যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী এক নবীন শিক্ষার্থীকে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আলাচুয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা। লক্ষ্যে যাদব নামের ওই শিক্ষার্থীকে বুধবার, ১৪ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আলাচুয়া কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যাদব ও ওই নারীর মধ্যে দিনভর বার্তা আদান-প্রদান হয়। একপর্যায়ে যাদব ওই নারীর বাসায় যাওয়ার অনুমতি চান। নারীটি তাঁকে একাধিকবার সেখানে যেতে নিষেধ করেন। তবে কিছুক্ষণ পর যাদব মদ্যপ অবস্থায় তাঁর বাসায় উপস্থিত হন। বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাদবকে মদ্যপ অবস্থায় দেখে তাঁর গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ওই নারী। এ কারণে তাঁকে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। তবে নারীর বর্ণনা অনুযায়ী, বাসায় ঢোকার পর যাদব তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন আচরণ শুরু করেন। নারীটি নিষেধ করা সত্ত্বেও তাঁর পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় নারীটি আহত হন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা ওই নারীর শরীরে এমন কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান, যা তাঁর বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর যাদব বাসা ছেড়ে চলে যান। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তদন্তে যাদবকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় এবং গাড়ির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই নারী স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে যাদবের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি যাদবের আইনগত নাম জানতেন না, শুধু একটি ডাকনাম জানতেন। তাঁর মনে ছিল, যাদব নীল রঙের টেসলা গাড়ি চালান। ঘটনার সময় ওই বাসার কাছে গাড়িটির উপস্থিতি শনাক্ত করতে নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার সূত্র পাওয়া যায়।
পরে গোয়েন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে যাদবের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ওই নারীর আবাসিক এলাকার একজন নারীকে চেনেন বলে স্বীকার করলেও তাঁর নাম জানেন না বলে জানান। এরপর তিনি আইনজীবীর সহায়তা চান। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের ছবির সারি থেকে ওই নারী যাদবকে শনাক্ত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২০-কে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ যাদবকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর প্রবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গেইনসভিলে অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সূত্র: ডব্লিউসিজেবি (WCJB), স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভি২০-র প্রতিবেদন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সন্দেহভাজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। বেন্ড পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে জরুরি ফোন পায়। এর প্রায় এক মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একাধিক ৯১১ কল আসে। ফোনকারীরা জানান, এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গুলি চালাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের মুখপাত্র শিলা মিলার জানান, কর্মকর্তারা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সন্দেহভাজন হামলাকারী মাটিতে পড়ে যায়। পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্টজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্দেহভাজন কিশোর বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় তাকে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মুখোমুখি হন। ওই ব্যক্তি কিশোরকে গুলি করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কে গুলি চালিয়ে কিশোরকে হত্যা করেছেন, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলাকারীর পরিচয় ও গুলি চালানোর পেছনে উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ছিল ৫, ৮ ও ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সী শিশুটি এবং ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর বিদ্যালয়টিতে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একে একে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ তল্লাশি করেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনেন। ঘটনার পর শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতে কাছাকাছি একটি গির্জায় নির্দিষ্ট স্থান স্থাপন করা হয়। সেখানে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। বিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। হামলার সময় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ক্যালেব ওয়েইস। তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, তাঁরা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আশপাশের মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার তদন্তে এফবিআই সহায়তা করছে বলে সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। হামলাকারী কীভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিল, তার কাছে কী ধরনের অস্ত্র ছিল এবং হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বেন্ড-লা পাইন স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক এক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা স্তম্ভিত ও গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর ভাষায়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষের যে শোক, তা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ নেই। তিনি জানান, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যত্ন নেওয়া এবং পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের সহায়তা করাই এখন তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলার সব বিদ্যালয়ে পাঠদান, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং খেলাধুলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। বেন্ড শহরটি ওরেগনের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত। সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো হয়। বিদ্যালয়টিতে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। অল্পবয়সী শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউইয়র্কে মর্মান্তিক ঘটনা, ৯১১ এ কল করে পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ২০২৬ সালের ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী ১১০টি দেশের ২ হাজার ১৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১,১২৯তম। মোট ১০ হাজার নম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৫ হাজার ২৩৭ দশমিক ৫ নম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করেন। এর আগে এটি আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার মালিকানাধীন একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে অবস্থান অর্জনের ঘটনা হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে। ইউআই গ্রিনমেট্রিক ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং কার্যক্রম। এর মূল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাগত মান, ডিগ্রির মর্যাদা কিংবা গবেষণার সামগ্রিক উৎকর্ষের র্যাঙ্কিং নয়। বরং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬ সালের মূল্যায়নে সাতটি বিভাগ বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো অবস্থান ও অবকাঠামো, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, শিক্ষা ও গবেষণা এবং পরিচালনা ও ডিজিটালায়ন। এসব বিভাগের আওতায় জ্বালানি সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনাব্যবস্থার মতো বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে পঞ্চম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অষ্টম, শিক্ষা ও গবেষণায় চতুর্থ এবং পরিচালনা ও ডিজিটালায়নে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। এ ছাড়া পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন বিভাগে সপ্তম এবং অবস্থান ও অবকাঠামো বিভাগে ১৪তম স্থান পেয়েছে বলে প্রকাশিত ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির টেকসই উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউআই গ্রিনমেট্রিক র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ৩০ জুন আবেদন জমা দেওয়ার সময় সাতটি মূল্যায়ন বিভাগের আওতায় ৩০০ পৃষ্ঠারও বেশি প্রমাণপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টির টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের নথিপত্র প্রস্তুত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গবেষণা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই অবস্থান পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি আন্তর্জাতিক তুলনামূলক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ স্থান অর্জনের অর্থ এই নয় যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সামগ্রিক শিক্ষাগত মানের দিক থেকে দেশটির ষষ্ঠ সেরা প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশগত কার্যক্রম ও নির্ধারিত সূচকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউআই গ্রিনমেট্রিকের এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তুলনা করার সুযোগ তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলটির জন্যও এই ফলাফল ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মূল্যায়নভিত্তিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার নিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সারি, কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যম দামের একটি পুরোনো একক পরিবারের বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট লাগবে ৮৪ হাজার ৫৪০ ডলার। এটি দেশটির একটি পরিবারের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৯৭ শতাংশ। তরুণদের বাড়ি কেনার বাধা নিয়ে ফক্স নিউজে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের হিসাব সর্বশেষ আবাসন তথ্য দিয়ে মিলিয়ে দেখলে এই চিত্র পাওয়া যায়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এ ধরনের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৭০০ ডলার। অন্যদিকে, আদমশুমারি বিভাগের হিসাবে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ডাউন পেমেন্টের হিসাবটি জাতীয় মধ্যম দাম ও আয় দিয়ে করা তুলনা; কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতার খরচ এতে বোঝানো হচ্ছে না। আশির দশকে মর্টগেজের সুদ বেশি ছিল বলে সে সময় বাড়ি কেনাও কঠিন ছিল। তবে বাড়ির দাম ও আয়ের অনুপাত ছিল ভিন্ন। সরকারি আবাসন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে পুরোনো একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৭২ হাজার ৪০০ ডলার। এর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৮০ ডলার, ছিল তখনকার পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ। একই ধরনের বাড়ির জন্য এখন সেই অনুপাত প্রায় ৯৭ শতাংশ। বাড়ির জন্য টাকা জমানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তিও ক্রেতাদের হিসাবে রাখতে হচ্ছে। ফ্রেডি ম্যাকের ১৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর সঙ্গে সম্পত্তিকর, বিমা ও বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ হয়। তবে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক নয়। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা কিছু ঋণ কর্মসূচিতে ৩ শতাংশ দিয়েও বাড়ি কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়ে এবং সাধারণত মাসিক প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ দিতে হয়।
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন