সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধারে ইসরায়েলের সহায়তা, দাবি নেতানিয়াহুর

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৭:১৬
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে ইসরায়েল সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।

 

নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সফল অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগিতা “নজিরবিহীন” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একজন মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরান দাবি করে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

 

ওই বিমানে থাকা দুই ক্রুর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দুই দিনব্যাপী অনুসন্ধান শেষে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে মার্কিন কমান্ডোরা তাকে উদ্ধার করে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি, কিনতে পারবেন বিদেশি মুসলিমরাও

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট নিয়ে নতুন একটি আবাসিক প্রকল্পে আগ্রহীদের মালিকানা নিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ নামের এই প্রকল্পটি রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিংয়ের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। প্রকল্পটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটে বিলাসবহুল আবাসনের পাশাপাশি ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেলধাঁচের সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রকল্পটির ১২০টি ইউনিটের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের নিবন্ধন শুরু করেছে। প্রকল্পটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও মালিকানার আগ্রহ জানাতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো ইউনিটগুলোর বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। নিবন্ধনের পর সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে ইউনিটের আকার, মূল্য এবং পেমেন্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   প্রকল্পটির অবস্থান মসজিদে নববীর একেবারে পাশে রুয়া আল মদিনাহ উন্নয়ন এলাকার মধ্যে। প্রকল্পের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কিছু আবাসিক ইউনিট থেকে মসজিদে নববীর আংশিক দৃশ্যও দেখা যাবে। মদিনার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নকশার সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল আবাসনের সমন্বয় করা হয়েছে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহকে মদিনার প্রথম ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সেস প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ১২০টি আবাসিক ইউনিটের পাশাপাশি একই কমপ্লেক্সে ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেল সুবিধাও রয়েছে। বাসিন্দাদের জন্য ফেয়ারমন্টের আতিথেয়তা সেবা এবং বিভিন্ন রেসিডেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকরা ফেয়ারমন্টের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কনসিয়ার্জ ও অন্যান্য হোটেলধাঁচের সেবা রয়েছে। এছাড়া অ্যাকোরের মালিকানা সুবিধা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিদেশি মুসলিমদের জন্য মালিকানার সুযোগ। সৌদি আরবের নতুন নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা আইনে মক্কা ও মদিনা শহরে বিদেশি ব্যক্তিদের সম্পত্তি মালিকানা মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি নাগরিক নন এমন মুসলিম ব্যক্তিরা নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে মদিনায় সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সুযোগ সৌদিতে বসবাসকারী মুসলিমদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও ভৌগোলিক এলাকার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   সৌদি আরবের নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা ব্যবস্থা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সৌদির বাইরে বসবাসকারী নন-সৌদি নাগরিকরাও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মক্কা ও মদিনায় মালিকানার ক্ষেত্রে মুসলিম হওয়ার শর্ত রয়েছে।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। মদিনায় বিদেশি মুসলিমদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ তৈরি হলেও শহরের যেকোনো স্থানে যেকোনো সম্পত্তি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন-সৌদি মালিকানা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়মের আওতায় রয়েছে। তাই কোনো বিদেশি ক্রেতাকে চূড়ান্তভাবে সম্পত্তি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মালিকানা অধিকার এবং সরকারি নিবন্ধনের শর্ত যাচাই করতে হবে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিষয়টি নিশ্চিত, তা হলো ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের জন্য আগ্রহ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট মূল্যকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের একটি কোম্পানি এবং মদিনায় মসজিদে নববীর আশপাশে বৃহৎ নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য মদিনায় হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক এলাকা, জনপরিসর ও পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন।   মসজিদে নববীর কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের আবাসিক ইউনিটের মালিকানার সুযোগ চালু হওয়ায় প্রকল্পটি সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি মুসলিম ক্রেতাদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে এটি মূলত আগ্রহ নিবন্ধনের পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিটের চূড়ান্ত দাম, বিক্রয় প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পরিকল্পনা এবং মালিকানার বিস্তারিত শর্ত পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশ করা হবে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:২০
নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত

তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন, একজনের মৃত্যুদণ্ড

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

মৃত্যুর সময় লুসিয়া সিসিচের বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ

মাত্র ২২ বছর বয়সেই মারা গেলেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মিশন অস্ট্রিয়া এক বিবৃতিতে লুসিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করে তাঁর পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থাটি। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন ভিয়েনার এই তরুণী। একই বছর তিনি মিস ভিয়েনাও নির্বাচিত হন। পরে ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিস অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ক্রিস্টোফার ডেংয়ের সঙ্গে যথাক্রমে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া নির্বাচিত হন।   লুসিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিস অস্ট্রিয়ার শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। কারণ ২০২৪ সালের পর আর জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন অস্ট্রিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের বিজয়ী লুসিয়াই ছিলেন সর্বশেষ মিস অস্ট্রিয়া। লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য ছোটবেলা থেকেই ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময়ই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সাতবার হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল ২০২৫ সালের শীতকালে।   তবে নিজের শারীরিক সমস্যাকে কখনোই জীবনের একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখেননি লুসিয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মিশন অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো সরকারি সূত্র মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। তাই হৃদ্‌রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়।   লুসিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেংও। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, লুসিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সময়ে শিরোপা ধরে রাখার কারণে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে হতো বলেও জানান ডেং।   মিশন অস্ট্রিয়া লুসিয়ার মৃত্যুকে শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর বিদায় হিসেবে দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন লুসিয়া। ১২ আগস্ট দেওয়া তাঁর শেষ দিকের একটি পোস্টে সোনালি পোশাকে নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবন উপভোগ করতে দেখা যায়।   মাত্র ২২ বছরের জীবনে লুসিয়া একদিকে অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের পাশাপাশি তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: মিশন অস্ট্রিয়া, ও২৪, দ্য ডেইলি বিস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:৪১
দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান জব্দের দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাব, বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু

ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী
ছাদে কয়েক দিন ধরে শব্দ, ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি।   ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম।   টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা।   টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।    টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।    ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৪:৫৪
সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর

পুরোটা সময় কাটিয়ে দিলেন অটিস্টিক ছেলের জন্য ঘর খুঁজতে

‘বনের আয়ু মাত্র ৬ মাস! পুরোটা সময় কাটিয়ে দিলেন অটিস্টিক ছেলের জন্য ঘর খুঁজতে

0 Comments