সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারেন বাড়ির মালিকেরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৮:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন শরৎ ও শীত মৌসুমে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ঝুঁকির মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এতে দেশটির কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে ভারী বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ের আশঙ্কা। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি কমতেও পারে। এর প্রভাব বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বীমা সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে বীমার খরচের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 

এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, চলতি শরৎ ও শীতে এল নিনো ‘খুব শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, সম্ভাব্য এই শক্তিশালী পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘গডজিলা’ এল নিনো বলছেন।


এনওএএর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান আবহাওয়াবিদ স্কট হ্যান্ডেলের মতে, প্রতিটি এল নিনোর বৈশিষ্ট্য এক রকম হয় না। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।


অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর রকি পর্বতমালা ও উত্তর ক্যাসকেডস অঞ্চলে তুষার জমার পরিমাণ কম হতে পারে। পূর্ব উপকূলে উপকূলীয় ঝড়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।


এল নিনোর একটি পরিচিত প্রভাব হলো আটলান্টিক মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ দুর্বল করে দেওয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে সেই সম্ভাব্য সুবিধা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিকে পুরোপুরি পুষিয়ে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন মৌসুমে পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হতে পারে বন্যা।


ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে ঝোড়ো হাওয়ার পর্বও দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পানি ঢুকে পড়া, গাছপালা বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সম্পত্তির ক্ষতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মানেই এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, এমন নয়।


বাড়ির মালিকদের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো বন্যা বীমার সীমাবদ্ধতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তিগুলোর বড় একটি অংশেরই বন্যা বীমা নেই। সাধারণ বাড়ির বীমা পলিসিতে সাধারণত বন্যার কারণে সরাসরি হওয়া ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে বন্যার পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা ভবনের ক্ষতি করলে অনেক বাড়ির মালিককে নিজের পকেট থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।


রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোটালিটির প্রধান বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বটসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বেশির ভাগই সাধারণ বাড়ির বীমায় কাভার হয় না। এ ধরনের ক্ষতির জন্য আলাদা বন্যা বীমা বা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত বীমা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঝড়ের বাতাসে ছাদের ক্ষতি কিংবা শীতকালীন ঝড়ে ছাদ চুইয়ে পানি ঢোকার মতো কিছু ক্ষতি সাধারণ বাড়ির বীমার আওতায় আসতে পারে।


এদিকে, বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) মানচিত্রে কোনো এলাকা উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত না থাকলেও সেখানে বন্যা হতে পারে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্যা বীমা দাবি এসেছে এমন স্থাপনা থেকে, যেগুলো তখনকার মানচিত্রে উচ্চ ঝুঁকির এলাকার বাইরে ছিল।


তাই শুধু সরকারি মানচিত্রে নিজের বাড়িকে নিরাপদ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। ফেমার ম্যাপ সার্ভিস সেন্টারে ঠিকানা দিয়ে নিজের এলাকার বন্যার ঝুঁকি যাচাই করা যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমার পাশাপাশি মাটি অতিরিক্ত ভিজে গেলে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে ভূমিধসের ক্ষতি কোন বীমায় কাভার হবে, তা পলিসির ধরন ও শর্তের ওপর নির্ভর করে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন শীতের আগে বন্যা বীমা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তির ৮৬ শতাংশের বন্যা বীমা নেই। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাড়িই সম্ভাব্য ক্ষতির আর্থিক সুরক্ষার বাইরে রয়েছে।


ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির জলবায়ু অর্থনীতিবিদ টম করিংহ্যামের মতে, ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (এনএফআইপি) বীমায় সাধারণত ৩০ দিনের অপেক্ষার সময় থাকে। ফলে বড় ঝড়ের পূর্বাভাস আসার পর বীমা কিনতে গেলে প্রয়োজনের সময় সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বন্যার মৌসুম বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির মালিকদের আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।


এনএফআইপির আওতায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া—দুই পক্ষই বন্যা বীমা নিতে পারেন। বাড়ির মালিকেরা ভবনের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্রের জন্য এক লাখ ডলার পর্যন্ত সুরক্ষা পেতে পারেন। ভাড়াটিয়ারা ভবনের কাঠামোর পরিবর্তে নিজেদের আসবাব ও ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ডলারের বীমা নিতে পারেন।


তবে বন্যা বীমা থাকলেই সব ধরনের ক্ষতির অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এনএফআইপির পলিসিতে সাধারণত অস্থায়ী বাসস্থানের খরচ বা বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেলে অন্যত্র থাকার অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই বীমা কেনার আগে কোন ধরনের ক্ষতি কাভার হবে এবং কোন খরচ নিজের বহন করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।


এল নিনোর কারণে বাড়ির বীমার খরচ কি সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। করিংহ্যাম জানিয়েছেন, এল নিনোর পূর্বাভাসের কারণে এনএফআইপি সাধারণত প্রতি শীতে নতুন করে বীমার মূল্য নির্ধারণ করে না। ফেমার ‘রিস্ক রেটিং ২.০’ পদ্ধতিতে বীমার খরচ নির্ধারণে সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি, পুনর্নির্মাণের ব্যয় এবং ভবনের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে এল নিনোর উপস্থিতি আলাদাভাবে কোনো পরিবারের বীমার মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি নয়।


তবে বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের মডেল, জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য এবং পুনর্বীমার ব্যয় বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারে। কোনো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার প্রভাব পরবর্তী সময়ে বীমার মূল্য নির্ধারণে পড়তে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে বা একবারে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে পলিসি নবায়নের সময় তা কার্যকর হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমার খরচ বাড়ার পেছনে একটি মৌসুমের আবহাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির প্রবণতা ও পুনর্বীমার বাজারের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। এনএফআইপিতে বার্ষিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারণত ১৮ শতাংশের সীমা থাকায় বন্যাজনিত ব্যয় বাড়লেও তা ধাপে ধাপে প্রতিফলিত হতে পারে।


সব মিলিয়ে, শক্তিশালী এল নিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তুলনামূলক কমতে পারে, আবার কোথাও বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের এলাকার ঝুঁকি যাচাই করা, বীমার শর্ত ভালোভাবে বোঝা এবং প্রয়োজন হলে আগেভাগে বন্যা বীমার ব্যবস্থা করা। কারণ, বীমার প্রিমিয়াম সঙ্গে সঙ্গে না বাড়লেও একটি বড় আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বাড়ির মালিকদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে থাকার খরচ কমানোর সহজ কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে কম খরচে থাকার ৫ কৌশল, জানুন বুকিংয়ের স্মার্ট ট্রিকস

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় হোটেলের খরচ কমাতে চান? সঠিক সময়ে বুকিং, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভাড়া তুলনা এবং বিশেষ ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোটেলে থাকার ব্যয় কমানো সম্ভব। ভ্রমণপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হোটেলপ্ল্যানারের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা টিম গানস্টোনের মতে, হোটেলের ভাড়া নির্ভর করে চাহিদা, বছরের সময় এবং সপ্তাহের কোন দিনে অতিথিরা থাকছেন, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে এক রাত থাকার গড় ভাড়া গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১৭৯.৪৩ ডলারে পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারীদের জন্য খরচ বাঁচানোর কৌশল জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হোটেলের খরচ কমানোর প্রথম কৌশল হলো ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণে ফ্লেক্সিবল থাকা। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার রাতে চাহিদা বেশি থাকায় ভাড়া বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সপ্তাহান্তের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর রবিবার রাতে কিছু হোটেলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় কক্ষ পাওয়া যায়। হোটেলস ডটকমের ২০২৬ সালের হোটেল মূল্যসূচক অনুযায়ী, রবিবারে হোটেলে অবস্থান করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব গন্তব্যে বা সব হোটেলে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কৌশল হলো গুগলের হোটেল অনুসন্ধান সুবিধা ব্যবহার করা। গন্তব্যের নাম লিখে তার সঙ্গে ‘হোটেল’ শব্দটি যোগ করে অনুসন্ধান করলে আশপাশের হোটেল, অবস্থান, অতিথিদের পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন বুকিং সাইটের ভাড়া তুলনা করা যায়। এতে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ঘুরে সময় নষ্ট না করে একই জায়গায় একাধিক বিকল্প দেখা সম্ভব হয়। বুকিংয়ের আগে হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও মূল্য যাচাই করা উচিত, কারণ একই কক্ষের ভাড়া ও সুবিধা বুকিংয়ের মাধ্যমভেদে ভিন্ন হতে পারে। তৃতীয় কৌশল হলো প্রাইসলাইন ও হটওয়্যারের মতো বুকিং সাইটে বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা। এসব সাইটে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বুকিং সম্পন্ন ও অর্থ পরিশোধের আগে হোটেলের নাম জানা যায় না। বিনিময়ে তুলনামূলক কম দামে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ থাকে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটিতে ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর চার রাতের একটি বুকিংয়ের উদাহরণে প্রাইসলাইনের একটি অফারে ২৬ শতাংশ এবং হটওয়্যারের একটি অফারে ৩১ শতাংশ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো নির্দিষ্ট বুকিংয়ের উদাহরণ, নিশ্চিত বা সর্বজনীন ছাড় নয়। এ ধরনের বুকিং প্রায়ই বাতিলযোগ্য নয় এবং টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তাই হোটেলের অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। চতুর্থ কৌশল হলো শুধু কক্ষের বিজ্ঞাপিত মূল্য দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। হোটেলের ভাড়ার সঙ্গে ট্যাক্স, পার্কিং ফি, রিসোর্ট ফি এবং অন্যান্য চার্জ যোগ হতে পারে। ফলে প্রথমে কম মনে হওয়া কক্ষের চূড়ান্ত খরচ অন্য হোটেলের চেয়েও বেশি হতে পারে। বুকিংয়ের আগে সব খরচ মিলিয়ে তুলনা করলে প্রকৃত সাশ্রয় কত হচ্ছে, তা বোঝা সহজ হয়। একই সঙ্গে সকালের নাশতা, ইন্টারনেট, পার্কিং এবং বাতিলের শর্তও যাচাই করা উচিত। পঞ্চম কৌশল হলো বুকিংয়ের আগে বিকল্পগুলো ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে হোটেলের ভাড়া বেশি থাকলে কাছাকাছি অন্য দিন বা একই এলাকার অন্য হোটেলে কম দামে কক্ষ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, সম্মেলন বা ছুটির সময় নির্দিষ্ট শহরে চাহিদা বেড়ে গেলে আশপাশের দিনেও ভাড়া বেশি থাকতে পারে। তাই আগে থেকে মূল্য পর্যবেক্ষণ করা এবং একাধিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা ভ্রমণের বাজেট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম দেখা মূল্যেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করা। রবিবার রাতে থাকার ভাড়া দেখা, গুগলে হোটেলের মূল্য তুলনা, বিশেষ ছাড়ের অফার খোঁজা এবং অতিরিক্ত ফি যাচাই করার মতো পদক্ষেপ ভ্রমণকারীদের খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো একটি কৌশলই সব সময় সর্বনিম্ন ভাড়া নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের গন্তব্য, তারিখ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়াই সাশ্রয়ী হোটেল বুকিংয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।a

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৯:৪৪
বোস্টন ল্যাটিন একাডেমির সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক এডওয়ার্ড ব্রাউন

পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র

যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারেন বাড়ির মালিকেরা

আমেরিকায় ধনী হতে প্রয়োজন লাখ লাখ ডলারের সম্পদ

আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব

তুষারাবৃত পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হলো লুলুকে
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় তুষারধসের পর মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লুলু নামের একটি কুকুর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই দিনেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর তাকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় ৫০ ঘণ্টার উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে লুলুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার স্মৃতি হয়ে আছে।   লুলু একটি হ্যাস্কিডুডল জাতের কুকুর। তার মালিক লরেন পাডাওয়ার চলতি মাসের শুরুতে ফেসবুকে এই উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর লুলুর আরেক মালিক ব্রায়ান ও তাঁর এক hiking সঙ্গী আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ এলাকার চুগাচ স্টেট পার্কে পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ তুষারধস শুরু হয়। এতে ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গী পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট নিচে চলে যান। তুষারধসের ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পাডাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়, ব্রায়ানের সঙ্গীর চোয়াল ভেঙে যায়, মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকায় ফাটল ধরে এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁরা দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তাঁদের ছিল না। পরে উদ্ধারকারীরা ব্রায়ান ও তাঁর সঙ্গীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সময় লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুষারধসের মধ্যে কুকুরটি ঠিক কোথায় ছিল, সে আহত হয়েছে কি না কিংবা তুষারের নিচে চাপা পড়েছে কি না—কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। লুলুর স্বভাব সম্পর্কে পাডাওয়ার জানান, সে পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসে। সামনে এগিয়ে গিয়ে উঁচু জায়গা থেকে চারপাশ দেখতে পছন্দ করে। তবে স্বভাবে সে কিছুটা চুপচাপও। তুষারধসের পর এমন একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকায় তার অবস্থান খুঁজে বের করা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিকভাবেই। ঘটনার সময় পাডাওয়ার দেশের বাইরে ছিলেন। তাই দূরে থেকেও তিনি লুলুকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সংগঠিত করেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় লুলুর গলায় একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ ছিল। তবে সেই ডিভাইস থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফার অনুসন্ধানে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অনুসন্ধানে যুক্ত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী, পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, হেলিকপ্টারচালক এবং ড্রোন পরিচালনাকারীরা। লুলুর এয়ারট্যাগ থেকে পাওয়া সংকেত অনুসন্ধানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সংকেতের অবস্থান ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল না। প্রাথমিক অবস্থানও প্রকৃত জায়গা থেকে বেশ দূরে ছিল। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার নিয়ে অনুসন্ধানে বের হন আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট। আকাশ থেকে তুষারে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে লুলুকে দেখতে পান তাঁরা। এরপর হেলিকপ্টারটি প্রায় ২০ মিনিটের পথ দূরে অবতরণ করে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে লুলুর কাছে পৌঁছান উদ্ধারকারীরা। উদ্ধারকারীরা কাছে গিয়ে লুলুর নাম ধরে ডাকতেই সে সাড়া দেয়। কুকুরটিকে তখন সজাগ অবস্থায় দেখা যায় এবং সে ঘেউ ঘেউ করছিল। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত দেখতে পাওয়া অনুসন্ধানকারীদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। লুলুর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার একটি পায়ের আঙুল ভেঙেছে এবং একটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব আঘাত ছাড়া সে মোটামুটি সুস্থ ছিল। দীর্ঘ সময় তুষারাবৃত পাহাড়ে একা থাকার পরও তার বেঁচে ফেরাকে সৌভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন তার মালিক ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার সময় বিদেশে থাকা পাডাওয়ার দূর থেকেই উদ্ধার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লুলুকে খুঁজে পেতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেটের সাহস, দক্ষতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই কঠিন সময়ে মানুষের সহযোগিতা ও উদারতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লুলুর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্যই স্বস্তির নয়, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সবার জন্যও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে একটি পোষা প্রাণীকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সংকেতের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত চেষ্টা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাও তার উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৫৬
ফ্লাইট দেরিতে যাত্রীদের বাড়তে পারে খাবার ও হোটেল খরচ

১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস

মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্থবির মার্কিনিদের প্রকৃত মজুরি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন

শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ শহর ফ্রিসকো
শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বিকাশে এগিয়ে যেসব মার্কিন শহর, তালিকায় শীর্ষে ফ্রিসকো

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য কোন শহরগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো, তা নিয়ে প্রকাশিত নতুন এক সূচকে শীর্ষস্থান দখল করেছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। ২০২৬ সালের ‘আমেরিকা’স চাইল্ডহুড ওয়েল-বিইং ইনডেক্স’ অনুযায়ী, শিশুদের জীবনমানের বিভিন্ন সূচকে ভালো অবস্থানে রয়েছে টেক্সাসের একাধিক শহর। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে টেক্সাসের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। শিশুদের জন্য বসবাসের পরিবেশ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহৎ শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি, শিশুদের দারিদ্র্যের হার, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গা ও পার্কে প্রবেশের সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা। সূচকটির ফলাফলে শহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। কিছু শহর একাধিক ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও অন্য শহরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, স্কুলে অনুপস্থিতি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ার দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফ্রিসকো ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। শহরটির শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হারও তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির সূচকে শহরটি সর্বনিম্ন ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হারও এখানে সর্বোচ্চ—৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফ্রিসকো প্রথম নয়। শহরটির ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাসিন্দা ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। কিছু শহরে এই সুবিধা আরও বেশি। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকলেও শিশুদের জন্য পার্ক ও সবুজ জায়গায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর অবকাশ রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্লানোর স্কোর ৮৯ দশমিক ৬। শহরটিতে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যাককিনির স্কোর ৮২ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পড়ার দক্ষতার হার ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ। শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় আরও রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বয়েস সিটি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাদার হেন্ডারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা। তালিকায় যথাক্রমে তাদের অবস্থান পঞ্চম থেকে দশম। টেক্সাসের শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্য থাকা শহরগুলোর মধ্যে রাজ্যটির আটটি শহর শীর্ষ ২০-এ স্থান পেয়েছে। ফ্রিসকো, প্লানো ও ম্যাককিনির পাশাপাশি অস্টিন ১১তম, আরভিং ১২তম, আরলিংটন ১৫তম, করপাস ক্রিস্টি ১৯তম এবং গারল্যান্ড ২০তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সূচকের একেবারে নিচে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। ১০০-এর মধ্যে শহরটির স্কোর মাত্র ১৫ দশমিক ৬। সেখানে শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশু ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা বিশ্লেষণ করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার হার মাত্র ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শে আসার ঝুঁকির দিক থেকেও শহরটি সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। ডেট্রয়েটের পর নিচের দিকের পাঁচটি শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো, ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড, সিনসিনাটি ও কলম্বাস। অর্থাৎ, সবচেয়ে নিচে থাকা পাঁচটি শহরের মধ্যে তিনটিই ওহাইওতে অবস্থিত। তবে ডেট্রয়েটের বাসিন্দাদের ৮১ শতাংশেরও বেশি ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। এতে বোঝা যায়, একটি শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে শুধু একটি সুবিধা নয়, একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। এই সূচক তৈরিতে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সূচকের ফলাফল ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে রূপান্তর করে গড় স্কোরের ভিত্তিতে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত কিছু শহরের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে মধ্যম মান ব্যবহার করা হয়েছে; তাই সেসব শহরের অবস্থান সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূচকটি মূলত শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত শহরভিত্তিক পরিবেশ ও সুযোগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। এটি কোনো শহরের প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত জীবনমানের মূল্যায়ন নয়। তবে শিক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং খেলার জায়গায় প্রবেশের সুযোগ শিশুদের বিকাশে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে এই তথ্য সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:৪১
নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনে গুলি করে হ ত্যার পর পলায়ন, ফুটেজ দেখে ঘাতককে খুঁজছে পুলিশ

নিউইয়র্কে সাবওয়ে স্টেশনে গুলি করে হ ত্যার পর পলায়ন, ফুটেজ দেখে ঘাতককে খুঁজছে পুলিশ

ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় বাড়ি পরিষ্কারের সুযোগে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি, অভিযুক্ত কর্মী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী

যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট স্টোরে দুঃসাহসিক চুরি, কয়েক মিনিটেই হাইওয়েতে ধরা চার নারী

0 Comments