সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২০:৫৬
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের দোকান খুলেছে লুনা-বেল মেজা। ছোটবেলায় ঘরে আঠালো খেলনা স্লাইম তৈরি করার শখ থেকেই শুরু হয়েছিল তার ব্যবসা। সেই শখ এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী দোকানে। গ্র্যান্ডভিল শহরের রিভারটাউন ক্রসিংস শপিং মলে গত ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে তার স্লাইমের দোকান ‘মুজু স্লাইম শপ’। শুধু নিজের ব্যবসা গড়ে তোলাই নয়, অন্য শিশুদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় লুনা।

 

লুনার স্বপ্ন ছিল ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই নিজের একটি দোকান চালু করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুশি তার মা সালমা মেজাও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই লুনার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সে সে গোসলের সুগন্ধি বল তৈরির একটি উপকরণ সেট কিনেছিল। তখন থেকেই হাতে তৈরি জিনিস বানানো এবং সেগুলো বিক্রির প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরে স্লাইম তৈরির শখকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

 

স্লাইম হলো আঠালো, নরম ও প্রসারণযোগ্য একধরনের খেলনা, যা নানা রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যে তৈরি করা যায়। ছোটবেলায় ঘরের সোফা ও কম্বলে স্লাইম লেগে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। লুনার মা একসময় সেই শখকেই ব্যবসায় পরিণত করার উদ্যোগ নেন। পরিবারের সদস্যরা এখন স্লাইম তৈরি, প্যাকেটজাত করা ও বিক্রির কাজে সহযোগিতা করছেন। শুরুতে বিভিন্ন হস্তশিল্পের মেলা ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে পণ্য বিক্রি করত লুনা। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিচিতি বাড়তে থাকে।

 

লুনার মা সালমা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসতে শুরু করে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডেট্রয়েট, ইন্ডিয়ানা ও ইলিনয় থেকে অনেকে তাঁদের স্লাইমের দোকানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অথচ তখন তাঁদের স্থায়ী কোনো দোকান ছিল না। তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে স্লাইম তৈরির ব্যবস্থা করতেন, যেখানে ক্রেতারা নিজের পছন্দমতো স্লাইম তৈরি করতে পারতেন। সেই চাহিদা বাড়তে থাকায় স্থায়ী দোকান খোলার সুযোগ তৈরি হয়।

 

নতুন দোকানটিতে বিভিন্ন রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ১৩ ধরনের স্লাইম পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্লাইম তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাও। এতে তাঁরা বিভিন্ন উপকরণ বেছে নিয়ে নিজের মতো করে খেলনা তৈরি করতে পারবেন। দোকানটি শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়, শিশুদের সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশের একটি সুযোগ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

অন্য শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে লুনার পরিবার। দোকানে বিশেষভাবে তৈরি ছোট আকারের একটি স্লাইম বিক্রির পুরো আয় স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য প্লেগ্রাউন্ডজিআর’-কে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দোকানের সামনে শিশুদের জন্য একটি বাজার আয়োজন করা হবে, যেখানে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবে। দোকানের একটি তাকও অন্য শিশু উদ্যোক্তাদের পণ্যের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সালমা মেজা।

 

লুনার এই উদ্যোগে পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্লাইম তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পণ্য প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা পাশে রয়েছেন। আট বছর বয়সেই নিজের শখকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে লুনা যেমন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তেমনি অন্য শিশুদেরও নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাইছে।

 

সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে, মুজু স্লাইম শপের ওয়েবসাইট।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বোর্ডের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবস্থা চালু করেছে মমস ফর লিবার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজার স্কুল বোর্ডের কার্যক্রম এআই দিয়ে নজরদারি করবে অভিভাবক সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল জেলার শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে রক্ষণশীল অভিভাবক অধিকার সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’। ‘এমফোরএল অ্যাওয়্যার’ (M4L AWARE) নামের এই ব্যবস্থা প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর স্কুল বোর্ডের প্রকাশিত নথি স্ক্যান করবে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি, লিঙ্গবিষয়ক নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করে স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠাবে এটি। সংগঠনটির লক্ষ্য, কোনো প্রস্তাবের ওপর বোর্ডের ভোট হওয়ার আগেই অভিভাবকেরা যেন তা পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।   গত ৯ অক্টোবর ডালাসে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে নতুন এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। মমস ফর লিবার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা ডেসকোভিচের উদ্যোগে চালু হওয়া ব্যবস্থাটির নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যাজেন্ডা ওয়াচ, অ্যালার্ট, রেসপন্স অ্যান্ড এনগেজ’। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও জটিল আলোচ্যসূচির মধ্যে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন প্রস্তাব খুঁজে বের করাই এর প্রধান কাজ। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে স্থানীয় শাখাগুলোকে জানানো হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট স্কুল বোর্ডের বৈঠকের আগেই প্রস্তুতি নিতে পারে।   সংগঠনটির মতে, স্কুল বোর্ডের সভায় কী আলোচনা হবে, তা অনেক সময় অভিভাবকেরা যথাসময়ে জানতে পারেন না। দীর্ঘ নথি পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অনেকের পক্ষে মতামত জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এআই ব্যবস্থাটি এই সময়ের ঘাটতি কমাতে পারে। মমস ফর লিবার্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো আলোচ্যসূচির গভীরে থাকা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক চুক্তি কিংবা লিঙ্গনীতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা স্কুল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনমত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন।   এআই ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য সংগঠনটির আগের অবস্থানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা এই সংগঠন এখন স্কুলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই প্রযুক্তিটির সহায়তা নিচ্ছে। তবে সংগঠনটির বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জায়গা এআইয়ের দখল নেওয়া উচিত নয়। তাদের নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে বের করবে, আর কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বা উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিভাবকেরাই।   মমস ফর লিবার্টির দাবি, নতুন ব্যবস্থাটি আলোচ্যসূচির বিভিন্ন বিষয়কে অভিভাবকদের অধিকার ও সংগঠনটির অগ্রাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করবে। ফলে কোন প্রস্তাব নিয়ে আগে খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত বোঝা যাবে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্ভর করবে ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর। যে নীতিকে সংগঠনটি উদ্বেগজনক মনে করে, অন্য অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সেটিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। তাই এআইয়ের সতর্কবার্তা নিজে থেকে কোনো নীতির যথার্থতা বা ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ নয়।   এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শনাক্ত করতে পারে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভুলভাবে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটি অবশ্য বলছে, অভিভাবকেরা সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে মূল নথি পড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্কুল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।   মমস ফর লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি রক্ষণশীল সংগঠন। দেশটির সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। নতুন এআই ব্যবস্থা চালুর ফলে স্থানীয় স্কুলগুলোর নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ায় স্থানীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও মমস ফর লিবার্টির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২১:২৭
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু

সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার

ঘর পুড়েছে দাবানলের আগুনে, এবার সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার

বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি, নতুন নীতিতে চাপে বহু পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মেডিকেইড নীতির কারণে কিছু বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন। ফলে যেসব পরিবার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার খরচ বহন করতে পারে না, তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতির পরিবর্তনে কয়েক লাখ বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারগুলোর ওপর পড়তে পারে, যাদের নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা যোগ্য নিম্ন আয়ের মানুষসহ নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসার খরচ বহনে সহায়তা করে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে আগে সুবিধা পাওয়া কিছু অভিবাসী এখন আর একইভাবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না।   অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, স্বাস্থ্যবিমা হারালে অনেক পরিবার চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারে অথবা জরুরি বিভাগের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তনগুলোকে সরকারি ব্যয় ও সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   তবে সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা তাঁদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তর থেকে বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৬:৪০
ক্রেতাদের জন্য আবাসন এখনো ব্যয়বহুল।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম রেকর্ডে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন

বেকারভাতার আবেদনকারী

বেকারভাতার আবেদন কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া কঠিন হচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা

মেডিকেয়ারের নতুন নিয়মে বাড়তে পারে চিকিৎসা ব্যয়, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম এক মাসে ৯.১% বেড়েছে, চাপে পরিবারের বাজেট

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ।   সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খাতের এই বৃদ্ধি মাসিক সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। একই সময়ে আবাসন ব্যয়ও বেড়েছে।   পেট্রলের দাম বাড়লে গাড়িতে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী কর্মী, ছোট ব্যবসার মালিক, পণ্য পরিবহনকারী এবং সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া করেন এমন অভিভাবকদের ব্যয় বাড়তে পারে। তবে প্রত্যেক পরিবারের ওপর এর প্রভাব এক নয়; গাড়ির ব্যবহার, বসবাসের এলাকা এবং আয়ের ওপর খরচের পার্থক্য নির্ভর করে।   জ্বালানির ব্যয় শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের খরচ বাড়লে কিছু পণ্য ও সেবার দামেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে পেট্রলের দাম বাড়ার কারণে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসন সূচকও সেপ্টেম্বরে ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জ্বালানি ও বাসস্থানের ব্যয় একসঙ্গে বাড়লে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হতে পারে।   পরিবারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাড়ির যাত্রা পরিকল্পনা করে নেওয়া, কাছাকাছি কাজ একসঙ্গে সেরে ফেলা এবং বিভিন্ন পেট্রল স্টেশনের দাম তুলনা করা সহায়ক হতে পারে। তবে যাতায়াতের বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দূরত্ব ও সময়ও বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:৪৬
সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করা হয়েছে

নিউইয়র্কে আবাসন সংকট মোকাবিলায় ব্রুকলিনে ৮৩৯টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের উদ্যোগ

হ্যালোইনের কুমড়োভর্তি ট্রাক উল্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তিতে চালকরা

হ্যালোইনের কুমড়োভর্তি ট্রাক উল্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তিতে চালকরা

নিউইয়র্ক শহরে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুযোগ বাড়াতে সিটিবাইক পরিষেবা সম্প্রসারণ সম্পন্ন

নতুন করে নিউইয়র্কে আরও ৭ এলাকায় সিটিবাইক, সাইকেল পরিষেবা বাড়াচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ

0 Comments