নতুন মার্কিন পাসপোর্টে সই করতে ভুলবেন না, নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট
নতুন মার্কিন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করতে ভুলবেন না। দীর্ঘদিনের এই নিয়মটি আবারও নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটিতে সঠিকভাবে স্বাক্ষর করা প্রত্যেক পাসপোর্টধারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের নতুন পাসপোর্টের নির্ধারিত “Signature of Bearer” অংশে নীল বা কালো কালি দিয়ে নিজের স্বাক্ষর করতে হবে।
অন্যদিকে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টে শিশুর পরিবর্তে বাবা, মা অথবা আইনগত অভিভাবক স্বাক্ষর করবেন। এ সময় প্রথমে স্বাক্ষরের লাইনে শিশুর নাম লিখতে হবে। এরপর অভিভাবক নিজের স্বাক্ষর করবেন এবং শিশুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, যেমন বাবা, মা অথবা গার্ডিয়ান উল্লেখ করবেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর না থাকলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না, তা একবার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
এছাড়া পাসপোর্টে শুধুমাত্র নির্ধারিত স্বাক্ষরের স্থানেই সই করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো পৃষ্ঠায় অপ্রয়োজনীয় লেখা, স্বাক্ষর বা চিহ্ন না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছরের জন্য এবং ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাসপোর্ট ৫ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ ও স্বাক্ষর—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করে নেওয়া হলে ভ্রমণের সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য বিমানের টিকিট কম দামে পেতে হলে শুধু কখন টিকিট কাটছেন, সেটিই নয়, বরং কোন সময়ে ভ্রমণ করছেন এবং কতটা আগে বুকিং করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রার সময় কিছুটা নমনীয় রাখা, আগেভাগে ভাড়া পর্যবেক্ষণ করা এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বেছে নেওয়ার মতো কৌশলে অনেক সময় টিকিটের খরচ কমানো সম্ভব। নিউ ইয়র্ক ও আটলান্টা ভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের এজেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার একটি ভালো সময় হলো অফ সিজন। তার মতে, সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের সময় ভ্রমণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এই সময়ে ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে। তার পরামর্শ, একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটার পরিবর্তে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো। সাধারণভাবে অন্তত এক মাস আগে বুকিং করার পরামর্শ দিলেও তিনি দুই থেকে তিন মাস আগে টিকিটের দাম পর্যবেক্ষণ করে বুকিং করার কথা বলেন। কারণ বিমান ভাড়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং একই রুটের টিকিটের দামও সময়ভেদে ওঠানামা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো যাত্রার দিন নিয়ে কিছুটা নমনীয় থাকা। আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মতো সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ফ্লাইট নিলে অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। গুগল ফ্লাইটস এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারে উড়লে সপ্তাহান্তের তুলনায় গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম ভাড়া পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট রুটে প্রতিবার একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, মঙ্গলবার বা বুধবারে টিকিট কাটলেই যে কম দাম পাওয়া যাবে, এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। গুগল এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের কোন দিনে টিকিট কেনা হচ্ছে, তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই শুধু মঙ্গলবার আসার অপেক্ষায় না থেকে ভাড়া ভালো থাকলে আগেই বুকিং করা বেশি যুক্তিযুক্ত। অনলাইনেও রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর কৌশল। গুগল ফ্লাইটস এর প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে নির্দিষ্ট রুট বা ফ্লাইটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ই-মেইল বা নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। যাদের যাত্রার তারিখে নমনীয়তা আছে, তারা নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে এনি ডেটস অপশন ব্যবহার করে কম ভাড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন। আরেকটি সুবিধা হলো ফ্লেক্সিবল ডেটস বা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা। একই গন্তব্যে একদিন আগে বা পরে যাত্রা করলেই কখনো কখনো ভাড়ায় বড় পার্থক্য দেখা যায়। গুগল ফ্লাইটস এর ক্যালেন্ডার ও প্রাইস গ্রাফ ব্যবহার করে বিভিন্ন দিনের ভাড়া একসঙ্গে তুলনা করা যায়। পাশাপাশি কাছাকাছি একাধিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটের দামও যাচাই করা যেতে পারে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গুগল এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাধারণত আগেভাগে বুকিং করার প্রবণতাই ভালো ফল দেয়। তবে নির্দিষ্ট রুট ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো সময় ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ না করে নিজের রুটের ভাড়া কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা বেশি কার্যকর। কম দামের টিকিট খুঁজতে গিয়ে শুধু মূল ভাড়া দেখলেও চলবে না। লাগেজ ফি, সিট নির্বাচনের খরচ, দীর্ঘ লে-ওভার, বিমানবন্দর পরিবর্তন কিংবা আলাদা টিকিটে যাত্রার মতো অতিরিক্ত বিষয় থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে সব অতিরিক্ত খরচ যোগ করে মোট ভাড়া তুলনা করা জরুরি। সব মিলিয়ে কম দামে বিমানের টিকিট পেতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে অফ সিজনে ভ্রমণের পরিকল্পনা, দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই ভাড়া পর্যবেক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বিবেচনা, ফ্লেক্সিবল ডেটস ব্যবহার এবং প্রাইস ট্র্যাকিং চালু রাখা। তবে কোনো কৌশলই প্রতিটি রুটে কম দাম নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের মৌসুম, চাহিদা, আসনসংখ্যা এবং এয়ারলাইন্সের মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে টিকিটের দাম পরিবর্তিত হয়।
গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
নিউইয়র্কে শিশুদের ফ্রি চাইল্ডকেয়ার, বছরে বাঁচবে ২৬ হাজার ডলার
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে। ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিলের পাশাপাশি সেগুলো কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে মামলায় বাদী হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট। নতুন বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে। মামদানি অভিযোগ করেন, নতুন এই নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে বা আইনসম্মত সরকারি সহায়তা চাইতে গিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক মানুষও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন। মেয়র বলেন, অভিবাসী কমিউনিটিকে বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরাই নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টিগুলোর জোটকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই শব্দটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, যারা জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নগদ সরকারি সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাদীপক্ষের অভিযোগ, নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান—কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে। একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি মামলাও করা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নতুন বিধিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা চাইলে ডি পোর্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন অভিবাসী পরিবারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক পরিবার মেডিকেইড ও স্ন্যাপের মতো সরকারি কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কেউ কেউ ভয়ের কারণে আইনসম্মত সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। এদিকে নিউইয়র্কবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনা মূল্যের, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তা পেতে মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
মিয়ামিতে তিন গাড়ির ওপর হঠাৎ ধসে পড়ল বিশাল ক্রেন, আ হত ৪ জন
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি কোনো ফাঁপা বুলি নয়, টাকার ঠিকানা জানেন ট্রাম্প!
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।
কফির কাপ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশে সাসপেন্ড মার্কিন ছাত্রী, নতুন নিয়ম ঘিরে স্কুলে চরম বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীরা যাবে পুরুষ কারাগারে, চিকিৎসায়ও পরিবর্তন