চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না।
দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।
৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।
কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন।
ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।”
কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।
কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডে সড়কের পাশে উলঙ্গ ও আতঙ্কিত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় বোস্টনের একটি স্কুলের সহকারী নিরাপত্তা পরিচালকের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ব্যারাকে ওই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এডওয়ার্ড ব্রাউন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কেপ অ্যান্ড আইল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট কথিত ঘটনাটি ঘটে। ১৩ অক্টোবর ব্রাউনের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ৯ অক্টোবর বোস্টন ল্যাটিন একাডেমি থেকে তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কথিত ঘটনার দিন রাত ১টার কিছু আগে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ব্যারাকের কাছাকাছি সড়কের পাশে এক নারীকে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ফোনকল পায়। ওই ব্যারাকেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নারীটিকে মার্থাস ভিনইয়ার্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশকে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ‘দ্য রিটজ’ নামের একটি বারে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রাউন তাঁর কাছে যান, তাঁর শরীরের পেছনের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং তাঁকে পানীয় কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাউন তখন দ্বীপে কর্মরত এক স্টেট ট্রুপারের সঙ্গে পুলিশের ব্যারাকে রাত কাটাচ্ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নারীটি পুলিশকে জানান, বারে ব্রাউনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনাগুলো তাঁর মনে নেই। এরপর তাঁর মনে আছে, তিনি অপরিচিত একটি জায়গায় ঘুম ভেঙে দেখেন ব্রাউন তাঁর ওপর রয়েছেন। আদালতে এক প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীটি বিছানায় উপুড় হয়ে ও উলঙ্গ অবস্থায় জেগে ওঠেন। তিনি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি আবার কক্ষে ফিরে এসে তাঁকে জোর করেন এবং গলা চেপে ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই নারী সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তিনি সিঁড়ি দিয়ে দুই তলা নেমে ভবনটি থেকে বেরিয়ে সড়কের দিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে পথচারীরা তাঁকে দেখতে পান এবং সহায়তার ব্যবস্থা হয়। অভিযোগকারী নারী আয়ারল্যান্ডের নাগরিক। ঘটনার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাউনের বিরুদ্ধে আগের কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ও আদালতে উঠে এসেছে। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে চারটি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে সাবেক দুই প্রেমিকার করা হয়রানির অভিযোগও ছিল। আদালত ওই দুই নারীর জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর একটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে বর্তমান মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এ ছাড়া ব্রাউনকে গ্রে প্তা র করার সময় তাঁর কাছে কোকেন ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্থনি আর. এলিসন আদালতে বলেন, ব্রাউন এর আগে কখনো কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এবং তিনি একজন সুনাগরিক। আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং মামলার সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা উচিত। ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তাঁকে অভিযোগকারী নারী ও মামলার সাক্ষীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর মামলার প্রাক্-বিচার শুনানির জন্য তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। এদিকে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বোস্টন পাবলিক স্কুলস তাঁকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। তাঁর চাকরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বরখাস্ত-সংক্রান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি গত দুই বছর ধরে স্কুল জেলায় সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোস্টনের মেয়র মিশেল উ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। শিক্ষার্থী ও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত সবার নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ব্রাউনের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আগামী শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারেন বাড়ির মালিকেরা
আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল কিংবা অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হতে পারে। ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে ফ্লাইট বিপর্যয়ের ১০টি কারণকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনা হিসেবে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে। ফলে এসব কারণে যাত্রা ব্যাহত হলে যাত্রীদের জন্য খাবারের ভাউচার, হোটেলে থাকার ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এত দিন কোনো ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হওয়ার কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে রয়েছে খাবার বা খাবারের ভাউচার, রাতযাপনের জন্য হোটেল এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা। তবে সব এয়ারলাইনসের প্রতিশ্রুতি এক নয়; কোন প্রতিষ্ঠান কী সুবিধা দেবে, তা তাদের প্রকাশিত গ্রাহকসেবা নীতির ওপরও নির্ভর করে। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের কারণ নির্ধারণের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে আগে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘটনা হিসেবে গণ্য হতে পারত—এমন কিছু পরিস্থিতি এখন আলাদা শ্রেণিতে পড়বে। যাত্রীদের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই পরিবর্তন ভ্রমণকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফ্লাইটির প্রতিনিধি ক্যাটি নাস্ট্রো বলেন, এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে ফ্লাইট ব্যাহত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবে নতুন শ্রেণিবিন্যাসের ফলে কোন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা সহায়তা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন নিয়মে যেসব ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের বাইরে হঠাৎ প্রয়োজন হওয়া এমন উড়োজাহাজ মেরামত, যা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বা ফ্লাইট পরিচালনার আগে করতেই হবে। উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিও এই তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রযোজ্য সাইবার নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার পরও কোনো সাইবার হামলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যা হলে সেটিও এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। কোনো যাত্রীর মৃ ত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কার করার প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নাশকতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতিও তালিকায় রয়েছে। ব্যাগেজ ব্যবস্থার এমন ত্রুটির কারণে লাগেজ বা কার্গো পরিবহনে দেরি হলে, যা এয়ারলাইনস বা তাদের ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটিও নতুন শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় আসবে। একইভাবে ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সরকারি ব্যবস্থায় অপ্রত্যাশিত বন্ধ বা ত্রুটি, নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজের ব্রেক এবং আগ্নেয়গিরির ছাই, বাতাস বা উইন্ড শিয়ারের কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত। নাস্ট্রোর মতে, এসব পরিবর্তনের কারণে যাত্রীরা ফ্লাইট বিপর্যয়ের পর কখন এবং কী ধরনের সহায়তা পাবেন, তা বোঝা আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ, সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এয়ারলাইনসের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। নাস্ট্রো বলেন, এ ধরনের অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক সমস্যার ক্ষেত্রে খাবারের ভাউচার বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত এয়ারলাইনসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে অতিরিক্ত খরচের পুরোটা যাত্রীকেই বহন করতে হবে—নতুন নিয়মের অর্থ এমন নয়। তবে ভ্রমণকারীদের আগে থেকেই নিজেদের অধিকার ও বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা জরুরি। নাস্ট্রো যাত্রীদের ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, যে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেটির সুবিধাগুলো যাচাই করা উচিত। অনেক কার্ডে ফ্লাইট দেরি, যাত্রা বাতিল বা ভ্রমণসূচি ব্যাহত হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত খরচের জন্য বিমা সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ ও যোগ্যতা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যয়বহুল ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণবিমা বিবেচনা করা যেতে পারে। ফ্লাইট দেরির কারণে হোটেলে অতিরিক্ত রাত থাকতে হলে কিংবা খাবার ও যাতায়াতে বাড়তি অর্থ খরচ হলে উপযুক্ত বিমা পলিসি কিছু ব্যয় সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিমার শর্ত, কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে এবং কী কী খরচ বাদ থাকবে, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। তৃতীয়ত, এয়ারলাইনসের কাছে সহায়তা চাইতে হবে। কোনো যাত্রী মনে করলেও যে তাঁর পরিস্থিতিতে খাবারের ভাউচার বা হোটেল পাওয়ার সুযোগ নেই, তবু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিমানবন্দরে গেট এজেন্টের কাছে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি এয়ারলাইনসের ফোনসেবা এবং আন্তর্জাতিক ফোন নম্বরেও যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন নাস্ট্রো। একটি মাধ্যমে উত্তর না পেলে অন্য মাধ্যমেও চেষ্টা করতে বলেছেন তিনি। নাস্ট্রোর ভাষ্য, নতুন নিয়মের কারণে যাত্রীদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তাঁদের কোনো সুরক্ষাই অবশিষ্ট নেই। কিছু এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সুবিধার বাইরে নিজেদের সদিচ্ছা থেকে খাবার, হোটেল বা অন্য সহায়তা দিতে পারে। তবে এমন সহায়তা নিশ্চিত নয়; তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও আলাদা করে বুঝতে হবে। যাত্রীদের খরচের জন্য খাবার বা হোটেলের সুবিধা দেওয়া এবং টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক যাত্রী সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট তিন ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে কোনো যাত্রী ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে নির্দিষ্ট শর্তে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীকে ভাউচার বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ক্রেডিট গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায় না। চাইলে তিনি বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবস্থাও বেছে নিতে পারেন। ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ যা-ই হোক, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরতের অধিকার আলাদা থাকে। তাই খাবার বা হোটেলের খরচ পাওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার যোগ্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর নতুন শ্রেণিবিন্যাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানযাত্রীদের ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন থাকতে হবে। ভ্রমণের আগে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও বিমার শর্ত যাচাই করা, বিমান সংস্থার কাছে সহায়তা চাওয়া এবং প্রয়োজনে বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা বাড়তি খরচ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের
হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন
শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিকাশে এগিয়ে যেসব মার্কিন শহর, তালিকায় শীর্ষে ফ্রিসকো
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি ব্যস্ত সাবওয়ে স্টেশনে দিনদুপুরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে হঠাৎ বচসার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বুকে গুলি লেগেছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টা ২১ মিনিটে ৫৩ স্ট্রিটের সেভেনথ অ্যাভিনিউ স্টেশনের নর্থবাউন্ড বি/ডি/ই (B/D/E) প্ল্যাটফর্মে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের বয়স ৩৪ বছর। পুলিশের সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনার আগে ওই যুবকের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও বিবাদ হয়। এরপর ঘাতক নর্থবাউন্ড ‘ই’ (E) ট্রেনের ভেতর থেকে প্ল্যাটফর্মে থাকা ওই যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মেই ওই যুবককে প্রাথমিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বেলভ্যু হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঠিক কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে এই প্রাণঘাতী বচসার সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই সাবওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, পলাতক ওই ঘাতকের পরনে লাল রঙের ট্র্যাকসুট, কালো পাফার ভেস্ট এবং কালো রঙের বালাক্লাভা বা মুখোশ ছিল। ঘাতককে ধরতে বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশের জোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী