ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের যে লক্ষ্য তাঁর প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনুমানিক ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে তা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়কার বার্ষিক গড়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি হবে। তবে বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়লেও ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এমপিআইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় আটক বা শনাক্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জনকে সীমান্তে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়। আরও প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জনকে প্রথমে সীমান্তে আটক করার পর অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়। বাকি প্রায় ৩ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে আটক করে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্তের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের হারও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। এমপিআইয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বহিষ্কারের ২৮ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে আটক করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এই হার বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়। জুলাই মাসে তা আরও বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়। একই সময়ে দেশের ভেতর থেকে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের মাসিক গড় প্রথম তিন মাসের প্রায় ৮ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ে প্রায় ১৯ হাজারে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বহিষ্কৃতদের বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এমপিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মাসে মোট বহিষ্কারের প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর যাঁরা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাঁদের ৭১ শতাংশের কোনো ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল না। আর অন্তত ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করা বহিষ্কৃতদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনেক অভিবাসীও এই অভিযানের আওতায় পড়েছেন।
এমপিআইয়ের বিশ্লেষণটি তৈরি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসনবিষয়ক গবেষক মার্ক রোজেনব্লাম। এ জন্য তিনি প্রকাশ্য সরকারি তথ্য, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে অভিবাসনবিষয়ক বিস্তারিত মাসিক পরিসংখ্যান প্রকাশ সীমিত করায় বহিষ্কারের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে গবেষকদের বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হিসাব করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ৩০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। প্রশাসনের হিসাবে, তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে নিউজউইককে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষকে বহিষ্কার এবং আরও ১১ লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সরকারের এই হিসাবের সময়সীমা এমপিআইয়ের বিশ্লেষণের চেয়ে দীর্ঘ। স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের দাবির পূর্ণাঙ্গ তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে বিপুল অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অভিবাসন আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বড় বাধা হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের উৎসদেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে সমন্বয় করাও কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি আটক ও বহিষ্কারসংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলছে।
এমপিআইয়ের যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসননীতি কর্মসূচির পরিচালক ডরিস মাইসনার বলেন, অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার বাড়াতে যখন নজিরবিহীন অর্থ ও নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন অভিবাসন কার্যক্রমের প্রকৃত প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে এই বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার বহিষ্কারের যে রেকর্ড ছিল, বর্তমান সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।
সূত্র: মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ, নিউজউইক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটির একটি গির্জায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। চোরেরা গির্জাটিতে ঢুকে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বেশ কিছু ধর্মীয় সামগ্রী নিয়ে গেছে। খোয়া যাওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে ক্রুশ, রুপার পানপাত্র এবং দেয়ালে ক্রুশের সঙ্গে স্থাপিত যিশুর একটি ধাতব মূর্তি। এসব সামগ্রীর অনেকগুলোই গির্জাটির সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যুক্ত ছিল। ধর্মীয় উপাসনায় ব্যবহৃত এসব সামগ্রীর গুরুত্ব শুধু আর্থিক মূল্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে গির্জার সদস্যদের কাছে এগুলো ঐতিহ্য, স্মৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ফলে সামগ্রীগুলো হারিয়ে যাওয়ায় গির্জাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেয়ালে স্থাপিত যিশুর মূর্তিটি নিয়ে উদ্বেগের কারণ, এটি গির্জার পরিচিত ধর্মীয় নিদর্শনগুলোর একটি ছিল। তবে ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, গির্জাটির নাম কী, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য কত এবং এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। গির্জার ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী চুরির ঘটনায় সেগুলোর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এই ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে চুরির পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার
নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের টোপেকা শহর
প্যাটারসন শহরের রেন্ট লেভেলিং বোর্ডের কমিশনার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ শাহরিয়ার সারওয়ার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যাটারসন শহরের মেয়র অ্যান্ড্রু সায়েহ, কাউন্সিলম্যান শাহিন খালিক, ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান, কাউন্সিলম্যান ওমর, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জোয়েল, শিক্ষা বোর্ডের কমিশনার আবদুর রশিদ, প্যাটারসন শহরের কমিশনার বদরুল হাসান ও আলম, কমিউনিটি নেতা মুনিম খালিকসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার সারওয়ারের বাবা এবং তাঁর দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেয়র অ্যান্ড্রু সায়েহ তাঁর বক্তব্যে প্যাটারসনের বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং এই কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন। কাউন্সিলম্যান শাহিন খালিক শাহরিয়ার সারওয়ারকে এই পদে মনোনীত করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শাহরিয়ারকে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে কাজ করার সুযোগ করে দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় কাউন্সিলওম্যান মারিসা ডেভিলস এবং মেমিসা মিম ফোনের মাধ্যমে শাহরিয়ার সারওয়ারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। শপথ গ্রহণের পর নতুন কমিশনার শাহরিয়ার সারওয়ার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্যাটারসন রেন্ট লেভেলিং বোর্ডে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। আমি আমাদের বাসিন্দাদের কথা শুনতে, সহকর্মী কমিশনারদের সঙ্গে কাজ করতে এবং সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে আমাদের কমিউনিটির সেবা করতে উন্মুখ হয়ে আছি।” তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে সমর্থন করেছেন এবং এই দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। প্যাটারসন শহরের সেবা করতে পেরে আমি গর্বিত।” শাহরিয়ার সারওয়ারের এই নিয়োগকে প্যাটারসনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিশনার তাঁর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্যাটারসনের বাসিন্দাদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
৫০ হাজারের বেশি মার্কিন করদাতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফেরত দিচ্ছে আইআরএস, সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার
নিউ মেক্সিকোয় স্কুলের বাইরে শিক্ষককে গুলি, অভিযুক্ত ১৩ বছরের কিশোর
স্টুডেন্ট লোন মওকুফে নতুন বিধিনিষেধের আপিল প্রত্যাহার করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘোষিত অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো মাদকাসক্তির চিকিৎসাকেন্দ্র, রক্তনালির চিকিৎসা, জীবনাবসান পর্যায়ের রোগীদের সেবাকেন্দ্র বা হসপিস এবং ফার্মেসির বিলসংক্রান্ত কয়েকটি পৃথক মামলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মামলায় ভুয়া মাদকাসক্তি চিকিৎসার নামে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানে ১৬০ কোটি ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গৃহহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আনার অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, যাতায়াত, থাকার জায়গা, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের আনা হতো। পরে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়েও বিমা প্রতিষ্ঠানে সেবার বিল পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আরেক মামলায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ায় সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেছেন এক ব্যক্তি। পৃথক মামলায় একজন সার্জন ও একজন কাইরোপ্র্যাক্টরের বিরুদ্ধে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করিয়ে মেডিকেয়ারে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, এসব অস্ত্রোপচারে কিছু রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনটি হসপিস সেবাসংক্রান্ত মামলায় মোট ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া বিলের অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেইড কর্মসূচি ‘মেডি-ক্যাল’-এ প্রায় ২৭ কোটি ডলারের ভুয়া ওষুধের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে আগে অভিযুক্ত এক নারীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ; ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেস।
নাগরিকত্বের আবেদন ১৮ মাস ঝুলে থাকায় আদালতে গ্রিন কার্ডধারী
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবিতে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সমাবেশ