সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২০:৫৮
কারাগারে ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষার সুযোগ কিছু বন্দির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কারাগারে ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষার সুযোগ কিছু বন্দির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা অনেক বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দেশটির সব কারাগারের ধর্মীয় পরিচয়ের হালনাগাদ তথ্য একত্র করা হয় না। ফলে এ পর্যন্ত কতজন বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিংবা প্রতি বছর কতজন এই ধর্ম গ্রহণ করছেন, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া কঠিন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতি বছর বহু বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে ইসলাম গ্রহণের কারণ, কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ এবং বন্দিদের জীবনে বিশ্বাসের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে টায়বা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রামি নসুরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দিদের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

 

বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান প্রচলিত রয়েছে। কিছু পুরোনো হিসাব ও অনলাইন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে কয়েক লাখ মুসলিম বন্দির কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বন্দির ইসলাম গ্রহণের অনুমানও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সংখ্যার ভিত্তিতে দেশব্যাপী যাচাই করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিংবা প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক বন্দি এ ধর্ম গ্রহণ করেন, এমন তথ্যকে নিশ্চিত জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলিম বন্দির অনুপাত সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত মুসলিম অ্যাডভোকেটসের এক প্রতিবেদনে ৩৫টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট বিচারব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব স্থানে কারাবন্দিদের প্রায় ৯ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সব অঙ্গরাজ্যের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে এই হারকে যুক্তরাষ্ট্রের সব কারাগারের নির্ভুল জাতীয় গড় হিসেবে ধরা যায় না।

 

কারাগারে ইসলাম গ্রহণের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন গবেষক, ধর্মীয় শিক্ষক ও কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। কারাগারের জীবন সাধারণত কঠোর নিয়ম, সীমিত স্বাধীনতা এবং পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাটে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক স্থিরতা, জীবনের অর্থ এবং নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। তবে প্রত্যেক বন্দির অভিজ্ঞতা এক নয়, আর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।

 

ইসলামের নিয়মিত ইবাদত ও জীবনাচরণ অনেক বন্দির কাছে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনের একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানে রোজা রাখা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে কেউ কেউ দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলেন। একই বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গড়ে উঠতে পারে। কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে এমন একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিছু বন্দির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

 

ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবর্তনের সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের অতীত, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান অনেকে। তাঁদের কেউ কেউ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আত্মসংযম, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা গ্রহণের কথা জানান। তবে শুধু ধর্ম গ্রহণ করলেই কারও আচরণ বদলে যাবে বা পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কমবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

এই ক্ষেত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান টায়বা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য কারাগারে থাকা এবং মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ইসলামি শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বন্দিদের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে এবং চিঠিপত্র ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর পাঠ্যক্রমে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।

 

টায়বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কারাগারের ভেতর থেকেই শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। কারাগারে বই, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বন্দি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। এ ধরনের বাধা কমাতে সংস্থাটি দূরশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। সংস্থাটির মতে, বন্দিদের শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং মুক্তির পর সমাজে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলাম গ্রহণের পর কিছু বন্দি নিজেদের আচরণ ও জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে মুহাম্মদ আমিন অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ কারাবাসের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরে ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ণ সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি টায়বা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলেও, সেটিকে সব বন্দির ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।

 

কারাগারে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিদের ধর্ম পালনের অধিকার থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন কারাগারে ধর্মীয় খাবার, প্রার্থনার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে প্রকাশিত গবেষণায়ও বিভিন্ন কারাগারে সুযোগ-সুবিধার অসমতার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারাবন্দিদের ধর্মীয় অধিকার এবং শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচয়, সামাজিক বন্ধন ও পুনর্বাসনের মতো কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু বন্দি ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান, আবার কেউ কেউ শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিজীবনের প্রস্তুতি নেন। তবে ইসলাম গ্রহণকারী বন্দির মোট সংখ্যা এবং বার্ষিক ধর্মান্তরের হার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের অভাব রয়েছে। তাই প্রচলিত বড় সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে না ধরে, যাচাই করা গবেষণা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।

 

সূত্র: সিবিএস নিউজ, মুসলিম অ্যাডভোকেটস, টায়বা ফাউন্ডেশন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২২:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আইলি ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীর চায়ে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক

নিউইয়র্কের কুইন্সে ১৪ বছর বয়সী মালাকি অ্যাডামস হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নিতে ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সন্দেহভাজন

পোষা প্রাণী রাখার সুবিধাসহ আটটি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের কুইন্সে মাসে মাত্র ৮৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন করা যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্ব নিয়ে নতুন জরিপে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দেশের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোয় ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ, মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অনৈতিক বা বেআইনিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও মনে করেন অনেক মার্কিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-নরক) নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য নাগরিকদের মতামত তুলে ধরে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।    ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্প হয় বেআইনিভাবে লাভবান হয়েছেন, নয়তো এমন কিছু করেছেন যা অনৈতিক হলেও আইনত অপরাধ নয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বেআইনি কিছু করেছেন। আর ১৮ শতাংশের ধারণা, তাঁর আচরণ অনৈতিক, তবে বেআইনি নয়। বিপরীতে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।    ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের। এতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই মূল্যায়ন করেছেন ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে তিনি ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ। আর নিজের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা।   জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলভেদে মতের পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অন্তত কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে সমালোচনামূলক মনোভাব তুলনামূলক কম। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ গুরুত্ব দিয়েছেন।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ধারণার ক্ষেত্রেও দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বেআইনি কিছু করেছেন। স্বতন্ত্র উত্তরদাতাদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ মনে করেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি, অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ফলে জরিপের ফলাফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগই নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মতামতের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়েছে।   ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প তাঁর নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সময় ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্যবসায়িক আয় এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে বেআইনি সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়; জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।   এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় থাকা এক চীনা ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বছরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন আবাসন খাতে বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।   প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা আয় নিজে থেকেই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রযোজ্য আইন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।   হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা সরকারি দায়িত্বের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এবং অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, দুটিই এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ধারণা জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরলেও, তা দিয়ে কোনো অভিযোগের আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।   এপি-নরকের জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। নরক সেন্টারের সম্ভাবনাভিত্তিক আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে উত্তরদাতাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে অনলাইন ও টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সামগ্রিক নমুনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও, জরিপের পরিসংখ্যানকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২১:২৪
কারাগারে ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষার সুযোগ কিছু বন্দির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গাড়ি ব্যবহার, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর জীবনের ব্যয়সহ আমেরিকান ড্রিম পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়

ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান
ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান

ভ্যাটিকান মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, পোপ চতুর্দশ লিও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ বা 'লোয়ার লোব' অপসারণের জন্য একটি সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা এই রোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। ভ্যাটিকানের প্রকাশিত একটি মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের আগে করা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই তাঁর ক্যানসারের সন্দেহ করা হয়েছিল এবং অস্ত্রোপচার চলাকালীন তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়।   অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে রোমের জেমেলি হাসপাতালে পৌঁছালে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী পোপকে উষ্ণ স্বাগত জানান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচারের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই নির্ধারণ করা হবে যে তাঁর আক্রান্ত কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকারক কি না এবং ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না।   জেমেলি হাসপাতালের প্রধান থোরাসিক সার্জন ডা. স্টেফানো মার্গারিটোরার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের চ্যাপেলে রোমের ভিকার কার্ডিনাল বালদাসারে রেইনার নেতৃত্বে চিকিৎসা কর্মীরা পোপ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।   ১৭ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭১ বছর বয়সী পোপ তাঁর এই গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যাটির বিষয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। গত রবিবার দুপুরের প্রার্থনার সময় তিনি নিজেই তাঁর ফুসফুসে একটি ছোট 'নোডিউল' বা মাংসপিণ্ড ধরা পড়ার কথা জানান এবং সেটি অপসারণের ঘোষণা দেন। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোডিউলটি ক্যানসারযুক্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তা অপসারণ করা গেলে পোপের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।   সাধারণ অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে করা এই অস্ত্রোপচারের পর পোপকে অন্তত এক সপ্তাহ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই কারণে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ। যেহেতু পোপদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জেমেলি হাসপাতালের বিশেষ কক্ষটিতে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলছে, তাই পোপ লিও আপাতত এর কাছাকাছি অন্য একটি কক্ষে অবস্থান করবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৯:৪
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার

বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার

ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ

ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

0 Comments