বিশ্ব

ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধারে ইসরায়েলের সহায়তা, দাবি নেতানিয়াহুর

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৭:১৬
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে ইসরায়েল সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।

 

নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সফল অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগিতা “নজিরবিহীন” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একজন মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরান দাবি করে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

 

ওই বিমানে থাকা দুই ক্রুর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দুই দিনব্যাপী অনুসন্ধান শেষে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে মার্কিন কমান্ডোরা তাকে উদ্ধার করে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের
১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস  দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে তাদের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবি স্বীকার করেনি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ইরানের উপস্থাপিত হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তার দাবি, নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।    মোহেবি অভিযোগ করেন, পেন্টাগন প্রকৃত হতাহতের তথ্য গোপন করছে। তিনি বলেন, যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।    আইআরজিসির দাবি, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের অনলাইন তথ্যভান্ডারে এক পর্যায়ে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮ দেখানো হলেও পরে সেটি ১৪-এ নেমে আসে। এ পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পরে বলা হয়, এটি তথ্য হালনাগাদের সাময়িক ত্রুটির কারণে ঘটেছে।    এদিকে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে শত শত সেনা আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে আইআরজিসির দাবি করা ২০০ জনের বেশি নিহত কিংবা ব্যাপক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য থেকেই গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ৪:৩৭
গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি

‘গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি, যেন ভুলে না যাই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

আমি গরিব হয়েই মরতে চাই

'আমি গরিব হয়েই মরতে চাই’ বলে, ৪ বিলিয়ন ডলার দান করে মারা গেলেন বিলিয়নিয়ার

ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

টোকিওতে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস
টোকিওতে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস, অথচ প্রধানমন্ত্রীর ঘুম মাত্র ৩ ঘণ্টা!

কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়াতে টোকিও যখন সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে, তখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ঘুম ও কাজের অভ্যাস নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাতে সাধারণত শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। দেশটির দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতি বদলানোর প্রচেষ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাকাইচি। সম্প্রতি ‘সি ডে’ নামের একটি সরকারি ছুটিতে নিজের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে জানান, বহুদিন পর ওই দিন টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোই তার নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির ওই পোস্টটি তিন কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। পোস্টে তিনি জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি সপ্তাহান্তও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বসে আইন ও নীতিসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক নথি পড়েই কাটিয়েছেন।   ছুটির দিনে কিছুটা বেশি ঘুমানোর পাশাপাশি জমে থাকা ঘরের কাজও করেন বলে জানিয়েছেন তাকাইচি। কাপড় ইস্ত্রি করা থেকে শুরু করে পোশাকের ছেঁড়া অংশ সেলাই করার কথাও লিখেছেন তিনি। পরদিন থেকে আবার পূর্ণ উদ্যমে কাজে ফেরার প্রত্যয় জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।   তবে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং খুব অল্প ঘুমানোর বিষয়টি তাকাইচির জন্য নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নিজের ক্ষেত্রে ‘কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য’ শব্দটি বাদ দিতে চান। একই বক্তব্যে তিনি একাধিকবার ‘কাজ’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন সরকারকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানিয়েছিলেন।   দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর ভোর তিনটায় কর্মকর্তাদের বৈঠকে ডাকার ঘটনায়ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তাকাইচি। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাসার ফ্যাক্সযন্ত্র নষ্ট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখতে তাকে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে হয়েছিল। সকালে একটি বৈঠকের প্রস্তুতির জন্যই এত ভোরে তাদের ডাকা হয়।   প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি মানুষের বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দেশের নিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানের এমন জীবনযাপন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মত দেন তিনি। আরেক রাজনীতিক মন্তব্য করেছেন, যথাযথ বিশ্রাম নেওয়াও একজন নেতার দায়িত্বের অংশ।    তাকাইচির কাজের রুটিন নিয়ে বিতর্কটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে জাপানের সামাজিক বাস্তবতার কারণে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং চাকরিজনিত মানসিক চাপ দেশটিতে বহু বছর ধরে গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুকে জাপানি ভাষায় ‘কারোশি’ বলা হয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ কমাতে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নমনীয় কর্মঘণ্টা, বাধ্যতামূলক ছুটি এবং দূর থেকে কাজ করার মতো ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে।   এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে টোকিও মহানগর সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যোগ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে চার দিন কাজ করার সুযোগ চালু করে। ব্যবস্থাটির লক্ষ্য ছিল কর্মীদের পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাড়ানো, সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করা এবং বিশেষ করে নারীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানো। টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেছিলেন, নারী ও পুরুষ উভয়েই যাতে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের ধরন বেছে নিতে পারেন, সে জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থা জরুরি।    জাপানের নিম্ন জন্মহারও চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সন্তান পালনের ব্যয় এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারাকে দেশটির জনসংখ্যা সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। ফলে টোকিওর উদ্যোগটি শুধু কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার বিষয় নয়; পরিবারবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।   এর আগে ২০১৯ সালে মাইক্রোসফট জাপান পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, পরীক্ষার সময় কর্মীদের উৎপাদনশীলতা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছিল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও কাগজের ব্যবহার কমে এবং কর্মীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। তবে সব শিল্প ও পেশায় একই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।    তাকাইচির বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ কর্মীরা চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন ও পদমর্যাদার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য পর্যাপ্ত সময়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে একজন সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত কাজকে গৌরবের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্কৃতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।   জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাকাইচির ঘুমের সময়সূচি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে তার বক্তব্য দেশটিতে একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—দীর্ঘ সময় কাজ করাই কি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়, নাকি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে সুস্থভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই একজন সরকারপ্রধানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ?   টোকিওর চার দিনের কর্মসপ্তাহ কর্মীদের কম সময় কাজ করে আরও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ দিচ্ছে। বিপরীতে, দেশের সরকারপ্রধানের শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস জাপানের পরিবর্তনশীল কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১:৫৪
ইরানি সামনে নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র!  ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়ে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানি সামনে নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র! ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়ে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

১৫ দিনের সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাথে ১৫ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান ও ১৭ ড্রোন ধ্বংস

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে সম্ভাব্য বিশেষ সামরিক অভিযানের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান!

ক্যালিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা তরুণী মারিয়া কামিলা পোতোসির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ।
কলম্বিয়ায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা, গর্ভ থেকে নবজাতক চুরি

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ বছর বয়সী মারিয়া কামিলা পোতোসি কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার অনাগত শিশুকে ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। শিশুটির অবস্থান জানতে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের কার্যালয়।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই ক্যালির পলভোরিনেস এলাকা থেকে মারিয়া কামিলাকে সর্বশেষ দেখা যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি একটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক নারীর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীকে তিনি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একটি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চিনেছিলেন এবং শিশুর জন্য কিছু উপহার নেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে বের হয়েছিলেন।   চার দিন পর ক্যালির লা বুইত্রেরা এলাকার কাছে মেলেন্দেজ নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়।   মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ময়নাতদন্তে চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে মারিয়া কামিলার গর্ভে শিশুটি ছিল না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শিশুটির অবস্থান নিয়ে তদন্ত চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রাখছে।   ক্যালি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান জেনারেল হারবার্ট বেনাভিদেস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনের বেশি ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ও প্রসিকিউটররা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন।   ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। পরবর্তীতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন করা যায়।   এদিকে নিহতের মা আলবা রুবি গোমেজ সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি শিশুটি জীবিত থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি দেশবাসীকেও তদন্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।   কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:১৫
ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসা উইডম নতুন জীবন শুরু করতে ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ’ করা মার্কিন নাগরিকের মরদেহ মিলল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে!

বার্লিনের ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

এলজিবিটিকিউ উৎসবে গাড়ি তুলে হামলায় ১ জন নিহত, আহত ১৬, ইসলামপন্থী সন্দেহভাজনের খোঁজে পুলিশ

চিকিৎসক থমাস কেলি, যিনি চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাইডি গড়ে তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত

রোগী দেখার চাপেই চিকিৎসক জীবনে ক্লান্তি, চাকরি ছেড়ে গড়া এআই স্টার্টআপের মূল্য এখন ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার

0 Comments