জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।
চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি।
বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম।
এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।
এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে বিরল এক জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছে ছয় বছরের শিশু লিও ইয়ংডাল। তার এই আবিষ্কার ঘিরে বিস্মিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অঙ্গরাজ্যটিতে এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। অর্থাৎ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর নতুন করে এমন একটি নমুনার খোঁজ মিলল। চলতি বছরের গ্রীষ্মে নেব্রাস্কার শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়ায় জীবাশ্মটি খুঁজে পায় লিও। ছোটবেলা থেকেই পাথর সংগ্রহের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রকৃতিতে ঘুরতে গিয়ে সে পাথর কুড়িয়ে বালতিতে জমা করত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাথর, রত্ন ও জীবাশ্ম চেনার আগ্রহও তৈরি হয় তার মধ্যে। জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিও বলে, ‘আমি একটা জীবাশ্ম পেয়েছি!’ তার কাছে এটি ছিল দারুণ এক আবিষ্কার। এর আগেও সে বেশ কয়েকটি জীবাশ্ম পেয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল ব্র্যাকিওপড এবং বিভিন্ন ধরনের খোলসের জীবাশ্ম। তবে এবারের নমুনাটি ছিল একেবারেই আলাদা। লিও যে জায়গা থেকে জীবাশ্মটি খুঁজে পেয়েছিল, সেটি দেখিয়ে সে জানায়, ওই এলাকার কাছাকাছিই নমুনাটি পেয়েছে। প্রথমে তার মনে হয়েছিল, বস্তুটি যেন উল্টো করে রাখা সাপের খোলস। কিন্তু পার্কের শিক্ষাবিদ কেলি একুয়ে নমুনাটি দেখার পর বুঝতে পারেন, এটি পরিচিত জীবাশ্মগুলোর মতো নয়। একুয়ে জানান, পার্কের ওই এলাকায় সাধারণত ছয় ধরনের জীবাশ্ম দেখা যায়। কিন্তু লিওর খুঁজে পাওয়া বস্তুটি সেগুলোর কোনোটির সঙ্গে মেলেনি। প্রথম দেখায় তাঁর কাছে সেটিকে মাছের মতো মনে হয়েছিল। তবে ওই এলাকার জীবাশ্মস্তরে মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম সাধারণত পাওয়া যায় না। এ কারণেই নমুনাটি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। পরে স্থানীয় ভূতত্ত্ববিদেরা জীবাশ্মটি পরীক্ষা করে শনাক্ত করেন। তাঁদের মতে, এটি কনুলারিয়িড নামের এক ধরনের প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম। প্রাণীটি জেলিফিশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি বছর আগে নেব্রাস্কার যে অংশে বর্তমানে স্থলভূমি রয়েছে, তার কিছু এলাকা পানির নিচে ছিল। সেই সময়ের সামুদ্রিক পরিবেশে কনুলারিয়িডের মতো প্রাণী বাস করত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে তাদের দেহের চিহ্ন পাথরে সংরক্ষিত থাকায় এখন সেগুলো জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়। এ ধরনের জীবাশ্ম বিরল হওয়ার একটি কারণ হলো, প্রাণীগুলোর দেহ ছিল নরম। নরম দেহের প্রাণীর অবশেষ সাধারণত সহজে জীবাশ্মে পরিণত হয় না। উপযুক্ত পরিবেশ ও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে তাদের দেহের চিহ্ন দীর্ঘকাল ধরে পাথরে সংরক্ষিত থাকা কঠিন। তাই লিওর খুঁজে পাওয়া নমুনাটি শুধু অস্বাভাবিক নয়, নেব্রাস্কার প্রাকৃতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। পার্কের শিক্ষাবিদ একুয়ে বলেন, নেব্রাস্কার ইতিহাসের জন্য এ ধরনের জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নমুনা আবিষ্কারের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়াটি নেব্রাস্কার ওমাহা শহর থেকে প্রায় ২৮ মাইল দূরে অবস্থিত। লিওর আবিষ্কৃত জীবাশ্মটি বর্তমানে পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এটি শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে তারা পৃথিবীর অতীত, প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী এবং জীবাশ্ম কীভাবে তৈরি হয়, সে সম্পর্কে জানতে পারে। লিওর নিজেরও জীবাশ্ম নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সে অতীতে পৃথিবীতে বসবাস করা প্রাণীদের সম্পর্কে আরও জানতে চায়। তার কথায়, জীবাশ্ম দারুণ আকর্ষণীয়। তবে অতীতে কী কী প্রাণী ছিল এবং সেগুলোর নাম কী, তা এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি তার। তাই নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে সে আবারও প্রকৃতিতে অনুসন্ধান চালাতে চায়। জীবাশ্ম খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি পরামর্শও দিয়েছে লিও। তার মতে, যেসব পাথরে অনেক খাঁজ ও ছোট ছোট গর্ত রয়েছে, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার ধারণা, এমন পাথরের মধ্যে আরও বেশি জীবাশ্ম পাওয়া যেতে পারে। ছয় বছরের একটি শিশুর কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া এই আবিষ্কার এখন পার্কের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ। যে বস্তুটিকে প্রথমে সাপের খোলসের মতো মনে হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটিই হয়ে উঠেছে নেব্রাস্কার বিরল প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এমন নমুনা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির মধ্যে ছোট্ট একটি অনুসন্ধানও অতীতের অজানা ইতিহাস সামনে আনতে পারে।
বিচারকের নির্দেশে ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি চালুর পথে ট্রাম্প প্রশাসন, সুযোগ ফিরছে আবেদনকারীদের
তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ
আমেরিকায় বিনামূল্যে খাবার দরকার? কাছের ফুড প্যান্ট্রি খুঁজবেন যেভাবে, জেনে নিন
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।
ওয়ালমার্টের কর্মীরা বিনা খরচে পাবেন ২৫০টির বেশি ওষুধ, থাকছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ও নতুন শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধ করলেন ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্রেণিগত মামলা করেছেন সাতজন। তাঁদের অভিযোগ, আটকাবস্থা শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন, গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং পরিবারের খরচ মেটাতেও সমস্যায় পড়ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না থাকায় বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছেন, আইস এমন একটি কার্যত দেশব্যাপী নীতি অনুসরণ করছে, যার আওতায় সম্পদ আটকে রাখার বৈধ কারণ না থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আদালতের কাছে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শ্রেণি গঠনের স্বীকৃতি, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং আটক ব্যক্তিদের জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আইসের নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। মামলার নথি অনুযায়ী, সাত বাদীর প্রত্যেকেই মুক্তির সময় তাঁদের কিছু না কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। আটকে রাখা জিনিসের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন, গাড়ির চাবি, নগদ অর্থ, পোশাক এবং একজনের ক্ষেত্রে বিয়ের আংটি। অভিযোগ দায়েরের সময় প্রত্যেক বাদী অন্তত পাঁচ মাস ধরে আইসের হেফাজতের বাইরে থাকলেও তাঁদের কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। বাদীদের দাবি, নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আটকে রাখার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটক কার্যক্রমের পরিসরও বেড়েছে। মার্শাল প্রজেক্টের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইস ছয় লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল। বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তির পর নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার অন্যতম বাদী ভ্লাদিমির ইজমাইলভ ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রুশ নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে আইস আটক করে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, মানিব্যাগ, বেল্ট ও বিয়ের আংটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইজমাইলভ তাঁর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নথিগুলো আইসের এক কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরে তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাজিরা কর্মসূচির কর্মকর্তা জানান, আইসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজউইককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজমাইলভ বলেন, তাঁর জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় আটক থাকার অভিজ্ঞতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় কয়েক মাস তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পরও কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাড়া পরিশোধের জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। আরেক বাদী এনিস সুলেইমা লুনা আরদিলা কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাতে উপস্থিত হওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর অঙ্গরাজ্য-প্রদত্ত পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, কলম্বিয়ার পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং পারমিট ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচটি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যে এমন একটি চাকরিও ছিল, যেখানে তাঁর বর্তমান মজুরির দ্বিগুণ বেতন এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বা ইএডি (এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট) ইস্যু করে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। যোগ্য অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এই কার্ড। ফলে এ ধরনের নথি হারানো বা ফেরত না পাওয়া অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মামলার বাদীদের বক্তব্য, বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তাঁরা চাকরি গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছেন। মামলার আরেক বাদী রোলান্ডো রামিরেজ ফুয়েন্তেস শৈশবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৬ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে আইসের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ফ্লোরিডার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় কাজ খুঁজতে অসুবিধা হয়েছে এবং আয় করতে না পারায় হৃদ্রোগের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বাসস্থানের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এখন গৃহহীন। ডোমিঙ্গো তত কুইপ নামের গুয়াতেমালার আরেক নাগরিক পোর্টল্যান্ড, মেইনে বাসন ধোয়ার কাজ করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইস তাঁকে আটক করে এবং অপসারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গুয়াতেমালায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আগস্টে তাঁকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থের বড় একটি অংশ, ব্যাকপ্যাক, ফোনের চার্জার, হেডফোন ও পোশাকের অনেক কিছু এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদ অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার আইসের নেই। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল পারলফ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে যথেচ্ছভাবে মানুষের সম্পদ নিয়ে রাখতে না পারেন, সে জন্যই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্ল্যাটকিন এলএলপির অংশীদার ম্যাট প্ল্যাটকিনও বলেন, কাউকে আটক থেকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখা উচিত নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু সম্পদ সাময়িকভাবে আটকে রাখার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন কোনো বৈধ কারণ তৈরি না হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া সংবিধানসম্মত বাধ্যবাধকতা। আইসের নিজস্ব নির্দেশনায়ও কোনো নথি আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের নথি জব্দ করা হয়, তাঁদের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বাদীর কেউই এমন অনুলিপি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বাদীরা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে আটক হওয়া এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি শ্রেণি গঠনের আবেদন করেছেন, যাঁদের মুক্তির পরও বৈধ কারণ ছাড়াই আইস তাঁদের সম্পদ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দুটি পৃথক উপশ্রেণি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি ফেরত না পাওয়াদের জন্য, অন্যটি ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখার শিকার ব্যক্তিদের জন্য। আদালতের কাছে তাঁরা কথিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা, বৈধ ভিত্তি ছাড়া আটকে রাখা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং সম্পদ সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আবেদন জানিয়েছেন। আইস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সূত্র: নিউজউইক, ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (মামলার নথি)
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের জেরে গ্রাহকদের সেবা না দেওয়ার অভিযোগ ৯ ব্যাংকের বিরুদ্ধে
নিউইয়র্কে ম্যাসেজের নামে দুই নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আদালতে নিউরোলজিস্ট