সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অনুমতি ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা কাটেন নার্স, মামলায় পরও হয়নি কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১১:৬
চিকিৎসক ও রোগীর অনুমতি ছাড়া এক বৃদ্ধের পায়ের পাতা কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কিন নার্স মেরি কে. ব্রাউন কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসক ও রোগীর অনুমতি ছাড়া এক বৃদ্ধের পায়ের পাতা কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কিন নার্স মেরি কে. ব্রাউন কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে চিকিৎসক ও রোগীর অনুমতি ছাড়া এক বৃদ্ধের পায়ের পাতা কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স মেরি কে. ব্রাউন কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কম গুরুতর অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন করার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি গুরুতর অভিযোগ খারিজ হয়।

 

পিপল সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাউন রোগীর প্রতি অবহেলাজনিত নির্যাতনের অভিযোগে নো কনটেস্ট আবেদন করেন। এর অর্থ, তিনি আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়নি এবং আদালতের খরচ বাবদ ৪৪৩ ডলার দিতে বলা হয়। ফলে ঘটনাটিকে এখনো কেবল গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন মামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে মেলে না। 

 

ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ২৭ মে, উইসকনসিনের স্প্রিং ভ্যালির একটি নার্সিং হোমে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী রোগীর পায়ের পাতা তীব্র ঠান্ডাজনিত ক্ষত বা ফ্রস্টবাইটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটি সামান্য টিস্যু ও টেন্ডনের মাধ্যমে পায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যান্ডেজ বদলানোর সময় ব্রাউন গজ কাটার কাঁচি দিয়ে পায়ের পাতাটি বিচ্ছিন্ন করেন। এ জন্য চিকিৎসকের নির্দেশ বা রোগীর সম্মতি ছিল না। তদন্তকারীদের কাছে ব্রাউন বলেছিলেন, রোগীর স্বস্তির কথা ভেবে তিনি কাজটি করেছিলেন। 

 

বিচ্ছিন্ন পায়ের পাতা সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের কথাও অভিযোগপত্রে এসেছে। এক সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাউন পরিবারের ট্যাক্সিডার্মির দোকানে সেটি রাখার এবং বুট পরার বিষয়ে সতর্কতামূলক লেখা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ট্যাক্সিডার্মি হলো মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের কাজ। তবে পায়ের পাতাটি বাস্তবে দোকানে প্রদর্শন করা হয়েছিল, এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। 

 

রোগী পরে মারা যান। তবে পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত অভিযোগপত্রে ছিল না বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। 

 

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি নার্সিং পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করে। উইসকনসিন বোর্ড অব নার্সিংয়ের ২০২৩ সালের অন্তর্বর্তী আদেশে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে। এটি নার্স হিসেবে তাঁর অনুমোদিত কাজের সীমা অতিক্রমের অভিযোগ হিসেবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ তুলে ধরা বিলবোর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ১.৯৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাল, বাড়ছে ঋণের সুদ ও অর্থনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এই ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, করোনা মহামারিকালীন ব্যয়ের বছরগুলো বাদ দিলে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক ঘাটতি। ক্রমবর্ধমান সরকারি ব্যয়, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে মার্কিন সরকারের মোট রাজস্ব এসেছে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেশি। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান এই ঘাটতি। ২০২৫ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম পূর্ণ অর্থবছর। এর আগে ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে করোনা মহামারিকালীন বিপুল সরকারি ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই দুই বছর বাদ দিলে চলতি বছরের ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বাজেট ঘাটতির পাশাপাশি দেশটির মোট জাতীয় ঋণও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপরও ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মোট জাতীয় ঋণ ছিল ৪০ লাখ ৩২ হাজার ৯২২ কোটি ডলারেরও বেশি। বিপুল এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতে সরকারকে ক্রমবর্ধমান অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারের বাজেটে ঋণের সুদ এখন অন্যতম বড় ব্যয়ের খাত। বার্ষিক সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পর এটি সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয়ের খাত। ঋণের সুদ পরিশোধে এখন মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি কিংবা প্রতিরক্ষা খাতের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন মাত্রার বার্ষিক ঘাটতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা অতীতে সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দা বা বড় সংকটের সময় দেখা যেত। ঋণের সুদ বাড়তে থাকলে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বাজেট ঘাটতির পেছনে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শুল্কনীতি ও করছাড়ও ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ঘাটতিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ চলছে। তবে সাম্প্রতিক হিসাব দেখাচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির ব্যবধানও বাড়ছে। শুল্ক থেকে আয় কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গত এক বছরে আমদানি শুল্ক বাবদ সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ১৪ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের শুল্কসংক্রান্ত রায়ের পর এই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে শুল্ক থেকে সরকারের যে রাজস্ব আসার কথা ছিল, তার বড় অংশ আবার ফেরত দিতে হয়েছে। এতে বাজেট ঘাটতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেড়েছে। শুল্ক ফেরতের প্রভাব কতটা বড়, তা বোঝা যায় আগের পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত আসার আগে, ২০২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি ডলারের ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঘাটতি সেই পূর্বাভাসকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। শুল্ক ফেরতের পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তনও এই ব্যবধানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। রাজস্ব আদায়ের আরেকটি দুর্বল দিক হলো করপোরেট আয়কর। নতুন করছাড়ের কারণে কোম্পানিগুলো কিছু বিনিয়োগ ব্যয়ের বিপরীতে বেশি অর্থ কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে সরকারের কর আদায় কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরে করপোরেট আয়কর থেকে রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিগুলোর আয় বাড়লেও করছাড়ের কারণে রাজস্বে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি দেখা যায়নি। অন্যদিকে, সরকারি ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচিগুলোতেও ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বাজেট ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে ১৪৬ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যয় ছিল ৫ লাখ ৭৬ হাজার কোটি ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ১৩ হাজার কোটি ডলারে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার কোটি ডলার। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বাজেট ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কাও বাড়ছে। বর্তমান আর্থিক নীতি অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনকার ঘাটতি শুধু এক বছরের সমস্যা নয়; ভবিষ্যতেও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। জাতীয় ঋণ ও সুদের ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারের জন্য অন্য খাতে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ নিতে হলে সুদ পরিশোধের দায়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সরকারি আর্থিক পরিকল্পনা ও অর্থনীতির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। একদিকে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে শুল্ক ফেরত ও করপোরেট কর আদায় কমে যাওয়ায় রাজস্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জাতীয় ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের ব্যয় যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু ব্যয় কমানো নয়, সরকারের রাজস্ব নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:২০
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি

ওয়াশিংটন ডিসিতে নতুন করের প্রস্তাব, বাড়তে পারে ধনীদের কর ও দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের খরচ

ক্যালিফোর্নিয়ার ৩টি শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার তিন শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে লড়ছেন তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা হারানোর ঝুঁকি, পরিবারগুলোকে নথিপত্র ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পরামর্শ

নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সংগঠন ‘আসাল’-এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আজ দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান শ্রমিকদের সংবর্ধনা, আসালের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সংগঠন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আসাল)—এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হলে এ সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে হবে।   সম্মেলনের প্রচারপত্রে ‘আমাদের ভোট, আমাদের কণ্ঠ, আমাদের শক্তি—আমরাই পরিবর্তন আনব’ স্লোগান তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের পতাকা স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর ঐক্য, অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।   আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইব্রাহিম বারভুইয়া। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফারুক হোসেন ও গোলাম ফারুক শাহিন। সম্মেলন আয়োজনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার অধ্যায়ের প্রতিনিধিরাও যুক্ত রয়েছেন।   আয়োজক কমিটির তালিকায় কুইন্স অধ্যায়ের কাজী ফরিদ আহমেদ ও ড. মারিয়াম সিং, ব্রঙ্কস অধ্যায়ের এমডি আলাউদ্দিন ও মাশুদ রহমান এবং ব্রুকলিন অধ্যায়ের নাজমুল হাসান মানিক ও মাসবাহ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এমডি আলম হোসেন ও বাশেদ ভূঁইয়া এবং জ্যাকসন হাইটস অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সোমনাথ চিমিরে ও ছিরিং রাপকে লামার নাম রয়েছে।   এ ছাড়া হেলথকেয়ার প্রফেশনাল অধ্যায়ে ড. মোহাম্মদ ইসলাম ও ড. চৌধুরী শাহরিয়ার, ওজোন পার্ক অধ্যায়ে মাশুদ রানা টোপন ও এমডি সন্তনু বারুয়া, নিউ জার্সি অধ্যায়ে কেতন পারমার এবং লং আইল্যান্ড অধ্যায়ে মেজবা কাজী নাসেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক ক্যাপিটাল রিজিয়ন অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন মিজানুর রহমান ও রাশতাব মাহমুদ। জাতীয় পর্যায়ের অংশে মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, মিসবাহ উদ্দিন ও হরজিৎ সিংয়ের নামও পোস্টারে রয়েছে।   আসালের বিভিন্ন অধ্যায়ে যুক্ত হওয়ার জন্য নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানসাস ও ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   পোস্টারে সম্মেলনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হল, ১২৫ বার্কলে স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৭। আগ্রহীরা সংগঠনটির ওয়েবসাইট www.asaal.org, ইমেইল asaalNational@asaal.org অথবা +১ (৯১৭) ২০৯-৯৭৭২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।   উল্লেখ্য, সম্মেলনের সময়সূচি, স্থান ও আয়োজক কমিটির তথ্য সংগঠনটির প্রকাশিত পোস্টারের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে কারা উপস্থিত হয়েছেন এবং কী কী সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়েছে, তা জানতে অনুষ্ঠান-পরবর্তী তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১২:১০
নিউইয়র্কে শিখ নেতা পান্নুনকে  হ ত্যার নতুন হু মকি, সতর্ক করল এফবিআই

নিউইয়র্কে শিখ নেতা পান্নুনকে হ ত্যার নতুন হু মকি, সতর্ক করল এফবিআই

নিউইয়র্কের শীতকালে বাড়ির তাপমাত্রা স্বাভাবিক

শীতের আগে নিউইয়র্কের প্রবীণ বাড়ির মালিকদের হিটার মেরামতে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা

চিকিৎসক ও রোগীর অনুমতি ছাড়া এক বৃদ্ধের পায়ের পাতা কেটে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কিন নার্স মেরি কে. ব্রাউন কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা কাটেন নার্স, মামলায় পরও হয়নি কারাদণ্ড

আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে কত আয় প্রয়োজন, তা স্থান ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় পরিবার নিয়ে থাকতে কত আয় দরকার, জানুন নিউইয়র্ক সহ পাঁচ শহরের হিসাব

আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে মাসে কত আয় প্রয়োজন, তার একক উত্তর নেই। নিউইয়র্কের কুইন্সে যে বাজেট প্রয়োজন, মিশিগানের ডেট্রয়েটে তা ভিন্ন। আবার একই এলাকায় স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারের ব্যয় যোগ হয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়তে পারে।   এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন উপার্জনকারী থাকলে আলোচ্য পাঁচ এলাকায় ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ থেকে ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার। দুজনই কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ সেই হিসাব প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ থেকে ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার।   এগুলো পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মডেলভিত্তিক হিসাব। আরামদায়ক মধ্যবিত্ত জীবন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা নয়। তুলনায় নিউইয়র্কের জন্য কুইন্স, ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাকের জন্য ওয়েইন কাউন্টি, ডালাসের জন্য ডালাস কাউন্টি, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং আটলান্টার জন্য ফুলটন কাউন্টি নেওয়া হয়েছে। পুরো শহর বা মহানগরের সব এলাকার ব্যয় এক নয়। তথ্যগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ করা।    নিউইয়র্কের কুইন্সে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর বছরে প্রয়োজন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৮ ডলার। বার্ষিক অঙ্ককে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে প্রায় ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার হয়। এই প্রয়োজন মেটাতে ট্যাক্সের আগে পরিবারের মাসিক আয় দরকার প্রায় ৯ হাজার ১৫৯ ডলার।   একই পরিবারে দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। ট্যাক্সের আগে দুজনের সম্মিলিত আয় প্রয়োজন প্রায় ১৩ হাজার ৩৭ ডলার। অর্থাৎ মাসে সাত হাজার ডলার আয় হলেই নিউইয়র্কে চারজনের পরিবারের খরচ ও সঞ্চয় নিশ্চিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এই হিসাব সমর্থন করে না।    মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ একই ধরনের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৬ হাজার ৬৫৭ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ প্রয়োজন হয় ট্যাক্সের পর প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৮৯২ ডলার।    টেক্সাসের ডালাস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারী থাকলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ২৫১ ডলার। ট্যাক্সের আগে আয় প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৭৩৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ১৯ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৮ ডলার। হিউস্টনের ব্যয়কে ডালাসের একই অঙ্ক ধরে নেওয়া যথাযথ নয়।    টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে এর অর্থ আয়ের পুরোটা হাতে থাকা নয়। প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর্তন থাকে। তাই চাকরির বেতনের অঙ্ক ও হাতে পাওয়া অর্থ আলাদা করে হিসাব করতে হয়।    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ চার সদস্যের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৭৪৬ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৮ হাজার ৬৭২ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ১১ হাজার ৭২৮ ডলার।    আটলান্টার ফুলটন কাউন্টিতে একই পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৫৯৯ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৪৫৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ৪২৬ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ ডলার।    এই মডেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক কাজ না করলে তাঁর পরিবারের জন্য আলাদা চাইল্ড কেয়ার ব্যয় ধরা হয়নি। দুজন কাজ করলে তা যুক্ত হয়েছে। বাস্তবে শিশুর বয়স, স্কুলের সময়সূচি ও আত্মীয়ের সহায়তা অনুযায়ী এই খরচ বদলাতে পারে।   আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও হিসাবের অংশ। তাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেই চিকিৎসার খরচ শূন্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবার কারও কম ভাড়ার বাসা বা পরিবারের সহায়তা থাকলে তাঁর প্রকৃত ব্যয় মডেলের চেয়ে কমও হতে পারে। এই অঙ্কগুলো বাজেট তৈরির ভিত্তি, প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত খরচ নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৫৮
সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরভাতায় বড় সুখবর, ২০২৭ সালে মাসে গড়ে ৭৫ ডলার বেশি পাবেন অবসরপ্রাপ্তরা

ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ

ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ

নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর ২২টি ফুড প্যান্ট্রিতে বিনামূল্যে পোষা কুকুর ও বিড়ালের খাবার বিতরণ শুরু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

১৯ অক্টোবর থেকে ২২ ফুড প্যান্ট্রিতে কুকুর-বিড়ালের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ঘোষণা মামদানির

0 Comments