কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে
কানাডার মিসিসাগায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্টের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একের পর এক অস্ত্রোপচার করছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনই বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন।
গত ১১ আগস্ট বিকেলে টরন্টো বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরছিলেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে। হাইওয়ে ৪০৩-এর মিসিসাগা এলাকায় তাঁদের গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর মাসুদ ও অপর গাড়ির চালক নিজেদের গাড়ি হাইওয়ের ডান পাশের শোল্ডারে থামিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছিলেন এবং ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এর মধ্যেই একটি তৃতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শোল্ডারে থাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ওই গাড়িটি ছিটকে এসে মাসুদ ও মারিফকে আঘাত করে। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গাড়ির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মাসুদের দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাফেলোর ইসিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অ্যামহার্স্ট মিডল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একাধিক অস্ত্রোপচার করেছেন। তাকে বাফেলোর গোলিসানো চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর পা রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর মাসুদের পরিবার আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে মাসুদ এখন কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ছেলের একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ম্যাট হিগিন্স ও তাঁর পরিবার। তাঁরা মাসুদ ও মারিফের চিকিৎসা এবং পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য একটি GoFundMe ক্যাম্পেইন চালু করেছেন।
ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। GoFundMe-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ দীর্ঘ হতে পারে এবং মারিফের আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট কমিউনিটিতেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই কঠিন সময়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলাতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
গো ফান্ড লিংক: https://gofund.me/57fbf9c15
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ নভেম্বর শেষ হচ্ছে ডেলাইট সেভিং টাইম। এদিন স্থানীয় সময় রাত ২টায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১টা করা হবে। এর ফলে দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলে আবার প্রচলিত বা স্ট্যান্ডার্ড সময় কার্যকর হবে। সময় পরিবর্তনের কারণে সন্ধ্যায় দিনের আলো কম সময় থাকবে, তবে সকালে তুলনামূলক আগে সূর্যোদয় হবে। প্রতি বছর বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সন্ধ্যায় কিছুটা বেশি সময় প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যায়। শরৎকালে সেই সময় শেষ হলে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়াকে ‘ফল ব্যাক’ বলা হয়। ২০২৬ সালে ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে নভেম্বরের প্রথম রবিবার। বেশির ভাগ স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় পরিবর্তন করে নেবে। তবে মাইক্রোওয়েভ, ওভেন, দেয়ালঘড়ি এবং কিছু পুরোনো যন্ত্রে সময় হাতে পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই ১ নভেম্বর সকালে কাজে যাওয়া, ভ্রমণ কিংবা অন্য কোনো নির্ধারিত কাজ থাকলে ঘড়ির সময় ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো। যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৮ সালে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রথম এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখন মনে করা হয়েছিল, ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখলে সন্ধ্যায় প্রাকৃতিক আলো বেশি সময় পাওয়া যাবে এবং ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার কমতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশজুড়ে একই নিয়ম বজায় থাকেনি। কোনো অঙ্গরাজ্য বা শহর ডেলাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করত, আবার কোনো অঞ্চল সারা বছর প্রচলিত সময় ধরে রাখত। এতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতের সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। একই দেশের কাছাকাছি এলাকায়ও ঘড়ির সময় আলাদা হয়ে যেতে পারত। এই সমস্যা সমাধানে ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট পাস হয়। আইনটি ডেলাইট সেভিং টাইমের জন্য একটি অভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করে। পরে নিয়মে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ অঞ্চলে মার্চের দ্বিতীয় রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয় এবং নভেম্বরের প্রথম রবিবার আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে এই নিয়ম চালু নেই। হাওয়াই অঙ্গরাজ্য এবং অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় ডেলাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করা হয় না। এর ব্যতিক্রম হলো অ্যারিজোনার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নাভাহো নেশন, যেখানে সময় পরিবর্তনের নিয়ম কার্যকর। এ ছাড়া আমেরিকান সামোয়া, গুয়াম, নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডস, পুয়ের্তো রিকো ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসেও ডেলাইট সেভিং টাইম চালু নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর ডেলাইট সেভিং টাইম চালু রাখার প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এই ব্যবস্থা স্থায়ী হলে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না। সমর্থকদের মতে, সন্ধ্যায় বেশি সময় আলো থাকলে মানুষ কাজের পর বাইরে সময় কাটাতে পারবে। এতে পর্যটন, কেনাকাটা এবং বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগও বাড়তে পারে। স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৮ ভোটে পাস হয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফলে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিলটির সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট। অন্যদিকে, লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি প্রস্তাবটির পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমের বিরোধীরা বলছেন, শীতকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখা হলে সকালে সূর্য উঠতে আরও দেরি হবে। ফলে স্কুলগামী শিশুদের বাসের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা কর্মজীবীদের অন্ধকারে কাজে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে সড়ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। তাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রচলিত নিয়মেই সময় পরিবর্তন হচ্ছে। ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যাঁদের ভ্রমণ, কর্মসূচি বা অন্য সময় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের নতুন সময়সূচি খেয়াল রাখা জরুরি।
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার! মা ও চার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ টেক্সাস
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিল আপিল আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরের হগ মিডল স্কুলে এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (এইচআইএসডি) পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় কোনো শিক্ষার্থী বা কর্মী আহত হননি। এইচআইএসডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক থাকার খবর পাওয়ার পর স্কুল প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লকডাউন-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্কুল পুলিশের একজন কর্মকর্তা ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন এবং পরে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক শিক্ষার্থী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে তার পরিচয়, কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ক্যাম্পাসে অস্ত্র, সম্ভাব্য হুমকি কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত স্কুল প্রশাসন অথবা স্কুল পুলিশকে জানানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। হিউস্টন শহরের হাইটস এলাকায় অবস্থিত হগ মিডল স্কুলে প্রায় ১,১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। স্কুলে অস্ত্র পাওয়ার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অস্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুল জেলায় কাজ চলছে। হিউস্টন শহরের হাইটস এলাকায় অবস্থিত হগ মিডল স্কুলে প্রায় ১,১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। স্কুলে অস্ত্র পাওয়ার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অস্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুল জেলায় কাজ চলছে। হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইন ও জেলা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ কিংবা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সন্তানদের স্কুলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নোটিশ নিয়মিত পড়া, স্কুলের জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জানা এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন
রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা। বাবা-মা আটক হওয়ার পর মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা ও পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিতে হয়েছে ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গো নামের এক তরুণীকে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে গেছে; নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি এখন তাকে ছোটদেরও আগলে রাখতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট ওয়েন্ডি তার বাবা-মা ও চার ছোট ভাইবোনকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের জন্য জুতা কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি সীমান্ত টহল গাড়ি তাদের গাড়ির পেছনে আসে। পরে গাড়ি থামানো হলে কর্মকর্তারা তার বাবা-মায়ের কাছে নাগরিকত্বের নথি দেখতে চান। প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারায় বাবা-মাকে আটক করা হয়। গাড়িতে থাকা ছোট শিশুরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে। ওয়েন্ডি তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করেন, কেন তারা সেদিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। ওয়েন্ডি ও তার ভাইবোনেরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তাদের বাবা-মা ছিলেন অনিয়মিত অভিবাসন অবস্থায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মাকে আলাদা আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে ওয়েন্ডির মা মারিয়া লেইভাকে গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়। বাবা আব্রাহাম ডোমিঙ্গো দীর্ঘ আটকপ্রক্রিয়া এড়াতে নিজে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে ওয়েন্ডির ওপর। ছোট ভাইবোনদের পাশে থাকতে এবং সংসারের খরচ চালাতে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি একটি হোটেলে চাকরি করছেন। পরিবারের দেখভালের জন্য তার নিজের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তার ছোট বোনকেও এখন রান্নাসহ ঘরের নানা দায়িত্ব শিখতে হচ্ছে। ওয়েন্ডির পরিবার একা নয়। প্রতিবেদনে অভিবাসন-সংক্রান্ত গবেষণা ও সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এমন বহু পরিবার রয়েছে, যেখানে পরিবারের কিছু সদস্য নাগরিক হলেও অন্য সদস্যদের অভিবাসন অবস্থার কারণে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বাবা-মা আটক বা দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলে সন্তানদের নিরাপত্তা, পড়াশোনা, বাসস্থান এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। গুয়াতেমালা-মায়া সেন্টার নামের একটি সংগঠন এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকহীন হয়ে পড়া শিশুদের আত্মীয়দের সঙ্গে পুনর্মিলনে সহায়তা করছে। সংগঠনটির এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে শিশুরা। ওয়েন্ডির মতো তরুণদের অনেক সময় নিজের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অবশ্য বলেছে, সংস্থাটি পরিবার বিচ্ছিন্ন করে না; অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে নেওয়া বা তাদের নিরাপদ দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্তের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ওয়েন্ডির পরিবারের অভিজ্ঞতা অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় শিশুদের ওপর পড়া বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
আইসিই আতঙ্কে স্কুলে সন্তান পাঠাতেও ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার
আমেরিকায় নতুন সাশ্রয়ী বাসস্থান, নিউইয়র্কের শত শত পরিবারের জন্য বড় সুযোগ