বিশ্বসেরা বার্কলেতেও শেখাতে হচ্ছে ভগ্নাংশ! কলেজে পড়া শিক্ষার্থীদের গণিতের ঘাটতি, হতাশায় প্রফেসর
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন করে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো মৌলিক গণিত শেখাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস শেষ করে ভালো ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও কলেজ পর্যায়ের গণিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তাদের নেই।
বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্কলের অধ্যাপকেরা এমন শিক্ষার্থীদের পাচ্ছেন, যাদের কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাস শুরু করার আগে ভগ্নাংশ ও সূচকের মতো স্কুল পর্যায়ের বিষয়ও ঝালিয়ে নিতে হচ্ছে।
বার্কলের নিজস্ব তথ্যও সমস্যাটির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ম্যাথ ১এ বা প্রথম ক্যালকুলাস কোর্স শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে প্রায় অর্ধেককে কলেজ পর্যায়ের ক্যালকুলাসের জন্য প্রস্তুত নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ অবশ্য প্রি ক্যালকুলাস বা কলেজ অ্যালজেব্রার পর্যায়ে প্রস্তুত ছিল।
তবে কিছু শিক্ষার্থীর ঘাটতি আরও মৌলিক জায়গায় ছিল। বার্কলে জানিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন শিক্ষার্থীও ছিলেন যাদের ভগ্নাংশ ও সূচকের নিয়ম নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।
অধ্যাপক আলেকজান্ডার পলিনের মতে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে প্রি ক্যালকুলাস বা ক্যালকুলাস কোর্স শেষ করলেও বাস্তবে সেই বিষয়গুলোতে কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেননি।
এর ফল অনেক সময় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাতেই সামনে আসে। শিক্ষার্থীরা হাইস্কুলে ভালো গ্রেড নিয়ে বার্কলের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু কলেজের প্রথম গণিত পরীক্ষায় গিয়ে বুঝতে পারছেন তাদের ভিত্তিতে বড় ঘাটতি রয়েছে।
সমস্যা মোকাবিলায় বার্কলে কয়েক বছর ধরেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২০ সালে পলিন এবং তৎকালীন লেকচারার কেলি তালাস্কা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্রি ক্যালকুলাস প্রস্তুতি কোর্স চালু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ শুরু করার আগেই গণিতের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এতে নাম লেখান।
পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘সলিড ফাউন্ডেশনস প্রোগ্রাম’-এ রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ফাউন্ডেশনস অব লোয়ার ডিভিশন ম্যাথমেটিকস’ নামে একটি কোর্সও চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে বার্কলেতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচের স্তরের গণিত কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা।
বার্কলের গণিত বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক টেস্টও রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রথম গণিত কোর্স নেওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রস্তুতির অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু করা উচিত সে সম্পর্কে ধারণা পান।
বিতর্কটি আরও বড় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএটি ও এসিটির মতো স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট বাদ দেওয়ার পর। বার্কলের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিনা আগানাজিক সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে শিক্ষার্থীদের গণিতের দুর্বলতার জন্য শুধু টেস্ট অপশনাল বা টেস্ট ফ্রি ভর্তি নীতিকেই দায়ী করা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্কুলের মানের পার্থক্য, কোভিড মহামারির সময় শেখার ক্ষতি, গ্রেড ইনফ্লেশন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ একাধিক কারণ কলেজ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বার্কলের পরিস্থিতি অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রতিবেদনে পলিন বলেছেন, ইউসি সান ডিয়েগোতে যে মাত্রার সমস্যা ধরা পড়েছে, বার্কলের পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের গণিত প্রস্তুতি কমে যাওয়ার বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বার্কলের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কোনো না কোনো সময়ে গণিতের কোর্স নেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মলিকিউলার ও সেল বায়োলজিসহ বহু জনপ্রিয় বিষয়ে গণিত বাধ্যতামূলক।
ফলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী ভগ্নাংশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন নেই। বরং হাইস্কুলের ভালো গ্রেড একজন শিক্ষার্থীর কলেজ প্রস্তুতির প্রকৃত চিত্র কতটা তুলে ধরছে এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কেন মৌলিক গণিতের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঢাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ শিক্ষার্থী ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কয়েক বছর পর প্রযুক্তি খাতে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৪ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সেই ছোট উদ্যোগই কয়েক দশকের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয়ের প্রতিষ্ঠান ডেক্সিয়ানে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা মাহফুজ আহমেদ বর্তমানে ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে বিশ্বের ৭০টি কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে ঢাকায় একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় মাহফুজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর দাদা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকেও উচ্চতর ব্যবসায় শিক্ষা সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে মাহফুজ আহমেদের কোনো কর্ম-অভিজ্ঞতা ছিল না। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে। এরপর প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে করতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, দক্ষ জনবলের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৯৪ সালে মাহফুজ আহমেদ ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিআইএসওয়াইএস, প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয়েছিল একটি ছোট পরিসরের উদ্যোগ হিসেবে। সে সময় মাহফুজ আহমেদ নর্থরপ গ্রুম্যানের পরামর্শক এবং মবিল অয়েলের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। চাকরির পাশাপাশি শুরু করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি-সেবা সরবরাহ করা। ব্যবসার বিকাশে তাঁর ভাই মারুফ আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএসওয়াইএসের কৌশল, যাত্রা ও উন্নয়নে মারুফ গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৯ সালে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ে। পরবর্তী সময়ে ডিআইএসওয়াইএস একের পর এক অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। ২০২১ সালে ফ্লোরিডাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণের পর ২০২৩ সালে ডিআইএসওয়াইএস নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় হিসেবে ডেক্সিয়ান নাম গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষ জনবল সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী বিশ্বের ৭০টি কার্যালয়ে কাজ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০০টির বেশি ফরচুন ৫০০ কোম্পানিকে সেবা দিচ্ছে। ব্যবসার আর্থিক আকারও এখন বড় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ডেক্সিয়ানের আয় ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে আরও সম্প্রসারণ করছে। ২০২৬ সালের জন্য মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুজনই স্টাফিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্টসের উত্তর আমেরিকার ১০০ প্রভাবশালী জনবল-সেবা খাতের নেতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ২০২৩ সালে ডেক্সিয়ানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার পর মাহফুজ আহমেদের ভাই মারুফ আহমেদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। এরপর মাহফুজ আহমেদ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ডেক্সিয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও অবদান রেখেছেন মাহফুজ আহমেদ। ২০২২ সালে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটিং কলেজের প্রযুক্তি উদ্ভাবন তহবিলের জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান দেন। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুই ভাইকে তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অবদানের জন্য সম্মানিত করে। উদ্যোক্তা হিসেবে মাহফুজ আহমেদ ২০১৩ সালে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর গ্রেটার ওয়াশিংটন অঞ্চলের বর্ষসেরা উদ্যোক্তা পুরস্কারও পান। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ব্যবসায়িক পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা থেকে ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই শিক্ষার্থীর যাত্রা তাই কয়েক দশকে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর গল্প। ১৯৯৪ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ডিআইএসওয়াইএস আজ ডেক্সিয়ান নামে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয় এবং প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ আহমেদের দীর্ঘ ব্যবসায়িক পথচলা এবং তাঁর ভাই মারুফ আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ভারতের কিছু আবেদনকারীর অগ্রগতি, বাংলাদেশিদের চিত্র ভিন্ন
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে এক বছরে অভিবাসী শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজারের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি
অনলাইন দুনিয়া যেন দক্ষিণ এশীয়দের জন্য ক্রমেই আরও বৈরী হয়ে উঠছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও শিখ পুরুষদের অবমাননা করতে ‘পাজিট’ নামের একটি বর্ণবাদী গালির ব্যাপক বিস্তার দেখা গিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী ভারতীয় নারীদের নিশানা করে ‘ল্যাট্রিনাস’ নামের নতুন একটি ঘৃণ্য শব্দ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) এবং থ্রেডসের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিসা নীতি কঠোর করার পক্ষের কট্টরপন্থী ব্যবহারকারীরা এই অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে ভারতীয় নারীদের প্রতি বিষোদ্গার করছেন। ভাষাগত দিক থেকে ‘ল্যাট্রিনা’ শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট। সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্য উৎসব ও পর্যটনকেন্দ্রে অংশ নেওয়া ভারতীয় নারীদের ছবির ক্যাপশনে এই আপত্তিকর শব্দটি ব্যাপকভাবে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ‘ইন্ডিয়ান গার্লস আর দ্য নিউ ল্যাটিনাস’ শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক পোস্টকে বিকৃত করে বর্ণবাদীরা ‘ল্যাটিনাস’ শব্দটিকে ‘ল্যাট্রিনাস’-এ রূপান্তর করেছে। এমনকি গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক্স-এর বৈশ্বিক ট্রেন্ডিংয়ের ৬৫ নম্বর স্থানেও উঠে এসেছিল এই বিদ্বেষমূলক শব্দটি। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের এই ধরনের ঘৃণ্য প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। সিয়াটলের বাসিন্দা অনু এ. নামের এক নারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এত অবদান রাখার পরও এমন গালি শোনা চরম বিরক্তিকর ও ঘৃণ্য। এর আগে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বৃদ্ধির ঘোষণার পর ‘পাজিট’ বা এর বিকৃত রূপ ‘পুপজিট’ শব্দগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত সম্মানসূচক পাঞ্জাবি শব্দ ‘পাজি’ (বড় ভাই) থেকে বিকৃত করে ভারতীয় পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে ওই গালিটি তৈরি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী আচরণের এটি একটি নতুন ও ভীতিকর রূপ। ‘স্টপ এএপিআই হেট’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে দক্ষিণ এশীয়দের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি ব্যবহারের হার ১০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই প্রায় ৮৮ হাজার বর্ণবাদী গালি রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের এই ঘৃণ্য বিদ্বেষ শুধু কিবোর্ডের জগতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর জন্য একটি বৃহত্তর বৈরী ও হুমকিস্বরূপ পরিবেশ তৈরি করছে।
টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন
ছুটিতে এসে ফ্লোরিডাকে ভালো লেগেছিল। তাই ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন এক নারী। কিন্তু ১০ বছর পর তাঁর উপলব্ধি, কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়া আর সেখানে প্রতিদিনের জীবন কাটানো এক অভিজ্ঞতা নয়। প্রচণ্ড গরম, জীবনযাত্রার ভিন্ন ছন্দ ও স্বদেশের প্রতি টান তাঁকে এখনো ভাবায়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্যারিসের চার ঋতু ছেড়ে ফ্লোরিডার সারা বছরের রোদ প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। পরে বুঝেছেন, এপ্রিল থেকে নভেম্বরের গরমে দিনের বেলা বাইরে কাজ করা বা ঘুরে বেড়ানো তাঁর জন্য কঠিন। রাতের আর্দ্রতা ও মশাও অস্বস্তি বাড়ায়। শীতের আবহাওয়া তাঁর ভালো লাগে, তবে সে সময় পর্যটকদের ভিড়ে পছন্দের সৈকতে যাওয়া এবং রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি লিখেছেন। আবহাওয়ার পাশাপাশি বদলাতে হয়েছে দৈনন্দিন অভ্যাস। প্যারিসে কাজ শেষে রাতে ধীরেসুস্থে খাবার খেতে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। ফ্লোরিডায় এসে দেখেন, তাঁর পরিচিত অনেকেই দিন শুরু করেন আগে, রাতের খাবারও খান তুলনামূলক তাড়াতাড়ি। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে টেবিলে বসে দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার অভ্যাসটি তাঁর বিশেষভাবে মনে পড়ে। সামাজিক আচরণেও পার্থক্য অনুভব করেন তিনি। ফ্লোরিডার অনানুষ্ঠানিক পোশাক ও কথাবার্তা শুরুতে ভালো লাগলেও এখন প্যারিসের পরিচিত রীতিনীতির অভাব বোধ করেন। তবে ফ্লোরিডার প্রাণচাঞ্চল্য ও নানা দেশের মানুষের উপস্থিতি তাঁর ভালো লাগে। তাই অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি নেতিবাচক বলছেন না। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেশি মিল আছে, এমন কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
টেক্সাসে কোমায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম, ১৪ বছরের লড়াই শেষে মায়ের মৃত্যু
১০ ডলারের কমে দুপুরের খাবার, সান ফ্রান্সিসকোতে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন