সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে।
এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে। জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ
টেনেসিতে দুই ডোজ ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় কারাপ্রধানের পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে তৈরি হলো এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং তাঁর বাগদত্তা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন হাসপাতালের বেডে বসেই। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অপ্রত্যাশিত এই বিপদের দিনটিই পরিণত হলো এই যুগলের জীবনের এক অন্যতম স্মরণীয় ও সোনালি মুহূর্তে। ঘটনার দিন গত ৫ সেপ্টেম্বর জন কোমো এবং তাঁর বাগদত্তা ডায়ান তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট নোটারাইজ করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি উদ্বেগজনক ফোন আসে। চিকিৎসক জানান, জনের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে এবং তাঁকে দ্রুত হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়। মন খারাপ করে এই যুগল হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সি রুমের নার্স প্র্যাকটিশনার বেথ গেটস জানতে পারেন যে, জনের আকস্মিক অসুস্থতায় তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। নিজেদের চোখের সামনে এমন হতাশার দৃশ্য দেখে চুপ থাকতে পারেননি নার্স বেথ। তিনি তখনই হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না ছুটে আসেন ইমার্জেন্সি রুমের সি-২৯ নম্বর কক্ষে, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় বিয়ের আসরে। হাসপাতালের গাউন পরিহিত জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানে তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেন। পাশেই থাকা আরেক রোগী সামান্থা রিংয়ের বানিয়ে দেওয়া কাগজের তৈরি হলুদ আংটি বদল করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেন তাঁরা। এরপর হাসপাতালের বেড থেকে সামান্য ঝুঁকে স্ত্রীকে চুম্বন করেন জন, যা সেখানকার ভয়ার্ত ও অস্বাভাবিক পরিবেশকে এক নিমিষেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে। হাসপাতাল কর্মীদের আয়োজন শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যাতে আনন্দের মাঝে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন তাঁরা। লাইসেন্সড নার্স কেরিয়া লাইটফুট এই শেষ মুহূর্তের আয়োজনের জন্য ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেন গ্লাস এবং স্পার্কলিং গ্রেপ জুসের ব্যবস্থা করেন। ইমার্জেন্সি রুমের অ্যাটেনডেন্ট নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘জাস্ট ম্যারিড’ লেখা একটি সুন্দর প্ল্যাকার্ড। এই প্রসঙ্গে জন আপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই চরম বিপর্যয়ের দিনেও হাসপাতাল কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পরবর্তীতে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের অনকোলজি (ক্যানসার) ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন। প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের বিবাহিত জীবনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডায়ানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে এবং হাসপাতালের ওই অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা, দুই রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টা গণহ ত্যার ১২০ বছর, গুজবের ভ য়াবহতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেডসে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। আগুন নেভার পর ওই ‘বার্ন স্কার’ বা দাবানলকবলিত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রথম দিককার একটি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে, যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ১৪ মিলিয়ন) ডলার। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের ৮৩৭ মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচ বেডরুমের এই বিলাসবহুল বাড়িটি স্থানীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীরা। কম্পাস-এর তালিকাভুক্ত ব্রোকার রায়ান জানকুলা জানান, দাবানলের সময় যে সড়কটি তুলনামূলকভাবে বেঁচে গিয়েছিল, সেখানেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছে। অ্যালিসন হোয়াইট হোমস-এর ডেভেলপার অ্যালিসন হোয়াইট বর্তমানে এই এলাকায় মোট ১৪টি বাড়ি নির্মাণ করছেন। এর মধ্যে মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটির কাজ সবার আগে শেষ হয়েছে, কারণ দাবানল শুরুর আগেই এর অনুমতিপত্র নেওয়া ছিল। হোয়াইট জানান, বাকি বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ওই দাবানলে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই এলাকায় বর্তমানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩টি বাড়িকে পুনরায় বসবাসের সনদ বা ‘সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি’ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুলই নয়, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের দাবানল মোকাবিলার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। ৬ হাজার ৫১১ বর্গফুটের এই সুবিশাল বাসভবনে রয়েছে চমৎকার সানরুম, শেফস কিচেন, কাস্টম ওয়েট বার, মুভি থিয়েটার এবং স্পা-সুবিধাযুক্ত বাথরুম। বাইরের অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ইনফিনিটি পুল, সনা, কোল্ড প্লাঞ্জ, আউটডোর কিচেন এবং ফায়ার পিট। নিরাপত্তার কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখে এতে অত্যাধুনিক ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, ছাদে স্প্রিঙ্কলার এবং আগুন-প্রতিরোধী বিশেষ ভেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্লায়েন্টদের বাড়তি স্বস্তি দেবে। তবে সার্বিক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থানীয়দের জন্য মোটেও সহজ নয়। অনেক মানুষ যারা ৩০-৪০ বছর ধরে নিজেদের চিরস্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করছিলেন, তারা মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও শান্তা ইনেজ জলাধারে পানির অভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো আবাসন বাজারকে বেশ ভাবাচ্ছে। যে কারণে দাবানলকবলিত এলাকার বাইরে নির্মিত কিছু বিলাসবহুল বাড়ির দাম এরই মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার পরও প্রতিনিয়ত নতুন বাড়ির কাজ শুরু হওয়ার দৃশ্য স্থানীয় গৃহহীন বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার