যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের সরকারি ফর্ম পূরণ আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক অ্যানি লোওরে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই “দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম — অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট”-এ এই বিষয়টিকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের ওপর কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, নষ্ট হওয়া এই শ্রমঘণ্টার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির জন্য বছরে প্রায় ছয় দিন পূর্ণকালীন কাজের সমান।
আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হলেন জেফ মিলার নামের এক ব্যক্তি। ২০০১ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি মোটরযান কার্যালয়ে (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থানান্তর করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, সরকারি খাতায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী! আসলে একই দিনে ও একই রাজ্যে জন্ম নেওয়া জেফ মিলার নামের অন্য এক ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিলারকে তার জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড জোগাড় করতে হয়েছিল।
নিউজার্সি থেকে তাকে একটি চিঠিও সংগ্রহ করতে হয় প্রমাণ করার জন্য যে, তিনি সেই অপরাধী জেফ মিলার নন। কিন্তু তাতেও হয়রানির শেষ হয়নি; পরবর্তী সময়ে কানাডা ভ্রমণ শেষে তাকে সীমান্তে আটক করা হয় এবং অপরাধীদের বাড়ি ভাড়া দেয় না বলে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়।
বইটিতে দেখানো হয়েছে, এই ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের অপচয় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে দরিদ্র, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের। উটাহ রাজ্যের তিন সন্তানের একক মা মার্সেলা প্যাটিনোর সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ৩০০ ডলার এবং তিনি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
কিন্তু বারবার কাগজপত্রের প্রমাণ দেওয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইটের জটিলতার কারণে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি মিশিগান রাজ্যে একসময় সরকারি সহায়তার আবেদনের ফর্মটি ছিল ৪০ পৃষ্ঠার এবং ১৮ হাজার শব্দ সংবলিত।
সেখানে আবেদনকারীদের ওজন, চুলের রঙের পাশাপাশি কোনো নারী গর্ভবতী হলে তার সন্তান ঠিক কোথায় এবং কবে মাতৃগর্ভে এসেছিল— এমন অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতো। লোওরে এই পরিস্থিতিকে ‘পেপারওয়ার্ক ভোর্টেক্স’ বা কাগজপত্রের ঘূর্ণিপাক বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার চেয়ে ফর্ম পূরণ করাই দরিদ্রদের মূল কাজে পরিণত হয়।
তবে পরিস্থিতি যে অপরিবর্তনযোগ্য, তা কিন্তু নয়। বইটিতে উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব সরকারি সেবা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। তাদের ‘অনলি ওয়ান্স’ বা ‘কেবল একবার’ নীতির ফলে এক সংস্থাকে তথ্য দিলে অন্য সংস্থাগুলো সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে।
ফলে এস্তোনিয়ার নাগরিকরা মাইক্রোওভেনে পপকর্ন ভাজতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমেরিকার মিশিগান রাজ্যও তাদের সেই বিশাল ফর্মটি ছোট করে ৮০ শতাংশ শব্দ কমিয়ে আনে, যার ফলে আবেদন সফল হওয়ার হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
অ্যানি লোওরের মতে, নাগরিকদের অপেশাদার আমলা বানানো সরকারের কাজ হতে পারে না; বরং মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সরকারের উচিত নিজেদের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেরাই পালন করা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক প্রবীণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নগদ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জর্জিয়ার আটলান্টার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সালেহকে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লট থেকে আটক করেন তদন্তকারীরা। কারাগারের নথিতে তাঁর নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এর আগে দুই দফায় মোট ৫১ হাজার ডলার তুলে দিয়েছিলেন। পরে আরও ১৪ হাজার ডলার সংগ্রহের জন্য আসা ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান সাজান তদন্তকারীরা। সালেহ ওই অর্থ রয়েছে মনে করে একটি সাজানো নগদ প্যাকেট সংগ্রহ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ফাঁস হয়েছে, কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে এবং তাঁর ব্যাংকের একজন কর্মী হ্যাকারদের সহায়তা করছেন। এরপর নতুন ল্যাপটপ কিনে সেটিতে দূর থেকে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং অর্থ নিরাপদে রাখার নামে নগদ টাকা একজন কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউভিএলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করে শেরিফের কার্যালয়। অভিযানে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাইবারক্রাইম ইউনিটও সহায়তা করে। সালেহর বিরুদ্ধে ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরি, একই ধরনের চুরির চেষ্টা এবং প্রবীণ ব্যক্তির আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জর্জিয়ায় একই ধরনের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগসংক্রান্ত একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর মোট বন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কারাগারের নথিতে ১ অক্টোবর তাঁর নামে আইসিই হোল্ড যুক্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে তাঁর হাজির হওয়ার কথা। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর অপেক্ষা, জেনে নিন বুলেটিন
প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের পর লেটুসের উৎস নিয়ে নতুন তথ্য, মেক্সিকোর খামারে শনাক্ত পর জী বি
অবসরের পর কম খরচে নিরিবিলি জীবন কাটাতে সাশ্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন। মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরির বাজারে ধীরগতি, প্রভাব পড়তে পারে সুদ ও খরচে
টেক্সাসে এটিএমে ফেলে যাওয়া ব্যাংক অব আমেরিয়ার কর্মীর ১ লাখ ২৮ হাজার ডলার ফিরিয়ে দিলেন নাপিত
সকালে ডা কা তি, রাতে শ্লীলতা হা নি র অভিযোগ; ১৮ ঘণ্টায় দুইবার গ্রে ফ তার অবৈধ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ইন্টারভিউতে মি থ্যা তথ্য দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা জা ল নথি উপস্থাপনের গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস। আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ সতর্কতা জানায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের ইন্টারভিউতে সব প্রশ্নের উত্তর সত্যভাবে দেওয়া উচিত এবং কোনো তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা প্র তারণা করলে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের ২১২(এ)(৬)(সি)(আই) ধারায় আবেদনকারী অ যোগ্য হতে পারেন। এ ধরনের অ যোগ্যতা সাধারণভাবে স্থায়ী। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিধান শুধু কোনো একটি ভিসা আবেদন প্র ত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই আইনের আওতায় অ যোগ্যতা নির্ধারিত হলে পরবর্তী সময়ে ভিসার জন্য আবেদন করলেও একই কারণে অ যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনের আওতায় ওয়েভারের সুযোগ থাকতে পারে। সেই সুযোগ সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং জেনেশুনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মি থ্যা উপস্থাপনের বিষয় এক নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই বিধান মূলত ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন বা প্র তারণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ কারণে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপেই সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর অতীতের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল বিষয় হলো, ভিসা পাওয়ার আশায় কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা না করা। আবেদনকারীদের নিজেদের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে ইন্টারভিউতে সত্য ও পরিষ্কারভাবে উত্তর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কঠিন শহর এখন নিউইয়র্ক, আর্থিক চাপে ক্রেতারা
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ সাময়িকভাবে আটকে দিল আদালত