মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে একটি শান্তি প্রস্তাব সামনে আসার পর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রস্তাব ঘিরে রাতভর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ চালিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সংঘাতের অবসান ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবটির রূপরেখা তৈরি করে পাকিস্তান। পরে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রাতভর বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে কথা বলেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে—প্রথমে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এরপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান। তবে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযানে আকাশপথে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত সেই আধিপত্যের ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিম ইরানে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। একই দিনে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কুয়েত এলাকায় আরও একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্টেলথ সুবিধাবিহীন এবং নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমানগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় আরও কিছু মার্কিন উড়োজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে সংঘাতের প্রকৃতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আংশিক দুর্বল করা আর সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। সংঘাতের শুরুর দিকেই ইসফাহান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও মার্কিন বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল, তবুও গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর বাস্তবতার সঙ্গেও মিল খুঁজে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ কৌশলে স্টেলথ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রোন ব্যবহারে আরও গুরুত্ব দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ শক্তির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সব মিলিয়ে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল না করলেও ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য’-এর ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ইরান পরিস্থিতি এবং একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, বিবিসি ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের বিষয়টি এই ব্রিফিংয়ে গুরুত্ব পেতে পারে। এর আগে ট্রাম্প ওভাল অফিসে সংবাদ সম্মেলন করার কথা বললেও পরে জানানো হয়, সেটি হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমেই অনুষ্ঠিত হবে। গত শুক্রবার ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই যুদ্ধবিমানে দুজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। হামলার পর দুজনই ইজেক্ট করেন। পরে পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযানে তাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোনো ঘোষণা বা অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ট্রাম্পের পোস্টগুলোকে তিনি ‘বিপজ্জনক এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো প্রলাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্যান্ডার্স এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি আসছে!” তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। “কংগ্রেসকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করুন,” মন্তব্য করেছেন তিনি। বার্নি স্যান্ডার্সের মন্তব্যটি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।