সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর প্রচুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর প্রচুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে।

 

ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে।

 

এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত।

 

শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি।

 

খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

 

ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়।

 

এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।

 

তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইমিগ্রেশন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট

ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে।   অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।   অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।   নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে।   ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে।   এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।   ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে।   তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে।   একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে।   সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।   অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।   ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।   তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের।   আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর প্রচুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত

টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মত উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গোৎসব, প্রবাসে দুই দিনের আয়োজন

বাড়তি খরচের চাপে আমেরিকানরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

বাড়তি খরচের চাপে মার্কিনীরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেস সেক্রেটারি পদ ছাড়ার পর কোথায় যাচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিট! মিলল উত্তর

সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় দুই মাস পর তিনি নেটওয়ার্কটির অন এয়ার কনট্রিবিউটর হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করতে যাচ্ছেন। নভেম্বর থেকে ফক্স নিউজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য দিতে দেখা যাবে তাঁকে।   ফক্স নিউজ মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী সুজান স্কট জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস এবং নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে লেভিটের সরাসরি অভিজ্ঞতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে। নতুন ভূমিকায় তিনি নিউজ ও মতামতভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন।   ২৯ বছর বয়সী লেভিট আগস্টে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়েন। সে সময় তিনি জানান, দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ছেড়ে নিজ রাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারে ফিরে যান।   লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি হোয়াইট হাউসের প্রধান মুখপাত্র হন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ন্যাশনাল প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেছিলেন।   হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় লেভিট জানিয়েছিলেন, রাজনীতি থেকে তিনি পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠন এমএজিএ ইনকরপোরেটেডে ফেরার পরিকল্পনার কথাও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। ওই সংগঠনে তিনি আগেও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার পরও লেভিট নিয়মিত ফক্স নিউজে উপস্থিত হয়েছেন। সম্প্রতি শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে কথা বলেন। একই সময় তাঁর সম্ভাব্য টেলিভিশন ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।   ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে লেভিট এমন একটি পথে হাঁটছেন, যে পথে এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক প্রেস সেক্রেটারি কেইলি ম্যাকেনানি গিয়েছিলেন। ম্যাকেনানি ২০২১ সালে ফক্স নিউজে যোগ দেন এবং পরে নেটওয়ার্কটির নিয়মিত অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন।   লেভিটের নতুন দায়িত্ব এমন সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম, ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন এবং রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁর উপস্থিতি ফক্স নিউজের রাজনৈতিক কভারেজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে ফক্স নিউজে যোগ দিলেও লেভিট ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে পুরোপুরি আলাদা হচ্ছেন না। হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প তাঁকে নিজের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে লেভিটও ভবিষ্যতে রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।   ফলে হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে সরে যাওয়ার পর লেভিটের ক্যারিয়ার এখন নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। সরকারি মুখপাত্রের দায়িত্বের বদলে এবার টেলিভিশনের পর্দায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কনট্রিবিউটর হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:১৩
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় বিখ্যাত ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ার বিয়েতে ব্যাটমোবাইল, মার্কেট স্ট্রিটে নজর কাড়লেন নবদম্পতি

মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক

মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চমক, বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক। ছবি: সংগৃহীত

টেনেসিতে ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীর

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় পিএইচডিতে পূর্ণ অর্থায়ন এবং কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ড ও পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মতো সব মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের কেন্দ্রীয় ‘ফুলি ফান্ডেড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ’ নেই। অর্থায়ন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা।   ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রাম ফুলি ফান্ডেড। সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের নির্ধারিত অর্থায়ন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহন করে। অনেক প্রোগ্রামে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। তবে কোন প্রোগ্রামে কত বছর এবং কী ধরনের অর্থায়ন থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের ধরনও আলাদা। উদাহরণ হিসেবে পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের বায়োমেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং স্টাইপেন্ডসহ পূর্ণ অর্থায়ন পেয়ে থাকেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে বার্ষিক স্টাইপেন্ড ৪৯ হাজার ডলার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়নের আওতায় আসতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। অ্যানেনবার্গ স্কুল ফর কমিউনিকেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গবেষণা ও ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্ব সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ অর্থায়ন বা টিউশন মওকুফ পাওয়া যায় না। কিছু স্কুল ও বিভাগে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ প্রকাশ করা হয়। এসব পদে সাধারণত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন, কাজের ধরন ও মেয়াদ পদভেদে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অ্যাসিস্ট্যানশিপ নিশ্চিত নয়। এ কারণে ‘পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সবার জন্য ফুলি ফান্ডেড অ্যাসিস্ট্যানশিপ’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও মাস্টার্স পর্যায়ে সুযোগ অনেক বেশি প্রোগ্রাম ও পদের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে সব অ্যাসিস্ট্যানশিপের সঙ্গে টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স যুক্ত থাকে না। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরাসরি ঘণ্টাভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনের একটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পজিশনে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের সুবিধা ছিল না। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই প্রথমে নিজের পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রাম নির্বাচন করে সেই প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন ও ফান্ডিং তথ্য দেখা জরুরি। পিএইচডির ক্ষেত্রে আবেদন করার সময়ই সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নের কাঠামো জানানো থাকে। কোথাও ফেলোশিপ, কোথাও টিচিং বা রিসার্চের দায়িত্ব, আবার কোথাও একাধিক উৎস মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফান্ডিং প্যাকেজ তৈরি করা হয়। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অ্যাডমিশন পাওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যানশিপ পাওয়া নয়। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর আলাদাভাবে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করতে হয়। পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনও জানিয়েছে, তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপগুলো ফান্ডেড পার্টটাইম সুযোগ হলেও এগুলো বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অ্যাডমিশন শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে জিআরই, টোফেল বা আইইএলটিএসের নিয়ম সব প্রোগ্রামে এক নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, আবেদন কখন শুরু হবে, ফান্ডিং কত বছরের এবং আলাদা অ্যাসিস্ট্যানশিপের জন্য আবেদন করতে হবে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ফান্ডিং ও অ্যাডমিশন শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৮:৩০
ফ্লোরিডার টাম্পাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু সং ক্র মণ বাড়ায় ম শার কামড় এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব, ভ্রমণে সতর্কতা জারি

ব্রাজিলের ভোটকে ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বলে উল্লেখ করলেন ট্রাম্প

ব্রাজিলের ভোটকে ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বলে উল্লেখ করলেন ট্রাম্প

অযত্নে পড়ে থাকা এই চিত্রকর্মটি ৩০০০ টাকায় কিনে নিলামে বিক্রি করলেন ১৬ কোটি টাকায়

অযত্নে পড়ে থাকা এই চিত্রকর্মটি ৩০০০ টাকায় কিনে নিলামে বিক্রি করলেন ১৬ কোটি টাকায়

0 Comments