ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট
ইমিগ্রেশন, অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে সোমবার, ৫ অক্টোবর নতুন মেয়াদ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাও এবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসছে। এসব মামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন ও ফেডারেল সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন মেয়াদের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা বিবেচনা করছেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর বোল্ডার থেকে আসা মামলাটিতে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সানকর ও এক্সনমোবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করে করা মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পের বহন করা উচিত। এই ধরনের মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক দায় জড়িত থাকতে পারে।
অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এ ধরনের মামলার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে সমর্থন করছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব মামলার মাধ্যমে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আদালতকে ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অস্ত্রের অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন মেয়াদে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অস্ত্রকে সাধারণভাবে অ্যাসল্ট ওয়েপন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য, গণগুলির ঘটনায় এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র সহিংসতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে এসব আইনের বিরোধীরা বলছেন, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে মানুষের মালিকানায় রয়েছে এবং এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে থাকা অস্ত্র রাখার অধিকারের পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট অস্ত্রের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মামলাটি ডিসেম্বরে বিবেচনা করার কথা রয়েছে।
ইমিগ্রেশন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে। এর একটি এমন অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি নিয়ে, যাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসীদের তাঁদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান নিয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত কিছু অভিবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এসব ব্যক্তিকে বন্ড শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে।
তবে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়েও এবারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। অ্যারিজোনায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখানোর নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে।
একটি ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হয়। আরেকটি ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব নিয়মের বৈধতা নিয়ে ডিসেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করবেন বিচারপতিরা। কলোরাডোর সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক প্রাক-বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসার কথা রয়েছে।
সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক ভর্তি নীতির কারণে তাদের অঙ্গরাজ্যের সর্বজনীন প্রাক-বিদ্যালয় কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ প্লাস পরিবারের শিশুদের বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
অন্যদিকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থায়নের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। কর্মসূচিটি ২০২০ সালের একটি ব্যালট উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এতে অভিভাবকদের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফলে নতুন মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের সামনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সাংবিধানিক ও নীতিগত প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করার সুযোগ, আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিবাসীদের আটক ও তৃতীয় দেশে পাঠানোর নিয়ম, ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।
তবে এসব মামলায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে বিচারপতিরা মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শুনবেন এবং পরে রায় দেবেন। ফলে মামলাগুলোর সম্ভাব্য ফলাফলকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে অস্ত্রের অধিকার নিয়ে মামলাটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জলবায়ু মামলা, ভোটের নিয়ম এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন পক্ষের।
আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। ইমিগ্রেশন থেকে অস্ত্রের অধিকার, জলবায়ু থেকে ভোটের নিয়ম—যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতির আইনি সীমা কোথায় থাকবে, তার উত্তর নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন মেয়াদ।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উইন্টার হ্যাভেনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি স্কুলবাস উল্টে গিয়ে এক শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার, ৫ অক্টোবর সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুলবাস দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। পোল্ক কাউন্টি শেরিফ গ্র্যাডি জাডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসটিতে মোট ৩৯ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ৩৭ জন শিক্ষার্থী, বাসচালক এবং চালকের মেয়ে। বাসটি উইন্টার হ্যাভেন হাইস্কুলের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি রাস্তার মাঝের বিভাজনরেখা অতিক্রম করে স্কুলবাসটির দিকে চলে আসে। গাড়িটি বাসের পেছনের দিকের কাছে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় বাসটির একটি চাকা খুলে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ছাদে পড়ে। এরপর বাসটি একটি জিপ গাড়ির সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় উইন্টার হ্যাভেন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত অন্য ব্যক্তি ছিলেন জিপ গাড়িটির চালক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিপ গাড়িটি দুর্ঘটনার পর আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করেন। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়া আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে সব আহত ব্যক্তির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আহতের সংখ্যা ও তাদের অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য আসতে পারে। দুর্ঘটনার পর স্কুলবাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পোল্ক কাউন্টি পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জরুরি পরিস্থিতিতে বাস থেকে বের হওয়ার প্রশিক্ষণ আগেই দেওয়া হয়েছিল।কর্মকর্তাদের ধারণা, এই প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত বাস থেকে বের হতে সহায়তা করেছে এবং আরও বড় প্রাণহানি এড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। শেরিফ গ্র্যাডি জাড দুর্ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, একজন মেধাবী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। শিক্ষার্থী হারানোর ঘটনায় স্কুল, পরিবার এবং স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্কুলবাস দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি কীভাবে রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করল, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। গাড়িটির চালক কেন রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করেছিলেন, তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না এবং দুর্ঘটনার আগে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িগুলোর গতি কত ছিল, চালকদের দৃষ্টিসীমা কেমন ছিল এবং রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলবাসে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ফলে স্কুলবাস দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো কমিউনিটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। উইন্টার হ্যাভেনের এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, কয়েক সেকেন্ডের একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে বহু মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। একটি গাড়ি রাস্তার নির্ধারিত অংশ থেকে সরে যাওয়ার পর একটি স্কুলবাস, একটি জিপ এবং কয়েক ডজন মানুষের জীবন ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কুলবাসে সন্তানদের পাঠানো পরিবারের জন্য নিরাপদ পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ব্যস্ত সড়কগুলোতে দ্রুতগতির গাড়ি ও বিপরীত লেনে চলে যাওয়া যানবাহন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।স্থানীয় কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাইছেন না। তদন্তে চালকদের ভূমিকা, যানবাহনের অবস্থা, রাস্তার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করা হবে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন। স্কুলবাস উল্টে যাওয়ার পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকার সড়ক চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন একটি দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হতে পারে। নিহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু পুরো স্কুল কমিউনিটির জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত। একজন কিশোরীর স্বাভাবিক স্কুলজীবন একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে যাওয়ায় সহপাঠী, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। অন্যদিকে জিপ গাড়ির চালকের মৃত্যুও দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে। একটি সংঘর্ষে একই সঙ্গে স্কুলবাসের শিক্ষার্থী এবং অন্য একটি গাড়ির চালক প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েকজনের চিকিৎসা এখনো চলছে।এই দুর্ঘটনার পর গাড়িচালকদের জন্যও সতর্কবার্তা সামনে এসেছে। রাস্তার নির্ধারিত লেন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা এবং স্কুলবাস ও শিক্ষার্থীবাহী যানবাহনের আশপাশে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুলবাসের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সড়কে অন্য যানবাহনের অসতর্কতা বা নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ি অনেক সময় স্কুলবাসের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উইন্টার হ্যাভেনের ঘটনাটি সেই ঝুঁকির একটি মর্মান্তিক উদাহরণ। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ করা। কোন পরিস্থিতিতে গাড়িটি রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করেছিল, সংঘর্ষের আগে চালকের আচরণ কেমন ছিল এবং যানবাহনের গতি কত ছিল—এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।এদিকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা এখন স্থানীয় কমিউনিটির প্রধান অগ্রাধিকার। স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। ৫ অক্টোবরের এই দুর্ঘটনা ফ্লোরিডার উইন্টার হ্যাভেনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একদিকে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু, অন্যদিকে জিপ চালকের প্রাণহানি এবং আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নাড়া দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি রাস্তার মাঝের রেখা অতিক্রম করার পরই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলার, আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক
ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত
নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কোয়ারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুরখেলা, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল ফাদার ডাফি স্কোয়ার, ব্রডওয়ে ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৪৬তম ও ৪৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকা। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দুই দিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা জানানো হয়েছে। ১০ অক্টোবর প্রথম দিনের সূচিতে সকাল ১১টায় ষষ্ঠী পূজা দিয়ে মূল ধর্মীয় আয়োজন শুরুর কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টায় পুষ্পাঞ্জলি, সাড়ে ১২টায় সপ্তমী পূজা, দুপুর ২টায় আবার পুষ্পাঞ্জলি, আড়াইটায় অষ্টমী পূজা এবং বিকেল ৪টায় পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন রাখা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রসাদ বিতরণের পর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্য, সংগীত ও বিশেষ পরিবেশনা থাকবে। আয়োজকদের বর্তমান সূচিতে নৃত্যাঞ্জলির পরিবেশনা, ডান্ডিয়া নাচ এবং শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইটের কিছু সংস্করণে শিল্পীদের নাম ও সময়সূচিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ১১ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হবে নবমী পূজা দিয়ে। এরপর পুষ্পাঞ্জলি, দশমী পূজা এবং প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় সিঁদুরখেলার আয়োজন রয়েছে। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে ধুনুচি নাচ, নৃত্য পরিবেশনা এবং সংগীতানুষ্ঠান রাখা হয়েছে। এবারের আয়োজনকে ঘিরে মহালয়া ও চণ্ডীপাঠের কথাও বিভিন্ন প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬ সালে মহালয়া পড়ায় দিনটির সঙ্গে ধর্মীয় তাৎপর্যও যুক্ত হয়েছে। কিছু প্রচারপত্রে সকাল ১১টায় চণ্ডীপাঠ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর কথা বলা হলেও আয়োজকদের ওয়েবসাইটের বিস্তারিত সূচিতে একই সময়ে ষষ্ঠী পূজার উল্লেখ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে আয়োজক কমিটির বরাতে জানানো হয়েছে, দুই দিনের উৎসবে চণ্ডীপাঠ, শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। প্রবাসী বাঙালি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণকে এবারের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফাদার ডাফি স্কোয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারের অংশ। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে যান। এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিসরে দুর্গোৎসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজক সংগঠন জানিয়েছে, টাইমস স্কোয়ারে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দৃশ্যমান উপস্থিতিও তুলে ধরে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার লক্ষ্যও রয়েছে এ আয়োজনের। গতবারের আয়োজনের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো টাইমস স্কোয়ারে দুর্গোৎসব হচ্ছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে পূজার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার কারণে এটি প্রবাসী বাঙালিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। তবে অনুষ্ঠানসূচির বিভিন্ন প্রচারপত্র ও আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময় এবং শিল্পীদের তালিকায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই ১০ বা ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সর্বশেষ সময়সূচি ও পরিবেশনার তথ্য আয়োজকদের হালনাগাদ ঘোষণা থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
বাড়তি খরচের চাপে মার্কিনীরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু
প্রেস সেক্রেটারি পদ ছাড়ার পর কোথায় যাচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিট! মিলল উত্তর
ফিলাডেলফিয়ার বিয়েতে ব্যাটমোবাইল, মার্কেট স্ট্রিটে নজর কাড়লেন নবদম্পতি
মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক চললেও নিউইয়র্ক আবারও বিশ্বসেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের পর শহরটির সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০০। এই স্বীকৃতির সময় মামদানি প্রশাসন নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কিছু নীতি বাস্তবায়ন করছে। ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির রাখা, বিনামূল্যে শিশু যত্নের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্কের ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জও এসেছে। শিশু যত্নের ক্ষেত্রে মামদানি প্রশাসন চারটি কমিউনিটিতে বিনামূল্যে ২-K আসন চালু করেছে। এর লক্ষ্য ধাপে ধাপে পুরো শহরের দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা। এদিকে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও মামদানির প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ। এই নীতি নিয়েও আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান অবশ্য শুধু বর্তমান মেয়র প্রশাসনের নীতির ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়নি। শহরের বিশাল অর্থনীতি, শক্তিশালী শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবও এই র্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে মামদানিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও আন্তর্জাতিক সূচকে নিউইয়র্কের শক্ত অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে নতুন নীতিগুলো শহরের জীবনযাত্রা, আবাসন ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।
টেনেসিতে ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীর
যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ড ও পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ