সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৭:২৪
খরচের চাপে বাড়িওয়ালা
খরচের চাপে বাড়িওয়ালা

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাসা খোঁজা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সিটিজুড়ে ভাড়ার বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ভাড়াটিয়ারা সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো বাসা খালি থাকলে মর্টগেজ, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়িওয়ালাকে বহন করতে হচ্ছে। 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া উদাহরণে গত পাঁচ বছরে ভাড়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে পাওয়া যেত, সেটির জন্য এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার চাওয়া হচ্ছে। দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি রুমের জন্য আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার দিতে হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার লাগছে। এগুলো বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার উদাহরণ; এলাকা ও বাসার ধরনভেদে ভাড়া আলাদা।

 

ভাড়াটিয়াদের জন্য শুধু মাসিক ভাড়াই সমস্যা নয়। বাসা বদলাতে গেলে নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং সম্ভাব্য বাড়তি ভাড়াও হিসাবে রাখতে হচ্ছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে মাসে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার গুনতে হতে পারে। ফলে বর্তমান বাসার ভাড়া কষ্টকর হলেও অনেকে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন।

 

বাড়িওয়ালাদের চাপের ধরন ভিন্ন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়, কিন্তু মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের খরচ থেমে থাকে না। এ কারণে কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে নিয়মিত ভাড়া দেবেন এমন ভাড়াটিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে মেরামত, পানি ও হিটিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথাও উঠে আসছে।

 

রুম ভাড়া ও রুমমেট খোঁজার ক্ষেত্রেও বাজেটের সঙ্গে উপলব্ধ বাসস্থানের মিল পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের বর্ণনায় এসেছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের পুরো ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেকে খরচ ভাগাভাগি করেন। রুম খালি থাকলে সেই খরচ আবার একজনের ওপরই পড়ে।

 

তবে কিছু বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া পেতে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে পুরো সিটিতে ভাড়ার চাহিদা কমেছে বলা যায় না। স্ট্রিটইজির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বাসার সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। সিটির সর্বশেষ সরকারি আবাসন জরিপেও, যা ২০২৩ সালে করা হয়েছিল, ভাড়ার জন্য খালি বাসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাসা বা রুম খালি থাকার সমস্যা থাকলেও সিটিজুড়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকট রয়ে গেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ব্যাপক গুলিবর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালাটাইনের বাসিন্দা ওই তরুণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ছোট ব্যারেলের রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।    পুলিশ জানায়, পাপোরাকিসের পাঠানো উদ্বেগজনক বার্তার কথা এক ব্যক্তি মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশকে জানান। সেখান থেকে খবর পেয়ে গত রোববার (১১ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার করে পালাটাইন পুলিশ। তদন্তে গুলিবর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরে লেখা একটি নথির সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, কয়েক শ গুলি এবং শরীরের সুরক্ষাবর্মসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নথিতে দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার কথা রয়েছে। উদ্ধার করা একটি ভেস্টে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী চরমপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।    বৃহস্পতিবার পুলিশ নতুন করে জানায়, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি রোববার দুপুরে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিংয়ে ঢুকে প্রায় ১৩ মিনিট পর বেরিয়ে যায়। তবে পুলিশ মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেনি। অরোরার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুমকির পর সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।    বুধবার কুক কাউন্টির আদালত পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর। তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করছে এফবিআই।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৮:২৮
বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি মানুষের দীর্ঘ সারি

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার নিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সারি, কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

খরচের চাপে বাড়িওয়ালা

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই প্রায় বছরের আয়

২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।   কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।   বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।   নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি।    বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৫:৪০
বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন

ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রম

গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেএআইএফ ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানা সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় পাঁচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানা সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী প্রেমিকাকে হত্যার পর আ ত্মহ ত্যার নাটক, বিচারের মুখে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী প্রেমিকাকে হত্যার পর আ ত্মহ ত্যার নাটক, বিচারের মুখে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে গর্ভবতী প্রেমিকা স্যান্ড্রা বার্চমোরকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ ফারওয়েলের বিচারকাজ চলছে বোস্টনের ফেডারেল আদালতে। গত বুধবার এই মামলার শুনানিতে নিহত স্যান্ড্রার অগোছালো অ্যাপার্টমেন্ট ও অনাগত সন্তানের আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজেদের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ও স্যান্ড্রার গর্ভধারণের খবর স্ত্রীর কাছে ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন তিন সন্তানের জনক ফারওয়েল। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টন শহরের নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২৩ বছর বয়সী স্যান্ড্রার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর সময় তিনি অন্তত আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন।   আদালতে উপস্থাপিত নথিতে ফারওয়েলের চরম অমানবিক আচরণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রসিকিউটররা জানান, স্যান্ড্রার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখন থেকেই একটি শিশুতোষ কর্মসূচির আড়ালে ফারওয়েল তাকে প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন এবং ১৫ বছর বয়স থেকে রীতিমতো যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন। এই সম্পর্কের একপর্যায়ে স্যান্ড্রা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।   আদালতে জানানো হয়, খুনের ঠিক পরের দিনই ফারওয়েলের নিজের স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। হত্যার আগে দুজনেই বিশ্বাস করতেন স্যান্ড্রার গর্ভের সন্তানটি ফারওয়েলের, যদিও হত্যার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে সেই ধারণাটি ভুল ছিল। আদালতে দেখানো অকুস্থলের ছবিগুলোতে স্যান্ড্রার ফ্রিজে চুম্বক দিয়ে আটকানো আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি এবং মেঝেতে উল্টো করে রাখা একটি বেবি স্ট্রলারের বাক্স দেখা যায়, যা অনাগত সন্তান নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের প্রমাণ দেয়।   স্যান্ড্রার সহকর্মী ও শ্যারনের ইস্ট এলিমেন্টারি স্কুলের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা চেরিল কার্লসন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, আত্মহত্যার এই সরকারি তত্ত্ব কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্যান্ড্রা তার সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং শত বাধা সত্ত্বেও তিনি বাচ্চাটিকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।   অন্যদিকে, ফারওয়েলের আইনজীবীরা স্যান্ড্রার পুরোনো মানসিক অবসাদের ইতিহাস তুলে ধরে আদালতে এটিকে আত্মহত্যা প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রসিকিউটররা জোরালোভাবে জানিয়েছেন, স্যান্ড্রা মা হওয়ার আনন্দে আত্মহারা ছিলেন এবং অনাগত সন্তানের কথা ভেবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিতে চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৫২
শিকাগোয় শপিং মলের পুকুরে নারীকে ডুবিয়ে হ ত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন পথচারীরা

শিকাগোয় শপিং মলের পুকুরে নারীকে ডুবিয়ে হ ত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন পথচারীরা

ফ্লোরিডায় পাঁচ বিড়ালছানার করুণ পরিণতি, জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী

ফ্লোরিডায় পাঁচ বিড়ালছানার করুণ পরিণতি, জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী

ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব নিয়োগ নিয়ে কেটি জাকারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

বার পরীক্ষায় ফেল করেও নিজেকে ‘আইনজীবী’ দাবি, শুরুতেই বিতর্কে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি

0 Comments