বিশ্ব

দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৭:২
লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA
লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

 

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

 

আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা, জাতিসংঘে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়েছে। ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে তুলনা করার পর প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে বের হয়ে যায় মার্কিন প্রতিনিধিদল।   ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে ভলকার টুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের নিয়োগ নিয়ে ভোটাভুটিকে ঘিরে। ওই ভোটে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিলে টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ভোট দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ১৪৪টি দেশের সমর্থনে তার পুনর্নিয়োগ অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।   ভোটের পর জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখন আর সেই অবস্থানে নেই। এ মন্তব্যে ওয়াশিংটন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।   জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ পাল্টা অভিযোগ করেন, ফ্রান্স এমন একজন কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে সমালোচনা করেন, অথচ দমনমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। তবে নিজের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।   ভলকার টুর্ক এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।   জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া জানিয়েছেন, ফ্রান্স তাদের "অসম্মানজনক বক্তব্য" প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও অর্থায়নের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই বিরোধ ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের সম্পর্কের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।   অন্যদিকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট ভলকার টুর্ককে "বিবেকের কণ্ঠস্বর" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, টুর্ক প্রথম মেয়াদে দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি শুধু বলেছেন, জাতিসংঘ আশা করে সব সদস্য রাষ্ট্র সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৪:৩৩
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায়, ইরাকে নিহত অন্তত ২০

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলায়, ইরাকে নিহত অন্তত ২০

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে চীন

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে চীন, কাঁধে বহনযোগ্য চিনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পেতে যাচ্ছে ইরান

ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারকারা

মিস্টারবিস্টের উদ্যোগ, ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারকারা

কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অরেঞ্জ শহরের একটি বাড়িতে রাখা কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ৩২ বছর বয়সী এক নারী ওই বাড়িতে সন্তান জন্ম দেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বাড়িতে থাকা কিছু সন্দেহজনক বিষয় সম্পর্কে চিকিৎসকদের জানান।   ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানান, নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি অনেক দেরিতে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করার সময় তিনি মানুষের দেহাবশেষের মতো কিছু দেখতে পান।   তথ্য পাওয়ার পর সোমবার রাতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হাড় পরীক্ষা করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সেগুলো পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ হতে পারে।   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে এখনো তার সঙ্গে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। ওই নারীর পরিবারে ৮ ও ৯ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে।   মঙ্গলবারও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। দুইতলা বাড়িটির প্রবেশপথ নিরাপত্তা টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সে নবজাতকের দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে একটি বাড়ির ফ্রিজ থেকে দুই নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত।   পুলিশ জানিয়েছে, অরেঞ্জের ঘটনার ক্ষেত্রে ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে দেহাবশেষের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১:২৬
কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান

কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান, নিহত ২০

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা, উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নরেন্দ্র মোদির পোস্ট ব্লক করায় মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করল ভারত সরকার, ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মেলেনি ছাড়

ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়ে এনএইচএসে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আমরান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জাল সনদে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এ ১৩ চাকরি, চার বছরের কারাদণ্ড ব্রিটিশ-বাংলাদেশির

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স জাল করে ১৩টি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তিনি এনএইচএসের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি করেছেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আমরান হোসেন (৪০)। কেন্টের ওয়েস্টারহ্যামের ফ্রেঞ্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা আমরানকে গত ২৪ জুলাই মেইডস্টোন ক্রাউন কোর্ট চার বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে তিনি প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।   যুক্তরাজ্যের এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি (এনএইচএসসিএফএ) জানায়, চাকরি পেতে আমরান মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি এনএইচএসের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করার ভুয়া অভিজ্ঞতাও নিজের জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি বার্কবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই নিশ্চিত করে যে তিনি কোনো কোর্সই সম্পন্ন করেননি।   তদন্তকারীরা জানান, আমরান এনএইচএসের বিভিন্ন পদে ২ হাজার ৭১টি আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি অ-ক্লিনিক্যাল পদে চাকরি পান। তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি অসুস্থতার ছুটি নিতেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া বা চাকরি বাতিল হওয়া পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকতেন। ফলে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব সামান্য বা কোনো কাজই করতেন না। পরে সেই চাকরির অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তী আবেদনগুলোতে ব্যবহার করতেন।   এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি আরও জানায়, চাকরির আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি ভুয়া রেফারেন্স জমা দিয়েছিলেন। এমনকি একটি রেফারেন্স ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কয়েকটি রেফারেন্স এমন ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল তার নিজের হাতে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার দাবিও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।   ২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্ট তাকে একটি জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের সময় এই প্রতারণার সূত্রপাত ধরা পড়ে। আবেদনপত্রে আমরান দাবি করেছিলেন, তিনি কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ‘ডিরেক্টর অব ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে আমরান হোসেন নামে কেউ কখনো চাকরি করেননি। এরপর শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত।   এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশনস প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া যোগ্যতা বা জাল রেফারেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতারণা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, এনএইচএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ২৩:৩১
নতুন জরিপে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের মতামতের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত

আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

0 Comments