দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
মিশিগানের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে এত দিন গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ব্যবধান ১২। পরিবর্তিত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়নি।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের রাতের বেসরকারি হিসাবে আলহারবি ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ নভেম্বর প্রত্যয়িত ফলে ব্যবধান কমে হয় ছয় ভোট। পরে ২ ডিসেম্বর পুনর্গণনায় আলহারবি পান ২ হাজার ৭১ ভোট, মাহমুদ ২ হাজার ৬০ ভোট। সেই হিসাবেও বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হয়নি।
নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। সেগুলোর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠায় ওয়েইন কাউন্টির বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে গণনার প্রশ্নে ২–২ ভোটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ব্যালট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান মাহমুদ। আলহারবির আপত্তি ছিল, ব্যালটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।
গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। আগস্টে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করতে বলে।
ভোটের হিসাবে মাহমুদ এগিয়ে গেলেও মেয়র পদে পরিবর্তন এখনই হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফল প্রত্যয়নের আগে বিচারকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মাহমুদ হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা হিসেবে মেয়র পদে যোগ্য কি না, তা নিয়েও আলহারবির পৃথক আইনি আপত্তি রয়েছে। মাহমুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলহারবির আইনজীবী নতুন গণনা নিয়ে আবার ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।
আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন নিয়েও শহরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ সরকারি নথির ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আলহারবির আইনি ব্যয়ের বিল ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ ডলার; মোট ব্যয় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
সূত্র: সিবিএস ডেট্রয়েট, মিশিগান কোর্ট অব আপিলসের রায়, ভোটবিট ও দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে বেকার ও কর্মহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ২১ কোটি ডলার (২১০ মিলিয়ন ডলার) সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি পরিদর্শক দল সম্প্রতি মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থাকে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রশিক্ষণ এবং সাবেক কারাবন্দীদের কর্মসংস্থানে সহায়তার জন্য দেওয়া ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়ার পরও কোনো সাড়া না দেওয়ায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি'এসপোসিতো মিনেসোটার এই আচরণকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা প্রদান' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এক কড়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমাদের নিরীক্ষক এবং তদন্তকারীরা এই ব্যর্থতার ওপর নজর রাখছেন এবং আমরা পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। শক্তিশালী ফেডারেল তদারকির বিষয়ে আপসের কোনো সুযোগ নেই। এই অবাধ্যতার সুযোগ নিয়ে আমরা কোনোভাবেই জালিয়াতি বা মার্কিন কর্মীদের ঠকাতে দেব না।" উল্লেখ্য, গত বছরও মিনেসোটা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারির মুখে পড়েছিল। সেসময় জালিয়াত চক্র করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে, ফেডারেল সরকারের এমন পদক্ষেপকে 'নজিরবিহীন' ও মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছে মিনেসোটা প্রশাসন। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (DEED) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শ্রম দপ্তরের পরিদর্শকরা ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করেছে। ফেডারেল কর্মসূচির তদারকিতে সহযোগিতার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাকেও সমান গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত এপ্রিলে শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থার ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের ওপর একটি নিরীক্ষা শুরু করে। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এসব অনুদানের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ২১ কোটি ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩৭ ডলার সমমূল্যের ২৬টি অনুদানের তথ্য চেয়ে অসংখ্যবার অনুরোধ করা হলেও মিনেসোটার ডিইইডি তা প্রদানে ব্যর্থ হয়। ইন্সপেক্টর জেনারেলের মেমোতে বলা হয়, তথ্য প্রদানে ব্যর্থতাই সরাসরি অর্থ তছরুপের প্রমাণ না হলেও, এটি ফেডারেল তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও নিয়ম মানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তথ্য গোপন করার মাধ্যমে মিনেসোটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন ডি'এসপোসিতো। মিনেসোটায় এর আগে 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারির ঘটনায় একটি সোমালি জালিয়াত চক্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর মিত্ররা অভিযোগ করেছিলেন যে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এই জালিয়াতির বিষয়ে জানতেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছিলেন—যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ফেডারেল তহবিলের তদারকি বৃদ্ধির মুখে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ সম্প্রতি তাঁর পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মিনেসোটার জনগণকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট
কুকুরকে ভোটার বানিয়ে দুইবার ব্যালট পাঠালেন নারী, শেষ পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে কুকুরের ছবিই উঠল বিলবোর্ডে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর কাছে প্রেসিডেন্টের কয়েকজন উপদেষ্টা এই বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে জাকারিয়ার মাত্র এক সপ্তাহের বিতর্কিত মেয়াদের আকস্মিক অবসান ঘটল। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি জাকারিয়াকে প্রেস সেক্রেটারির পদে থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। গত শুক্রবার সকালে জাকারিয়াকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, "সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতাম"। মূলত এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তাঁর সংক্ষিপ্ত মেয়াদের সমাপ্তির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। জর্জিয়া সফর শেষে হোয়াইট হাউসে ফিরে জাকারিয়ার সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, তিনি জাকারিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, "কেটি, আপনার কি সত্যিই এই পদের দরকার আছে? আমার তো মনে হয় না আপনার এটির প্রয়োজন রয়েছে"। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নিজেই তাঁকে সরাসরি বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। সপ্তাহখানেক আগে দায়িত্ব নেওয়া একজন প্রেস সেক্রেটারির ওপর প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য অনাস্থা প্রকাশের ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে বেশ নজিরবিহীন। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং কক্ষে জাকারিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি বেশ নড়বড়ে ছিল। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় বার পরীক্ষায় পাস না করেই নিজেকে 'আইনজীবী' হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তাঁর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্নের মুখে পড়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যার পরিণতিতে তাঁকে শেষ পর্যন্ত এই পদ হারাতে হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে বন্দুক হা মলা, নি হত ৪
বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ
টেসলার রোবোট্যাক্সির বিরুদ্ধে স্কুল জোনে অতিরিক্ত গতিতে চলার অভিযোগ যাচাই সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি আইন পেশায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় নিজেকে 'আইনজীবী' হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তাঁর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই সমালোচনার মুখেই নিজের ব্যর্থতার কথা জনসমক্ষে স্বীকার করে নিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক শন হ্যানিটি তাঁকে বার পরীক্ষায় ফেল করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অকপটে তা স্বীকার করেন। ৪১ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা জানান, তিনি দ্বিতীয়বার আর ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ২০১১ সালে পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কেটি অন্য একটি সাক্ষাৎকারে জানান, পরীক্ষার সময় স্বামীর সঙ্গে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। সেখানে গিয়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার প্রয়োজন হবে না ভেবেই সেসময় পরীক্ষার ফলাফলকে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। পরবর্তীতে বেইজিংয়ের একটি ল ফার্মে ব্যবসায়িক আইন নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে আইনজীবী বলার বিষয়ে কেটি দাবি করেন, তাঁর আইনের ডিগ্রি ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি এই পরিচয় দিতে পারেন বলে পেশার অনেকেই তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো আইনি পরামর্শ দিতে পারেন না, কেবল আইনি বিশ্লেষণ দিতে পারেন। এদিকে, তাঁর এমন দাবির পর রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ ক্যালিফোর্নিয়া বার অ্যাসোসিয়েশনকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন কেটি জাকারিয়া। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ক্যারোলিন লিভিট সন্তান ও পরিবারের দেখাশোনার জন্য গত আগস্টে পদত্যাগ করার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব নেন কেটি।
দুই বছর আগে হিট অ্যান্ড রান দু র্ঘটনায় পথচারীর মৃ ত্যু, শিকাগোতে গ্রেপ্তার ২০ বছর বয়সী নারী
নিউইয়র্কে টানা ৫ সপ্তাহান্ত বন্ধ ম্যানহাটনগামী জে-এম ট্রেন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা