সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে অভিবাসন জালিয়াতি, জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:১১
জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত
জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে একটি বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানের পর জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুই অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর গণ-ডিপোর্টেশন এবং অভিবাসন জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুয়াতেমালার ৩৮ বছর বয়সী সান্তোস রামিরেজ-রামিরেজ এবং মেক্সিকোর ৩২ বছর বয়সী ইয়োলান্ডা মেন্ডোজা-এমিলিয়ানো ইমিগ্রেশন নথির অপব্যবহারের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। গত ২৮ মে সাউথ সিক্সটিন্থ স্ট্রিটের ওই বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা জাল স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড (গ্রিন কার্ড) এবং ভুয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত গ্রিন কার্ডগুলোতে আসামিদের নাম ও ছবি থাকলেও, সেগুলোতে ব্যবহৃত ‘এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন নম্বর’গুলো সম্পূর্ণ অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত ছিল।

 

তদন্তকারী সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)-এর কানসাস সিটি স্পেশাল এজেন্ট রিক সাবাতিনি এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরনের জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার সততাকে ক্ষুণ্ন করে এবং পরিচয় গোপন রেখে অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে। মার্কিন অ্যাটর্নি রায়ান এ. ক্রিগশাউসার পরিচয় চুরির ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জালিয়াতির কারণে নিরীহ মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে, যার ফলে অপরাধীরা অন্যের নামে চাকরি নেওয়া থেকে শুরু করে ঋণ নেওয়ার মতো কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেন্ডোজা-এমিলিয়ানোকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারবার আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারকৃত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অবৈধ অনুপ্রবেশের পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

দেশজুড়ে অভিবাসন জালিয়াতি রোধে আরও বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি মাসের শুরুতেই একটি দশক-ব্যাপী ভুয়া বিয়ের চক্রের সঙ্গে জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বিচার বিভাগ। এই চক্রটি অর্থের বিনিময়ে শত শত চীনা নাগরিককে মার্কিন নাগরিকদের সাথে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করত। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, এটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ বিবাহ-জালিয়াতি মামলা। এই চক্রের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের জন্য বিদেশি নাগরিকেরা প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত প্রদান করতেন এবং সম্পর্কগুলোকে সত্যি প্রমাণ করতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠান ও ফটোশুটেরও আয়োজন করা হতো।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওরেগনের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার ঘটনায় বন্দুকধারীকে থামাতে এগিয়ে আসেন দুই সন্তানের বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দুই মেয়ের স্কুলে গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে বন্দুকধারীকে থামালেন বাবা, বাঁচালেন বহু প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলার সময় নিজের দুই মেয়ের স্কুলে ছুটে গিয়ে হামলাকারীকে থামান ৩৬ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি কাইলুব জিয়ামাঙ্কো। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলির শব্দ শুনে তিনি স্কুলটিতে যান। পরে স্কুলের ভেতরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক।   ঘটনাটি ঘটেছে ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাইলুবের ভাই কাইল গিয়ামাঙ্কো জানিয়েছেন, তাঁর ভাই দুপুর ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় স্কুলের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। কাইলুবের নিজের দুই মেয়েও ওই বিদ্যালয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান এবং স্কুলে প্রবেশ করা বন্দুকধারীকে থামানোর চেষ্টা করেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইলুবের কাছে বৈধভাবে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি ছিল। তিনি বন্দুকধারীকে অনুসরণ করে স্কুলের বিশেষ শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে পৌঁছান এবং সেখানে তাকে গুলি করেন। এতে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী জন জে. গ্রিফিন দ্বিতীয় নিহত হয়। তবে এ ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা থাকলেও কাইলুব নিজেকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরতে চান না বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।   কাইলুবের মা হিসেবে পরিচয় দেওয়া কেন্ডা ফ্রিম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ছেলের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তবে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর কাইলুব মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করতে না পারার জন্য তিনি অপরাধবোধে ভুগছেন। এ কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন এবং ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাইলুব কোনো ধরনের প্রচার বা স্বীকৃতি চাইছেন না। বরং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো জরুরি সেবাকর্মী, স্কুলের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দুই মেয়েও ওই স্কুলের শিক্ষার্থী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁরা আপাতত কোনো সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাইলুবের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘একজন মহান নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাইলুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তবে ঘটনাটিতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং স্কুলের শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থাও এখন স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার খবর পায় বেন্ড পুলিশ। প্রথমে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর আসে। এর পরপরই জরুরি সেবা বিভাগে একাধিক ফোন আসে, যেখানে জানানো হয়, এক বন্দুকধারী স্কুলের ভেতরে ঢুকে গুলি চালাচ্ছে। দুপুর ১টা ২ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়।   পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিজেড জানিয়েছে, বন্দুকধারী স্কুলের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং দরজার কাচে গুলি চালিয়ে প্রবেশপথ তৈরি করে। পরে সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। ওই শ্রেণিকক্ষে হামলাকারীকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এক শিক্ষকও। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষকের প্রতিরোধের ঘটনাটিও হামলা থামানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   হামলায় পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট নিহত হয়েছেন। আহত সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত শিশুটির অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহায়তা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বেন্ড পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এবং কিশোরটি কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল তার মায়ের পাম্প-অ্যাকশন শটগান। স্কুলটির সঙ্গে হামলাকারীর পূর্ববর্তী সম্পর্ক কী ছিল, সেটিও তদন্তের বিষয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট, বেন্ড পুলিশ বিভাগ ও কেটিভিজেড।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২১:১৬
হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌ ন নিপীড়নের মামলা খারিজ করলেন বিচারক

হলিউড অভিনেতা টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌ ন নিপীড়নের মামলা খারিজ করলেন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫ বছরের শিশুকে লাঞ্চবক্স দিয়ে আঘাত, গ্রেপ্তার থেরাপিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫ বছরের শিশুকে লাঞ্চবক্স দিয়ে আঘাত, গ্রেপ্তার থেরাপিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হা মলায় প্রাণ গেল ২৫ বছরের শিক্ষিকার, দরিদ্র শিশুদের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হা মলায় প্রাণ গেল ২৫ বছরের শিক্ষিকার, দরিদ্র শিশুদের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ

ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ ১৯ বছরের তরুণের, মুহূর্তেই ছুটে এসে প্রাণ বাঁচালেন জেট-স্কিয়াররা
ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ ১৯ বছরের তরুণের, মুহূর্তেই ছুটে এসে প্রাণ বাঁচালেন জেট-স্কিয়াররা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে ইস্ট রিভারে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করে খবরের শিরোনামে এসেছেন একদল জেট-স্কিয়ার। 'এনওয়াইসি পাইরেটস' (NYC Pirates) বা 'পার্টি পাইরেটস' নামের এই দলটি সাধারণত তাদের উদ্দাম জলপার্টির জন্য পরিচিত হলেও, গত বুধবার তারা আবির্ভূত হন সত্যিকারের ত্রাতা হিসেবে।   ২৭৮ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার পর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ১৯ বছর বয়সী ওই কিশোরকে পানি থেকে তুলে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে ওই তরুণের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।   এনওয়াইসি পাইরেটসের প্রেসিডেন্ট জেমস রাইশেল্ট জানান, তিনি ও তাঁর বন্ধুরা সেসময় নদীতেই অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তারা দেখতে পান, ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি নৌকা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ওই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেন। কোনো কিছু না ভেবেই রাইশেল্ট দ্রুত তাঁর জেট-স্কি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।   তিনি যখন পৌঁছান, তখন কিশোরটি পানির প্রায় এক ফুট নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তখনও তার জ্ঞান ছিল। রাইশেল্ট তাকে টেনে তুলে বলেন, "ভয় পেয়ো না বন্ধু, আমি আছি!"   কিশোরটিকে পানি থেকে তোলার পর তার চোখে চরম আতঙ্ক দেখতে পান রাইশেল্ট। কিশোরটি প্রথমেই তাকে বলে, "আমি দুঃখিত"। সেসময় দলের আরেক সদস্য রাইশেল্টের জেট-স্কিতে লাফিয়ে উঠে ওই আহত কিশোরকে স্থির রাখতে সাহায্য করেন। এরপর তারা তাকে নিউইয়র্ক পুলিশের (NYPD) হারবার ইউনিটের নৌকায় তুলে দেন। সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত তাকে বেলভ্যু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোর বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।   এই রোমহর্ষক উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে রাইশেল্ট মানসিক অবসাদে ভোগা মানুষদের আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে সাহায্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে এনওয়াইসি পাইরেটস বেশ কয়েক বছর ধরে তহবিল সংগ্রহের কাজ করে আসছে। রাইশেল্ট বিনয়ের সাথে জানান, এমন উদ্ধারকাজ তাদের জন্য নতুন কিছু নয়; এর আগেও তারা পানিতে ডুবে যাওয়া ক্লান্ত সাঁতারুদের এবং নৌকায় আগুন লাগার ঘটনায় অনেককে উদ্ধার করে জীবনের ঝুঁকি এড়িয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৮:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ২১ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কড়া বার্তা শ্রম দপ্তরের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ২১ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কড়া বার্তা শ্রম দপ্তরের

বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট

বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট

কুকুরের নামে ভোট, শেষে বিলবোর্ডে উঠল তারই ছবি

কুকুরকে ভোটার বানিয়ে দুইবার ব্যালট পাঠালেন নারী, শেষ পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে কুকুরের ছবিই উঠল বিলবোর্ডে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ

মিশিগানের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে এত দিন গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ব্যবধান ১২। পরিবর্তিত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়নি।    ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের রাতের বেসরকারি হিসাবে আলহারবি ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ নভেম্বর প্রত্যয়িত ফলে ব্যবধান কমে হয় ছয় ভোট। পরে ২ ডিসেম্বর পুনর্গণনায় আলহারবি পান ২ হাজার ৭১ ভোট, মাহমুদ ২ হাজার ৬০ ভোট। সেই হিসাবেও বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হয়নি।    নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। সেগুলোর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠায় ওয়েইন কাউন্টির বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে গণনার প্রশ্নে ২–২ ভোটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ব্যালট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান মাহমুদ। আলহারবির আপত্তি ছিল, ব্যালটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।    গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। আগস্টে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করতে বলে।    ভোটের হিসাবে মাহমুদ এগিয়ে গেলেও মেয়র পদে পরিবর্তন এখনই হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফল প্রত্যয়নের আগে বিচারকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মাহমুদ হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা হিসেবে মেয়র পদে যোগ্য কি না, তা নিয়েও আলহারবির পৃথক আইনি আপত্তি রয়েছে। মাহমুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলহারবির আইনজীবী নতুন গণনা নিয়ে আবার ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।    আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন নিয়েও শহরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ সরকারি নথির ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আলহারবির আইনি ব্যয়ের বিল ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ ডলার; মোট ব্যয় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।  সূত্র: সিবিএস ডেট্রয়েট, মিশিগান কোর্ট অব আপিলসের রায়, ভোটবিট ও দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৬:১৭
বিতর্কের জেরে ৫ দিনের মাথায় প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

বিতর্কের জেরে ৫ দিনের মাথায় প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে বন্দুক হা মলা, নি হত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে বন্দুক হা মলা, নি হত ৪

বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

0 Comments