২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।
কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি।
বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যম দামের একটি পুরোনো একক পরিবারের বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট লাগবে ৮৪ হাজার ৫৪০ ডলার। এটি দেশটির একটি পরিবারের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৯৭ শতাংশ। তরুণদের বাড়ি কেনার বাধা নিয়ে ফক্স নিউজে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের হিসাব সর্বশেষ আবাসন তথ্য দিয়ে মিলিয়ে দেখলে এই চিত্র পাওয়া যায়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এ ধরনের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৭০০ ডলার। অন্যদিকে, আদমশুমারি বিভাগের হিসাবে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ডাউন পেমেন্টের হিসাবটি জাতীয় মধ্যম দাম ও আয় দিয়ে করা তুলনা; কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতার খরচ এতে বোঝানো হচ্ছে না। আশির দশকে মর্টগেজের সুদ বেশি ছিল বলে সে সময় বাড়ি কেনাও কঠিন ছিল। তবে বাড়ির দাম ও আয়ের অনুপাত ছিল ভিন্ন। সরকারি আবাসন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে পুরোনো একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৭২ হাজার ৪০০ ডলার। এর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৮০ ডলার, ছিল তখনকার পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ। একই ধরনের বাড়ির জন্য এখন সেই অনুপাত প্রায় ৯৭ শতাংশ। বাড়ির জন্য টাকা জমানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তিও ক্রেতাদের হিসাবে রাখতে হচ্ছে। ফ্রেডি ম্যাকের ১৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর সঙ্গে সম্পত্তিকর, বিমা ও বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ হয়। তবে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক নয়। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা কিছু ঋণ কর্মসূচিতে ৩ শতাংশ দিয়েও বাড়ি কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়ে এবং সাধারণত মাসিক প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ দিতে হয়।
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন
গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেএআইএফ ফাউন্ডেশন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের ১ মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মাত্র ৫১ শতাংশের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। একই তুলনায় শ্রীলঙ্কান পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার ৬৪ শতাংশ, ভারতীয় পরিবারের ৬২ শতাংশ, পাকিস্তানি পরিবারের ৬০ শতাংশ এবং নেপালি পরিবারের ৫৫ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাড়ির মালিকানার এই ব্যবধানের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারের আয়ের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। একই সময়ে এশীয়-প্রধান পরিবারের সামগ্রিক মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই শ্রেণির পরিবারের মধ্যম আয়ের ব্যবধান ২৭ হাজার ২০০ ডলার। মধ্যম আয় বলতে বোঝায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারের অর্ধেকের আয় নির্ধারিত অঙ্কের নিচে এবং বাকি অর্ধেকের আয় তার ওপরে। এটি গড় আয়ের সমতুল্য নয়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠীর আয়ের পরিসংখ্যানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতীয়-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কান-প্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে তা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ডলার। পাকিস্তানি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ১০০ ডলার। এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাড়ির মালিকানার হার তুলনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আয় ও আবাসন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তবে শুধু আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে বাড়ির মালিকানার ব্যবধানের সম্পূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শ্রীলঙ্কান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ভারতীয় পরিবারের তুলনায় কম হলেও তাদের বাড়ির মালিকানার হার বেশি। শ্রীলঙ্কান পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৬৪ শতাংশ, আর ভারতীয় পরিবারের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের পরিমাণই বাড়ির মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। পরিবারের সঞ্চয়, বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা, মর্টগেজ পাওয়ার যোগ্যতা, ক্রেডিট স্কোর, ঋণের শর্ত এবং বসবাসের এলাকার বাড়ির দামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানতে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন। বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বসবাসের ভৌগোলিক চিত্রেও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুধু বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়া প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ শতাংশ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করতেন। এ ছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে অঙ্গরাজ্য ও মহানগর এলাকাভেদে বাড়ির মালিকানার হার কতটা আলাদা, তা নির্ধারণের জন্য পৃথক আঞ্চলিক তথ্য প্রয়োজন। আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ১৪ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এশীয় জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে বাড়ির মালিকানা কম থাকার একমাত্র কারণ দারিদ্র্য বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের শর্ত, আবাসন ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে বাড়ি কেনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এখানে বাড়ির মালিকানার পরিসংখ্যানটি কী বোঝায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ৫১ শতাংশ বলতে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যে কত শতাংশ পরিবারের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, তা বোঝানো হয়েছে। এটি মোট বাংলাদেশি ব্যক্তির মধ্যে কত শতাংশ বাড়ির মালিক, সেই হিসাব নয়। একইভাবে এই হার দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠী কতজন নতুন বাড়ি কিনেছে, কত দ্রুত বাড়ি কিনছে কিংবা তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কত, তা নির্ধারণ করা যায় না। পিউ রিসার্চ সেন্টার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনাযোগ্য তথ্য পেতে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণাটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হলেও এর পরিসংখ্যানকে ২০২৬ সালের সরাসরি বর্তমান হার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ও এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক মধ্যম আয়ের তুলনায় কম। এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের আবাসন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। তবে এই ব্যবধানের কারণ নির্ধারণ এবং কীভাবে আরও বেশি বাংলাদেশি পরিবার বাড়ির মালিক হতে পারে, তা বুঝতে মর্টগেজ পাওয়ার সুযোগ, সঞ্চয়, বাড়ির দাম, আয় ও সম্পদের ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী প্রেমিকাকে হত্যার পর আ ত্মহ ত্যার নাটক, বিচারের মুখে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
শিকাগোয় শপিং মলের পুকুরে নারীকে ডুবিয়ে হ ত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন পথচারীরা
ফ্লোরিডায় পাঁচ বিড়ালছানার করুণ পরিণতি, জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অথচ বিভিন্ন সময়ে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে নিয়োগের সময় আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক পোস্ট ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী জাকারিয়া ২০১১ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে তিনি পরবর্তী সময়ে অন্য কোথাও বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রথম বিস্তারিত প্রশ্ন তোলে সংবাদমাধ্যম পপুলার ইনফরমেশন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির আইন পেশায় অনুমোদিত ব্যক্তিদের তালিকা পরীক্ষা করেও জাকারিয়ার নাম পাওয়া যায়নি। তাঁর বিবাহপূর্ব নাম ব্যবহার করেও অনুসন্ধান চালানো হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের পৃথক অনুসন্ধানেও তাঁর নামে আইন পেশার লাইসেন্স থাকার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেটি জাকারিয়া কিংবা তাঁর আগের নাম কেট শ্যারন ব্ল্যাক ব্যবহার করে ওই অঙ্গরাজ্যে আইন পেশার লাইসেন্স পাওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। একইভাবে তাঁর নাম ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের তালিকাতেও পাওয়া যায়নি। তবে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন এবং আইন পেশায় কাজ করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দুটি পৃথক বিষয়। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পপুলার ইনফরমেশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ফক্স নিউজের অন্তত ১৮টি অনুষ্ঠানে তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেশাগত পরিচিতিতেও তিনি আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করেছেন। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া জানান, আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেকে কীভাবে পরিচয় দেবেন, তা জানতে তিনি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ বা ‘এসকোয়ার’ পরিচয় ব্যবহার না করতে বলা হলেও ‘লইয়ার’ পরিচয় ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই বক্তব্য তাঁর নিজের ব্যাখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও পড়েন জাকারিয়া। তাঁকে কোন অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি চীনে যাওয়ার সময়ের কথা উল্লেখ করেন। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, প্রশ্নটি তিনি ঠিকমতো শুনতে পাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বোঝানো যে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি চীনে গিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চীনের বেইজিংয়ে ঝং লুন ল ফার্মের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমসংক্রান্ত দলে কাজ করেন জাকারিয়া। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলে ওই প্রতিষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিক গ্রেনেলের প্রতিষ্ঠিত ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়া সংগঠনে জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্যও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব পদে তাঁর কাজের ধরন এবং আইন পেশার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি। বুধবার সংগঠনটি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের কাছে অভিযোগ জমা দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানায়। সংগঠনটির দাবি, আইন পেশার অনুমোদন না থাকলে নিজেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে উপস্থাপন করা ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তবে স্টেট বার গোপনীয়তাসংক্রান্ত বিধির কারণে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি। জাকারিয়া অবশ্য নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, তিনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজে যুক্ত ছিলেন। হোয়াইট হাউসও তাঁর চীনে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তাঁর আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পাওয়া যায় না। সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং আইন পেশায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া প্রয়োজন। তবে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আইন পেশা পরিচালনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকারিয়ার পেশাগত পরিচয় নিয়ে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। তাঁর বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশার লাইসেন্স থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জাকারিয়া নিজের আন্তর্জাতিক আইনি কাজের অভিজ্ঞতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
অটোমেশনের পথে মার্কিন সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগার; চাকরি হারাচ্ছেন ৩ হাজার কর্পোরেট কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাড়তি ব্যবস্থা