ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।
ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।
এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।
তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর।
বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিন ঘুরে বেড়িয়ে স্থানীয় খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার এ জন্য তিনজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধাও পাবেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আরও বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরা। নির্বাচিত তিনজনকে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে যেতে হবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। কাজটি সাধারণ ছুটির ভ্রমণের মতো হলেও এর সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি এবং এলাকার প্রচারের দায়িত্বও যুক্ত থাকবে। তিনটি পদের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার’। এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে স্থানীয় খাবারের জগৎ ঘুরে দেখতে হবে এবং বিভিন্ন খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় পদ ‘চিফ সানসেট কিউরেটর’, যার দায়িত্ব হবে জাদুঘর, দেয়ালচিত্র, রঙিন পাড়া এবং এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি ঘুরে দেখা। তৃতীয় পদ ‘চিফ ভাইবস অফিসার’-এর কাজ হবে স্থানীয় সংগীত, রাতের বিনোদন ও বিভিন্ন আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি ১০ হাজার ডলারের চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে ফ্লোরিডায় যাওয়ার বিমানভাড়া এবং থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। ভ্রমণের সময় তিনজনকে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা বিষয় অনুসন্ধান করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের তৈরি কনটেন্ট একই এলাকার বিভিন্ন দিক মানুষের সামনে তুলে ধরবে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা স্টিভ গ্রিমস ফক্স ১৩-কে জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রচারণামূলক কৌশলের নামে তৈরি কাল্পনিক চাকরি নয়, সত্যিই তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১০ হাজার ডলার পাবেন এবং সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকা এবং নতুন অভিজ্ঞতাগুলো গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে পারা। এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে তিন হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে কারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ভিডিওগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব কারা পালন করবেন এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়েও পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। আবেদনকারীদের দুই মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে। সেখানে তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তারা এই কাজের জন্য উপযুক্ত এবং কীভাবে তারা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। কনটেন্ট তৈরি, গল্প বলার দক্ষতা এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদন করা যাবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্বাচিত তিনজনকে ৬ নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় আসার প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর তাদের ১০ দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এই প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন কর্তৃপক্ষ এমন কিছু জায়গা ও অভিজ্ঞতাও সামনে আনতে চায়, যেগুলো সাধারণ পর্যটকদের অনেকেরই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। দ্য দালি মিউজিয়ামের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা বেথ বেলও মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার পরিচিতির বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। সমুদ্রসৈকত, শিল্প-সংস্কৃতি, খাবার এবং বিনোদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। পর্যটন কর্তৃপক্ষের নতুন এই উদ্যোগে তাই প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে সরাসরি মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত তিনজনের তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে সম্ভাব্য পর্যটকদের কাছে এলাকার বৈচিত্র্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য। সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই
বেসমেন্ট ফাঁকা পড়ে আছে? এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিয়ে হতে পারে বাড়তি আয়ের নতুন পথ
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে চলে আসে। নাসডাকও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে বিশেষভাবে শক্তিশালী করেছে। এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও বেড়েছে। এদিকে বড় করপোরেট অধিগ্রহণের খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। শ্নাইডার ইলেকট্রিকের পিটিসি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের পর পিটিসির শেয়ার একদিনে ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে বাজারের সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে সবকিছুই ইতিবাচক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০২ সালের পর অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়। সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তারপরও বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে শক্তিশালী করপোরেট আয় এবং এআই খাতের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তেলের বাজারেও ওঠানামা রয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং জি৭ দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ তেলের দামে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্তও বড় সূচকগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ডাও জোন্স ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে বাড়ির দাম বাড়ছে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনা আরও কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, সামনে বড় আইনি লড়াই
ফ্লোরিডায় স্কুলবাস দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত দুই, আহত আরও কয়েকজন
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি, আর তাতেই আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার শেয়ারবাজার খোলার পর স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আবার এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শুক্রবারের তুলনায় সোমবার সকালে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা ফিরে পেলেন তিনি। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিই এই উত্থানের প্রধান কারণ। সম্পদের এই বৃদ্ধি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফোর্বসের হিসাবে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান এখন কয়েকশ বিলিয়ন ডলার। মাস্ক প্রথমবার গত জুনে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। স্পেসএক্স নাসডাকে শেয়ার লেনদেন শুরু করার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লে তাঁর মোট সম্পদ প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। তবে সেই অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে গেলে মাস্কের সম্পদও এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আবার বাড়তে থাকায় তাঁর সম্পদ ধীরে ধীরে সেই মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছায়। বিশেষ করে টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহ বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেড়েছিল বলে ফোর্বস জানিয়েছে। সোমবারও টেসলার শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। সকালের লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। তবে মাস্ককে আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের শেয়ারের উত্থান। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতিটি ১৬৭ ডলারে পৌঁছায়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটিতে মাস্কের মালিকানার মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা স্পর্শ করে। স্পেসএক্সের শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে একাধিক ঘটনা রয়েছে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা কোম্পানিটির শেয়ার অবমূল্যায়িত বলে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে প্রথমবার সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ। স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থানের পাশাপাশি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর মাস্কও সেই ধারণাকে সমর্থন করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক জানান, স্পেসএক্সের অধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রক নামের চ্যাটবট পরিচালনা করে। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক সমঝোতা সামনে আনা হয়। ওই সমঝোতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এটিকে নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রায় ৩০০ শব্দের ওই সমঝোতায় প্রযুক্তি খাতের ওপর বিস্তারিত নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি। ব্যবসায়িক সম্পদের নতুন মাইলফলকের পাশাপাশি চলতি মাসে আরেক কারণেও আলোচনায় থাকতে পারেন মাস্ক। তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ চলতি মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যচিত্রটি প্রথমে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সীমিত পরিসরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির তথ্যচিত্রটি মাস্ককে নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্ক অবশ্য তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন। সেখানে তাঁর সম্পর্কে করা কিছু দাবির বিরুদ্ধে নির্মাতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে সোমবার মাস্ককে ঘিরে সবচেয়ে বড় খবর তাঁর সম্পদের নতুন উত্থান। টেসলা এবং বিশেষ করে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে মাস্কের মোট সম্পদের হিসাবও ওঠানামা করতে পারে। ফলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের এই সম্পদ নগদ অর্থ নয়, বরং তাঁর মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা। তারপরও সোমবারের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে বিরল এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাস্ক। শুক্রবারের তুলনায় এক দিনেই ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বৃদ্ধির পর আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন ইলন মাস্ক। সূত্র: ফোর্বস
ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতিসহ বড় কয়েকটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত