আমেরিকা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ৩০, ২০২৬ ২:৯
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে।


গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়?


বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন।


নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।”


উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
হোয়াইট হাউস
হোয়াইট হাউসে বড়দিনের সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ! আবেদন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে ২০২৬ সালের বড়দিন উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সাজসজ্জার কাজে অংশ নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরির যোগ্য নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।  হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচিতদের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের বড়দিনের সাজসজ্জার কাজে অংশ নিতে হবে। অন্যদিকে স্কুল ব্যান্ড, কয়ার এবং অন্যান্য ছুটির মৌসুমভিত্তিক পরিবেশনা দল ডিসেম্বরজুড়ে আয়োজিত ‘হলিডে ওপেন হাউস’-এ পারফর্ম করার সুযোগ পাবেন।  সাজসজ্জার কাজে অংশ নিতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং প্রত্যেককে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের নিজ নিজ যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যয় নিজেকেই বহন করতে হবে। নির্বাচিতদের নিরাপত্তা যাচাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।  হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সাজসজ্জার কাজ ২৩ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। কিছু স্বেচ্ছাসেবীকে সিঁড়িতে কাজ করা, ভারী সামগ্রী বহন করা এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার মতো শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।  স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবেশনা দলের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টা (ইস্টার্ন টাইম)। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের ২ অক্টোবরের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।  প্রতি বছর শত শত স্বেচ্ছাসেবী হোয়াইট হাউসের বড়দিনের সাজসজ্জায় অংশ নেন। বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই আয়োজন দেখতে ডিসেম্বরজুড়ে হাজারো দর্শনার্থী হোয়াইট হাউস পরিদর্শনে আসেন। ২০২৬ সালের বড়দিনের থিম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ৬:২০
যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে মার্সিডিজ-বেঞ্জ!

যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে মার্সিডিজ-বেঞ্জ! নতুন বিল ঘিরে বাড়ছে জোর সমালোচনা

ডিমের সংক্রমণে দ্রুত বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ অঙ্গরাজ্যে ৯৮ জন আক্রান্ত

ডিমের সংক্রমণে দ্রুত বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ অঙ্গরাজ্যে ৯৮ জন আক্রান্ত, বড় পরিসরে ডিম প্রত্যাহারের নির্দেশ

'সবাইকে মেরে ফেলতে হবে’ হত্যাকাণ্ডের আগেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে রেস্তোরাঁ মালিকের ভয়ংকর মন্তব্য

'সবাইকে মেরে ফেলতে হবে’ হত্যাকাণ্ডের আগেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে রেস্তোরাঁ মালিকের ভয়ংকর মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে একটি সন্তান, তাতেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার খরচ! তালিকায় শীর্ষে মেরিল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রে একটি সন্তান, তাতেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার খরচ! তালিকায় শীর্ষে মেরিল্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশুকে জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত লালন-পালন করতে এখন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিমা, পোশাক, পরিবহন ও শিশু পরিচর্যার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সন্তান প্রতিপালনের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।    লেন্ডিংট্রির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি শিশুর পেছনে বছরে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৭ ডলার। তবে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে খরচ আরও বেশি, কারণ এ সময় ডে কেয়ার ও পরিচর্যা ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য হাওয়াই। সেখানে ১৮ বছরে একটি শিশুর পেছনে আনুমানিক ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ ডলার খরচ হয়। এর পরেই রয়েছে আলাস্কা ও মেরিল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি, আলাবামা ও সাউথ ডাকোটা।    ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলেও শিশু লালন-পালনের ব্যয় দেশের অনেক অংশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে আবাসন ও শিশু পরিচর্যার খরচ এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।    গবেষকরা হিসাব করতে গিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুর পোশাক, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, ডে কেয়ার এবং প্রযোজ্য কর-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সন্তান লালন-পালনের মোট ব্যয় এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।    শিশু পরিচর্যার ব্যয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি নবজাতক ও চার বছর বয়সী একটি শিশুর বার্ষিক পরিচর্যা ব্যয় গড়ে ২৮ হাজার ডলারের বেশি। এই ব্যয়কে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন, যা অধিকাংশ পরিবারের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, ডে কেয়ারের মূল্য এবং আবাসন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালন অনেক পরিবারের জন্য আগের চেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা

যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা, নতুন অভিনব উদ্যোগ

গ্রিন কার্ডের আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে

গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন দেখছেন? আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে এলাইলাম পাওয়া আরও কঠিন! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া

আমেরিকার উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাবি তরুণী
আমেরিকার উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাবি তরুণী, ইতিবাচক বার্তা মুসলিম কমিউনিটিতে

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় বৈচিত্র্যের একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে। জর্জিয়ার অন্যতম বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি তাদের কম্পিউটিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে হিজাব পরা এক তরুণীকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে কম্পিউটারের সামনে ওই তরুণীর ছবি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের তাদের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানাচ্ছে।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিতে লেখা হয়েছে, “Explore KSU’s Master’s Degrees in Computing।” সেখানে অনলাইন, সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস করার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটিংয়ের মাস্টার্স পর্যায়ে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আটলান্টার উত্তরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির এসব প্রোগ্রাম প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।   বিজ্ঞাপনটিতে হিজাব পরা একজন নারীকে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রচারণার দৃশ্যমান মুখ হিসেবে ব্যবহার করায় বিষয়টি মুসলিম কমিউনিটির জন্যও ইতিবাচক প্রতিনিধিত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় হিজাবি নারীর উপস্থিতি দেশটির উচ্চশিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দৃশ্যমানতার একটি প্রতিফলন।   তবে ছবিতে থাকা তরুণীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞাপনে কোনো তথ্য দেয়নি। তিনি হিজাব পরিহিত একজন তরুণী এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রচারণায় তাকে সেভাবেই দেখা যাচ্ছে।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি ছোট কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফল সেমিস্টারে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৫১ হাজার ৩৭৫ জন। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ৫ হাজার ৩০৬ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে এটি জর্জিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়।   মেট্রো আটলান্টার কেনেসো ও মেরিয়েটায় বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। ১১টি কলেজের মাধ্যমে ১৯০টির বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স, ডক্টরাল ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্নেগি শ্রেণিবিন্যাসে কেনেসো স্টেট একটি আরটু ডক্টরাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি।   বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে মোট শিক্ষার্থী বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচারণায় বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা নতুন নয়। তবে প্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্রের উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় হিজাব পরা একজন নারীকে সামনে আনা মুসলিম নারীদের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি শিক্ষাঙ্গনের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ০:৩৩
অবশেষে ফাঁস হলো বাইডেনের গোপন রেকর্ডিং

অবশেষে ফাঁস হলো বাইডেনের গোপন রেকর্ডিং! কী আছে সেই অডিওতে? নতুন বিতর্ক

ছবি:  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতীকীভাবে তৈরি করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে সার্কাসের খেলা দেখাতে গিয়ে শিল্পীর ঘাড়ে ঢুকে গেল তীর, হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হলো হাসপাতালে

সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান ও পরিবার

নিউইয়র্কে ক্যানসারের সঙ্গে তিন মাসের লড়াই শেষে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খানের ইন্তেকাল

0 Comments