সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১২:২৪
ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির ভেতরে ঢুকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা এক গোপন ইনফরম্যান্টকেই শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য উগ্রবাদী হিসেবে এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিলেন মুসল্লিরা। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া ওই নজরদারি অভিযানের কেন্দ্রে ছিলেন ক্রেইগ মন্টেইল নামের এক ফিটনেস প্রশিক্ষক, যিনি ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম নিয়ে মুসলিম পরিচয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির বিভিন্ন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন। ঘটনাটি পরে বড় ধরনের নাগরিক অধিকার মামলায় রূপ নেয় এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়।

 

সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জুলাইয়ের আগে মন্টেইলকে পেইড ইনফরম্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করে এফবিআই। তাকে আরভাইন এলাকার মুসলিমদের সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

 

এরপর মন্টেইল ইসলামিক সেন্টার অব আরভাইনের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে ফরাসি ও সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহের কথা জানান। পরে জুমার নামাজে শত শত মুসল্লির সামনে শাহাদাহ পাঠ করে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পর ‘ফারুক আল আজিজ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন।

 

মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতে থাকেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কখনো কখনো দিনে একাধিকবার নামাজে অংশ নিতেন তিনি। বিভিন্ন ধর্মীয় ক্লাস ও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি অরেঞ্জ কাউন্টির আরও কয়েকটি বড় মসজিদেও যাতায়াত করতেন।

 

এভাবে কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। মুসল্লিদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়ে তিনি এমন জায়গায় পৌঁছান, যেখানে অনেকেই তাকে নিজেদের পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন।

 

কিন্তু আড়ালে চলছিল নজরদারি। সুপ্রিম কোর্টের নথিতে মামলাকারীদের অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে শত শত ফোন নম্বর, হাজার হাজার ইমেইল ঠিকানা এবং বিপুল পরিমাণ অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদ, বাড়ি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত স্থানেও রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ ওঠে।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে মন্টেইল পরে দাবি করেন, প্রায় ১৪ মাসের ওই কাজে এফবিআই তাকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ডলার দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অরেঞ্জ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রায় এক ডজন মসজিদে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

 

ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক মোড় আসে যখন মন্টেইল সহিংস জিহাদ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্টের ২০২২ সালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মামলাকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী এফবিআইয়ের নির্দেশে ইনফরম্যান্ট কমিউনিটির সদস্যদের কাছে সহিংস জিহাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

 

তার কথাবার্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কয়েকজন মুসল্লি। শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তিকে এফবিআই তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পাঠিয়েছিল, তাকেই সম্ভাব্য উগ্রবাদী মনে করে এফবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট করেন তারা। ২০০৭ সালে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তার বিষয়ে এফবিআইকে সতর্ক করেছিলেন বলে সে সময় লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছিল।

 

মন্টেইলের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। তখন মুসল্লিরা জানতেন না, যাকে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছেন, তিনি আসলে এফবিআইয়ের হয়ে কাজ করছেন।

 

২০০৯ সালে মন্টেইলের পরিচয় ও তার ভূমিকা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের অভিযোগ ছিল, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের ব্যাপক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছিল।

 

২০১১ সালে ইয়াসির ফাজাগা, আলী মালিক ও ইয়াসের আবদেলরহিমসহ বাদীরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, এফবিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে ধর্মীয় বৈষম্য, গোপন নজরদারি এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় ছিল।

 

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বনাম ফাজাগা নামে পরিচিত মামলাটি পরে সুপ্রিম কোর্টে যায়। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে রায় দেয়। আদালত বলেছিল, ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্ট সরকারের ‘স্টেট সিক্রেটস’ বিশেষাধিকারকে বাতিল করে না। তবে সেই রায়ে মুসলিম বাদীদের সব অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

 

আইনি লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। মামলাটি পরবর্তী বছরগুলোতেও আদালতে চলতে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট আবারও মামলাটিতে হস্তক্ষেপ করে আগের রায় বাতিল করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

 

প্রায় দুই দশক আগের এই গোপন অভিযান তাই শুধু একটি এফবিআই ইনফরম্যান্টের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নজরদারি করা হয়েছিল কি না এবং জাতীয় নিরাপত্তার তদন্তে সরকারের ক্ষমতার সীমা কোথায়, সেই প্রশ্ন ঘিরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নাগরিক অধিকার মামলাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে  প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে

যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এ কারণে তাঁরা অন্তত কখনো কখনো আর্থিক চাপ অনুভব করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত লেন্ডিংট্রির জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।   জরিপে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৭১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সন্তানকে অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দিয়েছেন ৪৪ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মাসে একাধিকবার অর্থ দিয়েছেন।   গত দুই বছরে সহায়তা দেওয়া মা-বাবাদের ৫৩ শতাংশ সন্তানের খাবার বা বাজারের খরচে সাহায্য করেছেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা সাবস্ক্রিপশনের খরচে সহায়তা করেছেন ৩৫ শতাংশ। সমানসংখ্যক মা-বাবা নিয়মিত বিল ও জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ দিয়েছেন। আবাসন খরচে সাহায্য করেছেন ২৫ শতাংশ।   সন্তানকে সহায়তা দেওয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালানোর সক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ১৮ শতাংশ মা-বাবা। ঋণ পরিশোধে প্রভাব পড়েছে ১৬ শতাংশের, সঞ্চয়ে ১৩ শতাংশের এবং অবসরের জন্য অর্থ জমানোয় ১১ শতাংশের। সহায়তা পাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, মা-বাবার সাহায্য ছাড়া বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন বা অসম্ভব হতো।   মার্চে প্রকাশিত ওয়েলস ফার্গোর পৃথক জরিপে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা অর্থ, বাসস্থান বা অন্য সহায়তার জন্য তাঁদের ওপর নির্ভর করেন। ওই মা-বাবাদের ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাঁদের নিজেদের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৪ সালে পরিবারের বাইরে থাকা ২১ বছর বা বেশি বয়সী ৩৭ লাখ সন্তানকে মোট ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছেন প্রায় ২৬ লাখ মা-বাবা। যাঁরা সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক অর্থের মধ্যক পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২৫ ডলার। বাড়িতে থাকা সন্তানদের পেছনে খরচ এই হিসাবে নেই।   লেন্ডিংট্রির অনলাইন জরিপটি ৫ থেকে ৯ আগস্ট চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবা ছিলেন ৫৯৪ জন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৮:৫৬
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম।

নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম

লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে  মৃত্যু

লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার

ফ্লোরিডায় ১৭ বছর বয়সী যমজ সন্তানকে ছুরিকাঘাত

ফ্লোরিডায় ১৭ বছর বয়সী যমজ সন্তানদের ছুরিকাঘাত, পরে নিজেও আ ত্মহ ত্যা বাবার

মেক্সিকো সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি সামলাতে আরও কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রের
মেক্সিকো সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি সামলাতে আরও কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রের

মেক্সিকো সীমান্তের টেক্সাস অংশে আরও কয়েক শ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার, ২ অক্টোবর⁠ মার্কিন নর্দার্ন কমান্ড জানিয়েছে, রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে আগে থেকে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সহায়তায় নতুন এই মোতায়েন করা হয়েছে।   নর্দার্ন কমান্ডের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা, সম্ভাব্য হুমকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় কর্মরত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে সহায়তা করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে, তাঁরা কত দিন থাকবেন বা কোন কোন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।   রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় ড্রোন নিয়ে উদ্বেগের একটি আগের ঘটনা রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট সীমান্তে তাদের সদস্য ও বর্ডার কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত তিনটি ড্রোন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামানো হয়। বাহিনী ড্রোনগুলোকে কার্টেল সংশ্লিষ্ট বলে বর্ণনা করে। ওই ঘটনাটি শুক্রবারের নতুন সেনা মোতায়েনের কারণ হিসেবে ধারণা পাওয়া যায়।    সীমান্তে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও নতুন নয়। আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত সামরিক বাহিনীর হিসাবে, দক্ষিণ সীমান্তে যৌথ টাস্কফোর্সের অধীনে প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের কাজের মধ্যে ছিল নজরদারি, টহল ও সীমান্তরক্ষী সংস্থাকে সহায়তা। আট হাজারের সংখ্যাটি আগস্টের হিসাব; শুক্রবার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরের হালনাগাদ মোট সংখ্যা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৬:৩
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কেটামিনের প্রভাবে অসুস্থ অবস্থায় যৌন সম্পর্ক, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

৬-ক্যারেট হীরা আমেরিকান ড্রিম

১২ বছরের খোঁজের অবসান, মিলল ৬ ক্যারেটের হীরা ‘আমেরিকান ড্রিম’, মূল্য হতে পারে ১০ লাখ ডলার

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে লেফটেন্যান্ট পদে  হুমায়ুন কবির।

নিউইয়র্ক পুলিশে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেলেন শরীয়তপুরের হুমায়ুন কবির

ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি
ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি, চার সন্তানের মা শিভন জিলিসের দাবি

ইলন মাস্কের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জিলিস দাবি করেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। মাস্কের সঙ্গে জিলিসের চার সন্তান রয়েছে।   জিলিস লেখেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের অবস্থায় চলে যাওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস পাননি। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।   মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তানের মধ্যে ২০২১ সালে যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর জন্ম নেয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে ছেলে সেলডনের জন্ম হয়। জিলিস তার পোস্টে সন্তানদের নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।   বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জিলিস মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি কথোপকথনে মাস্ককে জিলিসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই কথোপকথনে একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গও আসে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্কের আকস্মিক সমাপ্তির কথা জানানোয় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জিলিস এক্সে লিখেছিলেন, “নতুন দিন, নতুন জীবন।” তখন তিনি ওই পোস্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরে সম্পর্কের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করার পর আগের পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মাস্ক তাকে এক্সে অনুসরণ করা বন্ধ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সন্তানদের যৌথভাবে দেখাশোনা করার আশা প্রকাশ করেছেন জিলিস। তিনি বলেন, মাস্কের প্রতি তার গভীর যত্ন ও শুভকামনা রয়েছে। তবে সম্পর্ক কেন শেষ হলো, সে বিষয়ে মাস্ক বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিচ্ছেদের পেছনের কারণ আপাতত অজানা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:৪১
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা মূলত একটি ‘মাদকের কারখানা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা মূলত একটি ‘মাদকের কারখানা’, তাই যুদ্ধ করছি, বললেন ট্রাম্প

আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা

আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা

ছবি: সাস্ট স্পটলাইট

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময় শাবির সাবেক শিক্ষার্থী তানভীরের মৃত্যু

0 Comments