নিউইয়র্কে টাকা ছাড়াই খাবার! ৮০০ জায়গায় মিলছে ফ্রি গ্রোসারি, জানুন ঠিকানা ও সময়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে খাবারের সংকটে থাকা মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও গ্রোসারি পাওয়ার বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নআয়ের পরিবার, অভিবাসী, চাকরি হারানো ব্যক্তি কিংবা খাবারের প্রয়োজন থাকা অন্যরাও এসব খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে সহায়তা নিতে পারেন।
নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতেই রয়েছে ফুড প্যান্ট্রি, স্যুপ কিচেন ও মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি। এসব জায়গায় চাল, পাস্তা, ক্যানজাত খাবার, সিরিয়াল, ফল, সবজি, হিমায়িত খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। কিছু কেন্দ্রে আবার বিনামূল্যে রান্না করা খাবারও পাওয়া যায়।
নিজের এলাকার কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি খুঁজতে নিউইয়র্ক শহরের ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ সেবা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ফুড প্যান্ট্রিজ’ বললেও কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়।
নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ‘নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন’-এর পাঁচটি কেন্দ্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার দেওয়া হয়। শুধু প্রবেশনের আওতায় থাকা ব্যক্তিরাই নন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কমিউনিটির যে কেউ এসব কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা চাইতে পারেন।
ব্রঙ্কন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন
ঠিকানা: ১৯৮ ইস্ট ১৬১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫১
সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা।
সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাদ্যসামগ্রী।
ব্রুকলিন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন
ঠিকানা: ৩৪৫ অ্যাডামস স্ট্রিট, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০১
সময়: সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা।
সেবা: বিনামূল্যে গ্রোসারি ও খাদ্যসামগ্রী।
ম্যানহাটন: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন
ঠিকানা: ১২৭ ওয়েস্ট ১২৭থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৭
সময়: বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা।
সেবা: বিনামূল্যে সংরক্ষণযোগ্য খাবার।
কুইন্স: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন
ঠিকানা: ১৬২-২৪ জামাইকা অ্যাভিনিউ, জামাইকা, নিউইয়র্ক ১১৪৩২
সময়: মঙ্গলবার, বুধবার ও শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা।
সেবা: বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা।
স্ট্যাটেন আইল্যান্ড: নিয়ন নিউট্রিশন কিচেন
ঠিকানা: ৩৪০ বে স্ট্রিট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক ১০৩০১
সময়: সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা।
সেবা: বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী।
তবে নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার সুযোগ শুধু এই পাঁচটি কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটি-এর বর্তমান ডিরেক্টরি অনুযায়ী, শহরে প্রায় ৮০০টি স্থানে বিনামূল্যে গ্রোসারি, রান্না করা খাবার ও এসএনএপি-সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
প্রতিটি কেন্দ্রের নিয়ম, সময়সূচি ও খাবারের ধরন এক নয়। কোনো কোনো জায়গায় খাবার শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ম্যানহাটন: নিউইয়র্ক কমন প্যান্ট্রি
ঠিকানা: ৮ ইস্ট ১০৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৯
সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি।
ম্যানহাটন: ওয়েস্ট সাইড ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট হাঙ্গার
ঠিকানা: ২৬৩ ওয়েস্ট ৮৬থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০২৪
সেবা: খাদ্য সহায়তা।
ম্যানহাটন: ট্রিনিটি’স সার্ভিসেস অ্যান্ড ফুড ফর দ্য হোমলেস
ঠিকানা: ৬০২ ইস্ট ৯থ স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৯
সেবা: রান্না করা খাবারসহ খাদ্য সহায়তা।
ব্রুকলিন: রিচিং আউট কমিউনিটি সার্ভিসেস
ঠিকানা: ৬৪১৭ ১৮থ অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৪
সেবা: খাদ্য সহায়তা ও গ্রোসারি।
স্থায়ী ফুড প্যান্ট্রি কাছে না থাকলে মোবাইল ফুড প্যান্ট্রিও হতে পারে বিকল্প। ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির মোবাইল প্যান্ট্রিগুলোতে মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং হিমায়িত প্রোটিনজাত খাবার বিতরণ করা হয়। এসব কার্যক্রম নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রঙ্কন: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি
ঠিকানা: ১০২৫ মরিসন অ্যাভিনিউ এবং ১৩০ ওয়েস্ট কিংসব্রিজ রোড।
সেবা: তাজা ফল-সবজি, সংরক্ষণযোগ্য খাবার ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী।
সময়সূচি: সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত সূচিতে এসব স্থানে বিতরণের সময় উল্লেখ রয়েছে।
কুইন্স: মোবাইল ফুড প্যান্ট্রি
ঠিকানা: ৩৩-৩৪ ৭৭থ স্ট্রিট, কুইন্স।
সেবা: বিভিন্ন ধরনের বিনামূল্যের খাদ্যসামগ্রী।
তবে মোবাইল প্যান্ট্রির ঠিকানা ও সময়সূচি নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ ক্যালেন্ডার দেখে নেওয়া জরুরি।
ব্রঙ্কন: কমিউনিটি প্যান্ট্রি ও ফ্রিজ
ঠিকানা: ৫৭১ ইস্ট ১৪১স্ট স্ট্রিট, ব্রঙ্কন, নিউইয়র্ক ১০৪৫৪।
সেবা: স্থানীয়ভাবে পাওয়া খাবার প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার সুযোগ।
নিউইয়র্কের কিছু এলাকায় কমিউনিটি রেফ্রিজারেটর ও কমিউনিটি প্যান্ট্রিও রয়েছে। তবে এসব জায়গায় খাবারের সরবরাহ, ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অনলাইন তালিকা দেখে যাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
এসএনএপি ব্যবহারকারীদের জন্য: ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’
নিউইয়র্কে এসএনএপি বা ইবিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ‘গেট দ্য গুড স্টাফ’ নামে আলাদা একটি কর্মসূচিও রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সুপারমার্কেটে এসএনএপি বা ইবিটি দিয়ে যোগ্য ফল, সবজি ও বিনস কিনলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অতিরিক্ত সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া যায়।
এই সুবিধার আওতায় তাজা ফল ও সবজির পাশাপাশি কিছু হিমায়িত ও ক্যানজাত পণ্য এবং বিনস রয়েছে। তবে এটি ফুড প্যান্ট্রি থেকে সরাসরি বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এসএনএপি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট খাবার কেনার পর অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার একটি কর্মসূচি।
খাবারের সহায়তা কোথায় খুঁজবেন?
নিউইয়র্কে খাবারের প্রয়োজন হলে নিজের এলাকার সবচেয়ে কাছের ফুড প্যান্ট্রি বা স্যুপ কিচেন খুঁজতে ‘ফুড হেল্প এনওয়াইসি’ ব্যবহার করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করেও খাদ্য সহায়তার তথ্য নেওয়া যায়।
এ ছাড়া ফুড ব্যাংক ফর নিউইয়র্ক সিটির ‘ফাইন্ড ফুড’ ডিরেক্টরিতে বরো ও এলাকার ভিত্তিতে ফুড প্যান্ট্রি, রান্না করা খাবার এবং মোবাইল প্যান্ট্রির তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ডিরেক্টরিতে বর্তমানে প্রায় ৮০০টি স্থানের তথ্য রয়েছে।
তবে কোনো কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সময়সূচি, খাবারের ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং বিতরণের নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল প্যান্ট্রিতে খাবার সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ বন্ধ হতে পারে।
কিছু কেন্দ্রে নাম নিবন্ধন করতে হতে পারে এবং কোথাও পরিচয় বা স্থানীয় ঠিকানার তথ্য চাওয়া হতে পারে। আবার কিছু কমিউনিটি প্যান্ট্রি সবার জন্য উন্মুক্ত।
তাই নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার বা গ্রোসারি নিতে চাইলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি উপকূলে ৫৩ বছর আগে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া একটি বোতলবন্দি চিঠি অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছে এক বোনের কাছে। ১৯৭৩ সালে অ্যালিসন স্পেন্সার এবং তার ছোট বোন লরি ব্লেয়ার একটি কোকাকোলার বোতলে কাল্পনিক এক অপহরণের গল্প লিখে তা সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি জন কৌটারম্যান নামের এক ব্যক্তি নিউজার্সির জলাভূমিতে আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে এই অমূল্য স্মৃতির সন্ধান পান। পরবর্তীতে চিঠিটি সযত্নে পৌঁছে দেওয়া হয় মিশিগানের বাসিন্দা ও পেশায় জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকা অ্যালিসনের হাতে। বোতলের ভেতরে থাকা চিঠিটি মূলত ৯ বছর বয়সী লরির মুখে বলা একটি কাল্পনিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী অ্যালিসন লিখেছিলেন। চিঠিতে লেখা ছিল, "নিষ্ঠুর কিছু স্পঞ্জ জেলে আমাকে অপহরণ করে হাঙর অধ্যুষিত আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাচ্ছে।" সেখানে আরও উল্লেখ ছিল, জেলেরা তাকে ডুবুরির কাজ করতে বাধ্য করছে এবং তাকে যেন দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৫৩ বছর পর চিঠিটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অ্যালিসন। তিনি জানান, তার বোন লরি ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৯ বছর আগে মারা গেছেন। বোনের এই অদ্ভুত কাল্পনিক গল্পের স্মৃতি ফিরে পাওয়াটাকে তিনি এক অলৌকিক ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। চিঠিটির উদ্ধারকারী জন কৌটারম্যান অলাভজনক সংস্থা 'টাইডল্যান্ডস ইনিশিয়েটিভ'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। জলাভূমি পরিষ্কারের সময় তিনি প্রায়ই নানা ধরনের বোতলবন্দি বার্তা খুঁজে পান। তবে এই বোতলটি হাতে পাওয়ার পর ভেতরে থাকা চিঠির সাল দেখে তিনি রীতিমতো চমকে যান। তিনি তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি সত্যিই বিশেষ কিছু। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পুরোনো এই বোতলবন্দি চিঠিটি আজ কেবল একটি কাগজের টুকরো নয়, বরং মৃত বোনের ফেলে যাওয়া এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে অ্যালিসনের কাছে ফিরে এসেছে।
নিউ মেক্সিকোতে এক একর জমির দাম মাত্র ৭২৫ ডলার! কিনতে পারবেন বিশের যেকেউই
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১২ কিমি গতিতে টেসলার ধাক্কায় নি হত বৃদ্ধ, দুর্ঘটনার সময় চালু ছিল সেলফ-ড্রাইভিং মোড
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষার অতিগোপন তথ্য ফাঁস করে সাংবাদিক প্রেমিকার সাবস্ট্যাক নিউজলেটারে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এক সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। শুক্রবার ওয়াশিংটনে ৪২ বছর বয়সী ওই কর্মী ইয়ান ব্রিংকম্যানের নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষার সংবেদনশীল তথ্য পাচারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া এফবিআই এজেন্টের হলফনামা অনুযায়ী, ব্রিংকম্যান বারবার অতিগোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে প্রবেশ করেছেন এবং সেগুলো তার সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে পাচার করেছেন। যদিও হলফনামায় ওই সাংবাদিককে কেবল 'ইনডিভিজুয়াল ১' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার প্রকাশিত নিবন্ধের উদ্ধৃতি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি 'ক্যাপিটাল অ্যান্ড এম্পায়ার' নিউজলেটারের লেখিকা আইদা শ্যাভেজ। ২০২৬ সালে শ্যাভেজের প্রকাশিত অন্তত পাঁচটি সাবস্ট্যাক নিবন্ধে এমন কিছু তথ্য ছিল, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর অতিগোপনীয় প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। ফোন রেকর্ড, ডাটাবেস এক্সেস লগ, ব্যাজ-সোয়াইপ রেকর্ড এবং ইমেলের মতো সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ এই পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এক বিবৃতিতে জানান, ব্রিংকম্যান নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের অন্যতম সংরক্ষিত গোপন রহস্যগুলো হাতিয়ে নিয়েছেন এবং এমন একজনকে দিয়েছেন যিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন জেনেই তিনি এ কাজ করেছেন। এটিকে তিনি শপথ এবং মার্কিন জনগণের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন। ব্রিংকম্যানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা ছিলেন এবং সর্বশেষ ডেলয়েট-এ ম্যানেজার ও সিনিয়র স্ট্র্যাটেজি সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিউইয়র্কে ১৪ বছরের জিনিয়াস কিশোরের গ্র্যাজুয়েশন আটকে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ
ভারতের আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর
নিউইয়র্কের বাফেলোতে জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাহী চৌধুরীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য টিমোথি এম. কেনেডি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সুপ্রভাত মিশিগানের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তাঁর কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন কেনেডি। বাফেলো ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের স্থানীয় জনজীবনে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে ওই বক্তব্যে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সাহী চৌধুরী স্থানীয় ব্যবসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অঙ্গরাজ্য, নগর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠন থেকেও সম্মাননা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কংগ্রেশনাল রেকর্ডে বক্তব্যটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তারিখ, পৃষ্ঠা বা মূল নথির অনুলিপি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে স্বীকৃতির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বাফেলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাহীর সম্পৃক্ততার তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও রয়েছে। ২০২৪ সালে শহরের প্রথম ঈদ ফেস্ট আয়োজনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁকে ইউনাইটেড বাফেলো ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাফেলো কমন কাউন্সিলের কমিউনিটি লিয়াজোঁ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই আয়োজনে স্থানীয় বাঙালি সংগীতশিল্পী, খাবার বিক্রেতা, পোশাক ও গয়নার ব্যবসায়ীদের একত্র করার উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালে সাহীকে ‘৩০ আন্ডার ৩০’ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হওয়ার অভিনন্দন জানিয়েছিল বাফেলো কমন কাউন্সিলের ফেসবুক পেজ। সে সময় তাঁকে ফিলমোর ডিস্ট্রিক্টের কাউন্সিল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। সুপ্রভাত মিশিগানের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বাফেলোতে বসবাস করেন এবং তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট শহরে।
২ হাজার ডলারের আইফোন ডুও বাজারে আসতেই ডিসপ্লে ফেটে যাওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর