আমেরিকা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ৩০, ২০২৬ ২:৯
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে।


গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়?


বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন।


নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।”


উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ নিউজ মিয়ামি
এফবিআইয়ের শীর্ষ প্রতারকের তালিকায় ফ্লোরিডার নারী, হাতিয়েছেন ৩২ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল থেকে ৩২ মিলিয়নেরও বেশি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে এলেইন এসকো নামের দক্ষিণ ফ্লোরিডার এক নারী এখন আইনশৃংখলা বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্প্রতি প্রথমবারের মতো শীর্ষ প্রতারকদের যে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রথম আটজন পলাতক আসামির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এই নারী।   ‘অ্যানি’ ও ‘অ্যানি পামার’ ছদ্মনামেও পরিচিত এলেইনের বিরুদ্ধে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারবার্তা জালিয়াতি (ওয়্যার ফ্রড) এবং একাধিক মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশাল অঙ্কের এই সরকারি অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২০২৫ সালের ২২ মে তার বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এরপর ৫ জুন তাকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সেদিন বিচারকের সামনে উপস্থিত হননি। সর্বশেষ গত ৩ জুন ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে তাকে দেখা গিয়েছিল, এরপর থেকেই তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার সাথে এই পলাতক আসামির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখানে তিনি আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জোরদার তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এবং আসামিকে ধরতে এফবিআই এলেইন এসকোর শারীরিক বর্ণনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলাতক এই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৪০ পাউন্ড। কালো চুল ও বাদামী চোখের এই আসামির শরীরের একাধিক স্থানে, বিশেষ করে বাম হাতের কবজি, পেট, পিঠ এবং ডান কাঁধে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য সর্বসাধারণের কাছে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৯:১৮
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে দাগি অবৈধ অভিবাসীদের তালিকা প্রকাশ, গভর্নর ও মেয়রকে দুষছে আইস

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

মিনেসোটায় বিলিয়ন ডলারের আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের মুখে গভর্নর টিম ওয়ালজ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

ছবিঃ সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল
অসহায় সোহেলকে অটোরিকশা উপহার দিলেন সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল

হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আবারও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আলহাজ্ব সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার বিকেলে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাজল হতদরিদ্র ও নিরীহ যুবক সোহেলের জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে তাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন। কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে একান্ত নিভৃতে অসহায় সোহেলের হাতে এই অটোরিকশার চাবি তুলে দেন তিনি। এর মাধ্যমে দিশেহারা একটি পরিবারের উপার্জনের পথ সুগম করে দিলেন এই সমাজসেবক।   তবে এই উদ্যোগটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ নীরবে দেশের অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোম্পানীগঞ্জসহ সারাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যেকোনো বিপদে বরাবরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং গরীব-দুঃখী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে সুপরিচিত। আর্তমানবতার সেবায় তার এই ধারাবাহিক ও নিঃস্বার্থ কার্যক্রমের কারণে অনেকেই তাকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।   পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনেও মোহাম্মদ কাজল একজন অত্যন্ত সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি আমেরিকা বাংলা’র উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাস জীবনে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মেরিল্যান্ড স্টেটে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। হাজার মাইল দূরে প্রবাসে অবস্থান করলেও নাড়ির টানে তিনি প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের কল্যাণে এভাবেই নীরবে নিজের অবদান রেখে চলছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৫:২৭
ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ কি ডুবাচ্ছে ট্রাম্পকে? জনসমর্থন নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি

ছবি: সিএনএন

নিউইয়র্ক শহরে পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে আহত ৫, সন্দেহভাজন আটক

ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচন: জালিয়াতির প্রমাণ দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা ব্রক পিয়ার্সের

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ওয়াশিংটনে পথ বন্ধ হচ্ছে নেতানিয়াহুর? ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্প যেখানে দ্রুত সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে নেতানিয়াহু সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।   রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ এবং ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে নেতানিয়াহুর নীতির প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনে তার রাজনৈতিক পরিসর আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মতবিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি বড় সামরিক হামলা ঠেকাতে তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তার দাবি, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিলেন যে একতরফা পদক্ষেপ নিলে ইসরাইলকে শেষ পর্যন্ত একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।   ট্রাম্পের এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের নীতিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রায় নিঃশর্ত সমর্থনের ধারা বজায় থাকলেও এবার ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার প্রশাসনের অবস্থানই নির্ধারক হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা।   প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তার নেতৃত্ব নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন এখন তার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখালে তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তার সমর্থকেরা। এ কারণে ট্রাম্পের চাপ থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু ইরান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলার পর বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখা হয় বলে জানা যায়। এরপরও নেতানিয়াহু ইরান ও লেবাননের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমোদন দেন। ট্রাম্প পরে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে অনুরোধ করেছিল যেন তিনি নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখেন। এরপর তিনি সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   মার্কিন সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। তার মতে, রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের একক প্রভাব এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।   তবে হোয়াইট হাউস দুই নেতার সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের সংকটের কথা অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী অবস্থানে আছে।   এদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও অভিযোগ করেছেন, তার সময়ে ইসরাইলের নীতিনির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা ইসরাইলের রয়েছে। তার ভাষ্য, ইরান ও হিজবুল্লাহ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে তারা হামলা চালাবে, কিন্তু ইসরাইল জবাব দিতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না।   পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   কিছু সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ইরান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।   ইসরাইলের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও নেতানিয়াহুর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অতীতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা আগের মতো কার্যকর নেই।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান। আর নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর পুরোনো কৌশল ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২৩:২৩
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

বর্ণাঢ্য পরিবেশে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ । ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের বর্ণাঢ্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন

0 Comments