টাইমস স্কয়ারে নিজ কর্মস্থলের কাছেই ছু/রিকাঘাতে প্রাণ গেল ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারে বসবাসকারী পিয়াচেন্তি ম্যানহাটনে ব্যাংক অব আমেরিকার অফিসে কাজ করতেন। হামলার স্থানটি তার কর্মস্থল ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে ছিল।
৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এই হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে পিয়াচেন্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিও আহত হন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাই এলোমেলো ও উসকানিবিহীন বলে মনে হচ্ছে। পিয়াচেন্তিকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবসা নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাত বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার শক্তিশালী শিক্ষাগত পটভূমি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে।
হামলার পর সিসনেরোসকে কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে দুই পুলিশ অফিসার গুলি চালালে সিসনেরোস গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনা পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ফোর্স ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত চলছে।
ব্যস্ত কর্মদিবসে নিজের কর্মস্থলের মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে এমন আকস্মিক হামলায় পিয়াচেন্তির মৃত্যু ব্যাংক অব আমেরিকার সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খাতের এই বৃদ্ধি মাসিক সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। একই সময়ে আবাসন ব্যয়ও বেড়েছে। পেট্রলের দাম বাড়লে গাড়িতে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী কর্মী, ছোট ব্যবসার মালিক, পণ্য পরিবহনকারী এবং সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া করেন এমন অভিভাবকদের ব্যয় বাড়তে পারে। তবে প্রত্যেক পরিবারের ওপর এর প্রভাব এক নয়; গাড়ির ব্যবহার, বসবাসের এলাকা এবং আয়ের ওপর খরচের পার্থক্য নির্ভর করে। জ্বালানির ব্যয় শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের খরচ বাড়লে কিছু পণ্য ও সেবার দামেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে পেট্রলের দাম বাড়ার কারণে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসন সূচকও সেপ্টেম্বরে ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জ্বালানি ও বাসস্থানের ব্যয় একসঙ্গে বাড়লে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হতে পারে। পরিবারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাড়ির যাত্রা পরিকল্পনা করে নেওয়া, কাছাকাছি কাজ একসঙ্গে সেরে ফেলা এবং বিভিন্ন পেট্রল স্টেশনের দাম তুলনা করা সহায়ক হতে পারে। তবে যাতায়াতের বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দূরত্ব ও সময়ও বিবেচনা করা জরুরি।
নিউইয়র্কে আবাসন সংকট মোকাবিলায় ব্রুকলিনে ৮৩৯টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের উদ্যোগ
হ্যালোইনের কুমড়োভর্তি ট্রাক উল্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তিতে চালকরা
নতুন করে নিউইয়র্কে আরও ৭ এলাকায় সিটিবাইক, সাইকেল পরিষেবা বাড়াচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে আবাসনসংকট মোকাবিলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট নিউইয়র্কের ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটির পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রম, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, খুচরা দোকান এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পের বাসাগুলো কারা পাবেন, আয়ের যোগ্যতা কী এবং আবেদন কখন শুরু হবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে প্রকাশ করা উচিত।
ইলহান ওমরের পাশে ওবামা, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বললেন ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে শিশুদের ফুটবল মাঠে পিকআপ ট্রাকের তাণ্ডব, নিহত ২; আহত ১১
বাফেলোতে রিয়েল এস্টেটে আস্থার নাম নাজমুল হোসেন: ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও অনেক পরিবার নিজেদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মনে করছে না। উচ্চ আয়ের একটি অংশের মানুষ জানিয়েছেন, মাসিক আয় দিয়ে নিয়মিত ব্যয় মেটানোর পর পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ঋণের দায় এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে না পারার মতো সমস্যা তাঁদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ কারও বেতন বা উপার্জন বাড়লে তিনি বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, উন্নত জীবনযাত্রা কিংবা অন্যান্য খাতে বেশি ব্যয় করতে শুরু করতে পারেন। ফলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ একই হারে বাড়ে না। তবে উচ্চ আয়ের সব পরিবার একই কারণে আর্থিক চাপে পড়ে না। কারও ক্ষেত্রে বাড়ির ঋণ, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচ বড় ভূমিকা রাখে। আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যয় ও আর্থিক পরিকল্পনার ধরন সঞ্চয়ের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। গোল্ডম্যান স্যাকসের ২০২৬ সালের জরিপে এই আর্থিক চাপের আরও কিছু দিক উঠে এসেছে। বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করা উত্তরদাতাদের ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার ন্যূনতম নির্ধারিত অর্থ অথবা তার চেয়েও কম পরিশোধ করেন। একই আয়ের শ্রেণিতে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লক্ষ্য পিছিয়ে দিতে হয়েছে। অবসরজীবনের সঞ্চয়সংক্রান্ত পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। তবে জরিপের ফলাফল থেকে উচ্চ আয়ের প্রত্যেক পরিবার জরুরি ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। উত্তরদাতারা মূলত নিজেদের মাসিক আর্থিক অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ সাধারণত মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে বড় আর্থিক দায়, জীবনযাত্রার উচ্চ প্রত্যাশা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ আয়ের শ্রেণির ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা আবার জানিয়েছেন, তাঁদের চাকরি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের একটি স্থিতিশীল পথ তৈরি করছে। ফলে আর্থিক চাপের কথা জানানো মানেই তাঁদের সবাই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন, এমন নয়। ২০২৬ সালের জরিপে মোট ৫ হাজার ১০৬ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কর্মরত ব্যক্তি ছিলেন ৩ হাজার ৬১২ জন এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১ হাজার ৪৯৪ জন। ফলাফল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি।
আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চিকিৎসা করালে কত খরচ? জেনে নিন বিস্তারিত
নিউইয়র্কে নি হত ফায়ার সার্ভিস ক্যাপ্টেনের স্মরণে আলোকিত ম্যুরাল, চার বছরেও ভোলেননি সহকর্মীরা