যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী দেশটিতে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সেই কারণে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নীতিটি চালু করা হয়েছিল।
তবে নীতিটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কসহ অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন আবেদনকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
২১ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত আরও বলেন, মার্কিন অভিবাসন আইনে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিবেচনা করার যে কাঠামো রয়েছে, দেশভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফলে ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশসহ ওই ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য আগের স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা পেয়ে যাবেন। প্রত্যেক আবেদনকারীকে অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং তাদের আবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে যাচাই করা হবে।
স্থগিতাদেশের সময়ও আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। মূলত চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই নীতির আওতায় আগে ইস্যু করা কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি আবেদনকারীদের একটি অংশ এই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে আটকে ছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে এখন তাদের আবেদন ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে।
তবে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসীদের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঠেকাতে তারা ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আগস্টে বিভাগটি কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করেছে।
এ ছাড়া ২৬ আগস্ট অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন করে সাময়িক স্থবিরতার খবরও সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসন এর কারণ হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ফলে ৭৫ দেশের ওপর আগের দেশভিত্তিক স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের ওপর জানুয়ারির স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য ছিল, সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান; মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন; আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ ছিল। সম্পূর্ণ তালিকাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়টি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন নীতিমালা, যাচাই প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনকারীদের নিজ নিজ মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়াকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয
যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে কম খরচে থাকার ৫ কৌশল, জানুন বুকিংয়ের স্মার্ট ট্রিকস
পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারেন বাড়ির মালিকেরা
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় জায়গা পেতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। বর্তমান সম্পদের মূল্য, বাড়ি ও শেয়ারবাজারের উত্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই সীমা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বসবাসের অঞ্চলও আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ভিসার ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবারকে ধনী বা আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ধরা যায়। কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ডলার অথবা নিট সম্পদ ১৮ লাখ ডলার হলে সেটি এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ, শুধু ব্যাংকে জমা থাকা টাকা দিয়ে ধনী হওয়ার হিসাব করা হয় না; পরিবারের সব সম্পদ ও দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়। নিট সম্পদ হিসাব করার পদ্ধতিও তুলনামূলক সহজ। একজন ব্যক্তি বা পরিবারের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মোট মূল্য থেকে সব ঋণ বাদ দিতে হয়। বাড়ির বন্ধকী ঋণ, গাড়ির কিস্তি, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্পদের মোট মূল্য থেকে এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট সম্পদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে ধনী হওয়ার আর্থিক সীমা এক নয়। বাড়ির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলভেদে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভিসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারকে একই আর্থিক শ্রেণিতে পৌঁছাতে বেশি সম্পদের মালিক হতে হয়। সম্পদের এই সীমা বাড়ার পেছনে বাড়ি ও শেয়ারবাজারের সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভিসার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মার্কিন নাগরিক কোটিপতি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে কেবল ১০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক হওয়াই এখন দেশটির শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের বৈষম্যও আলোচনায় রয়েছে। সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ ১ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ গড়ে প্রতি পরিবারে প্রায় ১৮ লাখ ডলার বেড়েছে। একই সময়ে সম্পদের হিসাবে নিচের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধির ব্যবধান ছিল অনেক বড়। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলো বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারকে ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হয়। ফলে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রথমে আয় ও ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা, জরুরি প্রয়োজনে তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানো। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনার সুবিধা থাকলে তা কাজে লাগানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশে পৌঁছানোর জন্য ১৮ লাখ ডলারের নিট সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মানদণ্ড। তবে বসবাসের অঞ্চল, পরিবারের আয়, ঋণের পরিমাণ এবং সম্পদের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত
১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার বিদায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি হারানোর ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানকে ঘিরে সামরিক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে দ্রুত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন যোগাযোগ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তাঁর স্বল্পস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জাকারিয়ার পাঁচ দিনের মেয়াদ সেই ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে আলাদা বলে মনে করছে সম্পাদকীয়টি। ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে হিসাব-নিকাশ বাড়তে পারে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন দলের অনেক পর্যবেক্ষক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিক। কেটি জাকারিয়ার নিয়োগ ও দ্রুত বিদায়কে ঘিরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণটির মতে, দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই জাকারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাকারিয়া পদটি ছাড়েন। এই ঘটনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতিও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে সম্পাদকীয়টির মূল্যায়ন। ইরানের সঙ্গে যু দ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন সমঝোতা বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ১৬ অক্টোবর জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ওই আইনের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা মার্কিন ট্রাকচালক ও সাধারণ গাড়িচালকদের প্রত্যাশিত স্বস্তি নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। তাঁর সমর্থকেরা অনেক সময় এটিকে দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই কৌশল কার্যকর থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, জাকারিয়ার মাত্র পাঁচ দিনের দায়িত্বকালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসান শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের হিসাব এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিকাশে এগিয়ে যেসব মার্কিন শহর, তালিকায় শীর্ষে ফ্রিসকো
নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনে গুলি করে হ ত্যার পর পলায়ন, ফুটেজ দেখে ঘাতককে খুঁজছে পুলিশ