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় থাকা অন্যদের মতো তিনিও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল যেন হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় প্রশাসনও। ডিসি কাউন্সিলের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শহরের কেন্দ্রীয় অংশ, পেন্টাগন এবং ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এলাকায় থাকা মানুষকে বিমান উড্ডয়নের বিষয়ে মাত্র ১৫ মিনিট আগে সতর্ক করা হয়েছিল। এত অল্প সময়ের নোটিশে অনেকেই চমকে যান। কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও এই আকস্মিক উড্ডয়ন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়। তবে বিমানটির উড্ডয়ন কোনো অননুমোদিত বা সমন্বয়হীন কার্যক্রম ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, উড্ডয়নটির বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করা হয়েছিল। বিমানটির চলাচলের সুবিধার্থে ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজের ভূমি থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়। বিমানটির নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের মানুষের উদ্বেগের পেছনে শহরটির অতীত নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ভূমিকা রেখেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সময় ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ৭৭ নম্বর ফ্লাইট পেন্টাগনে আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ১৮৪ জন নি হ ত হন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতিও স্থানীয়দের মনে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীর আকাশে নিচু দিয়ে বড় উড়োজাহাজের আকস্মিক উপস্থিতি অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টা ৪০ মিনিটে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হ্যালোইন অনুষ্ঠানের সময় প্রেসিডেন্টের বিমানটি ভবনের ওপর দিয়ে উড়বে। তিনি বলেছিলেন, অনুষ্ঠানে অনেক ছোট শিশু থাকবে, তাই বিমানটির উড্ডয়ন তাদের জন্য আনন্দের হবে। তাঁর আশা, শিশুরা এই দৃশ্য উপভোগ করবে। হোয়াইট হাউসের বার্ষিক হ্যালোইন আয়োজনের অংশ হিসেবে হাজারো শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাঁদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। শিশুদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা বিমান প্রদর্শনী অবশ্য ওয়াশিংটনের অনেক বাসিন্দার কাছে আনন্দের বদলে অপ্রত্যাশিত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এয়ার ফোর্স ওয়ান মূলত প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজের পরিচিত নাম। প্রেসিডেন্ট উড়োজাহাজে থাকলেই সেটিকে এয়ার ফোর্স ওয়ান বলা হয়। বৃহস্পতিবারের এই উড্ডয়ন ছিল হ্যালোইন অনুষ্ঠানের পরিকল্পিত অংশ, তবে স্বল্প সময়ের আগাম সতর্কতা এবং বিমানটির নিচু উচ্চতা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী গত এক বছরে কোনো না কোনো ধরনের জুয়ায় অংশ নিয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, জুয়ায় অংশ নেওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১১ শতাংশকে গুরুতর সমস্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জুয়াবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্রের এই তথ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরার প্রবণতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে গবেষণাটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ২৭ বছর বয়সী প্রায় এক হাজার ৭০০ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ জানান, গত এক বছরে তাঁরা কোনো না কোনো ধরনের জুয়ায় অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে ১৭ বছর বা তার কম বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। গবেষণাটি বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুর দিকে পরিচালিত হয়। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর ও তরুণদের জুয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে এটিই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের বিস্তৃত গবেষণা। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জুয়ায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে সমস্যাজনক জুয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৭ বছর বা তার কম বয়সী যেসব কিশোর-কিশোরী জুয়ায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১১ শতাংশ গুরুতর সমস্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেকের জুয়ার আসক্তি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে। গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জুয়াবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক লিয়া নাওয়ার জানান, বর্তমান প্রযুক্তির কারণে জুয়ায় অংশ নেওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এখন বিভিন্ন ধরনের বাজি ও জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রবেশ করা সম্ভব। তাঁর মতে, যেসব কিশোর-কিশোরীর খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার কথা, তাদের অনেকেই এখন খেলাধুলার ফলাফল নিয়ে অর্থের বাজি ধরছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কেউ কেউ এসব কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। গবেষকেরা জুয়ার সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মোট ২১ ধরনের কার্যক্রম বিবেচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তার বিভিন্ন খেলা, লটারির টিকিট, দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ভবিষ্যতের কোনো ঘটনার ফলাফল নিয়ে অর্থের বাজি ধরার ব্যবস্থা। গবেষণায় মূলত এমন কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অনিশ্চিত ফলাফলের ওপর অর্থ বা মূল্যবান কিছু বাজি রেখে অতিরিক্ত অর্থ কিংবা বস্তুগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে। এই বিস্তৃত সংজ্ঞার কারণে গবেষণায় জুয়ায় অংশগ্রহণের হার শুধু প্রচলিত ক্যাসিনো কিংবা খেলাধুলায় বাজি ধরার তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধরনের অর্থভিত্তিক খেলা ও অনিশ্চিত ফলাফলের ওপর বাজি ধরার কার্যক্রমও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে জরিপে ৪৩ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্কের জুয়ায় অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের সবাই অনলাইনে খেলাধুলার বাজি ধরেছে কিংবা ক্যাসিনোতে অংশ নিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম ছিল ঘষে ফলাফল বের করা যায় এমন লটারির টিকিট। এরপর রয়েছে বিঙ্গো এবং অন্যান্য লটারির টিকিট। অন্যদিকে জুয়ায় অংশ নেওয়ার কথা জানানো উত্তরদাতাদের প্রায় ২০ শতাংশ খেলাধুলার ফলাফলের ওপর অর্থের বাজি ধরেছেন। ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনার ফলাফল নিয়ে পরিচালিত বাজির বাজারে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ছয় শতাংশের কিছু বেশি উত্তরদাতা। লিয়া নাওয়ারের মতে, জুয়া এখন আর শুধু ক্যাসিনো কিংবা লটারির টিকিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিডিও গেম, খেলাধুলার সম্প্রচার এবং তরুণদের ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গেও অর্থের বাজি ধরার সুযোগ যুক্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছিলেন, এ ধরনের পরিবেশ তরুণদের মধ্যে সমস্যাজনক জুয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে নতুন গবেষণার ফলাফল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের জুয়ায় অংশগ্রহণ আগের তুলনায় কতটা বেড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ গবেষণাটিতে অতীতের প্রবণতার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার মতো সমমানের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। লিয়া নাওয়ার ২০০৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী উত্তরদাতাদের ৬৮ শতাংশ গত এক বছরে জুয়ায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ২০০৭ সালের গবেষণা এবং নতুন গবেষণার বয়সসীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আলাদা। ফলে দুটি গবেষণার ফলাফল সরাসরি তুলনা করে জুয়ায় অংশগ্রহণ বেড়েছে কিংবা কমেছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক নয়। যদিও নতুন গবেষণায় সমস্যাজনক জুয়ার লক্ষণ এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের হার আগের গবেষণার তুলনায় বেশি বলে মনে হচ্ছে, তবু গবেষণাপদ্ধতির পার্থক্য বিবেচনা করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে খেলাধুলার ফলাফলের ওপর বাজি ধরার আইনি পরিবেশেও গত কয়েক বছরে পরিবর্তন এসেছে। আট বছরের বেশি সময় আগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি ফেডারেল আইন বাতিল করেন, যা অঙ্গরাজ্যগুলোকে খেলাধুলার ওপর বাজি ধরার অনুমতি দিতে বাধা দিত। এরপর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের কার্যক্রমের বৈধতা সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো না কোনো ধরনের খেলাধুলার বাজি বৈধ রয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে খেলাধুলার বাজি বৈধ হওয়ার অর্থ অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও তা অনুমোদিত নয়। নতুন গবেষণায় ১৭ বছর বা তার কম বয়সীদের জুয়ায় অংশগ্রহণের তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গবেষকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, অল্প বয়সে অর্থের বাজি ধরার অভ্যাস তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে জুয়াসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক লিয়া নাওয়ার জানান, অনেকেই প্রথমে বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অল্প অর্থের বাজি ধরে জুয়ায় অংশ নেওয়া শুরু করেন। পরে সময়ের সঙ্গে অংশগ্রহণের ধরন, বাজি ধরার সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাঁর মতে, জুয়ার সঙ্গে আচরণগত অভ্যাস তৈরির একটি সম্পর্ক রয়েছে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। গবেষণার ফলাফলকে অভিভাবক, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন নাওয়ার। তাঁর মতে, জুয়াসংক্রান্ত ক্ষতি প্রতিরোধে তরুণদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং কম বয়স থেকেই সচেতনতা তৈরি, ঝুঁকি শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান ডিজিটাল পরিবেশে জুয়ার ধরন ও সহজলভ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও গবেষণাটির ফলাফল প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে যেসব পরিবারে কিশোর-কিশোরী সন্তান রয়েছে, তাঁদের জন্য অনলাইন গেম, খেলাধুলার সম্প্রচার এবং অর্থের বিনিময়ে অংশ নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গবেষণায় বাংলাদেশি কিংবা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কিশোরদের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে জুয়ায় অংশগ্রহণের হার সম্পর্কে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে জুয়ায় অংশগ্রহণের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছে। প্রায় এক হাজার ৭০০ জনের জরিপে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪৩ শতাংশ গত এক বছরে জুয়ায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, তরুণদের মধ্যে জুয়াসংক্রান্ত ক্ষতি প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম সচেতনতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: এনবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা
কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প
সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারি বৈঠক চলাকালে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে বোরকা পরা এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনারদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে মাইক্রোফোনে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। কর্তৃপক্ষ তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বললেও তিনি তা না মানায় শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি তাঁকে সভাকক্ষ থেকে সরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিনেলাস কাউন্টির মসজিদ আল রহমান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এর মধ্যেই কাউন্টি কমিশনারদের বৈঠকে কয়েকজন বাসিন্দা মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে কালো বোরকায় আবৃত ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত মাইক্রোফোনের সামনে আসেন। তবে কোনো কথা না বলে তিনি মোবাইল বা অন্য একটি ডিভাইস থেকে আজানের রেকর্ডিং বাজাতে শুরু করেন। প্রায় এক মিনিট ধরে আজানের রেকর্ডিং চলার পর কমিশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে থামতে বলেন। তিনি জানান, কাউন্টির নিয়ম অনুযায়ী জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সময় আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। সভায় অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি বক্তব্য দিতে হয়। কিন্তু ওই নারী নির্দেশনা না মানায় পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান। নারীকে বের করে দেওয়ার পর সভাকক্ষে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স। তিনি উপস্থিত সবাইকে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, ইসলাম ধর্মের আজান বাজানোর কারণে ওই নারীকে বের করা হয়নি। বরং সভার নির্ধারিত নিয়ম না মানার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের বৈঠক রেকর্ড করার সুযোগ থাকলেও জনমত গ্রহণের সময় আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে সরাসরি নিজের মতামত জানাতে হয়। ওই নারী কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে রেকর্ডিং চালিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই কর্মকাণ্ড মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে প্রতিবাদ ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনে রয়েছে পিনেলাস কাউন্টির মসজিদ আল রহমান সম্প্রসারণের একটি সিদ্ধান্ত। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশনাররা চার ভোটের বিপরীতে তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করেন। এর ফলে জমিটির শ্রেণি আবাসিক গ্রামীণ এলাকা থেকে পরিবর্তন করে সরকারি ও আধা সরকারি ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ায় বর্তমান ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের কেউ কেউ মসজিদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং সরকারি নথিতে প্রকল্পটির পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সরকারি উপস্থাপনা ও নথিতে মসজিদটিকে কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বোঝার সুবিধার্থে প্রকল্পের প্রকৃত পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল। অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষেও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের একজন জানান, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে মক্কামুখী করতে এবং সাধারণ বাড়ির পরিবর্তে মসজিদের মতো স্থাপত্যরূপ দিতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসবাস করলেও তাঁদের কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে এর সমর্থনও রয়েছে। এদিকে কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নোভিকি সরকারি নথিতে মসজিদটির পরিচিতি আরও সহজ ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাউন্টি প্রশাসক ব্যারি বার্টনকে পাঠানো একটি ইমেইলে তিনি প্রকল্পের বিবরণ সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনকারী যে প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, সরকারি নথিতে প্রকল্পের পরিচিতি একইভাবে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে, ওই নারীকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সভাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না। তবে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কেন আজানের রেকর্ডিং বাজিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তাঁর নিজের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পিনেলাস কাউন্টিতে মসজিদ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও মতবিরোধ চলছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষের দাবি, সভার নিয়ম কার্যকর করতেই ওই নারীকে বের করা হয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের বিষয়টি ঘিরে ধর্মীয় উপাসনালয়ের নির্মাণ, জমির ব্যবহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ কমাতে সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম