সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২২:৩৭
সান দিয়েগোর মসজিদে হামলার ভিডিও ধারণ, ৩ হত্যার অভিযোগে ১৭ বছরের কিশোরী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
সান দিয়েগোর মসজিদে হামলার ভিডিও ধারণ, ৩ হত্যার অভিযোগে ১৭ বছরের কিশোরী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার ও হামলাকারীদের উগ্রবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে ওই কিশোরীর যোগাযোগ ছিল এবং হামলার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল।

 

ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল সোমবার উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অনুমোদন করে। আদালতের নথিতে তার নাম সারাহ লিন্ডসে সান্তিয়াগো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হামলাকারীদের লেখা একটি নথি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পরে এসব কাজ করেন। এমনকি হামলাকারীদের একজনের ব্যবহারের জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।

 

জেলা অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, ওই কিশোরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে হত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য মূল অপরাধীর মতোই শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে সরাসরি গুলি না চালালেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে। পুলিশ ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাজকেজ সেখানে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদটির নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিনজন নিহত হন। পরে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

নিহত আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা এবং মসজিদটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দুই বন্দুকধারীকে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মসজিদে তখন প্রায় ১৪০ শিশু ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।

 

হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের মসজিদ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তারা হামলাকারীদের হাতে নিহত হন।

তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাকারীদের রেখে যাওয়া লেখায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শের বিভিন্ন উৎসের উল্লেখও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা উগ্রবাদী বক্তব্য ও সহিংসতার প্রচারণা দুই হামলাকারীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছিল।

 

মামলাটিতে অনলাইনে সহিংসতার প্রচার এবং হামলাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সান্তিয়াগো শুধু হামলার ভিডিও ধারণ করেননি, বরং সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের লেখা প্রকাশেও ভূমিকা রেখেছেন।

এদিকে, সান্তিয়াগোর আইনজীবী তার নির্দোষিতার দাবি করেছেন। মামলাটি এখন আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

 

সান দিয়েগোর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এনভিসির চিঠি পাওয়ার পর আবেদনকারীদের অনলাইনে ফি পরিশোধ, আবেদনপত্র পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেয়েছেন? এরপর কী করবেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদন করা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (এনভিসি) থেকে কেস খোলার চিঠি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই চিঠি পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদন বা সাক্ষাৎকারের তারিখ নিশ্চিত হওয়া নয়। সম্প্রতি একজন পাঠকের পাঠানো ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের এমন একটি চিঠিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) থেকে অনুমোদিত অভিবাসন পিটিশন পাওয়ার পর এনভিসি আবেদনকারীর নামে একটি কেস তৈরি করেছে। এরপর আবেদনকারীকে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস কোনো অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন করলে নির্দিষ্ট ধরনের আবেদন এনভিসিতে পাঠানো হয়। সেখানে কেস তৈরি হওয়ার পর আবেদনকারীকে কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি দিয়ে অনলাইনে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে হয়। এরপর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ, অভিবাসী ভিসার আবেদনপত্র পূরণ এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ধাপ আসে। পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসন, চাকরি বা পেশাগত যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন বৈধ পথে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি শ্রেণির যোগ্যতা, নথিপত্র ও অপেক্ষার সময় আলাদা। তাই কোনো আবেদনকারীর হাতে এনভিসির চিঠি থাকলেই তিনি কোন শ্রেণিতে আবেদন করেছেন বা তাঁর ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীর প্রথম কাজ হলো কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (সিইএসি) প্রবেশ করে কেসের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। সেখানে ফি পরিশোধ, ডিএস-২৬০ আবেদনপত্র পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার অবস্থা দেখা যায়। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে এনভিসি সংশোধন বা অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে। সাধারণত সরকারি নির্দেশনায় আলাদাভাবে বলা না থাকলে মূল কাগজপত্র ডাকযোগে এনভিসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।   প্রয়োজনীয় ফি, আবেদনপত্র ও নথি জমা দেওয়ার পর এনভিসি সেগুলো পর্যালোচনা করে। সব প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণযোগ্য হলে আবেদনকারীকে জানানো হয় যে তাঁর কেস নথিপত্রের দিক থেকে সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া আর সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়া এক বিষয় নয়। ভিসার ধরন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর সাক্ষাৎকার নির্ধারণ নির্ভর করে।   পাঠকের পাঠানো চিঠিটির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৩। ফলে শুধু এই নোটিশ দেখে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবেদনকারীকে অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং এনভিসির কোনো বার্তা, নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা কিংবা সাক্ষাৎকারের নোটিশ এসেছে কি না, তা দেখতে হবে। দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না থাকলে এবং অনলাইন তথ্য থেকে উত্তর না পাওয়া গেলে এনভিসির নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কেস সম্পর্কে জানতে চাওয়া যেতে পারে।   অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি নিরাপদে রাখা জরুরি। এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠির ছবি প্রকাশ করার সময় বারকোড, কেস নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য আড়াল করা উচিত। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি এক নয়। তাই কেস খোলার চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, কেসের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২১:৪৩
জ্বালানি, বিমানভাড়া ও হোটেলের খরচ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শীতের ছুটির ভ্রমণ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শীতের ছুটিতে ভ্রমণের পথে বাধা মূল্যস্ফীতি, দুশ্চিন্তায় ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের ২০২৭ সালের নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে, চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ বাড়তে পারে, পরিবর্তন আসছে প্রিমিয়ামেও

ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশির পর তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি মার্কিন সরকার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল কি আদৌ সম্ভব? যা বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে থাকার খরচ কমানোর সহজ কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে কম খরচে থাকার ৫ কৌশল, জানুন বুকিংয়ের স্মার্ট ট্রিকস

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় হোটেলের খরচ কমাতে চান? সঠিক সময়ে বুকিং, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভাড়া তুলনা এবং বিশেষ ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোটেলে থাকার ব্যয় কমানো সম্ভব। ভ্রমণপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হোটেলপ্ল্যানারের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা টিম গানস্টোনের মতে, হোটেলের ভাড়া নির্ভর করে চাহিদা, বছরের সময় এবং সপ্তাহের কোন দিনে অতিথিরা থাকছেন, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে এক রাত থাকার গড় ভাড়া গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১৭৯.৪৩ ডলারে পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারীদের জন্য খরচ বাঁচানোর কৌশল জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হোটেলের খরচ কমানোর প্রথম কৌশল হলো ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণে ফ্লেক্সিবল থাকা। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার রাতে চাহিদা বেশি থাকায় ভাড়া বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সপ্তাহান্তের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর রবিবার রাতে কিছু হোটেলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় কক্ষ পাওয়া যায়। হোটেলস ডটকমের ২০২৬ সালের হোটেল মূল্যসূচক অনুযায়ী, রবিবারে হোটেলে অবস্থান করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব গন্তব্যে বা সব হোটেলে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কৌশল হলো গুগলের হোটেল অনুসন্ধান সুবিধা ব্যবহার করা। গন্তব্যের নাম লিখে তার সঙ্গে ‘হোটেল’ শব্দটি যোগ করে অনুসন্ধান করলে আশপাশের হোটেল, অবস্থান, অতিথিদের পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন বুকিং সাইটের ভাড়া তুলনা করা যায়। এতে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ঘুরে সময় নষ্ট না করে একই জায়গায় একাধিক বিকল্প দেখা সম্ভব হয়। বুকিংয়ের আগে হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও মূল্য যাচাই করা উচিত, কারণ একই কক্ষের ভাড়া ও সুবিধা বুকিংয়ের মাধ্যমভেদে ভিন্ন হতে পারে। তৃতীয় কৌশল হলো প্রাইসলাইন ও হটওয়্যারের মতো বুকিং সাইটে বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা। এসব সাইটে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বুকিং সম্পন্ন ও অর্থ পরিশোধের আগে হোটেলের নাম জানা যায় না। বিনিময়ে তুলনামূলক কম দামে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটিতে ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর চার রাতের একটি বুকিংয়ের উদাহরণে প্রাইসলাইনের একটি অফারে ২৬ শতাংশ এবং হটওয়্যারের একটি অফারে ৩১ শতাংশ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো নির্দিষ্ট বুকিংয়ের উদাহরণ, নিশ্চিত বা সর্বজনীন ছাড় নয়। এ ধরনের বুকিং প্রায়ই বাতিলযোগ্য নয় এবং টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তাই হোটেলের অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। চতুর্থ কৌশল হলো শুধু কক্ষের বিজ্ঞাপিত মূল্য দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। হোটেলের ভাড়ার সঙ্গে ট্যাক্স, পার্কিং ফি, রিসোর্ট ফি এবং অন্যান্য চার্জ যোগ হতে পারে। ফলে প্রথমে কম মনে হওয়া কক্ষের চূড়ান্ত খরচ অন্য হোটেলের চেয়েও বেশি হতে পারে। বুকিংয়ের আগে সব খরচ মিলিয়ে তুলনা করলে প্রকৃত সাশ্রয় কত হচ্ছে, তা বোঝা সহজ হয়। একই সঙ্গে সকালের নাশতা, ইন্টারনেট, পার্কিং এবং বাতিলের শর্তও যাচাই করা উচিত। পঞ্চম কৌশল হলো বুকিংয়ের আগে বিকল্পগুলো ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে হোটেলের ভাড়া বেশি থাকলে কাছাকাছি অন্য দিন বা একই এলাকার অন্য হোটেলে কম দামে কক্ষ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, সম্মেলন বা ছুটির সময় নির্দিষ্ট শহরে চাহিদা বেড়ে গেলে আশপাশের দিনেও ভাড়া বেশি থাকতে পারে। তাই আগে থেকে মূল্য পর্যবেক্ষণ করা এবং একাধিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা ভ্রমণের বাজেট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম দেখা মূল্যেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করা। রবিবার রাতে থাকার ভাড়া দেখা, গুগলে হোটেলের মূল্য তুলনা, বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা এবং অতিরিক্ত ফি যাচাই করার মতো পদক্ষেপ ভ্রমণকারীদের খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো একটি কৌশলই সব সময় সর্বনিম্ন ভাড়া নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের গন্তব্য, তারিখ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়াই সাশ্রয়ী হোটেল বুকিংয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।a

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৯:৪৪
বোস্টন ল্যাটিন একাডেমির সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক এডওয়ার্ড ব্রাউন

পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র

যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারেন বাড়ির মালিকেরা

আমেরিকায় ধনী হতে প্রয়োজন লাখ লাখ ডলারের সম্পদ

আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব

তুষারাবৃত পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হলো লুলুকে
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় তুষারধসের পর মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লুলু নামের একটি কুকুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর তাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় ৫০ ঘণ্টার উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লুলুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে।   লুলু একটি হ্যাস্কিডুডল জাতের কুকুর। তার মালিক লরেন পাডাওয়ার চলতি মাসের শুরুতে ফেসবুকে এই উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর লুলুর আরেক মালিক ব্রায়ান ও তাঁর এক hiking সঙ্গী আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ এলাকার চুগাচ স্টেট পার্কে পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ তুষারধস শুরু হয়। এতে ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গী পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে চলে যান। তুষারধসের ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পাডাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়, ব্রায়ানের সঙ্গীর চোয়াল ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় ফাটল ধরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁরা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। পরে উদ্ধারকারীরা ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সময় লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুষারধসের মধ্যে কুকুরটি ঠিক কোথায় ছিল, সে আহত হয়েছে কি না কিংবা তুষারের নিচে চাপা পড়েছে কি না—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। লুলুর স্বভাব সম্পর্কে পাডাওয়ার জানান, সে পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসে। সামনে এগিয়ে গিয়ে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশ দেখতে পছন্দ করে। তবে স্বভাবে সে কিছুটা চুপচাপও। তুষারধসের পর এমন একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকায় তার অবস্থান খুঁজে বের করা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। ঘটনার সময় পাডাওয়ার দেশের বাইরে ছিলেন। তাই দূরে থেকেও তিনি লুলুকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সংগঠিত করেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় লুলুর গলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ ছিল। তবে সেই ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফার অনুসন্ধানে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী, পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, হেলিকপ্টারচালক এবং ড্রোন পরিচালনাকারীরা। লুলুর এয়ারট্যাগ থেকে পাওয়া সংকেত অনুসন্ধানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সংকেতের অবস্থান ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। প্রাথমিক অবস্থানও প্রকৃত জায়গা থেকে বেশ দূরে ছিল। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধানে বের হন আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট। আকাশ থেকে তুষারে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে লুলুকে দেখতে পান তাঁরা। এরপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ২০ মিনিটের পথ দূরে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে লুলুর কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা কাছে গিয়ে লুলুর নাম ধরে ডাকতেই সে সাড়া দেয়। কুকুরটিকে তখন সজাগ অবস্থায় দেখা যায় এবং সে ঘেউ ঘেউ করছিল। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত দেখতে পাওয়া অনুসন্ধানকারীদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। লুলুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার একটি পায়ের আঙুল ভেঙেছে এবং একটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব আঘাত ছাড়া সে মোটামুটি সুস্থ ছিল। দীর্ঘ সময় তুষারাবৃত পাহাড়ে একা থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে সৌভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার সময় বিদেশে থাকা পাডাওয়ার দূর থেকেই উদ্ধার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লুলুকে খুঁজে পেতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেটের সাহস, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই কঠিন সময়ে মানুষের সহযোগিতা ও উদারতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লুলুর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সবার জন্যও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে একটি পোষা প্রাণীকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সংকেতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত চেষ্টা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাও তার উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৫৬
ফ্লাইট দেরিতে যাত্রীদের বাড়তে পারে খাবার ও হোটেল খরচ

১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস

মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্থবির মার্কিনিদের প্রকৃত মজুরি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন

0 Comments