২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া
আন্দ্রেয়া ডি আরমাস, বয়স তখন মাত্র ২৬ বছর। পরিবারে কারও স্তন ক্যানসারের ইতিহাস নেই, তবে নিজের স্তনে একটি অস্বাভাবিক পিণ্ড বা চাকা অনুভব করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আলট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ানের আচরণ ছিল চরম হতাশাজনক; বয়স কম হওয়ায় আন্দ্রেয়ার শারীরিক উদ্বেগকে রীতিমতো অবহেলা করে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তরুণী অযথাই ভয় পাচ্ছেন।
তবে একজন রেডিওলজিস্টের হস্তক্ষেপে দ্রুত বায়োপসি করা হয় এবং জানা যায়, আন্দ্রেয়ার সেই পিণ্ডটি ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারাস। ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিএ) হিসেবে চূড়ান্ত পড়াশোনা শুরুর ঠিক এক দিন আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার এই খবর তাঁর জীবনকে থমকে দেয়।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্যমতে, স্তন ক্যানসারে নতুন করে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বয়স ৪৫ বছরের নিচে। বিশেষ করে ২০-এর কোঠায় থাকা নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও (প্রতি ১,৩৪৪ জনে একজন), বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।
এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেরি জেমিনিয়ানি জানান, তরুণীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যানসার দেরিতে শনাক্ত হয় এবং টিউমারগুলো বেশ আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও অনেক তরুণীকে ‘ক্যানসারের জন্য বয়স অনেক কম’—এমন ভ্রান্ত ধারণার শিকার হতে হয়, যা আন্দ্রেয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় আন্দ্রেয়ার শরীরে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী একটি জিনগত মিউটেশন ধরা পড়ে।
তবে ক্যানসারের এই ভয়াবহতা আন্দ্রেয়াকে দমাতে পারেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠিন রুটিনে তিনি নিজের চিকিৎসাও চালিয়ে গেছেন। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কেমোথেরাপি নিয়ে বিকেলে নিয়ম করে ক্লাসে অংশ নিতেন তিনি। ছুটির ফাঁকে লাম্পেকটমি ও মাস্টেকটমির মতো জটিল সার্জারিও সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকদের দারুণ সহযোগিতায় শারীরিক ও মানসিক এই যুদ্ধের পরও ২০২৫ সালে সফলভাবে পিএ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি এবং এক মাসের মধ্যেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন।
বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। সার্জারি ও কেমোথেরাপির দিনগুলো পেছনে ফেললেও চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে হরমোন থেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা তাকে সাময়িক মেনোপজ এবং সন্তান ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
নিজের এই লড়াইয়ের গল্প জানিয়ে আন্দ্রেয়া বলেন, নিজের শরীরের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখলে কখনোই ভয় বা অন্যের কথায় পিছিয়ে আসা উচিত নয়। নিজের প্রবৃত্তি ও অনুভূতির ওপর আস্থা রেখে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি ব্যস্ত সাবওয়ে স্টেশনে দিনদুপুরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে হঠাৎ বচসার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বুকে গুলি লেগেছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টা ২১ মিনিটে ৫৩ স্ট্রিটের সেভেনথ অ্যাভিনিউ স্টেশনের নর্থবাউন্ড বি/ডি/ই (B/D/E) প্ল্যাটফর্মে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের বয়স ৩৪ বছর। পুলিশের সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনার আগে ওই যুবকের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও বিবাদ হয়। এরপর ঘাতক নর্থবাউন্ড ‘ই’ (E) ট্রেনের ভেতর থেকে প্ল্যাটফর্মে থাকা ওই যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মেই ওই যুবককে প্রাথমিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বেলভ্যু হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঠিক কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে এই প্রাণঘাতী বচসার সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই সাবওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, পলাতক ওই ঘাতকের পরনে লাল রঙের ট্র্যাকসুট, কালো পাফার ভেস্ট এবং কালো রঙের বালাক্লাভা বা মুখোশ ছিল। ঘাতককে ধরতে বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশের জোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী
যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ১.৯৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাল, বাড়ছে ঋণের সুদ ও অর্থনৈতিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় করব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ৬৬ কোটি ডলার থেকে ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সেবা, শিশু পরিচর্যা এবং সামাজিক কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করতে নতুন রাজস্ব সংগ্রহের উপায় খুঁজছেন আইনপ্রণেতারা। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন কর, উচ্চ আয়ের পরিবারের আয়কর বৃদ্ধি, বহুমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর এবং সম্পত্তিকর বাড়ানো। এ ছাড়া আগে স্থগিত করা বিক্রয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার বিষয় রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের কাছে গ্র্যান্ড জুরি তলব পাঠানো হয় বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। তদন্তের সম্পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তটি অভিবাসনসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তবে ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাঁর আইনজীবীরা নাগরিকত্বসংক্রান্ত কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হওয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও তদন্তের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আইনজীবীদের অভিযোগ এবং বিচার বিভাগের পাল্টা বক্তব্য—দুটিই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরুরি। তদন্তের ফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
ক্যালিফোর্নিয়ার তিন শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে লড়ছেন তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা হারানোর ঝুঁকি, পরিবারগুলোকে নথিপত্র ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পরামর্শ
নিউইয়র্কে আজ দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান শ্রমিকদের সংবর্ধনা, আসালের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার নতুন ছক কষা হচ্ছে বলে তাকে সতর্ক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত বছর একজন সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে পান্নুন জানান, এফবিআই এজেন্টরা ওই দিন সকালে তার নিউইয়র্কের বাসভবনে এসে তাকে এই ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পান্নুন জানিয়েছেন, আগামী ১৮ অক্টোবর কানাডার এডমন্টনে তার সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ একটি প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশকে স্বাধীন ‘খালিস্তান’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত এই গণভোটে শিখ সম্প্রদায়কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এফবিআই এজেন্টরা পান্নুনকে জানিয়েছেন, কানাডায় তার এই আসন্ন সফরের সঙ্গে নতুন হুমকির সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য না জানালেও পান্নুন এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, তিনি আরও একটি হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচতে পারবেন কি না, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং শিখদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এমন হুমকির মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এর আগে নিখিল গুপ্তা এবং সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন। ভাড়াটে খুনি নিয়োগ ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করা নিখিল গুপ্তার আগামী নভেম্বরে সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে এবং সেখানে পান্নুনের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পান্নুনকে হত্যার ওই একই সময়ে, ২০২৩ সালের জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আরেক বিশিষ্ট শিখ নেতা ও পান্নুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানাডা সরকার সে সময় দাবি করেছিল, নিজ্জর হত্যার পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের হাত রয়েছে, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও ভারত সরকার নিজ্জর হত্যা এবং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চলতি বছর মার্কিন বা কানাডিয়ান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে পান্নুনের এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও এফবিআই এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তাকে আলাদাভাবে সতর্ক করেছিল। পান্নুন জানান, গত জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা ‘বিষ্ণোই’ নামের একটি ভারতীয় অপরাধী চক্রের শীর্ষ নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনার পরই মূলত এই সতর্কবার্তাগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। ২০১৫ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও কারাবন্দী অবস্থাতেই এই বিষ্ণোই বিশ্বজুড়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে বলে মার্কিন ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
শীতের আগে নিউইয়র্কের প্রবীণ বাড়ির মালিকদের হিটার মেরামতে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা
অনুমতি ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা কাটেন নার্স, মামলায় পরও হয়নি কারাদণ্ড