ফ্লোরিডায় ছাত্রকে যৌ ন নিপীড়নের দায়ে শিক্ষিকার ৩০ মাসের কারাদণ্ড, স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ ছাত্রকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। জঘন্য এই ঘটনার শিকার হয়ে ওই কিশোর ঈশ্বরের ওপর থেকে নিজের বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন। ব্রুক অ্যান্ডারসন নামের ২৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা বর্তমানে যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাবাসের দুই মাস পার হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে এই নতুন দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনাটির শুরু হয়েছিল খুব স্বাভাবিকভাবেই। টাম্পার রিভারভিউ হাই স্কুলে পড়ার প্রথম দুই বছর ওই ছাত্র বিজ্ঞান শিক্ষিকা ব্রুক অ্যান্ডারসনের ক্লাসরুমেই দুপুরের খাবার খেতেন। তবে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষিকা ধীরে ধীরে ছাত্রটির সাথে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে শিক্ষিকা তাকে অত্যন্ত অশালীন ও যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন, যা ছাত্রটির হাইস্কুলের শেষ বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর গত বছরের এপ্রিল মাসে (২০২৫) ওই ছাত্রকে আপত্তিকর ছবি পাঠান এবং মে মাসে ক্লাসরুমের ভেতর তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রটির বয়স সম্মতি প্রদানের আইনি বয়সের (Age of consent) চেয়ে এক বছর কম ছিল। এর আগে ফৌজদারি আদালতে তিনটি বেআইনি যৌন কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগে ওই শিক্ষিকা নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঘন্য এই যৌন নির্যাতনের কারণে ওই কিশোর স্থায়ী মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন, যার ফলে ঈশ্বরের ওপর তার বিশ্বাসও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য রোড আইল্যান্ডে এক বিলাসবহুল পরিবেশে বেড়ে ওঠা ওই শিক্ষিকার কাছে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়াও, এমন একজন বিকৃত মানসিকতার শিক্ষিকাকে স্কুলে নিয়োগ দিয়ে চরম অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় হিলসবরো কাউন্টি স্কুল বোর্ডের কাছেও আরও ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। শিক্ষিকা নিজে থেকে ফৌজদারি অপরাধের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় বর্তমান ক্ষতিপূরণ মামলায় ভুক্তভোগী কিশোরের অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় চতুর্থ পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেসের জন্য নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন অ্যাবি কনলি নামের এক নারী। তাঁদের আগে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাইলারের অসুস্থতার কথা জেনে ডোনার হওয়ার পরীক্ষা করান অ্যাবি। প্রতিস্থাপনের পর দুজনই সেরে উঠছেন বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে পিপল। আইওয়ার পোল্ক সিটির বাসিন্দা কাইলারের ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিটি স্ক্যানে সেখানে ১৫টির বেশি টিউমার ধরা পড়ে। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। কয়েক মাসের চিকিৎসায় টিউমারগুলো ছোট হতে শুরু করলে লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়। অ্যাবির সন্তান ও কাইলারের সন্তানরা একই স্কুলে পড়ে। অনলাইনে এই পরিবারের পরিস্থিতি অনুসরণ করছিলেন অ্যাবি। সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে তিনি মায়ো ক্লিনিকে পরীক্ষা করান এবং ডোনার হিসেবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। অ্যাবির নিজের পরিবারেও প্রতিস্থাপনের অপেক্ষার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বাবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২১ সালে মারা যান। বাবার সেই অভিজ্ঞতা কাইলারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ডোনার পাওয়া গেছে জানলেও শুরুতে তাঁর পরিচয় জানতেন না কাইলার ও তাঁর স্ত্রী এমিলি। এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অ্যাবি চিঠি দিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। অস্ত্রোপচারের আগেই দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ হয়। পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কাইলার ও অ্যাবি দুজনই সুস্থ হওয়ার পথে রয়েছেন। চিকিৎসার সময় থাকার খরচ মেটাতে হেস পরিবার তহবিল সংগ্রহও শুরু করেছে। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, লিভার পুনরায় বেড়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে বলে সুস্থ জীবিত ব্যক্তি এর একটি অংশ দান করতে পারেন। তবে ডোনার ও গ্রহীতার উপযুক্ততা নির্ধারণে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন। কোলোরেক্টাল ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়া কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন বিবেচনা করা হয়। মায়ো ক্লিনিক জানিয়েছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং প্রচলিত অস্ত্রোপচারে তা সরানো সম্ভব কি না, এসব বিষয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাইলারের প্রতিস্থাপনকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলির আঘাতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, কিশোর সহ ৫ গ্রেফতার
বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি
নিউইয়র্কে এমটিএর বাস অপারেটর পদে আবেদন চলছে, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই দশক বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স ও দুই সন্তানের মা মরিন ওয়ানজিরু এনগুরেকে। পরিবারের সঙ্গে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোয় আইসিইর কার্যালয়ে নির্ধারিত সাক্ষাতে গিয়ে আটক হন তিনি। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের বেশি আটক থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে কেনিয়ায় পাঠানো হয়। এনগুরে ২০০৬ সালের নভেম্বরে স্টুডেন্ট ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্স হিসেবে কর্মজীবন গড়ে তোলেন। তিনি মার্টিনেজের কন্ট্রা কস্টা কাউন্টি রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে কাজ করেছেন এবং কাউন্টির করোনাভাইরাস মোকাবিলার কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর স্বামী পিটার মুচেন্দু সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন অভিযানের মধ্যে জানুয়ারি থেকেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটকের আগেই পরিবারটি কানাডাকে বেছে নেয়। নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগও পেয়েছিলেন এনগুরে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, এনগুরে স্টুডেন্ট ভিসায় অনুমোদিত থাকার সময় অতিক্রম করেছিলেন। বিভাগের দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একজন অভিবাসন বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ দেন। তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে বলে পরিবার ও সমর্থকদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ। এনগুরের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিউজউইককে জানিয়েছেন, তাঁকে ফেরত পাঠানোর পর স্বামী ও দুই সন্তানও কেনিয়ায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। পরিবারটি এখন পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। কানাডায় স্থানান্তরের সম্ভাবনাও তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
আমেরিকায় উবারের বিকল্প ডেলিভারি জব, আয় হয় দ্বিগুণ! জানুন বিস্তারিত
টেনেসিতে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণায় বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর অপেক্ষা, জেনে নিন বুলেটিন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে। টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত। তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
অবসরের পর কম খরচে নিরিবিলি জীবন কাটাতে সাশ্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অঙ্গরাজ্য
টেক্সাসে ট্রাম্পের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে বিচারকের স্থগিতাদেশ